সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ইস্কাপনের সাহেব হরতনের বিবি

 এক

ক্যাসিনোর দরজা ঠেলে ভেতরে  প্রবেশ করলো  এক  যুবক ।

বয়স ত্রিশ। লম্বা একহারা শরীর । মাথা ভর্তি কালো কুচকুচে চুল।  পরনের ,   ঘন নীল শার্ট আর   হাতির দাঁতের রঙের প্যান্ট । গলায় সিল্কের   টকটকে লাল  টাই । সব মিলিয়ে চোস্ত একটা ভাব।  নারী -পুরুষ যে কেউ ফিরে দেখবে ওকে।  দেখতে বাধ্য ।

 

সতর্ক চোখে  ক্যাসিনোর ভিতরটা জরিপ করলো আগন্তুক।

রাত সাড়ে দশটা।

প্যারাডাইস ক্যাসিনোর  এই  কামরাতে  রুলেত টেবিল আছে মাত্র তিনটে  । সব সময়   উঁচু  বাজিতে খেলা হয়  । সর্বনিন্ম বাজি  চল্লিশ হাজার টাকা।  বোকা  টুরিষ্ট আর বিচ্ছিরি ধরনের ধনী লোকজন    ক্যাসিনোর   এই অংশে  খেলতে আসে ।  সাধারণ পেশাদার   জুয়ারিরা ভুলেও ঢুকে না ।

 চোস্ত চেহারার  আগন্তকের নাম জাফর।   মেয়েদের কাছে নিজের পরিচয় দেয়,     লাকি  নামে।  কিন্তু   অপরাধ জগতের  সবাই ওকে  হারামি    জাফর নামে  চেনে   ।

কামরার  ভেতরে  সন্ধানী চোখে চেয়ে  নতুন শিকার খুঁজছিল  জাফর ওরফে লাকি  ।

   ওর টাকার লোভ মেটাতে পারবে  অমন   শিকার দরকার ।

  মাত্র  তিন দিন   হল ,  এই শহরে এসেছে  জাফর।

 মোটা , রূপহীন,   বয়স্কা মহিলা ওর পছন্দের শিকার। এদের সাথে প্রেমের অভিনয় করে  বিছানায় যায়। তারপর টাকা দাবি করে। করতেই থাকে।    বিগত  যৌবনা মহিলাগণ তাদের  জীবনের  শেষ  রোমাঞ্চ হিসাবে লাকিকে খুবই পছন্দ করে। টাকা পয়সা ঢালতে কার্পণ্য করে না। জীবনটা বেশ মাখনের মালাইয়ের  মত  যাচ্ছে  লাকি ওরফে   হারামি  জাফরের।

একটাই সমস্যা ওর। ভীষণ বেহিসাবি।  বিলাসী জীবন যাপন করে। ফলে জমার খাতা শূন্য।  সামান্য  কিছু টাকা ছিল হাতে । বোকামি করে জুয়া খেলতে গিয়ে হেরে গেছে। এখন অনেকটা  বাধ্য হয়ে    নতুন শিকারের খোঁজে প্যারাডাইস ক্যাসিনোর ভেতরে  ঢুকে পড়েছে।  মনে মনে  আশাবাদী,  শিকার পাওয়া যাবে।

খানিকদূরে  টেবিলের সামনে ইয়া  মোটা   এক   মহিলা বসে আছে। ওটার সাথে  চেষ্টা করা যেতে পারে ?   মহিলার অনামিকায় হিরের আংটি আছে। মানে, কষলে   মাল পানির আগমন    ভালই হবে।    পাশেই রোগামত  কালো এক মহিলা , হাড়গিলে  চেহারা  । উনার গলায় রুবি আর পান্না ভর্তি আকর্ষণীয় নেকলেস।  দুইজনকেই দেখে মনে হল একঘেয়েমি আর নিঃসঙ্গতায় ভুগছে। ধনী লোকের বউদের যেমন  জীবন কাটে !

 লোভের মাথায় শেষ চল্লিশ হাজার টাকা বাজি ধরে ফেলল জাফর।   

  ওই মহিলা দুইজনই   জাফরের টাকাটা জিতে ফেলল  মিনিট  পাঁচেকের  মধ্যে ।     ওদের মুখচোখের ভাব বদলে গেল সঙ্গে সঙ্গে।

খুশি।

বিরক্ত হয়ে কামরার অন্য মাথায় চলে গেল জাফর। পকেট থেকে সোনার সিগারের কেস আর রত্নখচিত দামী  লাইটার বের করলো। অতীতে দুই মক্কেলের কাছ থেকে বাগিয়ে নিয়েছিল।

