সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নক্ষত্রের নাবিকেরা ২

 দুই

 

 

ফ্লাইং সসার কি ?   

 

 

 

ঘটনা শুরু হয় কিভাবে ?

একটা ঘটনা আমরা জানি কিভাবে ?

হতে পারে কারও মুখ থেকে শুনেতবে শোনা কথার ভিত্তি থাকে কম গল্প গাঁথা হিসাবে চলে।   এই ক্ষেত্রে লিখিত তথ্য বেশি কাজের

সসার সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি বস্তনিষ্ঠ রিপোর্ট পাওয়া গেছে ১৯৬৯ সালের দিকেদেশ বিদেশের বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় এক সাথে অনেকেই দেখেছিল তখন

আর এর আগের ঘটনার তথ্য প্রমাণ পাওয়া বেশ মুশকিল

উড়ন্ত সসারের সবচেয়ে প্রাচীন বর্ণনা আগেই বলেছি , প্রাচীন মিসরেবাইবেলে আছে অমন উড়ন্ত বস্তুর বর্ণনা

রামায়ণ মহাভারতে বিমান শব্দটার কথা হাজার বার এসেছেআপাতত দৃষ্টিতে মনে হয় আকাশের উড়ন্ত বাহন নতুন কোন কিছু ছিল না আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে

প্রাচীন রেড ইনডিয়ানদের উপকথায় আছে, দেবতারা আগুনের ঘোড়ায় চেপে আকাশ থেকে নামতনিউজিল্যান্ডের মাউরিরা জানে , আকাশের জ্বলন্ত গোলকের কথাহাওয়াই দ্বীপের আদিবাসিরা আকাশে জ্বলন্ত ভুত দেখতভুতের নাম - আকুয়াটিলা

 

১৯৪৭ সালের পর পৃথিবীর মানুষদের জন্য ফ্লাইং সসার দেখা একটা সাধারণ ঘটনা হয়ে যায় সমাজের প্রত্যেক স্তরের মানুষ সেই সময় ফ্লাইং সসার দেখেছিল,  অমনটা দাবী করা হয় 

এদের মধ্যে পুলিশ অফিসার, পাইলট , নাবিক, খামারের কৃষক, ডাক্তার, আইনজীবী, মোদ্দা কথা সমাজের সর্বস্তরের লোকজনই ছিল

ছিল মন্দিরের পুরোহিত হতে রাস্তার ভবঘুরে পর্যন্ত 

পৃথিবীর  সব জায়গায় দেখা গেছে বিচিত্র এই আকাশ যানগুলো  আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা, জাপান, নিউজিল্যান্ড মোট কথা  উত্তর মেরু হতে দক্ষিণ মেরু , সর্বত্রই  ছড়িয়ে  পড়েছিল ভৌতিক এই উড়ন্ত  তশতরীর গল্প !

প্রাথমিক ভাবে  ফ্লাইং সসারের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করেন কলোরাডো বিশ্ব বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান, ডঃ এডওয়ার্ড ইউ, কনডন একই সাথে আমেরিকান  এয়ার ফোর্স উড়ন্ত সসার তদন্ত কমিটি টাইপের একটা প্রজেক্ট  হাতে নেন

দীর্ঘদিন ধরে তথ্য সংগ্রহ করেছে আমেরিকান এয়ার ফোর্স

শেষে তারা রিপোর্ট দেয় ,

...আপাতত দৃষ্টিতে মনে হয় , অনেকে মিলে সত্যি সত্যি অচেনা রকমের কোন মহাকাশযান দেখেছে তারা নামও দিয়েছে UFOকিন্তু আমাদের নিরপেক্ষ তদন্তে আমরা যা পেলাম বেশির ভাগ ঘটনাই দৃষ্টি বিভ্রমের কারনে হয়েছে মেঘ, সূর্যাস্তের তির্যক আলো , আবহাওয়ার বেলুন দেখে লোকজন UFO ভেবেছিল বাদবাকি সবই গুজব

তদন্তের শেষে আমরা সিদ্ধান্ত  নিলাম -বাস্তবে ফ্লাইং সসার বলতে কিছু নেই......

আসলেও কি তাই ?

 

 

তিন

 

অচিন মহাকাশযান

 

 

আরথার সি ক্লাকের 2001 , A Space Odyssey মুভিটা যারা দেখেছেন বা বইটা পড়েছেন তাদের মনে আছে ,   চাদের বুকে সেই অদ্ভুত কালো পাথরের দেয়ালটার কথা ?

মনোলিথ নাম যারঅন্য কোন নক্ষত্র সভ্যতার বুদ্ধিমান প্রাণীরা এসে ওটা রেখে গিয়েছিলযাতে তারা এক সময় বুঝতে পারে পৃথিবীর মানুষ চাঁদে এসেছে

কি রোমাঞ্চকর !

কল্পকাহিনি বাস্তবের কোন ছোঁয়া নেই তাই না ?

তবে বাস্তবে অমন একটা ভয়াল সংবাদ এসেছিল ডেইলি টেলিগ্রাফে

১০ জুলাই, ১৯৭০ সালেসাথে একটা ছবিছবিতে দেখা যাচ্ছে চাদের বুকে ঘাপটি মেরে আছে অদ্ভুত আকৃতির একটা মহাকাশযান !

 

ছবিটা তোলা হয়েছিল কৃত্রিম উপগ্রহের সাহায়্যে  একই  দৃশ্যের দুটো ছবি তোলা হল  একটা তুলল আম্রিকা কৃত্রিম উপগ্রহ অরবিট  , আরেকটা রাশিয়ান লুনার 

আরগোসি ( Argosy)   পত্রিকায় লেখা হল,  ছবির মহাকাশযানটা দেখেই বুঝা যাচ্ছে অনেক উন্নত মানের যান পৃথিবীর মানুষ এখনও  অমন  আধুনিক মাহাকাশ যান তৈরির  বিদ্যা  আয়ত্ব করতে পারেনি  নিঃসন্দেহে,  পুরো নিউ ইয়র্ক শহরটা   এঁটে যাবে ওই যানের ভেতরে  কোন রকম তর্ক না করে বলা যায় ওটা ভিন্ন  নক্ষত্রের  বাসিন্দাদের তৈরি যারা কিনা আমাদের আগেই চাঁদে গিয়ে বসে ছিল

সে সময় অদ্ভুত কথা বলেছিলেন কিছু বিজ্ঞানী  চাঁদের সবচেয়ে বড় তিনটে পাহাড় যে প্যাটানে দাড়িয়ে আছে,  ঠিক সেই প্যাটানে মিসরের পিরামিড তিনটে  বানানো হয়েছে এই ছকটাকে প্রাচীন মিসরীয়রা বলত আবাকা  (Abaka)

 

 

নিউইয়র্ক হেরালড ট্রিবিউনের সায়েন্স এডিটর জন রে ওনীল,   রাতের পর রাত জেগে চাঁদ পর্যবেক্ষণ করতেন

১৯৫৩ সালের জুলাই মাস   চাঁদের গায়ে অদ্ভুত লম্বা একটা দাগ দেখতে পান তিনিজিনিসটা এত লম্বা , তিনি ভেবেছিলেন কোন ব্রিজ হবে

পরে আরও অনেকেই দেখেছিল সেই ব্রিজ (!)

চাঁদের বুকে নামার পর সেই ব্রিজটা আর খুঁজে পাওয়া যায়নিএত গুলো মানুষ সবাই ভুল দেখেছিল ?

কি ছিল সেটা ?

বিচিত্র কোন মহাকাশ যান নয়তো ?

আমাদের আকাশ জয়ের বহু আগে থেকেই অদ্ভুত যানগুলো ঘুরে বেড়াত আমাদেরই আকাশ সীমানায় ?

