সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ঈশ্বরের বাগান

আপনার কাছে হাস্যকর মনে হতে পারে, তারপরেও বিষয়টা আগে ক্লিয়ার করে নিই। ঈশ্বরের বাগান পড়তে গিয়ে বারবার মনে হয়েছে আগাথা ক্রিস্টি'র কথা। 

তার সাথে মিলন দাদার একটি মিল আছে। না বইয়ের কাহিনী নিয়ে নয়, তদন্তের ব্যাপারস্যাপার নিয়ে। আগাথা ক্রিস্টি'র উপন্যাসে রহস্য উদঘাটনের জন্য দারুণ যুক্তিতর্ক কাজ করে। খুঁটি নাটি কিছু বাদ পড়ে না। 

ঈশ্বরের বাগান বইটিতে ঠিক এমন কিছুই লক্ষ্য করেছি। যা কিনা, অন্যান্য দেশীয় মৌলিক লেখায় তেমন লক্ষণীয় নয়।

এতো লেখক থাকতে আগাথা কেন? উত্তর হয় তো, ঈশ্বরের বাগানের পাশাপাশি আগাথা ক্রিস্টি'র রক্তাক্ত বড়দিন পড়ছিলাম বলে। আবার তা নাও হতে পারে কারণ, মিলন দাদার বইটা রক্তাক্ত বড়দিনের আগে হাতে নিয়েছি- আর তখন থেকেই এমন মনে হয়েছে। যাই হোক, এবার আসি মূল প্রসংগে।

সামান্য একটা কেস, ব্ল্যাকমেইল।

ধনবান আলিজান মির্জার দ্বিতীয় স্ত্রী, সুন্দরী তম্বি, উঠতি মডেল অনীতা। হঠাৎ তার হাত খরচ বেড়ে গেছে।

 আলীজান মির্জার ধারনা, কেউ তার স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

কেসটা হাতে নিয়ে ফাঁপড়ে পড়ে গেল ইউনিভারসেল সার্ভিস এর দুঁদে প্রাইভেট ডিটেকটিভ বাদল চৌধুরী। 

একের পর এক খুন হচ্ছে  

 সম্ভাব্য সাক্ষী। সম্ভাব্য বললাম এই কারণে যে, তাকে সন্দেহ করা হচ্ছে সে সব জানে- কিন্ত ঘটনা না জানা পর্যন্ত গোয়েন্দারা তা বিশ্বাস করে না, খুঁতখুঁতে ভাবটা রয়েই যায়।

নাটক যখন জমে উঠেছে, কাহিনীর মাঝখানে এসে হাজির হলো আরেক সুন্দরী, উম্মে হাবিবা শিখা। তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে আসলো আসল ভিলেনের নাম, পিস্তলের জাদুকর ইয়াকুব বেগ। 

 সন্দেহ জাগে বাদলের মনে, ইয়াকুব বেগ আর শিখা মিলে অনীতাকে ব্ল্যাকমেইলের নামে কাজে লাগিয়ে আলিজান মির্জার পকেট হালকা করছে।

আদিত্য লাল চরিত্রটা খাপছাড়া মনে হলেও সে ধোঁয়া তুলসী পাতা না। চক্রের সাথে তারও একটা যোগসাজশ আছে যা অস্পষ্ট, ধোঁয়াটে- কিন্ত অবশ্যই খচখচে।

ইয়াকুব বেগের খোঁজে, আব্বাস শেঠের আস্তানায় হানা দিতে এসে, ফুটন্ত কড়াইতে পড়ে গেল বাদল। 

ওর উপস্থিতির মাঝেই কে যেন খুন করেছে আরেকটা । 

কফিনের ভেতরে কার  গুম হওয়া লাশ ?  

অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে পড়ে আছে সয়ং আব্বাস শেঠ। 

গোদের উপরে বিষফোঁড়ার মত ঘটলো পুলিশের আগমন। এখন?

বোঝা গেল খেলোয়াড় আরেকজন আছে। সেই খেলোয়াড়টা কে?

মিলাতে পাজল হও পাগল।


সব মিলিয়ে গোলমেলে কাহিনী সম্মৃদ্ধ টানটান উত্তেজনা নির্ভর একটি বই ঈশ্বরের বাগান। 

আপনার মাথা নষ্ট করে দিতে বাধ্য।

লেখকের গল্প বলার ছন্দ আপনাকে জাদুকরের মত সামনে এগিয়ে যেতে বাধ্য করবে।

 ঘোরটা যখন ফুরাবে, তখন দেখবেন বইয়ের পাতা শেষ।

ষোল আনা ভাল লাগার একটা আবেশ তখন আপনার বুকের ভেতরে প্রজাপতির পাখায় সুড়সুড়ি দিচ্ছে।

রিভিউ © মোঃ শাওন হোসেন রাজু

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...