১৩
আমরা প্ল্যান করে কখনই একসাথে হতে পারি না।
কখনই না।
এই শহর কিভাবে যেন আমাদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলে আকছার।কেউ কাউকে পাই না।
তারপর আবার পেয়ে যাই দৈবাৎ। অকস্মাৎ ।
ধরা যাক গীতবিতান গানের দোকানের নীচে পুরানো বই খুঁজছিলাম,এই নেশাটা ভালই চড়ে গেছে আমার।
সপ্তাহে একটা না কিনলে ভাত হজম হয় না।
বই নিয়ে ফেরার পথে উলটাদিকের পৌর পাঠাগারের বাইরে কবির সাথে দেখা হয়ে যায়।
তিনি হয়তো এক টাকার বারো ভাঁজা কিনছিলেন।
গায়ে আদা রঙের পাঞ্জাবী। শীতকালে বিস্কুট রঙের সোয়েটার চাপান উপরে। গলায় শাপলা রঙের মাফলার।
সব মিলিয়ে ভালই দেখায়।
আসলে কবিদের অমন হওয়াই উচিৎ। দেশে আইন হওয়া দরকার সুন্দর চেহারার মানুষগুলো শুধু কবিতা লিখতে পারবে। আর কুৎসিত চেহারার মানুষ লিখবে ভৌতিক আর রোমাঞ্চ গল্প।
'আরে মিলন না? বই কিনলে নাকি? দাঁড়াও দাঁড়াও বারো ভাঁজা খাও।' হাসতে হাসতে বলেন কবি।
বারো ভাঁজা মোটেও দারুণ কিছু না।
বুড়োমত একটা লোক ঠেলাগাড়ি ঠেলতে ঠেলতে আসে দুপুরটা মরচে ধরে গেলে ।
ভ্যান গাড়িতে বারটা খোপ কাটা বাক্সে ভাঁজা রাখা। ঘন কালো সিমের দানা। ভুট্টার হলুদ দানা। মেরুন রঙের অচেনা সিম । সৈকতের বালির রঙের বাদাম। মাখন রঙা ছোলা।
অমন বারোটা জিনিস থাকে। ওজন দরে বা ঠোঙা দরে বিক্রি করেন।
ভ্যানের উপরেই মাটির একটা চুলা। হা করা মুখের ভেতরে বাবলার খড়ি পট পট করে পুড়ে। উপরে কালো পিচ্চি একটা কড়াই। ধূসর রঙের গরম বালিতে যে কোন একটা দানা ভাঁজা হচ্ছে।
অসম্ভব বিরক্তকর একটা খাবার , বারভাজা।
বারো ভাঁজার ঠোঙা নিয়ে হাঁটতে থাকি আমরা।
ডায়মন্ড সিনেমা হল পাড়ি দিয়ে শহর তলীর পথ। অনেক পথ ফাঁকা তারপর তাজমহল প্রিন্টিং প্রেস।
সন্ধ্যার পর ভেতরে কমলা রঙের হারিকেল জ্বলে। এই যুগেও !
সেই প্রাচীন আলোতে দেখা যায় কালো বিশাল টেবিলের উল্টা দিকে বুড়ো একটা মানুষ বসা। হাতে খবরের কাগজ। সামনে চীনা মাটির পেয়ালা।
কখনই খবরের কাগজ পড়তে দেখিনি তাকে। শূন্য চোখে চেয়ে থাকতো সামনে। কখনও বাইরের দৃশ্য দেখত না।
তাজমহল প্রিন্টিঙের সামনেই পিচ্চি একটা ফুলের দোকান হয়েছে মাত্র কিছুদিন হল।
আমার শহরের প্রথম ফুলের দোকান। ভাবা যায়?
বড় বড় কাঁচের পাত্র ভর্তি রজনী গন্ধা। ক্রিমসন রঙের গোলাপ। গাদা ফুলের বড় বড় মালা।
দারুণ রকমের বিক্রি হয়।
রজনীগন্ধার সৌরভ চাদরের মত ঘিরে থাকে জায়গাটা। অজান্তেই বড় করে শ্বাস নেই।
আমরা হাঁটি আর বিপিনকে খুঁজি।
কোথায় পাওয়া যাবে কেউ জানি না। তারপরও খুঁজি।
ব্যাখ্যাতীত ভাবে পেয়েও যাই। কোন হোমিওপ্যাথিক দোকানের সামনে বা। অ্যালেকজান্ডার বেকারির সামনে।
পেয়ে যাই।
একই ব্যাপার ঘটে ওরা যখন আমাকে খুঁজে।
এই শহর যত বড় গোলক ধাঁধাঁ হোক না কেন রুবিজ কিউবের মত ।
প্রিয়জনকে খুঁজে পাওয়া যায় ছকের শেষে।
আজও তাই হল।
সব সময় তাই হয়।
আশা করছি আগামী দিনগুলোতেও হবে।
বিপিন আর কবি দুইজনেই চা খোর।
অমন চাতক ,মানে চায়ের জন্য যারা তক্কে তক্কে থাকে , আমি আগে বা পরে জীবনেও দেখেনি।
গ্যালন গ্যালন চা গিলতে পারে।
কতবার বলেছি , 'আপনারা দুইজন চা বাগানে চাকরি নেন। সারাদিন কাজ করার পর এক ঝুড়ি চা পাতা নিয়ে বালতি নিয়ে চা বানাতে বসে যাবেন।
আমার শহরে এত চায়ের দোকান ছিল না তখন। খুব নাম করা একটা দোকান ছিল। ধরা যাক দোকানটার নাম ঘোষ কেবিন।
ওখানে চা খেতে হলে বাজারে বিদগ্ধ হিসাবে সুনাম থাকতে হয়। যারা ওখানে চা পান করে তারা নিজেদের বেশ কেউকেটা মনে করে।
বাইরে টুল নিয়ে বসে , তশতরীতে চা ঢেলে ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ করে চা পান করে। সামনে দিয়ে রেল লাইন। প্রহর প্রহর শব্দ করে রেলগাড়ি যায়।
রামকৃষ্ণ মিশনের এক পুরোহিত যাকে সবাই মহারাজা বলে তিনি গোপনে একবার আমাকে এই ঘোষ কেবিনে পাঠিয়েছিলেন । ভেড়ার মাংসের দারুণ রকমের কাটলেট নাকি বিক্রি হয় এখানে।
সেই কাটলেটের উপর মহারাজের চরম দুর্বলতা ছিল।
খুব সাবধানে কিনে আনতে হত।
একই লোককে বারবার দুইবার পাঠানো যেত না। তাতে সবাই জেনে যাবে পরমহংস পুরোহিত গোপনে কাটলেট খায় !
কী মনে করে তখন ঘোষ কেবিনের কিচেনের ভেতরে উঁকি দিয়েছিলাম।
কোন হোটেল বা রেস্টুরেন্টের বান্নাঘর যে এত নোংরা হতে পারে জানা ছিল না। চারটে দেয়াল আর ছাদ কুচকুচে কালো। ময়লা জমে জমে , যেন কেউ কালো পেইন্ট ব্যবহার করছে মনের সুখে।
আর মেঝে?
কাঁদা প্যাকে প্যাঁচ প্যাঁচ করছে। চৈত্র মাসে ডোবা শুকিয়ে গেলে অমনটা হয়।
আমাকে উঁকি ঝুঁকি মারতে দেখে সিরিঙ্গে চেহারার একজন মানুষ খেঁকিয়ে উঠলো। লোকটা দেখতে শিং মাছের মত। জন্মান্তর যারা বিশ্বাস করে তারা ভাবতেই পারে আগের জন্মে লোকটা তাই ছিল !