জুলাই ১৭, সাল ১৯৬২

মেজর রবার্ট সবোচ্চ উচ্চতায় উড়ার রেকর্ড করেছিলেনUSX-15 হাই অ্যালটিটুড রকেট প্লেন নিয়ে ৩১৩৭৫০ ফিট উচ্চতায় উড়ে যাচ্ছিলেন তিনি

টাইম ম্যাগাজিনের বর্ণনা অনুয়ায়ি , সে সময় রেডিয়োতে মেসেজ পাঠিয়েছিলেন মেজর রবার্ট বেইজের কন্ট্রোল রুমের সবাই শুনেছে সেই মেসেজ, ওখানে কী একটা যেন উড়ে বেড়াচ্ছে , বড় অদ্ভুত রকমের যানঘণ্টায় ৩৮০০ মাইল বেগে ছুটছে ওটা

১৯৬৩ সালের ১৬ মে

মহাকাশযাত্রী গরডন কুপার পনেরতম বার পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে ফিরছিলেনঅস্ট্রেলিয়ার উপর দিয়ে উড়ে যাবার সময় রেডিয়োতে  মেসেজ পাঠিয়েছিলেন , সবুজ রঙের অদ্ভুত ডিজাইনের একটা স্পেসশিপ দেখেছিলেন তিনিপৃথিবীর অন্য কোন দেশ অমন অদ্ভুত রকমের স্পেসশিপ বানিয়েছে বলে কোন খবর পাওয়া যায়নি তখনও

 

আরও অনেক মহাকাশ যাত্রী দাবী করেছেন, ফ্লাইং সসার দেখেছেন তারা অথবা, আকাশে অদ্ভুত ধরনের মহাকাশযানের মুখোমুখি হয়েছেনকিন্তু কক্ষনই বিস্তারিত কিছু বলেননিসংবাদ সম্মেলন করে ইন্টার্ভিউ দেয়নি

যদি লোকজন হাসি ঠাট্টা করে !

তখনকার দিনে, যদি কেউ দাবী করত, ফ্লাইং সসার দেখেছে  তবে  আর রক্ষা ছিল না বেচারাকে নিয়ে বেশ এক চোট হাসি তামাশা হয়ে যেতদেখা গেছে যারা দাবী করেছে , তাদের মধ্যে বড় একদল ছিল ভবঘুরে বা মাতালপরে জেরার মুখে আমতা আমতা করে বলেছে, ইয়ে মানে চোখের ভুলও হতে পারে !

 চাঁদে নামার আগে নাকি নীল আর্মস্ট্রং আর তার দুই সঙ্গী একটা ফ্লাইং সসার দেখেছিলেন

তখনই রেডিওতে নিজেদের দেখা বর্ণনা পাঠিয়েছিলেননাসার হেড কোয়াটারে সেই রিপোর্ট আর মেসেজের টেপ সযত্নে রাখা আছে

আজও

ভাবা যায় আমাদের চাঁদে পৌঁছানোর আগেই সেখানে পৌঁছে গেছে অচেনা মহাকাশ যান !

কারা ওরা ?

অ্যাপোলো-  ১২ যখন চাঁদে যাচ্ছিল তখনও ফ্লাইং সসারের দেখা পেয়েছিল সেগা ( Saga) ম্যাগাজিনের রিপোর্টটা তুলে দিলাম -

শুক্রবার সন্ধ্যা নভেম্বর ১৪, ১৯৬৯

ইউরোপের সব দেশের লোকেরা দেখতে পেয়েছে অচেনা দুটো উজ্জ্বল আলো অ্যাপোলো-  ১২ কে অনুসরণ করছেযেটা কিনা চাঁদের দিকে যাত্রা করেছে

প্রমাণ সাইজের টেলিস্কোপে করে নজর রাখতেই দেখা গেল দুটো ধাতব বস্তুু  অনুসরণ করছে অ্যাপোলোকেধাতব বস্তুু দুটো থেকে নিয়মিত ছন্দে উজ্জ্বল আলো ঝলসে ঝলসে উঠছিল

 

 

নভেম্বর ১৫ , শনিবার

এপোলো - ১২  এর  অভিযাত্রী পিট কনরেড , ডিক গরডন আর আল্যান বেন বোস্টনের মিশন কন্ট্রোল হেড কোয়াটারে রিপোর্ট দেয় , তাদের অনুসরণ করে যে দুটো অদ্ভুত রকমের মহাকাশ যান আসছে , সেই ব্যাপারে  নাসা আগে থেকে কিছু বলেনি কেন  ?

সব যাত্রী নিরাপদে  পৃথিবীতে ফিরে আসার  পর নাসা তাদের অনুরোধ করেছিল সেই উড়ন্ত সাসারের ব্যাপারে তারা যেন মুখ না খোলে !

কেন  `?

এতবার এতগুলো রিপোর্ট পাবার পরও নাসা   নিশ্চুপ ছিল কেন  ?

চাঁদই ফ্লাইং সসারের বন্দর অমনটা জানত  তারা    ?  নাকি অন্য কোন ব্যাপার ছিল ?

চাঁদের বুকে পাওয়া সেই পিরিচ আকৃতির মসৃণ গর্তগুলো কিসের  ?

 যেগুলো দেখে কিছু বিজ্ঞানী বলেছেন,  যেন  জেট ইঞ্জিনের প্রচণ্ড উত্তাপে তৈরি হয়েছে সেগুলো 

 নাকি সেই জায়গায় ফ্লাইং সসার ল্যান্ড করতো ?

কার্ল সেগানের মত বিজ্ঞানী কিন্তু সেই রকম সন্দেহ করতেন

তার মতে  সুদূর অতীতে চাঁদ ছিল ফ্লাইং সসারের বন্দর ভিন গ্রহের বাসিন্দারা ওখানেই তাদের নিরাপদ বন্দর বানিয়েছিল

ওখান থেকেই নজর রাখত  পৃথিবীতে !

 

 

 

চার

 

সময় সুড়ঙ্গ 

 

যখন প্রমাণ দেয়ার দরকার হয় না তখন ইচ্ছে করলেই যা খুশি বলা যায় দেয়া যায়  নতুন সব থিউরি অমন না যে আজগুবি নতুন কথা বললে লাস্ট  বেঞ্চিতে কান ধরে দাঁড়াতে হবে   ফ্লাইং সসারের ব্যাপারে আজগুবি কথা  বলার সুযোগ সবচেয়ে বেশি কারন, অসংখ্য মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রে আজও রয়ে গেছে এই  উড়ন্ত চাকতি  

 

অতি প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ সমুদ্র যাত্রা করে ফিরত

সেই পালতোলা জাহাজের আমল থেকে বা তারও আগে থেকেমানুষের মনে তখন স্বপ্ন ছিল সাগরের অন্য পাড়েই পাওয়া যাবে স্বপ্নের নতুন দেশজেখানের মাটি খুঁড়লেই পাওয়া যাবে তাল তাল স্বর্ণ

গাছের বাকল গুলো পর্যন্ত বহু মুল্যবান সুগন্ধি মশলা

সমুদ্রগামী জাহাজগুলো যখন বন্দরে ফিরে আসতো সেই সাথে নিয়ে আসতো কত রঙ বেরঙের গল্প

রোমাঞ্চকর কিংবদন্তী

তাদের মুখে একটা গল্প প্রায়ই শুনতে পাওয়া যেত, অথৈ সমুদ্রে রাতের বেলা আকাশে জ্বলন্ত একটা আগুনের চাকা দেখেছে তারা

জাহাজিদের গল্প ছেড়ে আধুনিক যুগে আসা যাক

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন সমুদ্র গামী জাহাজ থেকে একটার পর একটা রিপোর্ট আসতে লাগল তখন কতৃপক্ষ নড়ে চড়ে বসলো

কী রিপোর্ট !

না অনেকেই নাকি আকাশে UFO দেখেছেততদিনে UFO শব্দটা সবাই যানে

বাধ্য হয়ে ইউ এস মিলিটারি জাহাজগুলোতে ব্লু বুক রাখার ব্যবস্থা করলো

যুদ্ধ বিমানগুলো তো বটেই এমন কি জাহাজগুলোতেও ব্লু বুক মেইনটেইন করতে হবে

তখন জাহাজগুলো ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত ব্লু বুক রক্ষণাবেক্ষণ করেছে

