সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

দেশে বিদেশে স্বাদের সন্ধানে

খাবারের যাত্রা দিয়ে যে এত বৈচিত্র্যপূর্ণ বিশ্বভ্রমণ হতে পারে, তা আপনার লেখা না পড়লে জানতেই পারতাম না ।

 আর যেটা আপনার লেখায় বেশি মন ছুঁয়ে যায় তা হল, মায়া, এক সর্বব্যাপী মায়ার চাদর যেন বিছিয়ে আছে গোটা বই জুড়ে । 

এর আগেও বিশ্বব্যাপী খাবারের তথ্যসমৃদ্ধ বই পড়েছি, কিন্তু সেগুলোতে আপনার লেখার মত মায়া ছিল না । 

থাকবেই বা কি করে, সেই লেখকেরা তো আর আপনার মতো সিন্দাবাদের জীবন কাটায়নি । আহৃত তথ্য আর নিজের যাপন করা জীবনের সাক্ষাৎ অভিজ্ঞতা থেকে লেখা দুটো বইয়ের মধ্যে আকাশপাতাল ফারাক থাকে । প্রথম শ্রেণির বইতে দ্বিতীয় শ্রেণির অভিজ্ঞতালব্ধ/ জনিত ভালোবাসার টান থাকেনা । 

আপনার লেখা পড়তে পড়তে কখনো কাউবয়দের নেটল স্যুপ বানিয়ে খাওয়ায় মজে গেছি, কখনো বা আফ্রিকানদের দিনের পর দিন কলাসেদ্ধ (মাটো) চটকে খাওয়ার কথায় ভাবছি, আহা, আমরা কত সৌভাগ্যবান! অন্তত: এত রকমের খাবারের পসরা আমাদের আছে । আর আমরা শুধুই কি না নিজেদের ভাগ্যকে দোষ দিই । 

কি করে ভুলি সেই ভুট্টা বেচা দুই ভাইবোন আর অবশ্যই গরম ভাতের গন্ধেও সোয়েটার বেচে চাল জোগাড়ের দুঃখ বুকে চেপে বসে থাকা বুবুর কথা । আহা, ভালো থাকুক ওরা । 

আর কত কীই যে শিখলাম আপনার কাছ থেকে । বারবিকিউ সস বানানো , সালাদ আর ককটেলের রেসিপি আর গুল্ম আর মশলার জাদু । খুব শিগগিরই টিনবন্দি সার্ডিন খাব, আপনার কথামত দুই ফালি রুটির মধ্যে শসা, টমেটো ভরে ।

 আহা, দারুচিনি দ্বীপের গোধূলিবেলার কমলা সৈকতে বসে সেঁকা মাংস, কৌটোর বিন আর হলদে মগভর্তি কালো কফি খাব । আমাকে ঘিরে থাকবে নারকেল আর রুটিফলের গাছ । এই স্বপ্ন যেন আমার পরের জন্মে সত্যি হয় । 

আপনার মত স্বপ্নের জীবন যেন বাঁচতে পারি । স্যালুট মিলন্দা ।

ব্যাক্তিগত মতামত / পায়েল বিশ্বাস





মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...