সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

চৈতালি হাওয়ায় বিষ ১৫

 পনেরো

 

 

 

সারাটা  পথ গাড়ি চালাতে চালাতে   হাউমাউ করে কাঁদছিল মানিক

 

 নিজেকে পথের ফকির মনে হচ্ছে তবে সেই সাথে অদ্ভুত রকমের বিচ্ছিন্ন  একটা অনুভূতি  হচ্ছে সেটা হল,  মায়ের জন্য সারাক্ষণই চিন্তা করতে হবে না  ওকে পিছু টান বলতে আর কিছু রইল না এই জীবনে

 

আটচল্লিশ  বছর বয়স চলছে বিয়ে করতে পারেনি৷ যত মেয়ে ওর জীবনে এসেছে কাউকেই  ওর মা পছন্দ করত না  সারা জীবন মা আর ওস্তাদ  কেশু  ওর জীবন নিয়ন্ত্রণ করেছে 

এখন টাকা নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করতে পারে দূরে কোথাও গিয়ে  নামধাম পালটে একদম নতুন জীবন

 

 

 গাড়িটা যখন  নির্জনবাস  বাড়ির সামনে থামল মানিক  অবচেতন ওকে সতর্ক করে দিল 

হাজার  হোক, অপরাধ নামের  প্রাচীন দিঘির জলের পুরনো মাছ সে ওর মন বলছে, মস্ত কোন ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে  সবাই বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে আছে কেন? জিম্মির হাতে ব্যাগ কেন ?

সামার  কোটের  বগলের কাছে রাখা পয়েন্ট  থার্টি এইট  পিস্তলটায় হাত বুলিয়ে নিল মানিক  পুরানো দিনের মত

 

 

 সব ঠিক আছে ?  গাড়ি থেকে নামতে নামতে প্রশ্ন করল মানিক

 

 

 কেউ  জবাব দিল না

 

 

আপনি চলে এসেছেন মানিক দা ? দেঁতো হাসি হাসল পোকা ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে আসছে আন্তরিক ভঙ্গিতে

 

 

আমি চলে যাওয়ার পর সব ঠিকঠাক ছিল এখানে ? জানতে চাইল মানিক

 

 অবাক হয়ে খেয়াল করল পোকা ওর একটা হাত পিছনে লুকিয়ে রেখেছেআর রুইতন ধীরে ধীরে মানিক  পিছন দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছে

 

 

একটা লোক যদি খ্যাতি অর্জন করে তবে তার পিছনে যথেষ্ট কারণ থাকে৷

মানিক বাতাস খেয়ে  এমনিতেই নাম করেনি  আন্ডারওয়ার্ল্ডেপুলিশের কাছে আজও মানিক একটা সুপার হিরোওস্তাদ আর মায়ের কাছে মানিক বোকা

 

কিন্তু যখন কাজে নামে তখন চিতাবাঘের মতো ওর সময়ে উঠতি গুন্ডাদের শক্ত হাতে দমন করত মানিক  সারা শহরে গ্যাংস্টারদের নাকে দড়ি দিয়ে পোষ মানাত মানিক

 

আজও পুরনো অপরাধীরা নিজেদের মধ্যে কথা বলতে গেলে ফিসফিস করে  স্বীকার করে,  পিস্তলে মানিক  হাত কত ভাল ছিল ! সেই সময় বড় বড় পুলিশ অফিসাররা মানিক  পিছনে লাগার আগে চাকরিতে রিজাইন দেওয়ার কথা ভাবত

 

পোকা আর রুইতনের হাজার জন্মের ভাগ্য- মানিক  সাথে আগে দেখা হয়নিযৌবনের মানিক  সাথে টক্কর লাগেনি ওঁদের

 

উপস্থিত সবাই অবাক হয়ে দেখল মানিক ওর ডান হাতটা উঁচু করে ধরে রেখেছেওখানে চকচক করছে পিস্তলটাএমন একটা পজিশনে দাঁড়িয়েছে,  এক জায়গায় দাঁড়িয়ে সবাইকে কাভার দিতে পারছেআর পিস্তলটা যেন ভোজবাজির মত ওর হাতে চলে এসেছেএরকম আগে কেউ কখনও দেখেনি৷ পুরনো দিনের ওয়াইল্ড ওয়েস্টের পিস্তলবাজেরাও লজ্জা পাবে

 

 

আরে মানিক দা এসব কি ? ফ্যাকাসে হেসে বলল পোকা

 