ব্লু বুকের ডাঁটা বেইজ ছিল অমন-

কেস নাম্বার

দিন এবং তারিখ

অবস্থানদ্রাঘিমা এবং অক্ষাংশ

জাহাজের নাম

সমুদ্র বা সাগরের নাম অ্যাটল্যান্টিক , প্রশান্ত

উড়ন্ত অবজেক্টের সংখ্যা

আকৃতি গড়নগোল না লম্বাটে

রঙরুপালি না সোনালিআলো জ্বলছিল কি নাকি রঙের আলো

আচরণশান্ত না দ্রুত উড়ে যাচ্ছিলঅনুসরণ করছিল কি নাকত দূর থেকে অনুসরণ করছিল-

১০ঘটনার সাক্ষী কয় জন

১১রিপোর্ট কে করছে এবং কে রিপোর্ট লিখছে

তালিকা বিশালপ্রশ্ন চার হালির বেশি

টানা কুড়ি বছর ধরে ব্লু বুক রক্ষণাবেক্ষণ করার পর ডঃ আলান হেইনেকের মতে -

মোট রিপোর্টের সংখ্যা হল, ১৩১৩৪তবে ৪০ পার্সেন্ট ঘটনা ঘটেছে অ্যাটল্যান্টিক মহাসাগরে আর ৬০ পার্সেন্ট ঘটনা ঘটেছে প্রশান্ত মহাসাগরে

কিন্তু বিমান বাহিনির শতকরা ৭৬ ভাগ ঘটনা ঘটেছে প্রশান্ত মহাসাগরে

অর্থাৎ সসারের প্রিয় মহাসাগর প্রশান্ত মহাসাগর

 আর , টীমবালিং নামে এক লেখক তার  ফ্লাইং সসার হোয়ার  দে কাম ফ্রম বইতে মজার একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন

তার তে   UFO  মোটেও ভিনগ্রহের যান নয় ওরা হাজার হাজার বা লক্ষ লক্ষ  আলোক বর্ষ পাড়ি দিয়ে  পৃথিবীতে আসে না ওগুলো পৃথিবীর মানুষেরই তৈরি 

ব্যাপারটা অদ্ভুত মনে হলেও তাই

পৃথিবীর মানুষজনই  UFO  তৈরি করেছে 

প্রশ্ন , কারা ?

আমাদের এই সময়ের মানুষজন UFO  তৈরি করেনি করেছে ভবিষ্যৎ পৃথিবীর মানুষজন 

ভবিষ্যতের বাহন ওগুলো  সময় সুড়ঙ্গ দিয়ে ছিটকে চলে আসে আমাদের সময়ে কয়েক মুহূর্তের জন্য দেখি আমরা 

এখন কথা হল , সময় সুড়ঙ্গ বলতে কি সত্যি কিছু আছে  ?

 

সময় কি শুধু সামনের দিকে প্রবাহিত একটা স্রোত ?

নাকি এর বিপরীত মুখি একটা পথও আছে ?

অথবা বহু মুখি?

বিজ্ঞানীদের কেউ কেউ মনে করেন সত্যি সত্যি সময়ের স্রোত বলতে একটা কিছু  রয়েছে মাঝে মাঝে সেই স্রোতে পরে যাই আমরা, কেউ কেউ

অনেক কাহিনি ছড়িয়ে আছে এই সময় সুড়ঙ্গ নিয়ে

২৫ অক্টোবর, ১৫৯৩

মেক্সিকো শহরের প্লাজা মেয়রের আশে পাশে ঘুরঘুর করছিল অচেনা এক লোক জাতিতে স্প্যানিশ পরনের সৈন্যদের পোশাক এই  ধরনের পোশাক ফিলিপিনের ম্যানিলা শহরের সৈন্যরা গায়ে দেয়   আচরণ সন্দেহজনক 

আগন্তুককে ধরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হল যা বলল শুনে সবার আক্কেল গুড়ুম সেই সৈন্য নাকি রাতের বেলা প্রহরীর কাজ করছিল  এবং  আচমকা আবিস্কার করে মেক্সিকোর রাস্তায় দাড়িয়ে আছে!

কী ভাবেই সম্ভব সেটা  ?

নয় হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের অন্য প্রান্ত মেক্সিকোতে গেল কিভাবে সে ?

না কিছুই বলতে পারছে না লোকটা বাধ্য হয়ে বন্দি করে  রাখা হল  জেরা করা হল অনেকবার  জিজ্ঞেস করা হল  হাজার প্রশ্ন  কিছুই বলতে পারে না সে শুধু এইটুকু খেয়াল আছে তার, আচমকা আবিস্কার করে অচেনা শহরের অচেনা রাস্তায় দাড়িয়ে আছে সে

আর কোন তথ্য দিতে পারল না

 

পাগল প্রহরী শুধু এইটুকু বলল , তার প্রভু ডন গোমেজ পিরেজ মারা গেছেডন গোমেজ পিরেজ ছিল সেই সময়ে ফিলিপিনের গভর্নর

কেউ বিশ্বাস করলো না প্রহরীর কথাজেলে ভরে রাখা হলতবে অনেকেই অবাক হয়েছিল, প্রহরীর পোশাক পরে এত হাজার মাইল পাড়ি দিল কিভাবে ?

অন্য কারও নজরে এলো না কেন ?

দীর্ঘ দিন জেলে রাখা হল বেচারা প্রহরীকেঅবশেষে মুক্তি পেলএকটা জাহাজে করে ম্যানিলাতে নিয়ে যাওয়া হল দীর্ঘ সময় এই বন্দর সেই বন্দর ঘুরে অবশেষে ম্যানিলা পৌঁছল সেই জাহাজসাথে বন্দি প্রহরী

বন্দরে নামার সাথে সাথেই সবাই শুনল রাজা দ্বিতীয় ফিলিপ্সের গভর্নর ডন গোমেজ পিরেজ মারা গেছে

যে রাত্রে সেই প্রহরী অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল সেই রাত্রেই

শত্রুর আক্রমণে দিশা হারিয়ে সব প্রহরী দৌড়ে পালাচ্ছিল অদ্ভুত, অবিশ্বাস্য আর ব্যাখ্যাতীত ভাবে এই প্রহরী পৌঁছে গিয়েছিল নয় হাজার মাইল দূরের এক দেশেমাত্র কয়েক মুহূর্তেই

ঘটনা সত্যহাজার মানুষ সাক্ষীব্যাপারটা আজও রহস্য

 এটাই কি টেলিপোর্টেশন ?

সময় সুরঙ্গে হারিয়ে যাওয়া ?

একটা মজার  ব্যাপার,  পরিষ্কার দিনের আলোতে কক্ষনই দেখা যায়নি UFOআকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন বা কুয়াশা ভর্তি

একই ভাবে ভরা পূর্ণিমা রাতেও ওদের দেখা যায়নি কারন কি ?

সময় সুরঙ্গে যারা হারিয়ে গিয়ে ফেরত এসেছে তাদের সবার অভিজ্ঞতা ছিল একই রকম

অদ্ভুত রকমের কুয়াশা দেখেছিল তারা, সবাই

এনখের পুঁথি বা বাইবেলের ইজকিয়েলের পুঁথিতে যখন দেবতার রথ নেমে আসার বর্ণনা দেয়া হয়েছে তখনও কুয়াশা আর আগুনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে

 

 

সময় সুড়ঙ্গ নিয়ে অগুন্তি গল্প আছে 

একটা উদাহরণ না দিয়ে পারছি না ১৯৬৮ সালে সদ্য বিবাহিত এক ব্রাজিলিয়ান দম্পতি মধুচন্দ্রিমা উপলক্ষে  দূরে কোথাও যাচ্ছিল দক্ষিণ ব্রাজিলের রিও গ্র্যান্ড দো সিওল নামে একটা জায়গায়    বিশ্রামের জন্য থামতেই অদ্ভুত রকমের কুয়াশা তাদের ভক্সওয়াগন গাড়িটা ঘিরে ফেলে কয়েক মুহূর্ত পর কুয়াশা কেটে যেতেই আবিস্কার করে তারা,  পৌঁছে গেছে মেক্সিকোতে

গাড়ির তেল খরচ হয়নি একটু   

অতীতে আমরা সময় সুরঙ্গের গল্পগুলো শুনলে বিশ্বাস করতে পারতাম না নির্ঘাত পাগল ভেবে বসতাম তাদের এখন জানি এর ব্যাখা আছে  

ধারনা করা যায় অদূর ভবিষ্যতে বিজ্ঞানের এই রহস্যময় ব্যাপারটা খুলে যাবে আমাদের সামনে অনুমানও করতে পারব না যোগাযোগ ব্যবস্থার কতখানি উন্নতি হবে সেই সময় !     

টীমবালি ভদ্রলোকের কথা সত্য হলে  UFO  আসে   ভবিষ্যৎ থেকে 

 দেখা যাক

 সময়ই এর উত্তর দেবে

 

 

 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...