সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

রুমঝুমপুরের বাগানবাড়ি

 ভিন্ন স্বাদের পাঁচটি হরর গল্প নিয়ে এই বই ।কাহিনী সর্ম্পকে সামান্য কিছু ইঙ্গিত এবং প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে গেলাম পাঠকদের ।আশা করি তারা নিজেরাই ব ই পড়ে খুঁজে বের করবে ।

রুমঝুমপুরের বাগানবাড়ি :আঠারো একর জমির উপর দাঁড়িয়ে আছে রহস্যে ঘেরা সেই বাগানবাড়িটা ।লোকে বলে বাগানবাড়িটা মূর্তিমান অভিশাপ ।নিঝুম রাত গুলো বাগানের চারপাশে কারা কলরব করে ,কি বা তাদের উদ্দেশ্য ?আত্ন অহংকারী অর্থলিপ্সু রঘুর জন্য বিধাতা কোন নির্মম দন্ড নিয়ে অপেক্ষা করছে না তো ?

মদন তপাদারের পাপেট :এককালের নামজাদা ভেনট্রিলোকুইস্ট মদন তপাদার বাবু ঝাঁ চকচকে জীবন ছেড়ে আজ লোক চক্ষুর আড়ালে ।লোকেরা আজ ও ভুলতে পারেনি আগুনের সেই লেলিহান শিখাকে ।হিমানীর মৃত্যুর পেছনে আদৌ কি তপাদার বাবুর হাত ছিল ?পনের বছর পর পুরোনো তীর্থক্ষেত্রে ফিরে এসে অনীক আবার কোন র হস্যে জড়িয়ে পড়ল ?আর ঐ পাপেটটা কোথায় ?

আদিম পিশাচ : মাঝেই মাঝেই জমিদার অম্বিকা চরন বাবুর পরিত্যক্ত ছায়ামহলে গভীর রাতে কারা যেন জেগে ওঠে ,আজ থেকে অনেক বছর আগেই অপঘাতে মৃত্যু হয় জমিদার বাবুর ।বাড়ির পরবর্তী মালিক সপরিবারে এক কাল রাতে নৃশংসভাবে খুন হয় ।জনপ্রিয় টিভি অনুষ্ঠান হরর লাইভ শো এর ক্যামেরা আজ পৌছে গেছে ঐ ভয়ংকর বাড়িটাতে ।উপস্থাপক জুলমতের শেষ পরিনতি কি হয়েছিল ?

প্রেত চক্র: শ্রাবন মাসের বেলা ।ভেজা ভেজা একটা গন্ধ চারপাশে ।একহপ্তা হয়ে গেল তবুও ইন্সপেক্টর ইমান আলী আর কনস্টেবল ঐ অদ্ভুত হত্যাকান্ডের রহস্য বের করতে পারল না !চার যুবকের মধ্যে কে হতে পারে প্রকৃত খুনী ?উপায় না দেখে ঈমান আলী আর ভবানীপ্রসাদ সাহেব সম্ভাব্য অপরাধীদের নিয়ে আয়োজন করলেন প্রেত চক্রের ?হত্যার পেছনে কি তবে ঐ সাম্প্রদায়িক কবিতাটা কোন ভূমিকা রেখেছিল ?

কালো ঘোড়া : শহরটার নাম সিলভার টাউন ।খুব নিরিবিলি একটা জায়গা ।দূধর্ষ গানফাইটার বিলি এই শহরে ক্ষনিকের অতিথি ।কারা যেন তাকে তাড়া করে ফিরছে ।ডিলান কি চায় ?ঐ ভুতুড়ে হোটেলটা সবকিছু তালগোল পাকিয়ে দিল ।পশ্চিমের অনেক শহরের মানুষ কাদের ঘোড়ার খুঁড়ের আওয়াজ পায় ।

মানুষের জীবন বাস্তবতার স্তর আসলে দুটি ।একটি জীবনের বর্হিজগতে বাস্তব যা চর্মচোখে দেখা যায় তা ব্যাখেয় ,অন্যটি কল্পনা জগতের বাস্তব ।তা অব্যাখেয় ।ভুতের অস্তিত্ব দ্বিতীয় স্তরে ।যদিও ভুতে আমি ভয় পাই ।তবুও ব ইটি বেশ আগ্রহ নিয়েই পড়েছি ।লেখক প্রচলিত ভুতের গল্পে বিশ্বাসী নন ।তিনি ভিন্ন পথে চলেন ।এজন্য ই হয়ত পাঠক হিসেবে আর্কষিত হয়েছি ।গল্প সংকলন টিতে মানুষের নিয়তির বিধানকে প্রাধান্য দে ওয়া হয়েছে বলে মনে হয়েছে ।

পিতার বারন থাকা স্বতে ও রঘু বিধাতার কলকাঠির নাড়ানিতেই পৌছে যায় অভিশপ্ত বাগানবাড়িটাতে ।অতৃপ্ত আকাঙ্খা নিয়ে মৃত মানুষদের অতৃপ্তি মোচন করতে দেখা যায় এ গল্পটিতে ।

মদ ন তপাদারের গল্পটি কল্পনা শক্তি ও বুদ্ধি দীপ্তিতে অসামান্য অবয়ব ধারন করেছে ।

পরিবেশের প্রভাব পড়ে মানুষের মনে । মানুষের মনে অবচেতন স্তরে গভীর আকাঙ্খা সৃষ্টি করে রহস্যময় পরিবেশ আদিম পিশাচ ও প্রেত চক্র এই ধাঁচের ভূতের গল্প ।যদিও গল্প দুটির হাস্য রস অতুলনীয় ।

কালো ঘোড়া আমার খুব পছন্দের গল্পের একটি ।সারাজীবন মনে থাকবে বিলিকে ।পশ্চিমি গানফাইটার স্মৃতির অর্ধেকটা অংশ জুড়েই অবস্থান করবে শুধুমাত্র লেখকের অসাধারন বর্ননা শৈলীতে।

রিভিউ লেখক- Tabbassum Mou


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...