বিশ
চোখের সামনে মানিককের মৃত্যু দেখে চিৎকার করে উঠল মেঘা। ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো।
‘ কালু হারামজাদা আমার হাতের কব্জি ভেঙে ফেলেছে ।’ বিলাপ করে উঠল পোকা।
‘চিল্লাচিল্লি থামাও ।’ খেঁকিয়ে উঠল রুইতন। পিস্তলটা সোজা ধরল মেঘার কপাল বরাবর। ‘তোমাকে আমাদের সাথে যেতে হবে ম্যাডাম।’
গুলির শব্দ শুনতে পেল বাইরে অফিসার দুজন।
‘ স্যার গোলাগুলি শুরু হয়ে গেছে ।’ রেডিওতে জানাল আবদুল হাই।
‘বাড়ির ভিতর ঢোকার দরকার নেই। আর কিছুক্ষণের মধ্যে পৌঁছে যাচ্ছি আমরা।’ রেডিওর স্পিকার থেকে জবাব দিলেন গাউস চৌধুরী।
বোনের হাতে পিস্তল আর মেঝেতে মানিক লাশ দেখে পোকার আত্মবিশ্বাস চনমন করে উঠল। পুরো ব্যাপারটা এখন ওদের হাতে৷ আর এই পরিস্থিতি যদি কেউ সামাল দিতে পারে তো বোন রুইতন পারবে।
‘আমরা তোমার বউকে নিয়ে যাচ্ছি। জিম্মি হিসাবে ।’ বলল রুইতন। ‘পোকা টাকার ব্যাগটা নিয়ে গাড়িতে গিয়ে বস। শিশির বাবু দেখুন। আমার হারানোর কিছু নেই। লাশ মাত্র একটা ফেলেছি। আরও দশটা ফেলতে আপত্তি নেই।’
‘তোমাকে ওকে নিয়ে যেতে পারবে না।’ বাঁধা দিল শিশির।
‘সরে যান।’ পিস্তল উঁচিয়ে চেঁচাল রুইতন। ‘আর একবারও অনুরোধ করব না। সোজা গুলি করব।’
‘জিম্মি যদি নিতে হয় আমাকে সাথে নাও । কিন্তু আমার গিন্নি আর বাচ্চাকে রেখে যাও।’ বলল সে।
পোকা ততক্ষণে নিঃশব্দে শিশির পিছন চলে গেছে। পিস্তলের বাঁট দিয়ে সজোরে গায়ের জোরে আঘাত করলো শিশিরের মাথায়। মাথা ধরে হাঁটু ভেঙে মেঝেতে পড়ে গেল শিশির। জ্ঞান হারিয়েছে নিঃশব্দে।
মেঘার চুল ধরে টানতে টানতে গাড়িতে নিয়ে তুলল পোকা।
টাকার ব্যাগটা পিছনে রেখে গাড়ি স্টার্ট দিল রুইতন।
গাউস চৌধুরীর সামনে ম্যাপ। নবীগঞ্জের চারিদিকে কাঠ পেন্সিল দিয়ে বৃত্ত আঁকলেন। মার্ক করলেন সবগুলি রাস্তাও ।
রেডিওটা খ্যার খ্যার করে উঠল- ‘স্যার শিশির বাবুর গাড়িটা চলে গেল । ভেতরে মাত্র দুটো মেয়েমানুষ দেখলাম। একটা অবশ্য সেই অপরাধী দলের মেয়েটা। আমার জন্য দরজা খুলছিল । পুরুষ কাউকে দেখলাম না।’
‘বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়ুন সাবধানে।’ বললেন চৌধুরী । ‘একদম সাবধানে।’
হোলস্টার থেকে পিস্তল বের করে বাড়ির দিকে রওনা হল আব্দুল হাই। দরজা পর্যন্ত মাত্র গেছে বাড়ির ভিতর থেকে হুড়মুড় করে বের হয়ে এলো শিশির।
‘স্যার আমার বউকে জিম্মি করে নিয়ে গেছে। কিছু একটা করুন।’
‘কোথায় গেছে বলতে পারবেন ?’
‘না।’
‘কী হয়েছে এখানে ? গুলির শব্দ শুনেছি আমরা।’
‘ভেতরে দেখুন ।ওদেরই একজন মারা গেছে ।’
লাশটা ভালো মতো পরীক্ষা করলো আব্দুল হালিম। আবার দৌড়ে চলে গেল গাড়ির সামনে। রিপোর্ট দিল ।
‘চিন্তা করবেন না।’ চিন্তিত সুরে বললেন গাউস চৌধুরী । ‘পুরো এলাকাটার চারিদিক ঘিরে ফেলা হয়েছে । প্রতিটা রাস্তার চেকপয়েন্টে খবর দেওয়া হয়েছে। ওদের গুলি করে থামাতে পারব না। কারণ মিসেস শিশির রয়েছে ওদের সাথে। কিন্তু পালাতেও পারবে না। গাড়ির তেল শেষ হবেই। তখন...।’
গাড়ি স্টার্ট দেয়ার শব্দে চমকে গেল আবদুল হাই ।
’স্যার, সর্বনাশ হয়ে গেছে।’ চেঁচিয়ে উঠল আবদুল হালিম। ‘শিশির বাবু সম্ভবত পাগল হয়ে গেছেন। গাড়ি নিয়ে পাগলের মতো কোথায় যেন যাচ্ছেন। আর বাড়ির ভেতরে বাচ্চাটা কাঁদছে।’
’খুঁজে দেখুন ফ্রিজে দুধের বোতল বা শিশি আছে কি না। ওরকম কিছু থাকলে বাচ্চাটা মুখে ধরুন । তার পর সবাই মিলে হেড কোয়াটারের ফিরে আসুন।’ শান্ত গলায় বললেন গাউস চৌধুরী।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন