সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মাসুদ রানার দশ টিপস




'এখন ত্রিশ যার স্মার্ট হওয়ার শ্রেষ্ঠ সময় তার।'

বাংলা থ্রিলারের অবিস্মরণীয় চরিত্র মাসুদ রানা।

চির তরুণ- চির স্মার্ট।

সমস্যা হচ্ছে, মাসুদ রানার বয়স কখনো ত্রিশ হয় না। আমাদের হয়- এবং  ত্রিশ আসলে আমাদের প্রকৃত স্মার্ট হওয়ার সময়। কারণ এ বয়সে আমরা পেশা বা চাকরিতে ঢুকি। অনেকের সাথে মিশতে হয়। অনেক জায়গায় যেতে হয়। ক্যারিয়ারের ভালো করার জন্য লড়তে হয়। প্রতিটি ক্ষেত্রে স্মার্টনেস দরকার। 

প্রায় পঞ্চাশ বছর মাসুদ রানা পড়ে তার স্মার্টনেসগুলোর বৈশিষ্ট্যগুলো আমি কিছুটা বুঝতে সক্ষম। এ বৈশিষ্ট্যগুলো তাকে শুধু স্মার্ট বানায়নি- কিংবদন্তিতে পরিণত করেছে।

আমার ধারণা তার বৈশিষ্ট্যগুলো অনুসরণ করলে  বাস্তবেও আমরা স্মার্ট হতে পারি। বিশেষ করে ত্রিশের কোটায় যখন জীবনযুদ্ধ শুরু হয় তখন এ স্মার্টনেস জরুরি এবং বৈশিষ্ট্যগুলো খুব কঠিন কিছু নয়।

১ ) নীরবতা 

মাসুদ রানা অযথা কথা বলে নিস্তব্ধতা ভাঙে না। যখন দরকার তখন কথা বলে। অযথা বকবক করা চূড়ান্ত আনস্মার্টনেস।

২) অতিরিক্ত ব্যাখ্যা 

মাসুদ রানা তার প্রতিটি কাজের ব্যাখ্যা দেয় না। আত্মবিশ্বাসী লোক  ততোটুকু ব্যাখ্যা দেন- যতোদূর প্রয়োজন। অতিরিক্ত ব্যাখ্যায় দুর্বলতা  প্রকাশ পায়- অন্যরা আস্থা হারান।

৩) ধীরস্থির

মাসুদ রানা অস্থির হয় না। যেকোনো পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রেখে কী করণীয় তা ঠিক করে। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ  স্মার্টনেস।

৪)  শরীরের ভাষা

রানা দাঁড়িয়ে থাকে দৃঢ়ভাবে- মনে হয় মাটিতে তার পা প্রোথিত। । তার কাঁধ থাকে টান টান। তার নড়াচড়া, হাঁটাচলায় ক্ষিপ্রতা থাকে, কিন্তু অস্থিরতা থাকে না। সবগুলোই একজন  পুরুষকে অনবদ্য করে তোলে।

৫) স্টাইল

মাসুদ রানার পোশাক চকচকে নয়।কিন্তু সে যা পরে তা সুন্দর করে পরে। যখন যেটা উচিত তা পরে। তার পোশাক থাকে ফিটফাট। মাপমতো। তার শরীর থাকে পরিষ্কার। তা থেকে হালকা পারফিউমের গন্ধ ভেসে আসে। তার ব্যাকব্রাশ করা চুল পরিপাটি। জুতোয় ধুলো নেই।সে হাসলে মুক্তোর মতো দাঁত দেখা যায়। এমন কি তার নখের দিকে মেয়েরা মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকে।

ছদ্মবেশ বা গোপন অপারেশনের স্বার্থে সে মাঝেমাঝে উলটাপালটা পোশাক পরে, কিন্তু অন্যসময় তার পোশাকে থাকে আভিজাত্য।

৬) ভানহীনতা

রানা মিথ্যা বলে না। ভান করে না। প্রতিশ্রুতি ভাঙে না। তিনটি গুণই স্মার্টনেসের ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর। এ তিনটি গুণ যে স্মার্টনেস উপহার দেয় তা দিতে পারে না দুনিয়ার সেরা ব্রান্ডের জামা-জুতোও তা দিতে পারে না।

৭) সাহস

রানার স্মার্টনেসের সবচেয়ে বড় কারণ হলো তার সাহস। সে যে মাঝে মাঝে ভয় পায় না , তা নয়। কিন্তু সে সাহস হারায় না। তীব্র ভয়ের মুহূর্তেও সাগরের নীল জলের শান্তভাব নিয়ে সে তা মোকাবেলা করে। এই সাহস নিয়েই সে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। ভীতু লোক কখনো স্মার্ট হতে পারে না।

৮) স্ট্যান্ডার্ড 

 ১৯৬৬ সালে  ধ্বংসপাহাড় দিয়ে মাসুদ রানার শুরু।  ষাট বছর হয়ে গেলো কল্পনার রানার চরিত্র  বদলায়নি। সে কখনো ভোল পাল্টায়নি। প্রথম দিন যা ছিল আজো তা আছে। এটাই হচ্ছে একজন মানুষের প্রকৃত 'স্ট্যান্ডার্ড'। যারা এ স্ট্যান্ডার্ড ধরে রাখতে পারে তারা সবার মন জয় করতে পারে। তাই স্ট্যান্ডার্ড আর স্মার্টনেস এই একটি জায়গায় এসে একাকার হয়ে যায়।

৯) মানবিক মন

রানা প্রয়োজনে ইস্পাত-দৃঢ় কঠিন। কিন্তু ভেতরে ভেতরে নরম- খুব নরম। 

কোমলে-কঠিনে মেশানো হৃদয় তাকে করে তুলেছে অন্যমাত্রার স্মার্ট। কারণ দুটোই স্মার্টনেসের অনুষঙ্গ।

১০)  পড়াশোনা 

দুঃসাহসী মাসুদ রানার মুগ্ধতায় ডুবে থেকে আমরা অনেক সময় ভুলে যাই যে, তার পড়াশোনা ব্যাপক। ইতিহাস, ভূগোল থেকে বিজ্ঞান সব ব্যাপারে তার অগাধ জ্ঞান। এ জ্ঞানের ছটায় সে উদ্ভাসিত।

আমরা যারা স্মার্টনেস নিয়ে ভাবি- তাদের আর কিছু করতে হবে না-মাসুদ রানাকে অনুসরণ করাই যথেষ্ট।


বাদল সৈয়দ 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...