‘জাফর সাহেব না ?’   তীক্ষ্ণ গলায় কে যেন ডাক দিল পিছন থেকে।

ফিরে তাকাল জাফর।

 লোকটা  ওর সমান লম্বা । বয়স পঞ্চাশ। মাথায় কদমছাট চুল।

পেশাগত কারনেই মানুষ দেখলে সাথে সাথে   জাত চিনে ফেলে জাফর। এক পলক  দেখেই বুঝল,  বড় মাপের লোক। রাঘব বোয়াল। ঠাণ্ডা থমথমে চেহারা ভদ্রলোকের । মেরুর বরফ ।  কালো রঙের স্যুট গায়ে চাপিয়েছে ।  সন্দেহ নেই ,  ওটা   বানাতে মেলা পয়সা লেগেছে।  লোকটার চাকচিক্যের সামনে   জাফরের   নিজের জামাকাপড় সার্কাসের ক্লাউনের মত লাগল।

‘ আমিই জাফর। আগে কোথাও মোলাকাত হয়েছিল আমাদের ?’  সাবধানে কথা  চালু করলো সে।

‘ আমার তরফ থেকে  একটা    ড্রিংক নেবেন  নাকি  ? ’ শান্ত- নিচু- মাপা গলায় বলল লোকটা। ‘সামান্য  আলোচনা ছিল। ব্যবসা সংক্রান্ত। আপনার বেশ  লাভই হবে।’

‘লাভ হবে’    কথাটা পছন্দ হল জাফরের।

মুফতে মদ খেতেও আপত্তি ছিল না।  পকেট খালি।

 লোকটার শরীর থেকে   উগ্র পারফিউমের মত টাকার ঘ্রাণ ভেসে  আসছে । কেন জানি একবার  সতর্ক হবার প্রয়োজন বোধ করলো ।  কেন, সেটা নিজেও জানে না।  সেই সাথে  আবার  লোভের হাতছানি  ।

‘ শুনে বেশ  আনন্দিত হলাম।’  বিশ্বভোলানো একটা হাসি উপহার দিল জাফর। বেশির ভাগ সময় এই হাসিতে জাফরের   ‘ মহিলারা’  কাত হয়ে যায়।    কিন্তু সুপার ডুপার এই  হাসি দেখেও   বয়স্ক লোকটার  কোন হোলদোল হল না। তোম্বা মুখে চেয়ে  রইল। ‘ আর আপনি ? নামটা জানতে পারি ?’

‘আমরা বারে বসি ।   নিরিবিলিতে কথা বলা দরকার আমাদের।’ বলেই  লোকটা ঘুরে  হাঁটা ধরল। রুলেত রুম পার হয়ে বারান্দার শেষ  মাথায় সিঁড়ি বেয়ে বারের সামনে চলে গেল।

  অনেকটা বাধ্য হয়েই  সদ্য পরিচিত লোকটাকে  পোষা কুকুরের মত   অনুসরণ করলো জাফর।

ভেতরে  ভেতরে কৌতূহলে ফেটে  পড়ছিল। লোকটা আর যাই হোক খেজুরে আলাপ করার জন্য ওকে ডেকে নিয়ে যাচ্ছে না।  সবচেয়ে বড় কথা,  সামান্য মদিরা দরকার । গলা শুকিয়ে গেছে । মদ ছাড়া মানুষ বাঁচে ?

কোনার দিকে একটা টেবিল বেছে বসলো ওরা।

আশে পাশের  টেবিলে দুইচার জন মাতাল বসে   জুয়ায় হেরে যাওয়া নিজেদের মন্দভাগ্য নিয়ে আক্ষেপ আর  খিস্তি খেউর  করছিল।    আগামীতে বড় টাকা  জিতবে  তেমনটা ও  আশা ব্যক্ত কর্রছিল  মাতাল জুয়াড়িরা ।  এরা সবাই ভাগ্য বিশ্বাস করে !

ওরা বসতে না বসতেই বারম্যান এগিয়ে  এলো ।

লোকটা  জাফরের দিকে চেয়ে  জানতে চাইল - ‘ কি নেবেন ?

‘স্কচ।ধন্যবাদ। ’  

‘আমাকেও স্কচ । ডাবল।’

বারম্যান চলে গেল।  

‘ আপনার নামটা জানা হয়নি এখনও।’ সিগারেটটা  ছাইদানিতে  ঠুসে বলল জাফর।

জবাব না দিয়ে  নিলিপ্ত ভাবে কামরার  অন্য দিকে  চেয়ে রইল  লোকটা ।

লোকটার হাবভাব দেখে  সামান্য    বিব্রত বোধ করতে লাগল জাফর । মনে হয়, লোকটা যেন  ওকে যেন  ইঁদুর বিড়াল খেলছে । তবে   বারম্যান পানীয় নিয়ে ফিরে আসতেই স্বস্তি ফিরে পেল সে ।

‘ আপনার ব্যাপারে আমি সবই জানি জাফর সাহেব।’  গ্লাস হাতে নিয়ে  শান্ত নিচু সুরে বলতে লাগল লোকটা।  ‘  আমার চোখে আপনি  একটা শকুন ছাড়া আর কিছুই না । বোকা মহিলাদের ফাঁদে ফেলে তাদের কাছ থেকে পয়সা আদায় করেন। টাকার জন্য পারেন না,  এমন কোন কাজ দুনিয়ায় নেই।’

 শরীরটা শক্ত হয়ে গেল জাফরের। এক লহমায়  রক্ত উঠে গেল মুখে। ‘ আমি জানি না আপনি কে ? তবে ফাজলামো করার জন্য ভুল মানুষ বেছে নিয়েছেন।’

‘নাটক না করলে খুশি হব হারামি জাফর ।’ হাত  নেড়ে মাছি  তাড়ানোর মত একটা ভঙ্গি করল লোকটা। ‘ তোমার মত হারামি লোক দরকার আমার। সেইজন্যই মদ গিলতে দিয়েছি ।  সামান্য কাজ। পাঁচ লাখ টাকা পাবে।’

আপনি থেকে তুমি সম্বোধনে চলে গেছে ব্যাটা।

 জাফরের দম বন্ধ হয়ে এলো। পাঁচ লাখ টাকার জন্য আরও খারাপ ব্যবহার সহ্য করতে রাজি আছে। নড়েচড়ে   আরাম করে বসলো ।‘শুনতে ভাল লাগছে , স্যার।’

হাসলো।

‘  আমার বউকে আমার কাছ থেকে আলাদা করে  ফেলতে হবে। এটাই তোমার কাজ।’ বলল লোকটা ।

শরীর শিথিল করে দিল হারামি  জাফর। এটা কোন কাজই না। অতীতে মোটা টাকা খেয়ে অমন ধনী লোকের দুইচারটা ডিভোর্স করিয়ে দিয়েছে।   জলের মত সোজা কাজ।

‘কোন ব্যাপারই না। আপনি বিবাহ বিচ্ছেদ চাইছেন ? হয়ে যাবে ।’

‘বিবাহ বিচ্ছেদের কথা আবার   কখন বললাম ?’ লোকটার  কাঁটা কাঁটা কথা শুনে আবারো নার্ভাস  বোধ  করলো জাফর। ‘ তোমাকে টাকা দেব। বদলে আমার বউকে আমার জীবন থেকে  সরিয়ে ফেলতে হবে।’

লোকটার শক্ত নির্মম মুখের দিকে চেয়ে শিহরণ অনুভব করলো জাফর। ‘ একটু ঝেড়ে কাশুন তো  সাহেব । আপনার কথার ভাব সম্প্রসারণ   । কথার  মাথা মুথা কিছুই  ক্লিয়ার না। অমন ঢং করে কথা বললে কিছু বুঝা যায় নাকি ? ’

‘ আমি চাই ,  একটা নিখুঁত দুর্ঘটনার আয়োজন করবে তুমি । এবং আমার গিন্নি মারা যাবে। বদলে পাঁচ লক্ষ টাকা পাবে। নগদ। ’  বলল লোকটা।

দুর্ঘটনার আয়োজন !

‘ আপনার সাথে নেই আমি।’  মাথা  নেড়ে সাফ সাফ বলল জাফর। ‘ আপনি আমাকে খুবখারাবি করতে বলছেন ? ‘

‘ মোটেই না।’ চকচকে চোখে ওর দিকে চেয়ে বলল লোকটা। ‘ দুর্ঘটনার আয়োজন করতে বলছি। কাউকে খুন করতে বলছি না।’

ঢোক গিলল জাফর। ‘মেরে ফেলতে চাইছেন ?’

‘ এইতো লাইনে এসেছ।’

পকেট থেকে রুমাল বের করে কপালের ঘাম মুছল।তারপর এক ঢোকে গ্লাসের সব স্কচ গিলে বলল, ‘  আপনি  সিরিয়াস  তো   ?’

অধৈর্য  হয়ে হাত নাড়ল লোকটা। ‘ আমি হ্যাঁ অথবা না শুনতে চাই ।’

জাফরের চালু আর ধূর্ত মাথাটা সাথে সাথে ফুল স্প্রিডে  কাজ শুরু করলো। খুনখারাবি টাইপের কাজ আগে কখনও করেনি। বোকা ধনী মহিলাদের সাথে নাটক করে টাকা খাওয়া এক কথা।  কিন্তু খুন  ?  একদম খালাস  ? ওরে   বাপরে !

