৩
দিগুবাবুর বাজারে বাতাসি মাছ কিনতে গিয়েছিল বাবা।
পাকচক্রে শহরআলি স্যারের সাথে দেখা হয়ে গিয়েছিল। স্যার আমার নামে কি কি শুনিয়ে দিয়েছেন কে জানে! বাসায় ফিরে বাবার সে কি তম্বি। ঢাকাই সিনেমার ভিলেনের মত মুখ ভঙ্গি করে বাবা যা বললেন তার অর্থ- ঠিক মত পড়া লেখা না করলে মেরে হাড্ডি গুডডি গুড়ো করে ফেলবেন। অথবা গায়ের চামড়া ছিলে ডুগডুগি বানাবেন। অথবা হাতকেটে পায়ে আর পা কেটে হাতে লাগিয়ে দেবেন। অথবা এক লাথথি দিয়ে চাঁদে পাঠিয়ে দেবেন-জার্নি টু দ্যা মুন বাই লাত্থি।
প্রতিটা হুমকি অসম্ভব। কিন্তু শুনলে গা শিরশির করে।
বাবা যখন কথাগুলো বলেন উনাকে দেখায় ভিলেনের মত। এক ভিলেন।
লেখা পড়া নিয়ে বাবার কোন মাথা ব্যাথা নেই। তার ধারনা ইস্কুলের স্যারেরা পিটিয়ে পাটিয়ে আমাদের ‘মানুষ’ বানিয়ে দেয়। তবে বাড়িতে মেহমান এলে আমার পড়াশোনার ব্যাপারে বাবার আগ্রহ অনেক বেড়ে যায়।
প্রথমেই জানতে চান আমার পরীক্ষার রিপোর্টটা কোথায়, সেটা যেন মেহমানদের দেখাই।
বেশির ভাগ সময় ব্যাখ্যা দেই ওটা খুঁজে পাচ্ছি না।
পরে মেহমানদের সামনে ইংরেজিতে অনুবাদ করতে বলা হয়-
১। একজন পাকা দাড়িওয়ালা লোক পাকা কলার দাম জিজ্ঞেস করছিল।
২।আমরা ইসটিশনে যাওয়া মাত্র ট্রেন ছেড়ে দিল।
৩। ইদানিং সবাই সর্দি কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছে।
৪। লোহা সোনার চেয়ে সস্তা ধাতু হলেও অধিক প্রয়োজনীয়।
প্রশ্নগুলো শুনলেই আমার হাত পা বরবটির মত নেতিয়ে যায়। কিছুই পারি না। ইংরেজিতে যে আমি খুব খারাপ তাও না।
কিছু কিছু ট্রান্সলেশন তো খুব ভালই পারি।
যেমন- পুস্প আপনার জন্য ফুটে না-দ্যা ফ্লাওয়ায় ইস নট সেলফিস। শেয়াল বুদ্ভিমান প্রানী- দ্যা ফক্স ইজ স্মাট বয়।
আমি তাকে চিনি- আই সুগার হিম।
ইত্যাদি । ইত্যাদি।
বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হতেই আমি মুক্তির আনন্দ পেলাম।
তবে বাড়ির সবাইকে দেখানোর জন্য বিশাল একটা রুটিন বানিয়ে ফেললাম। রোজকার পড়াশোনা ১২ ঘণ্টা করে। মহৎ ব্যক্তির জীবনী মার্কা বইগুলো টেবিলে সাজিয়ে রাখলাম। মোট কথা সবাই যাতে মনে করে লেখাপড়ার প্রতি আমার আগ্রহ দারুন বেড়ে গেছে। রোজই বাবাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলি- বুকলিস্টটা বের হচ্ছে না কেন?
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় একটা পোস্টার এনে ঝুলিয়ে রাখলাম।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন