সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

নভেম্বর, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

যে কারণে হুমায়ূন আহমেদের বই এখনো সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়!

  দুই শতাধিক ফিকশন, নন-ফিকশন বইয়ের লেখক হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশ তুমুল জনপ্রিয় ছিলেন। তার একেকটি বই প্রকাশের পরপর হাজার হাজার কপি বিক্রি হতো। তার নিজস্ব একটি লেখার স্টাইল ছিল, যা অসংখ্য পাঠককে আকৃষ্ট করেছে। অনেক পাঠকের জন্য তিনি বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করেছিলেন। হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর তার স্টাইলে অনেকে উপন্যাস বা গল্প লেখার চেষ্টা করেছে, যদিও সেসব বই খুব বেশি পাঠকপ্রিয়তা পায়নি। বাংলাদেশে এখনো প্রতিবছর কয়েক হাজার গল্প, উপন্যাসের বই প্রকাশিত হয়। কিন্তু প্রকাশকরা বলছেন, হুমায়ূন আহমেদের বই যেভাবে বিক্রি হতো, এই লেখকদের জনপ্রিয়তা থাকলেও সেভাবে বই বিক্রি হয় না। আগামী প্রকাশনীর কর্ণধার ওসমান গনি বলেন, 'এক কথায় যদি বলতে হয়, তাহলে বলি, তার জায়গায় এখনো কেউ আসতে পারেনি। তার লেখার যে জাদুকরী, মানুষকে আকর্ষণ করা, হুমায়ূন আহমেদ সেটা করতে পেরেছিলেন। অন্য লেখকরা হয়তো সেভাবে পারেননি। স্বাভাবিকভাবে এই কারণে ওই জায়গাটা আর কেউ পূরণ করতে পারেননি। হুমায়ূন আহমেদের একেকটা বই প্রথম প্রকাশে ২৫ থেকে ৩০ হাজার কপি ছাপানো হতো। তাঁর বই কিনতে লম্বা লাইন তৈরি হতো। কিন্তু এখন যেসব বই ছাপানো হয়, সাধ...

নিরাপদ কামরা ৬

  প্রথম ঘটনা: লর্ড টোফেল প্রচুর রোজগার করেছিলেন জীবনে। তারপর আততায়ীর হাতে খুন হন তিনি। খুনের সময় মাত্র একজনকেই জানিয়ে গেছিলেন টাকা কোথায় আছে। জাম্প কাট দ্বিতীয় ঘটনা: লুনা বিবাহবিচ্ছিন্না। লর্ড টোফেলের বাড়িটা কিনে রুগ্ন মেয়ে সারাকে নিয়ে চলে এসেছেন এখানে। দালাল এর আগেই দেখিয়েছে এ বাড়ির বিশেষত্ব: তিন তলার স্টেনলেস স্টিলের নিরাপদ কামরা তথা সেফ রুম। জাম্প কাট তৃতীয় ঘটনা: তিনজন অপরাধী। একজন জানে লর্ড টোফেলের টাকা কোথায় আছে, অন্যজন অস্থিরমতি খুনী। তৃতীয়জন জীবনে কোনো অপরাধ না করা সিন্দুকের যাদুকর। তারা উপস্থিত হয়েছে লর্ড টোফেলের বাড়ির সামনে। উদ্দেশ্য? লর্ড টোফেলের টাকা হাতানো! কিন্তু সে বাড়িতে ঢুকতে গিয়ে বাড়িতে লোকজনের উপস্থিতি দেখে সকলেই হতবাক। এখান থেকেই শুরু হয় গল্প। লুনা মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে লুকোয় সেফ রুমে। অন্যদিকে অপরাধীরা বাড়ি তোলপাড় করছে। অবশেষে কী হল? মাত্র একটা রাতের ঘটনা নিয়ে এক অসাধারণ সিনেমা দ্য প্যানিক রুম। পরবর্তী কালে সেই ছবি নিয়েই বই হয়। লিখেছিলেন জেমস ইলশন ও ডেভিড কুপ। তার এক অসম্ভব সুন্দর অনুবাদ করেছেন লেখক মিলন গাঙ্গুলী। কোথাও মনে হয়নি যে লেখাটা আড়ষ্ট। কিছু কিছু জায়গায় ব...

মমিন সাধুর তুকতাক

  গোয়ালীমান্দ্রার হাটে, বুড়ো বটের তলায় মমিন সাধুর আখড়া। মাথার ওপর চারখান ঢেউ টিন ফেলে, চারদিকে খলপার বেড়া মমিন সাধুর সংসার। সংসারে সাধুর এক বোন, ঝুমঝুমি। ডগমগ বয়েস তার। জোয়ারে খাল যেন। হাটাচলা যেন কার্তিকের কাশবন, বাতাসে নুইয়ে নুইয়ে পড়ে। হাসিতে যেন বর্ষার জলের শব্দ। কথা তো বলে যেন নির্জন দুপুরে দিকপ্রান্তর মুখরিত করে গান গায় কোন মোহন পাখি। জগৎসংসারে ঐ একটি আপনজন সাধুর। কবে কোন বালক বয়সে তিন বছরের ন্যাংটো। বোন ঝুমঝুমিকে কাঁধে বসিয়ে পথে নেমেছিল সাধু এখন আর তা মনে নেই। দিন চলে গেছে। সাধুর বয়স এখন ভাটির দিকে। ঝুমঝুমির বয়স যেন জোয়ারের শেষ বেলা। বোনটির বিয়ে দেবে না সাধু। বিয়ে দিলে ঝুমঝুমি যাবে পর হয়ে। সংসারে আপনজন কেউ থাকবে না সাধুর। আপনজন কেউ কাছাকাছি না থাকলে সাধুর তুকতাক নষ্ট হয়ে যাবে। না খেয়ে মরণ। এই জন্যে ঝুমঝুমির বিয়ে দেয় না সাধু। দুঃখে ঝুমঝুমি সংসার বিরাগী। আলায় বালায় ঘুরে বেড়ায়। পরনে জংলি ছাপার শাড়ি। হাটখোলার পাশে শাড়ির আঁচলের মতো। খাল। খালের ওপারে নিবিড় গাছপালার জঙ্গল। খাল পেরিয়ে ঝুমঝুমি সেই জঙ্গলে যায়। বসে থাকে। বসে বসে বিয়ে না হওয়ার দুঃখে কাঁদ...