পরক্ষণেই মনে পড়লো,  বাজারে ওর অনেক ধার দেনা।  হাতের পাঁচ শেষ   টাকাগুলো লোভের ফাঁদে পরে জুয়ায় হেরেছে। কাল থেকে কিভাবে চলবে জানে না।  পাঁচলক্ষ  টাকা  হাতে পেলে  কয়েকটা মাস  নিশ্চিন্তে থাকতে পারবে।  লোভ জাগল মনে ।

‘  হ্যাঁ,নাকি না ? এক ঘেয়ে ভঙ্গীতে  জানতে চাইল লোকটা।

‘ মনে হচ্ছে আপনার কাজে লাগতে পারব।’  সামান্য  ইতস্তত করে  শান্ত গলায় বলল হারামি  জাফর।

এই প্রথম বিচ্ছিরি বাঁকা একটা হাসি দেখা  গেল লোকটার মুখে।

‘ কিন্তু আমাকে কয়েকটা দিন সময় দিতে হবে।’ দম নিয়ে  আগের মতই শান্ত গলায় বলল জাফর। ‘ কাজটা আমি নিজে করব না। লোক দিয়ে করাব। আড়ালে থাকব আমি।  ব্যাপারটা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন ?  ’

‘ তুমিও নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ,  নিখুঁত একটা প্ল্যান চাই আমি। দুর্ঘটনা হবে। আমার গিন্নি একদম চলে যাবে  আমার জীবন থেকে। একশত ভাগ নিখুঁত কাজ চাই।কোথায় উঠেছ তুমি ? ’

‘ স্টার মোটেল।’

‘ পরশুদিন দেখা  হবে। সকাল  এগারটার সময়। আশা করব আমাকে খুশি করার মত আয়োজন এর মধ্যেই করে ফেলবে।’ উঠে দাঁড়ালো লোকটা । ‘ শুভরাত্রি।’

হনহন করে হাঁটা ধরল সে  ।

বারের পাশের গলি দিয়ে চলে গেল বাইরে।

তিন মিনিট পর একই গলি দিয়ে বের হয়ে এলো জাফর। দারোয়ান ওকে দেখে সালাম ঠুকে বিনয়ের সাথে জানতে চাইল- ‘ ট্যাক্সি ডেকে দেব স্যার ?’

ওয়ালেট থেকে একশো টাকার নোট বের করলো জাফর ।

‘ ট্যাক্সি  লাগবে না।’ নোটটা ভাঁজ করলো জাফর। ‘ এইমাত্র একজন ভদ্রলোক বের হয়ে গেলেন। মোটা মত ।  চেহারাটা চেনা চেনা লাগল । মনে হল  কোথায় যেন দেখেছি ।  চেন নাকি তুমি ?’

‘উনি তো বেলায়েত হোসেন খান  মজলিস  সাহেব। কেন স্যার ?’ একশো টাকার নোটের দিকে লোভী চোখে চেয়ে উত্তর দিল দারোয়ান।

‘ আমিও তাই ভেবেছি  । সেইজন্য চেনা চেনা লাগছিল। ’

নোটটা  হাত বদল হল।  কার   পার্কিঙের  দিকে  গেল জাফর ।  স্টার মোটেল থেকে   ভাড়া করা মার্সিডিজ এল ২০০ নিয়ে হুশ করে বড় রাস্তায় চলে গেল।

 

 

দুই

 

 তখন  ক্যাসিনোর  ভিআইপি কার পার্কিঙে নিজের রুপালি রোলস রয়েস   গাড়িতে বসে ছিলেন বেলায়েত হোসেন খান মজলিস।

একা।

মাথাটা দারুন কাজ করছে ।

 জাল ফেলা  শুরু হয়ে গেছে। ভাবছেন  বেলায়েত হোসেন  । এখন দেখা যাক হারামি জাফর কতটুকু কি করতে পারে। জাফরের মত লোভী নিচু বদমায়েশ টাইপের মানুষের সাথে কাজ করা বেশ কঠিন। কিন্তু সরাসরি পেশাদার কোন খুনির সাথে যোগাযোগ  নেই তার।  করতে চান ও না।  এক বয়স্কা হতাশাগ্রস্থ মহিলার কাছ থেকে জাফরের খোঁজ পেয়েছিলেন তিনি। মহিলা বলেছিল- টাকার জন্য জাফর সব কাজ করতে পারে।

 ভুল হয়নি  বলেই   মনে হচ্ছে ।

নিজেকেও সাবধানে রাখতে  হবে। পুলিশের ঝামেলা চান না। ঘটনাটা  হতে হবে    নিখুঁত এক্সিডেন্টের মত  ।

  স্ত্রী শিরিনের কথা  একবার মনে হল। বিয়ের আট বছর চলছে। মেয়েটার  দুটো ভাল গুন হচ্ছে – সুন্দরী  এবং বিশ্বস্ত।  দক্ষতা আর মায়া দিয়ে সংসার চালায়।সব কর্মচারীরা শিরিনের ভক্ত। ফলে ব্যবসায় আরও  বেশি মনোযোগ দিতে  পারত বেলায়েত হোসেন। জীবনের   বাকি  দিনগুলো  হয়তো ভালই যেত। একটার পর একটা মিসক্যারেজ হবার পর একটু  একটু করে ওদের সম্পর্কটা কেমন যেন ঝুলে গেছে। গত বছর মনে হচ্ছিল এবার সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু  সাত   মাসের প্রেগন্যানট অবস্থায় সিঁড়ি থেকে পড়ে গেল শিরিন। দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার পর  জানা গেল বাচ্চাটা মারা গেছে। খোকা ছিল ওটা।

আহা !

মরা বাচ্চাটাকে দেখে  নিজেকে ভীষণ অসহায়, ব্যর্থ আর দিশেহারা মনে হয়েছিল বেলায়েত হোসেনের । অথচ এই বাবুর আশায় কতদিন  অপেক্ষায় ছিলেন। বিরক্ত হয়ে  দুই সপ্তাহ ব্যবসার কাজের অজুহাত দেখিয়ে  বাইরে বাইরে রইলেন।

শিরিনের প্রতি বিম্বিসা আর বিরক্তি জন্মাতে লাগল,  যখন দেখলেন বাচ্চা নিতে আর আগ্রহ দেখাচ্ছে না মেয়েটা।    নিজের শখ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে সে । সপ্তাহে একদিন লাইব্রেরিতে  যায়। দিনরাত বই পড়ে।  আরও  একটা গুন আছে মেয়েটার। দারুন রকমের বেহালা বাজাতে পারে। নানান অনুষ্ঠানে বেহালা বাজিয়েছে সে। দেশের বাইরেও গেছে দুই একবার। খোদ নিউইয়র্ক পর্যন্ত।

অথচ বেহালার সুর  বিরক্তকর  লাগে  বেলায়েত হোসেনের কানে। কোন রকম গান বাজনাই রস তৈরি করে না তার মনে। শিরিন একাই চলে যায় বেহালা বাজানোর অনুষ্ঠানে। আবার ব্যবসায়ীদের  ককটেল পার্টিতে শিরিন  উপস্থিত হতে চায় না।   সময় কাটাতে নাইট ক্লাব গুলোতে গিয়ে বসে থাকতেন  বেলায়েত হোসেন।  বিরক্তকর। আজকাল ওরা দুইজন একসাথে সকালের জলখাবারটা পর্যন্ত একসাথে খায় না। হিসাবে ,   খুব দ্রুত  তাদের দাম্পত্য জীবন শেষ হবার কথা।

মাঝে চলে এলো আরেকজন।  যেমনটা না হলে এই ধরনের কাহিনি ঠিক যেন  জমে না ।

এক সন্ধ্যায়,  ব্যবসায়ীদের এক ককটেল পার্টিতে বেলায়েত হোসেনের   পরিচয় হল  তানিয়ার  পরিচয়   সাথে  ।

  নামকরা এক ব্যাংকের ম্যানেজারের সাথে কথা বলছিলেন বেলায়েত  হোসেন। তখনই,  ম্যানেজারের পিছনে লম্বা, শ্যামলা  মেয়েটাকে দেখে বুকটা ধক করে উঠলো তার । দামী গাউনে অপূর্ব লাগছিল মেয়েটাকে ।  চিত্ত চঞ্চল করা শারীরিক গঠন।

‘ভদ্রমহিলাকে চেনেন ?’ ম্যানেজারের কাছে জানতে চাইলেন বেলায়েত হোসেন।

‘চিনব না কেন ? আমাদের ব্যাংকের ক্লায়েন্ট।’  হাসি মুখে জবাব দিল ম্যানেজার।  ‘ নাম তানিয়া আক্তার। সফল ফ্যাশন ডিজাইনার। কাজের  সুনাম আছে। আমিই উনাকে বলেছি ব্যবসায়িদের পার্টিতে নিয়মিত আসা যাওয়া করতে। অনেক ক্লায়েন্টের সাথে পরিচয় হওয়া যাবে। ব্যবসায়ের সার্কেল বাড়ে ওতে। তিনটে বুটিকের দোকান আছে উনার । দারুন চলে।’

‘ আমার সাথে পরিচয় করিয়ে দেবেন ?’  তানিয়ার  রেশমের মত মসৃণ  চুল দেখতে দেখতে আবদার জানালেন বেলায়েত।  রোমাঞ্চ অনুভব করছিলেন।

পরিচয় করিয়ে দিল ম্যানেজার।

বেলায়েত হোসেন খান সফল ব্যবসায়ি হিসাবে নাম করেছেন অনেক আগেই । ভদ্রলোক এবং টাকার কুমির হিসাবে কম বেশি সবাই চেনে  । সেইজন্যই   পরিচিত হবার সময় মিষ্টি করে হাসল তানিয়ে।  ডালিম দানার মত দাঁত দেখে  প্রায় মারা গেলেন বেলায়েত হোসেন। মেয়েটার বয়স মাত্র  ত্রিশের কোঠায়। উফ, ভাবা যায় !

কি অদ্ভুত ভাবে দুইজন দুইজনের  প্রেমে পড়ে গেল। দুইজনের রসায়ন বিচ্ছিরি ভাবে  জমে গেল। মনের ভেতরে  অমন অনুভূতি দিল , যেন একে অপরকে হাজার বছর ধরে খুঁজছিল।

এইসব  এক বছর আগের কথা।  

 সেই থেকে  দুইজনে গোপনে দেখা করে ।মাসে দুইবার।   দামী রেস্টুরেন্টে গিয়ে খায়। তবে শহরের বাইরে। নিজের জীবনের সব   কথা    তানিয়ার কাছে খুলে বলছিলেন  বেলায়েত হোসেন । শহরতলির বাইরে পাঁচ কামরার একটা অ্যাপার্টমেনট গোপনে কিনেছিলেন,  ওখানেই গোপনে সময় কাটাতো। তানিয়া জানিয়েছিল, ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত থাকায় বিয়ে করার সুযোগ পায়নি এতদিন।

দুই সপ্তাহ   আগে নামকরা এক সিফুড রেস্টুরেন্টে রাতের  খাওয়া শেষ    করে চাঁদের আলো দেখতে দেখতে তানিয়া বলল- ‘ আমার মনে হয় না তোমার বউ তোমাকে ডিভোর্স দেবে। আর গোপনে তোমার সাথে দেখা করতেও খারাপ লাগে। আজ সকালে রোম থেকে ফোন পেয়েছি ।  পরিচিত একজন    রেডিমেট   পোশাকের ব্যবসায়ি  আমাকে  চাকরি দিতে চান। চীফ ডিজাইনার পদে ।   আমার জন্য  বিরাট   সুযোগ  এটা । বড় অঙ্কের বেতন দেবে। সাথে  ফ্রি অ্যাপার্টমেনট। চিন্তা করার জন্য এক মাস  সময় দিয়েছে।’

‘ আচ্ছা,  অমন যদি হয় আমার স্ত্রী আমাকে ডিভোর্স দেয় ?  তাহলে তুমি কি আমার বাচ্চার মা হয়ে আমার ব্যবসা সামলাতে পারবে ?’ তানিয়ার হাত মুঠোয়  নিয়ে বললেন বেলায়েত হোসেন।

‘ পারব।’ মিষ্টি হেসে বলল তানিয়া।

‘ ঠিক আছে। তাহলে,  আমাকে মাত্র একমাস সময় দাও।’

‘ আজ থেকে  গুনতি শুরু ?’

‘ ডান।’

 ক্যাসিনোর সামনে  গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে ভাবলেন   বেলায়েত হোসেন  - কাজ শুরু গেছে। শিরিন মারা গেলেই সব সমস্যার সমাধান।

 

 

তিন  

 

রাত   সাড়ে এগারো ।

তবে  জাফরের জন্য  মাত্র বিকেল ঘনিয়ে সন্ধ্যা । রাতের পাখি সে ।  

ক্যাসিনো থেকে বের হয়ে হাজির হল    দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকায়  ।  সব অফিস বন্ধ। স্বাভাবিক ।  লিফটে চেপে  পরিচিত একটা  দালানের পনের তলায় চলে এলো। ‘ ভোরের খবর’  পত্রিকার অফিস। এত রাতে আর কাউকে না পেলেও  শরাফ আলী থাকবে। ভোরের খবরের  গসিপের পাতা   শরাফ  আলী দেখে। রাজ্যের খবর ওর কাছেই পাওয়া যায়। এই  দেশে  কে কোথায়- কবে -   কি করছে ,    সব জানে এই সাংবাদিক ব্যাটা।

ভেতরেই পাওয়া গেল।

ডেস্কের উল্টো দিকে বসে  দেশলাইয়ের   কাঠি দিয়ে দাঁত খোঁচাচ্ছে। অনেক বছর   ধরে দুইজনে একটা টিম হিসাবে কাজ করছে ওরা। দারুন রসাল সব কেচ্ছা কাহিনি  শরাফ  আলীকে সাপ্লাই দিত জাফর। বিনিময়ে  জাফরকে  টাকা পয়সা  ভালই  দিত ।

শরাফ আলীর বয়স  ষাট। প্রায় বাঁধাকপির মত মোটা। জামার বুকের কয়েকটা বোতাম খুলে বসে আছে। চারকোণা  চশমার কাচ কালো। চোখ দেখা যায় না।

‘ ঘি  তেল মাখনে বেশ  আরামেই আছ ?’ দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে বলল জাফর।

‘ কি ভাগ্য আমার। হারামি জাফর যে। অনেকদিন দেখা নেই   , ভাবলাম জেলে হাজতে আছ বোধহয় ? ’ কৃত্রিম খুশি খুশি গলায় বলল  বুড়ো সাংবাদিক।

হাসল জাফর। রেগুলার কৌতুক ওদের  ।

সামনের চেয়ার টেনে বসে পড়লো । সিগারেট কেস থেকে সিগারেট বের করে অফার করলো  শরাফ আলীকে।

‘শেষের বুড়িটার কাছ থেকে আদায় করেছিলে জিনিসটা ?’ ভ্রু নাচিয়ে জানতে চাইল  শরাফ আলী।

‘ খানিক হেল্প লাগবে আমার।’

‘এইজন্য এসেছ ? দূর হও। খিদে পেয়েছে আমার। বাসায় যেতে হবে।’

 ‘যদি শোন,  শহরের এক অভিজাত বিখ্যাত  ভদ্রলোকের মেয়ে  আগামী সপ্তাহে   ক্লিনিকে গিয়ে গোপনে  অ্যাবরশন করবে কেমন হয় খবরটা ?’

শরাফ আলীর  চেহারাটা  ঝিকিমিকি করে উঠলো। মনে মনে হেড লাইন ও লিখে ফেলল। ‘ পুরোটা বলে ফেল হে।’  

‘ফ্রি করব না। বদলে কিছু  তথ্য  দিতে হবে। বদলা বদলি ।     বেলায়েত হোসেন খান মজলিস  সাহেব। উনার সম্পর্কে বেশ মোটা সোটা  তথ্য চাই আমি।’

মুহূর্তের জন্য থমকে গেল বুড়ো  সাংবাদিক।

যখন কথা বলল মনে হল বহু দূর থেকে বলছে, ‘ বড় শক্ত পাল্লার সাথে টক্কর দিতে যাচ্ছ খোকা। আমি তোমাকে পছন্দ করি না। আবার এও  চাই ও না বেঘোরে মারা যাও। বেলায়েত হোসেন  খুব টাফ লোক   । একদম টিকতে পারবে না।’

‘  আরে ধ্যাত। অত সিরিয়াস কিছু না।  তুমি শুধু ওর ব্যাপারে খানিক তথ্য দাও আমাকে।’

 ‘   ধনী ব্যবসায়ী   । নতুন টাকা  না। নতুন জলের মাছও না ।  বাপের ব্যবসা ছিল। নিজের মেধা আর দক্ষতা  দিয়ে সেইসব বাড়িয়ে দশগুন করে ফেলছে। খান  অ্যান্ড কোং,  নাম শুনেছ ? উনার।তেলের ব্যবসা আছে,  ইলেক্ট্রনিক্স আর   কম্পিউটরের ব্যবসায় ঝুঁকেছে  আজকাল।    টাকার অভাব নেই।  বাড়ি আছে বেশ কয়েকটা।  নিষ্ঠুর  এবং কঠিন  মানুষ।   রাজনৈতিক ভাবে সব দলেই উনার ইয়ার দোস্ত দিয়ে ভর্তি। মন্ত্রী পর্যায়ের হতে থানার ওসি  পর্যন্ত  । দেশের সেরা দশজন প্রভাবশালী ব্যক্তির একজন সে । এবং বিপদজনক।’

 লোভীর মত  শুনছিল জাফর।  জানতে চাইল -‘ টাকা পয়সা আছে কি রকম ?’

‘কে জানে ?’ দুই হাত উল্টে  স্রাগ করল  শরাফ আলী । ‘ উনার টাকা আমাকে গুণতে  দেয়নি কখনও । কাজেই জানি  না। তবে ,  যেভাবে  তুমি এক প্যাকেট সিগারেট কেন , উনি সেইরকম করে দামী গাড়ি কেনেন  ।’

বাপরে।  মনে মনে  খুশি না হয়ে পারলো না হারামি জাফর। অমন পাগল মাথার  এক  টাকার কুমির সোজা চলে এসেছে ওর কাছে ? তাও কি না নিজের বউকে খুন করার জন্য।

‘ভদ্রলোকের স্ত্রী সম্পর্কে কিছু বল  বুড়ো খোকা ।’

‘উনার স্ত্রী !’ দুই চোখ গোল্লা গোল্লা  বানিয়ে ফেলল সাংবাদিক। ‘ ভুলেও উনার দিকে তোমার কুনজর দিও না খোকা। জানে মারা পড়বে। বেলায়েত হোসেনের  ক্ষমতা সম্পর্কে তোমার কোন ধারনাই  নেই।’

‘ জাস্ট কিছু তথ্য লাগবে আমার। আর কিছু না।’

বিচিত্র ভঙ্গিতে দুই কাঁধ ঝাঁকাল বুড়ো , ‘  সরল সহজ একটা মেয়ে।  ভাল বেহালা বাজায়। শিক্ষিতা। বেলায়েত সাহেবের সংসার ভাল সামাল দেয়। তবে কোন কালো দাগ নেই। পরকীয়া বা গোপন প্রেমিক। উহু। একদম ক্লিয়ার।’

‘আর বেলায়েত হোসেনের চরিত্র   ?’

‘উনি যদি তলে তলে  লুচি আর  আলুর দম  খেয়ে থাকেন  দুনিয়ার কেউ  ধরতে পারবে না।  তানিয়া নামে এক মেয়ের সাথে অনেকবার নানান জায়গায় দেখেছি । মেয়েটা ফ্যাশন ডিজাইনার। কিন্ত আমি প্রমাণ করতে পারব না দুইজনের মধ্য কোন রকম লেপটা লেপটি টাইপের সম্পর্ক  আছে ।’ চেয়ারে গা ছেড়ে প্রায় শুয়ে   শরাফ আলী বলল ‘ আর কিছু ?’

খানিক কিছু ভাবল হারামি জাফর। ওর সেই  বিখ্যাত হাসি উপহার দিয়ে বলল, ‘ আপাতত না। তুমি রাতের খাবার সেরে নাও। আমি বিদায় নিচ্ছি।’   

দরজার দিকে পা বাড়াল ।

‘ দাঁড়াও।’ পিছন থেকে খেঁকিয়ে উঠলো  শরাফ আলী। ‘ তুমি না বললে সামনের সপ্তাহে কোন এক বিখ্যাত   ভদ্রলোকের মেয়ে গোপনে বাচ্চা খালাস করবে ?’

‘অনেকেই করবে।’ বেহায়ার মত হাসিমুখে জবাব দিল জাফর। ‘ কিন্তু কারো নাম জানি না।’

বলেই দৌড়ে  ভেগে গেল।

গাড়ি চালিয়ে চলল  স্টার মোটেলে দিকে ।

 ভাবছে।     

ব্যাপারটার মধ্যে  হালকার উপর ঝাপসা প্যাঁচ আছে। কাজটা করতে পারলে  পাঁচ লক্ষ টাকা পাবে,  ভাল কথা। কিন্তু খুব সহজ মনে হচ্ছে না। কেন খুন করতে চাইছে ? ডিভোর্স দিলেই হয় ।  শরাফ আলী বলেছে, খান বিপদজনক। খুব সাবধানে চাল দিতে হবে ওকে। বেলায়েত খান যদি ওকে ব্ল্যাকমেইল করে ? নিজের নিরাপত্তার জন্যই অমন কিছু করতে পারে সে ।  কাজ শেষ, আর মুখের লালা দিয়ে  গুনে পয়সা ধরিয়ে   বিদায় করে দেবে ওকে ?

 নিরাপদ ডেরা স্টার মোটেলে ফিরে  স্নান শেষ  করে ঢোলা  পায়জামা পরে বিছানায় যাবার পরও  মনটা সুস্থির হলো না।

খুন খারাবির মত নোংরা কাজে হাত দেবে না জাফর। হারামি হলেও খুনি না ও। তবে ভাড়াটে খুনি জোগাড়  করতে সমস্যা হবে না । এক সময় শহরের অনেক পেশাদার খুনির সাথে মাখামাখি ছিল ওর। এখন নেই।  ওরা সবাই নির্দয় আর ঘাগু অপরাধী। বেশির ভাগই দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। চৌদ্দ শিকের ভেতরে আছে কেউ কেউ। লম্বা সময়ের জন্য জেলের মোটা ভাত আর   পাতলা  ডাল খাচ্ছে ।

  চট করে রাজার কথা মনে পড়লো।

রাজা।

অপরাধ জগতের এক ভয়াল চরিত্র  ।  আড়ালে জাদুকর বলে ডাকে অনেকে।   লোকমুখে শুনেছে রাজনৈতিক খুন সহ  আঠারোটার মত খুন করেছে সে।  আরও বেশি হতে পারে।  । অদ্ভুত রকমের শীতল মগজ। নিখুঁত পরিকল্পনা করে কাজে হাত দেয়। ব্যর্থতা শব্দটা রাজার জন্য অপরিচিত  বাজে শব্দ। কোন পুলিশি রেকর্ড নেই।  নারায়ণগঞ্জে তিনরুমের এক   এপার্টমেনটে থাকে।  

জাফর মনে  মনে  স্বীকার করলো,  রাজার সামনে কোন কারন ছাড়াই নার্ভাস ফিল করে সে। বেশ কয়েকবার   শহরের নানান নাইট ক্লাবে দেখা হয়েছে দুইজনের। মদ ফদ গিলেছে এক টেবিলে। তবে  সব সময় রাজাকে বিপদজনক একটা  চরিত্র মনে হয়েছে হারামির। বেলয়েত  খানকে সামাল  দেয়ার জন্য রাজা একদম সঠিক চীজ। হীরা দিয়েই কাচ কাটতে হয়। নিয়ম।

 কয়েক  মুহূর্ত   ইতস্তত বোধ করলো হারামি। বিছানা থেকে উঠে  এড্রেস বুকটা খুঁজে বের করলো।  ইংরেজি  ‘R'  বর্ণমালার পাতায়   রাজার ফোন নাম্বারটা পেল। এক মুহূর্ত ইতস্তত করে    শেষে নাম্বার ডায়াল করলো। ওই  পাশে রিং হচ্ছে।

নিজেও জানে না হারামি,  কত বড়   বিপদের  শুরু হতে যাচ্ছে একটা ফোন  কল দিয়ে।  এই দিনটার জন্য আফসোস করবে পরে।

ওই  পাশে রিং হচ্ছে।

ক্রিং ক্রিং !

 

প্রথম পর্ব সমাপ্ত 

 

 

 

 

 

  

 

 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...