আমাদের কবি খুবই চাইত, ঘোষ কেবিনে বসে আড্ডা দিতে। অন্য সব কবিদের সাথে।
পারতো না।
অন্য সব কবিরা আমাদের কবিকে পাত্তাই দিত না। একদম না।
সেই মুরুব্বী কবিরা নিজেদের একটা জটলা করে বসে থাকতো কাকের মত। বড় বড় বোলচাল মারত।
কবিতার সব কিছু জানে তারা।
রবি বাবু আর জীবন বাবুর পরে যে বাংলা ভাষায় আর কোন কবি কখনই আসবে না , সেই ব্যাপারে এই গুলতাপ্পি প্রিয় সব কবিগণ একমত । এরা, জীবিত সব কবিদের নামে কুৎসা করে।
প্রশ্ন তোলে তাদের প্রতিভা আর যোগ্যতার উপর । সন্দেহ প্রকাশ করে তাদের ভবিষ্যতে টিকে থাকার ব্যাপারে।
আরও একবার আবিস্কার করলাম কাব্য আর সাহিত্য চর্চা আর দশটা নোংরা পেশার মতই। স্বর্গীয় কিছু না।
একজন সবজি বিক্রেতার মন মানসিকতার সাথে একজন কবি লেখকের ঈর্ষার জগত , মনমানসিকতা খুব বেশি উনিশ বিশ হয় না।
সেইজন্য আমাদের নতুন কবি বসতে পারে না তার প্রিয় দোকানে ।
তারও ইচ্ছা হয় রেললাইনের পাশের এই দোকানে বসতে।
আইভরি রঙা পেয়ালা আর তশতরী তুলে নেবে হাতে। পান করবে জাফরানি রঙের পানীয়।
হয় না।
তাতে কিছু যায় আসে না।
এই শহরে দূর দূরান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কিছু অন্যরকম চায়ের দোকান ।
কবি আর বিপিন খুঁজে খুঁজে সেইসব বের করে। এত অসীম উৎসাহ আর আগ্রহ নিয়ে করে কাজটা বলার মত না।
তবে ওদের মতে তিনটে দোকান খুব সেরা।
১। সাধু বাবার দোকান ।
২। রাবণ রাজার দোকান।
৩। ইয়া হাবিবি দোকান।
একটু ব্যাখ্যা দেয়ার দরকার।
সুন্দর মত ব্যাখ্যা না দিলে গীতার শ্লোক পর্যন্ত অর্থহীন হয়ে যায়।
সাধুবাবার দোকানটা শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে। মস্ত একটা পাকুড় গাছের তলায়। ঝুপসি মত দোকানটা। সন্ধ্যায় কমলা রঙের হ্যারিকেল জ্বলে ঝুলন্ত অবস্থায়। বাদুর মার্কা চিমনি দিয়ে পুরানো পনীরের মত আলো বের হয়।
দূর থেকে বড্ড মায়াবী লাগে।
অনেক দূর থেকেই বুঝা যায় ওটা সাধু বাবার দোকান।
সাধুবাবাকে দেখলে লোকজন ভড়কে যাবে।
আইরিশ আলুর মত ফর্সা গায়ের রঙ। লম্বা চুল আর দাঁড়িতে মুখটা মাখামাখি। সব মিলিয়ে পাঁচ কেজির মত চুল দাঁড়ি আছে।
চেহারাতে সৌম্য একটা ভাব রয়েছে। দেখে মনে হত এই পৃথিবীর অনেক পাপ আজও সাধুবাবা নামে লোকটাকে পর্শ করে নি।
সবচেয়ে সুন্দর ছিল সাধুবাবার উজ্জ্বল দুই চোখ। নতুন পয়সার মত।
আচমকা মনে হত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চা বিক্রি করছে। তফাৎ একটাই সারাবছর খালি গায়ে থাকে সাধু।
শুধু এক ফালি লালসালু লুঙ্গির মতো পেঁচিয়ে পরতো ।
খালি গা। মাঘ মাসের বাঘের গায়ে কাঁপন ধরা শীতের সময় শুকনো তামাক পাতা রঙের একটা চাদর উঠতো গায়ে ।
শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে বরফের মতো হাওয়া বয়ে যেতো ।
তখন মনে হতো হাওয়াগুলো লেলিনগ্রাদ থেকে সোজা উড়ে আসে। তাতে ও বিন্দুমাত্র কাতর হতো না সাধু বাবা।
রাবণ রাজার চায়ের দোকানটা ছিল রেললাইনের অদ্ভুত একটা অংশে।
অদ্ভুত এজন্য , এই লাইনটা সোজা চলে গেছে ঢাকেশ্বরী মিলের দিকে। অতীতে এই লাইনে ব্যস্ত ছিল।
কুউউ ঝিঁক ঝিঁক করে রেলগাড়ি যেত হরদম। পাটের মিল বন্ধ হয়ে যাবার পর এই লাইনগুলো বেকার হয়ে গেছে ।
লাইনের উপর দূর্বা আর শেয়ালকাঁটা গজিয়ে উঠেছে ।
চারিদিকে শুধু বড় বড় কড়ই গাছ। বৃষ্টি গাছ।
সন্ধ্যার পর নিঝুম হয়ে যায়।
এত সব বৃক্ষদেবতার মাঝে রাবণ রাজার নিঃসঙ্গ চায়ের দোকান।
এই বিরান প্রান্তরে কেন চায়ের দোকান খুলেছে কে বলবে?
আমরা দিনে-দুপুরে কখনো আসেনি রাবণ রাজার চায়ের দোকানে।
এসেছি সন্ধ্যার পর।
মোটামুটি ভুতের দোকান।
চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার । ঝি ঝি পোকার ডাকে কান ঝালাপালা হয়ে যায় । তার মাঝে ছোট্ট এই দোকানটা । বেড়া , মরচে ধরা টিন , কাঠ যা পেয়েছে হাতের সামনে, সেইসব দিয়েই বানিয়েছে দোকানটা ।
ভেতরে বসে থাকে রাবণ রাজা। ইটের সমান একটা রেডিও কানের সাথে সেঁটে ধরে নব মুচড়ে মুচড়ে দূর দূর দেশের ইষ্টিশন ধরার চেষ্টা করে।
অচেনা ভাষার কোন স্টেশন ধরতে পারলে খুশি হয়।
লোকটাকে রাবণ রাজা বলার কারণ?
সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারবো না।
তবে বেচারাকে দেখলে প্রথমেই রাবনে কথা মনে হয়। না, রামায়ণের রাবণের মত দশটা মাথা নেই। মাথা সব মিলিয়ে একটাই।
কোকড়ানো কালো ঘন চুল মাথাভর্তি।
মোটা ভুরু। আর গোঁফ ...? বাচ্চারা দেখলে নির্ঘাত ভয় পাবে।
ইয়া মোটা গোঁফ। বিছের মত পুরুষ্টু । দুই প্রান্ত বাঁকা হয়ে জুলফির সাথে মিশেছে। কালো লম্বা একটা জামা পরে থাকে সব সময়।
সেই জামাটা আবার হাঁটু পর্যন্ত লম্বা।
সব মিলিয়ে সে আমাদের রাবণ রাজা ।
কখনই খদ্দের দেখিনি তার দোকানে।
আমাদের দেখলে খুবই খুশি হত। রেডিওটা টেবিলের উপর রেখে ব্যস্ত হাতে চা বানাতে লেগে যেত।
মাটির চুলার উপর কেতলিটা ঘুমিয়েই ছিল। নীচে ডালিমের দানার মত গনগনে কয়লার টুকরো ।
কিছুক্ষণের মধ্যেই চা পাতা সিদ্ধ হবার কাব্যিক সৌরভে চারিদিক ভরে যায়।
এত ভাল চা বানাত রাবণ রাজা ,তারপরও খদ্দের হত না। আমরা গিয়ে কখনই পঞ্চম কোন চরিত্র পেতাম না।
শেষ হল ইয়া হাবিবি বা বাগদাদি চায়ের দোকান।
ভদ্রলোকের আসল নাম সম্ভবত আবু ইসমে জলিল। এত বছর পর ঠিক মনে পড়ছে না।
অসম্ভব ধরনের রোগা আর বুড়ো একজন মানুষ।
মুখে ফ্রেঞ্জ কাট দাঁড়ি। সাদা। মাথায় সাদা কালো চেক কাটা পাগড়ী। চোখে সুরমা।
রেশম কাপড়ের সাদা আলখাল্লা পরত ইসমে জলিল সাহেব ।
কথা বলার সময় প্রচুর আরবি ফারসি শব্দ ব্যবহার করতো উনি। সেইজন্য নাম ইয়া হাবিবি চায়ের দোকান।
বাগদাদি চা-ও বলতাম।
বেচারা মানে ইয়া হাবিবি আমাদের দেখলেই বলতো - আসুন জনাব। তসলিফ গ্রহণ করুন। ফরমায়েস করুন কী দেব বাবা হুজুরদের । গোস্তাকি মাফ করবেন বাবা হুজুরেরা আমার এই কারবার বড্ড বনেদী। কোন রকম তামাশা পাবেন না...।
এত সুন্দর করে কথা বলে যে হাসি পেয়ে যায়।
হাসলে খারাপ দেখায়। সেইজন্য গম্ভীর থাকি।
ইয়া হাবিবির দোকানে চা বানানো হয় পিতলের মস্ত এক কেতলিতে। জিন্দেগিতেও অমন সাইজের কেতলি তাও পিতলের দেখিনি।
না আগে, না পরে।
খামাখাই আরব্য রজনীর কথা মনে পরে যায়।
আমাদের দলটা পালা করে একেক সময় একেক দোকানে যাই।
বিপিনের একটা বাজে অভ্যাস হল দোকানে বসেই বানরের মত পাউরুটি আর ঝুলন্ত কলা তুলে নেবে।
খালি পেটে পাউরুটি আর কলা নাকি অমৃতের মত লাগে। এই দুই খাবারের জুটি একদম উত্তম সুচিত্রার মত।
সেইজন্য শহরের সব চায়ের দোকানে এই জিনিস থাকে। সাথে বিঘৎ খানেক লাঠি বিস্কুট !
সাধু বাবার দোকানে এই লাঠি বিস্কুট বেশ হিট জিনিস। চায়ে ডুবিয়ে নরম করে খেতে হয়।
চায়ের দোকানে গুলতানি করা মানুষদের আমরা কেমন নিচু চোখে দেখি। অকর্মা অলস ভাবি।
অথচ কবি আর বিপিন মিলে কি সুন্দর সুন্দর চায়ের দোকান বের করে।
বিদেশে যেমন শহরের সেরা ওয়াইনের দোকান, কফির দোকান বা মাছ ভাঁজার দোকানকে শহরের মেয়র পুরস্কার দেয় আমাদের দেশে দিলেও মনে হয় ভাল হত।
শহরতলীর বাইরের এই দোকানগুলোতে বসে চীনামাটির পেয়ালা ভর্তি করে চা নিলে মনটা কেমন কার্পাস তুলার মত পাতলা হয়ে যায়।
কবি আর বিপিন বকবক করে কি সব।
আমার কানে ঢুকে না।
কত দূর দেশের কথা মনে পড়ে যায়।
এই বিজন ঘাস আর ভেজা নক্ষত্র কেমন অচেনা লাগে।
কবি আর বিপিন আমার আচরণে বিরক্ত হয়। জানতে চায় আমি কেন কবিতা লিখি না?
বা আবৃতির ক্লাসে আসি না।
সাফ সাফ বলে দেই, আমি চাই না । তাই ।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন