সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নক্ষত্রের নাবিকেরা ৫

 নয়

 

মঙ্গলই স্বপ্নের সওদাগর    

 

মহাশূন্যে প্রাণের খোঁজ করতে গেলে প্রথমেই আমাদের চোখের সামনে হাজির হয় মঙ্গল গ্রহ

কিন্তু কেন ?

কেন বারবার আমাদের কল্পনার  স্বর্গ হয়েছে মঙ্গল গ্রহ ?

কেন সেই অতীত থেকেই আমরা ভাবছি মঙ্গলে দারুন মহান সব  সভ্যতা আছে বা ছিল ? এমন কি  প্রথম দিকে আমরা যখন  UFO দেখতাম,  প্রথমেই ভেবে নিতাম ওরা মঙ্গল থেকে এসেছে

 কেন হাজারে বিজারে সায়েন্স ফিকশন গল্প , উপন্যাস আর সিনেমা বানানো হয়েছে মঙ্গল গ্রহকে নিয়ে ?

আর্থার সি ক্লার্ক এইচ, জি, ওয়েলসআইজাক আজিমভ রে ব্রেডবেরি

  কে লিখেনি মঙ্গল গ্রহকে নিয়ে ?

কিন্তু কেন  ?

আজও পৃথিবীর মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত

একদল  আশায় আছে মঙ্গলে প্রাণের চিহ্ন ছিল সেটার প্রমাণ পাওয়া যাবে , আজ বা কাল 

অন্যদল মাথা নেড়ে জানায়, নাহ কিছু নেই সেখানে ছিলই না ।  কিচ্ছু পাওয়ার আশা  একদম  বেকার 

মঙ্গল থেকে নতুন নতুন ছবি আসছে আসছে নতুন সব তথ্য আজও তেমন কিছু পাওয়া যায়নি তারপরও মানুষ আশায় আছে অন্ধ বিশ্বাসে ভাবতে ভালবাসে- কিছু একটা আছে ওখানে বা ছিল সময়ের  চক্রে ধ্বংস হয়ে গেছে কিন্তু  প্রমাণ ঠিকই পাওয়া যাবে

কিন্তু মঙ্গল কেন আমাদের স্বপ্নের সওদাগর ?



কেন বৃহস্পতি বা শনি নিয়ে আমাদের অত ভাবালুতা নেই  ?

সম্ভবত প্রথম যে ব্যাপার সেটা হল,  মঙ্গল খুবই কাছে প্রতিবেশী দূরের রাজকুমারীর চেয়ে প্রতিবেশী কিশোরী মন অনেক আদ্র করে ফেলে



 নয় কী ?



মঙ্গলে রয়েছে দুই মেরু সারাক্ষণ হচ্ছে লাল ধূলার ঝড় আকাশ ভর্তি সাদা মেঘ ঋতু পরিবর্তন প্রায় পৃথিবীর মতই মঙ্গলের আকারও প্রায় পৃথিবীর মতই দিনরাত্রিও প্রায় সমান চব্বিশ ঘণ্টা

নানান বিচিত্র কারনে মঙ্গল আমাদের স্বপ্ন আমাদের আবেগ আর   অসংখ্য অনুভূতির বন্দর  

কয়েক দশক আগেও  আমরা  ভেবে আনন্দ পেতাম,  ওখানে রয়েছে অপূর্ব এক সভ্যতা ওরাই কখন কখন ফ্লাইং সসারে চেপে আমাদের দেখতে চলে আসে



আবার আমরা যদি কখনও পেল্লাই স্পেসশিপ বানিয়ে ওদের ওখানে চলে যেতে পারি তবে ওরা  উষ্ণ  হৃদয়ে আমাদের দারুন রকমের আমন্ত্রণ জানাবে বন্ধু হয়ে যাবে আমাদের

অথবা আমাদের পছন্দ করবে না বিশেষ করে জ্ঞানে বিজ্ঞানে ওরা যদি এগিয়ে থাকে তবে আমাদের পছন্দ না করার যথেষ্ট কারন থাকবেই যেমনটা আমরা করে থাকি সংখ্যালঘু আদিম জাতি বা গোত্রদের সাথে 

হয়তো সেইজন্যই ওরা ফ্লাইং সসারে চেপে আমাদের খোঁজ খবর নিয়ে যায়  কুৎসিত আর দুর্দান্ত পরিকল্পনা করে আমাদের নিয়ে !

আমাদের চিন্তা চেতনাকে উসকে দেয়  রোমাঞ্চিত করে তুলে ১৮৯৭ সালে প্রকাশিত এইচ, জি, ওয়েলস এর  সায়েন্স ফিকশন -  দ্যা ওয়ার অভ দ্যা ওয়ার্ল্ড    যেটা কিনা ক্লাসিক সায়েন্স ফিকশনের মর্যাদা পেয়েছে




বেশির ভাগ সায়েন্স ফিকশন বইই এতটা দীর্ঘ মেয়াদী জনপ্রিয়তা নিয়ে টিকে থাকতে পারে না

দ্যা ওয়ার অভ দ্যা ওয়ার্ল্ড  বইটি প্রকাশের বছর  তিন আগে পারসিভাল লাওয়েন নামে এক ব্যক্তি বহু শ্রম আর মেধা বিনিয়োগ করে একটা মান মন্দির প্রতিষ্ঠান করেন ভদ্রলোকের  আগ্রহের বিষয় ছিল মঙ্গল গ্রহ লাল  এই গ্রহটার উপর ভদ্রলোকের ভীষণ টান ছিল

তারও আগে ইটালিয়ান জ্যোতিবিদ গিওভান্নি স্কিয়াপ্যারেল্লি ১৮৭৭ সালে  অদ্ভুত রকমের ঘোষণা দিয়েছিলেন




  মঙ্গলের বুকে কতগুল সরল রেখা দেখেছিলেন তিনি ইটালিয়ান   Canali শব্দের অর্থ খাঁজ

উনার লেখা ইংরেজিতে অনুবাদের সময় সেটা হয়ে গেল Canals , যাতে বুঝা যায়   বুদ্ধিমান প্রাণীদের তৈরি সেঁচের জন্য তৈরি ডিজাইন মানে যারা সব বানিয়েছে তারা চাষ বাস করে জমিতে সেচ দেয়ার জন্য বানিয়েছে অমন নালা



ব্যাপারটা ভাবতে পারেন !



সেই সময় পুরো ইউরোপ আর আমেরিকানদের মধ্যে মঙ্গল গ্রহ নিয়ে   অতিরিক্ত  মাতামাতি  কেমন একটা মহামারির  আকারে ছড়িয়ে পড়ল সবাই আগ্রহী এই মঙ্গল গ্রহ নিয়ে 

এমন কি রাস্তার ফেরিওয়ালারা পর্যন্ত সস্তায়  বিদঘুটে সব চোঙ বিক্রি শুরু করলো বিক্রেতাদের দাবী সেই চোঙ দিয়ে রাতের বেলা মঙ্গল গ্রহের অদ্ভুত সব দৃশ্য দেখা যাবে   অপূর্ব অপার্থিব সেই দৃশ্য

 না দেখলে ষোল  দুগুনে বত্রিশ   আনাই জীবন নষ্ট 




আসলে সেই চোঙগুলো এত ঠুনকো আর সস্তাদরের জিনিস ছিল,  মঙ্গল দূরের কথা প্রতিবেশীর বারান্দার অলস বিড়ালটাকে দেখা যাবে না




  তো ১৮৯২ সালে স্কিয়াপ্যারেল্লি   সিদ্ধান্ত নিলেন রাত জেগে মঙ্গল গ্রহ পর্যবেক্ষণ করার কাজ ছেড়ে দেবেন কারন, চোখের সমস্যা প্রায় কিছুই দেখতে পারছিলেন না বেচারা

সানন্দে এই কাজের ভার নিজের কাঁধে তুলে নিলেন পারসিভাল

অ্যারিজোনায় তার নিজের  মান মন্দিরটা প্রতিষ্ঠা করে দিনরাত্র ডুবে রইলেন মঙ্গল গ্রহ পর্যবেক্ষণের কাজে

মাথার ভেতরে গেথে আছে মঙ্গলের সেই রহস্যময় দাগগুলোসবাই যেগুলোকে খাল বলছে

সে এক অমানুষিক আর কঠিন কাজপ্রচণ্ড শীতের রাতগুলোতেও তিনি সারারাত চেয়ে থাকতেন টেলিস্কোপের দিকেপাশে নোট বইলিখে যেতেন পাতার পর পাতা

তার বর্ণনা বড্ড অদ্ভুতরোমাঞ্চকর




 তার বর্ণনাতে আমরা জানতে পারি- হ্যাঁ,  তিনি নিজেও সেই লম্বা দাগগুলো দেখেছেন মঙ্গলের বুকেতার বিশ্বাস , মঙ্গলের বাসিন্দারাই কেটেছে সেই খালগুলোউদ্দেশ্য মেরু অঞ্চলের জমাট বরফ গলিয়ে তরল পানি নেয়া হয়েছে মঙ্গলের শহরগুলোতেশহরের নাগরিকদের জলের চাহিদা মেটানোর জন্য , চাষাবাদের সুবিধের জন্য

 হেন তেন

পার্সিভালের বর্ণনা মতে- মঙ্গল গ্রহের আবহাওয়া প্রায় পৃথিবীর মতইহাজার বছরের প্রাচীন এক সভ্যতা রয়েছে সেখানেআদিবাসীরা শান্তিপ্রিয়সারাক্ষণ জ্ঞান চর্চা করে ওরামহাজগতের সমস্ত জ্ঞান ওদের হাতের মুঠোয়আর মঙ্গল গ্রহের ঘন অন্ধকার জায়গাগুলো আসলে দিগন্ত ছাওয়া গভীর সবুজ অরন্যনানান মৌসুমে নানান রুপ ধারন করে সেই অরন্য !

আজ আমরা তার নোট বই পড়তে গেলে হেসেই মরে যাবআসলে পর্যবেক্ষণের সাথে বেচারা তার বিশ্বাস আর ফ্যান্টাসি গুলিয়ে ফেলেছিলেন



 ফলে, যা নেই তাও ধরা পড়েছিল তার চোখে !



লাল টকটকে গরম এই গ্রহটাও তার কল্পনায় হয়ে উঠেছিল আরামদায়ক ঠাণ্ডা এক গ্রহবাতাস ছিল পাতলাপুরো মঙ্গলে কোন নদী বা সাগর ছিল নাশুধু মাত্র মেরুর সেই বরফ যেটা কিনা আগেই বললাম,  খালের মধ্য দিয়ে সরবরাহ করা হত



তবে সাধারন জনগণের কাছে পার্সিভালের সেই সব আজগুবি বর্ণনা ছিল দারুন জনপ্রিয়সবাই বিশ্বাস করতোবা বিশ্বাস করতে চাইত

তবে দিন সমান যায় না১৯০৭ সালে অ্যালফ্রেড রাসেল ওয়ালেস নামে এক ইঞ্জিনিয়ার পার্সিভালের এই গাঁজাখুরি গল্পের বিরুদ্ধে সমালোচনা করেন

তিনি যুক্তি দেখান - মঙ্গল মোটেও অতটা ঠাণ্ডা হতে পারে নাআরও অনেক বেশি উষ্ণ হবেআর এইভাবে খাল কেটে এক গোলার্ধ থেকে আরেক গোলার্ধ পর্যন্ত যারা বরফ গলা জল  সরবরাহ করে তারা মোটেও বুদ্ধিমান প্রাণী নাবোকার হদ্দ বা নির্ঘাত কোন উম্মাদ



তবে সাধারণ লোকজন এই সমালোচনা মেনে নিতে পারল নাকারন ততদিনে পৃথিবীতেও বড় বড় পেল্লাই সব খাল কাটা শুরু হয়ে গেছেসুয়েস খাল, গ্রেট লেক লকসকারিন্থ খালআমেরিকার সাউথ ওয়েস্টের অসংখ্য খাল

তো পৃথিবীর মানুষ যদি এত সুন্দর আর বড় বড় খাল কাটতে পারে,  তবে মঙ্গল গ্রহের সেই আদিম প্রাচীন জ্ঞানীরা তাদের হাজার বছরের সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য শুকনো মরু গ্রহটাকে রক্ষা করার জন্য অমন করতে পারবে না কেন ?




আজ আমাদের কৃত্রিম উপগ্রহগুলো মঙ্গলের আকাশে গিয়ে আর  রোবটগুলো মঙ্গলের ভূমিতে নেমে হাজারে বিজারে ছবি তুলে পাঠিয়েছে

পার্সিভালের বর্ণনা অনুয়ায়ি তেমন কোন শুকনো খালের চিহ্ন আমরা পাইনি

অথচ  পার্সিভাল রাতের পর রাত জেগে নোট বইতে এঁকে গিয়েছিলেন মঙ্গলের সেই খালের ডিজাইন  ১৯০৫ সালের ২১ জানুয়ারি  লিখেছেন, জোড়া কয়েকটা নতুন খাল আজ রাতে দেখতে পেলাম যেগুলো খুবই উজ্জ্বল আর বাস্তব... 

মানে কী   ?

সত্যিই কিছু দেখেছিলেন তিনি  

নইলে সে যুগে অন্য সব জ্যোতিবিদ যারা বিচ্ছিন্ন ভাবে কাজ করতেন তারাও মঙ্গলের খালের নকশা এঁকেছিলেন  আশ্চর্য হলেও সবার ডিজাইন হুবহু এক 

সবাই ভুল দেখেছিলেন  ?



কি দেখেছিলেন তারা ?


মহাকাশ যান মেরিনার থেকে শুরু করে গত বছর পর্যন্ত মঙ্গলের  যে সব ছবি আমরা পেয়েছি  সেখানে অমন কোন বিঘত খানেক লম্বা খাল বা ফাটল ও    আমরা পাইনি

 

কার্ল সেগানের মতে,  মঙ্গলের মাটিতে অমন ফাটল বা দাগ   অতীতে সত্যিই ছিল হয়তো সেখানে সর্বক্ষণ  বয়ে যাচ্ছে  দিশেহারা  ধূলার ঝড় প্রবল বায়ু প্রবাহ ধূলার স্তূপ এনে মিলিয়ে দিয়েছে রহস্যময় দাগগুলো    হয়তো ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে মঙ্গলের মাটি থেকে সেই দাগগুলো মুছে গেছে 

আসলে পুরো ব্যাপারটাই ব্যাখ্যার  অতীত কার্ল সেগানের মতে, মঙ্গলের সেই দাগগুলো নিয়ে , এখনও শেষ কথা বলার মত পরিস্থিতি আসেনি 



তবে সাধারণ জনগণ সেই সময় এইচ, জি, ওয়েলেসের মঙ্গলবাসীদের চেয়ে পার্সিভালের মঙ্গলবাসিদের বেশি পছন্দ করতো 

কারণ সেই বাসিন্দারা  ছিল জ্ঞানী আর দয়ালু

এইচ, জি সাহেবের মঙ্গলবাসীদের মত নিষ্ঠুর না মোটেও 

আচ্ছা এইবার  কল্পনা করুন, আপনি অন্য কোন  গ্রহের বাসিন্দা ! দূর থেকে নজর রাখছেন পৃথিবীর দিকে এখন কী দেখলে বুঝতে পারবেন পৃথিবীতে    বুদ্ধিমান প্রাণী আছে ?





দূর থেকে হয়তো ততটা বুঝতে পারবেন না

যত এর কাছে আসবেন ততই এর বৈশিষ্টগুলো ধরা পড়তে থাকবে বুদ্ধিমান প্রাণী থাকলে প্রথমেই কৃত্রিম নির্মাণ কৌশল নজরে পড়তে থাকবে  চমৎকার রাস্তাঘাট, সেতু, দালানবাড়ি





খুব শক্তিশালী টেলিস্কোপ দিয়ে যখন চোখ  রাখবেন পৃথিবীর উপর তখনই নিউ ইয়র্ক বা প্যারিসের মত শহর নজরে আসবেনানান যানবাহন আর রাস্তাঘাট দেখলেই বুঝা যাবে কেউ বানিয়েছে ঐ সব

রাতের বেলা হলে দেখবেন অগুনতি আলো

কৃত্রিম আলো

 বড় বড় শহরগুলো হতে শুরু করে প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য মাছ ধরার নৌকাগুলোতে পর্যন্ত

আবার আফ্রিকা মহাদেশে যখন চোখ পড়বে তখন বিশ্বাসই হতে চাইবে না এই পৃথিবী তার সভ্যতার দৌড়ে কতদূর এগিয়ে গেছে

বিজ্ঞানীদের মতে, কোন নির্মাণ কাজে যখন জ্যামিতিক ছক প্রকাশ পায় তখন ধরে নেয়া যায় ওটা বুদ্ধিমান প্রাণীর কাজ




মঙ্গলের বুকে যদি ভাঙ্গা কোন যন্ত্রের অংশ খুঁজে পাওয়া যেত ! বা সেই খালগুলো দেখলে যদি মনে হত প্রাকৃতিক কারনে তৈরি হয়নি তবে আমাদের জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া অনেক সহজ হয়ে যেত

আধুনিক কিছুর সাথে কিছুটা মিল আছে দেখলেই হুট করে সিদ্ধান্ত নেয়া বোকামিএখনও আমরা অমন কিছু পাইনি যাতে প্রমাণ হয় মঙ্গলে কেউ ছিল

বা এখনও লুকিয়ে আছে





মঙ্গল সূর্য থেকে দূরেকাজেই তাপমাত্রা হবে কমবায়ুমণ্ডলে বেশির ভাগই কারব- ডাই- অক্সাইডসামান্য আর্গন আর নাইট্রোজেন রয়েছে

তারচেয়ে কম জলীয় বাস্প, অক্সিজেন, আর ওজন

শেষ আবিস্কার হিসাবে বলছে মঙ্গলের মেরুতে আছে বরফমাটির তলায় মিষ্টি জল  থাকার হিসেব আরও বেশি

তবে অক্সিজেনের পরিমাণ কমমানুষ শ্বাস প্রশ্বাস নিতে পারবে নাওজন স্তর এত পাতলা যে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সহজের আঘাত হানতে পারবেকোন প্রাণী টিকে থাকতে পারবে কি না যথেষ্ট সন্দেহ আছে

 

ব্যাপারটা পরীক্ষা করে দেখার জন্য বিজ্ঞানী কার্ল সেগান তার এক দল সহকর্মী নিয়ে দারুন রকমের একটা পরীক্ষার আয়োজন করেছিলেন 





একটা চেম্বার বানালেন যেটার পরিবেশ তাপমাত্রা হুবহু মঙ্গল গ্রহের মত

ভেতরে ঠেসে দেয়া হল পৃথিবীর এক গাদা ভিন্ন ধরনের অণুজীব দিয়ে দেখার ইচ্ছা, অণুজীবগুলো বাঁচে কি না 

চেম্বারের ভেতরে সোলার ফ্ল্যাক্স দিয়ে কৃত্রিম ভাবে অতিবেগুনী রশ্মি তৈরি করা হল

তাপমাত্রার ছক রাখা হল মঙ্গলের মতই



প্রথম রাতেই বেশ কিছু অণুজীব মারা গেল

বাকিগুলো মারা গেল অক্সিজেনের অভাবে  জলে অভাব আর অতিবেগুনী রশ্মির তেজে  পুড়ে গেল আরও কিছু

কিন্তু এত কিছুর পরও কিছু অণুজীব টিকে গেল 



 ওদের অক্সিজেনের কোন  প্রয়োজন হত না তাপমাত্রা  কমে গেলে ওরা নিজেদের কেমন গুঁটিয়ে ফেলত দিনের বেলা অতিবেগুনি রশ্মির হাত থেকে রক্ষা পেতে ওরা আশ্রয় নিত বালির স্তরের নিচে  বা পাথরের খাঁজে  

কথা হল পৃথিবীর কোন অণুজীব যদি মঙ্গলের পরিবেশে টিকে থাকতে পারে তবে মঙ্গলের বুকেও বেঁচে থাকতে পারে মঙ্গলীয় কোন অণুজীব



  পর্যন্ত অসংখ্য মহাকাশ যান নেমেছে মঙ্গলের বুকে পাঠিয়েছে ছবি আর হরেক তথ্য সব মিলিয়ে মঙ্গলকে খুব ভয়ংকর গ্রহ মনে হয় না মঙ্গলের আকাশ গোলাপি , কেমন রোমান্টিক মেরুর  জমাট বরফ   লাল মাটি  মায়াবী উপত্যাকা প্রাচীন শুকনো নদীর গর্ত সব মিলিয়ে মঙ্গল বেশ বন্ধু মার্কা গ্রহ দারুন প্রতিবেশী  পরিবেশটাও ক্যারাবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের গরমের সন্ধ্যার   মত  



অনেকটা আবার কলোরাডো , অ্যারিজোনা বা নাভাডার মত মনে হয় !

তারপরও অনেক কিছুই আমরা জানি না

কেন ওর আকাশ অমন গোলাপি ? বালির ছক অমন কেন ? আসলেই বালি গুলো না অন্য কিছু   ?

 বহুভুজ আকৃতির শিলাখণ্ড গুলো কী প্রকৃতিক ভাবে তৈরি হতে পারে    ?



আর সেই ত্রিভুজ  আকৃতির শিলাখণ্ড গুলো   ? যেগুলো  দেখতে প্রায় পিরামিডের মত  চওড়ায় তিন কিলোমিটার লম্বায় এক কিলোমিটার আকারে মিসর আর মেক্সিকোর পিরামিডের চেয়েও বড় 

কি আসলে ঐগুলো ?

হাজার হাজার বছর ধরে হাওয়া আর  বালির ঘর্ষণে তৈরি হয়েছে গুলো ?



এতই কাকতালীয় ?  

নাকি অন্য কিছু  ?

তারপরও সকলই গরল ভেল




এখনও আমরা বলতে পারি না মঙ্গলে অতীতে মহান সভ্যতা ছিল  কোন কারনে ধ্বংস হয়ে গেছে ওরা ছড়িয়ে গেছে মহাবিশ্বের অন্য কোথাও    আর এই ফ্লাইং সসারগুলো মঙ্গলের বাসিন্দাদের  

সব ভুল

 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...