 

সাইকেলের চেইনটা প্রথমে ফেলে দাওঠিক তোমার পায়ের সামনে কোন রকম চালাকি করবে নামাত্র যেমনটা দেখে তুমি  বোধাই হয়ে গেলে এমন হাজারটা জাদু আমি জানি হিস হিস করে বলল মানিক  বিশ্বাস করো, তুমি মরে গেলে কান্না করার মতো লোক দুনিয়াতে নেইআর কারো কাছে সাফাই দিতে হবে না  আমি কেন তোমাকে মেরেছি

 

 

এ এক অন্য মানিক

 

চেহারা থেকে বোকা বোকা ভাবটা দূর হয়ে গেছে দু চোখ জ্বলছে কয়লার মতো

 

সাইকেলের চেইন ফেলে দিল পোকাবেহায়ার মত হেসে বলল, আরে বড় ভাই আমি শুধু একটু মজা করছিলামআপনি এত সিরিয়াস হয়ে যাবে কে জানত ?

পিছাওনইলে গুলি করব হুকুম দিল মানিক

 

 

গজগজ করতে করতে পোকা পিছিয়ে গেলওদের সবার উপর চোখ রেখে নিচু হয়ে সাইকেলের চেইনটা তুলে নিল মানিক

 

 বার সাবিহার দিকে চেয়ে বলল, এই মেয়ে, আসলে কি হয়েছে বল তো আমাকে?

 

কয়েকটা মুহূর্ত অস্বস্তিকর নিরবতা জমে রইল

 

তারপর কাঁপা কাঁপা গলায় সাবিহা বলল, দাদা আপনি পোকাকে মারবেন না দয়া করেআমরা একে অপরের পছন্দ করিবিয়ে করতে চাইএখান থেকে এখনই চলে যাবআপনি হেল্প করুন আমাদেরআব্বু আপনাকে অনেক টাকা দেবে

 

মানিক  মনে হল সস্তা ধরনের ঢাকাই সিনেমা দেখছি ওদেলোয়ার জাহান ঝন্টু বা শামসুদ্দিন টগর পরিচালিত সপরিবারে দেখার মত পুরোনো দিনের সাদাকালো ধামাকা ছবি

 

 

মানিক দা আশা করি আপনি খামখা কোন রকম পেজগি খেলবেন না  বিজয়ীর ভঙ্গিতে বলল পোকামুখে প্রাণবন্ত হাসি কেশু হারামজাদা আমাদের বা আপনাকে কত দিত ? চলে আসুন আমাদের দলেপুলিশের ঝামেলা থেকে বেঁচে যাবেনসাবিহা আপনাকে প্রোটেকশন দেবেআমি কথা দিচ্ছি

 

 

মানিক  মনে হচ্ছে এখন ও সে সস্তা চিত্রনাট্যের কোন নাটক বা সিনেমা দেখছে

 

এই পোকা গ্রুপকে সে নিজে হায়ার করেছিলআর এখন এই বাড়িতেই তিন জন চলে গেছে ওর বিপক্ষে

 

মেঘা ?

 

বেচারি কারও পক্ষে নাদু পক্ষই ওর কাছে শত্রু

 

ওস্তাদ আর শিশির ফিরে আসার আগ পর্যন্ত কীভাবে সামাল দেবে এই তিন তিনটা বজ্জাতকে ?

 

এমন সময়, বিকেলের কমলা রঙের আলোতে সবাই দেখতে পেলদূর থেকে ধুলার মেঘ উড়িয়ে একটা গাড়ি আসছেঅচেনা গাড়ি

 

 

**************************************

 

 

আব্দুল হাই বুঝতে পারলেন,  খানিকটা নার্ভাস লাগছে

বাইরে গরমসূর্য ডুবে যাচ্ছে, তারপরও তন্দুরের মত গরম বাতাস

নির্জনবাস বাড়ির পরিবেশটাই কেমন থমথমেসদর দরজার কাঁচা লোহার বড় গেইট ঠেলা দিয়ে ভিতরে ঢুকলেনঅস্ত্র ছাড়া ভেতরে ঢোকা বোধহয় ঠিক হয়নিআবিষ্কার করলেন , প্রয়োজনের তুলনায় বড্ড বেশি ঘামছে তিনি 

 

বস গাউস চৌধুরী ঠিকই বলেছেন, ভিতরে আছে ক্রিমিনালরাসংখ্যা অনেক হবেপ্রত্যেকটা কামরার জানলা বন্ধপর্দা টেনে দেওয়া একটা লাইট ও অন করেনি

সন্দেহ নেই ভেতরে যারা আছে আড়াল থেকে ওকে দেখছে৷ এবং সামান্য বেচাল দেখলেই খুন করে ফেলবে আবদুল হাইকেপুরনো অভিজ্ঞতা থেকে জানেন কিডন্যাপারারা কোণঠাসা হয়ে গেলে মরিয়া হয়ে যায়

স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হাঁটার চেষ্টা করছেন আবদুল হাইহতাশ হয়ে আবিষ্কার করলেন, রাতের বেলাও চুপিচুপি বাড়ির ভেতর ঢোকা যাবে না ছাদের উপর চুপচাপ কেউ বসে থাকলে আধা মাইল পর্যন্ত নজর রাখতে পারবেআশেপাশে বহু দূর পর্যন্ত বড় কোনো গাছপালা নেই৷ চারিদিকটা একদম থালার মতো সমতল

 

 

দরজায় নক করার সময় লজ্জিত হয়ে আব্দুল হাই আবিষ্কার করলেন হৃদপিণ্ডের গতি বেড়ে গেছে তাঁর

 

কে দরজা খুলবে ? খুলেই কি কেউ গুলি করবে?

 

লম্বাটে মুখের এক মেয়ে দরজা খুলে দিল চোখ দুটি ভারি সুন্দর ওর

ইয়ে ...আমি  দিদারুল হক সরকার বিনয়ের সাথে বললেন আবদুল হাই আসলে এই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলামহাকিম ভাইয়ের সাথে একটু দেখা করার দরকার ছিল ৷ উনার গিন্নি থাকলেও চলবে আপনাকে ঠিক চিনলাম না তো  

আমি এখানে কাজ করি ঠান্ডা গলায় বলল রুইতনউনারা কেউ বাড়ি নেইতিন চার দিন পর ফিরবে 

 

এক গ্লাস পানি দিতেন যদিযা গরম পড়েছে গলায় হাত বুলিয়ে তৃষ্ণার্ত মানুষের ভূমিকায় অভিনয় করতে চাইলেন আবদুল হাই

 

পানি নেই গতকাল থেকে আগের চেয়ে কঠিন গলায় বলল রুইতন

 

কী আর করা  হতাশ গলায় বললেন আবদুল হাই হাকিম ভাই আমার কাছ থেকে একহাজার টাকা পেতেনএই নিন, টাকাটা উনাকে দেবেনআর আপনি কাগজে সাইন করে দেন যে টাকা বুঝে পেয়েছেন

 

পকেট থেকে পাঁচশ টাকার দুটি নোট বের করে রুইতনের হাতে দিলেন আবদুল হাইকলম আর একটা নোট বই ও এগিয়ে দিল

সাইন করে ফেরত দিতেই রুমালে জড়িয়ে কলমটা নিয়ে নিলেন আবদুল হাইযত্ন করে বুক পকেটে রেখে তেলতেলে হাসি দিয়ে বললেন, যাই তাহলেআর হাকিম ভাইকে সালাম দেবেন

 

ফিরে হাঁটতে লাগলেন আব্দুল হাইপ্রতি মুহূর্তে আশা করছে একটা বুলেট এসে গুঁড়িয়ে দেবে মেরুদণ্ড অথবা মাথা দরদর করে ঘামছেন

সরল সহজ পথে হাঁটতে লাগলেনদুই চোখ ব্যস্তভাবে জরিপ করছে চারিদিকটাগাড়িতে বসা মাত্রই যেন ধরে প্রাণ পেয়ে প্রাণ ফিরে পেলেন

 

বাপরেকপাল ভাল গাড়িতে এসে বসতে পেরেছেনযে মেয়েটা দরজা খুলেছে তার সাথে ট্র্যাফিক পুলিশ দেওয়া বর্ণনা হুবহু মিলে গেছে বাড়িতে থাকে শুধু শিশির তার বউ মেঘা আর মেয়েটা বলল নাকি হাকিমের চাকরানী

 

ফোন করতে গিয়ে বুঝতে পারলেন নেটওয়ার্ক নেই এখানেকারণ ?  বোধ হয় সিগন্যাল জ্যামার বসিয়েছে ওরা

 

খানিক দূর পর্যন্ত গাড়ি চালিয়ে গিয়ে যখন সিগন্যালে পেলেন তখন ফোন করলেন বসের কাছে বর্ণনা করলেন, সদ্য লাভ করা অভিজ্ঞতার কথা বাড়িটার নিখুঁত বর্ণনা দিলেন

চমৎকার কাজ  নির্জলা প্রশংসা করলেন গাউস চৌধুরীবাড়ির ভেতরেই আছে সবাইআপনি ওখানেই থাকুনঢাকা থেকে আরও দুজন অফিসার পাঠাচ্ছিসাথে অস্ত্র আর দূরবিন সহদূর থেকে ওদের উপরে নজর রাখবেনআগামী চব্বিশ ঘন্টা পালা করে নজর রাখবেন বাড়িটার উপর আমি জানতে চাই, ভিতরে কে বা কয়জন আছেআর কী কী করতে হবে বলার দরকার নেই নিশ্চয়ই ? পরিস্থিতি বুঝে যা খুশি করবেন আপনিসেই ক্ষমতা দিলামঠিক আছে ? শুধু শত্রুপক্ষ যেন টের না পায়, ওদের উপর নজর রাখা হচ্ছেক্লিয়ার ?

 

 

 

 

 

 

পুরো সময়টা সবাই বেডরুমে ঘাপটি মেরে বসে দরদর করে ঘামছিল

কারণ মানিক সব জানলা বন্ধ করে রেখেছেপর্দা ফেলে রেখেছিল

এমন ভাবে দাঁড়িয়ে ছিল যাতে একই সাথে বাড়ির ভেতরের সবাইকে চোখে রাখতে পারে আবার জানালা দিয়ে অচেনা অতিথির উপরেও নজর রাখতে পারে

 

আব্দুল হাই চলে যেতেই মানিক বলল, এবার সব জানলা খুলে দাওআর আমার কথা শোনো সবাইবিশেষ করে নতুন লাভার পোলাপানওস্তাদ এবং শিশির বাবু মুক্তিপণের টাকা নিয়ে ফিরে আসা পর্যন্ত কাউকে বাড়ি ছেড়ে বের হতে দেব না আমিতারপর তোমরা গিয়ে বিয়ে করো বা লিভিং টুগেদার করো যার যেমন মর্জি সারা জীবন তোমাদের মতো পুঙটা বাচ্চা কাঁচা সামাল দিয়েছি আমিবিশ্বাস না করলে চালাকি করে দেখোসোজা গুলি চালিয়ে দেব

 

পোকা চোখ দিয়ে যেন গিলে ফেলছিল মানিক

 কিন্তু সাহসে কুলাচ্ছিল না কিছু করার জন্যখানিক আগেই মানিক  হাতের জাদু দেখেছেভেলকি একেই বলে

 

আপনি একটা আস্ত জাম্ব সাইজের বেকুব মানিক দা টিটকারি দেওয়ার ভঙ্গিতে বলল পোকাসেই সাথে গা জ্বালানো একটা হাসি দিয়েই যাচ্ছে অকাতরেএই মুহূর্তে ঘটনা থেকে বের হয়ে গেলে আমরা সবাই বেঁচে যাবমুক্তিপণ নিলেই আইনের চোখে ফেঁসে যাব সবাই 

 

কেউ ফাঁসবে না শান্ত গলায় বলল মানিক সব ঠিক হয়ে যাবেএখন এই মুহূর্ত থেকে তুমি আর রুইতন চাকরদের কোয়ার্টারে গিয়ে থাকবেবাড়ির পনের গজের মধ্যে তোমাদের পোকা ভাই বোনদের দেখলে আমি গুলি করবআর সাবিহা তুমি সারাক্ষণ মেঘা দিদির সাথে থাকবেবাইরে গেলেই... না জানে মারব নাগুলি করে ল্যাংড়া করে দেব

 

এখানে ঝামেলা শেষ হোক মানিক দা ঠোঁট বাঁকা করে হাসল পোকা সময়মতো সব উশুল করে ফেলবপোকা কারও পাওনা বাকি রাখে না

 

 

গুলির শব্দে পুরো রুমটা কেঁপে উঠল

 

এক ঝলক আগুন দেখা গেল মানিক  পিস্তলের নলে

চিৎকার করে উঠল সাবিহা

 

লাফ দিয়ে পিছন চলে গেল পোকাহাত দিল কানে রক্ত গড়িয়ে নামছেঘাড় পর্যন্ত ভিজে গেছে গরম রক্তেরক্তমাখা আঙুলের দিকে বোকার মতো চেয়ে রইল পোকা

 

অটল একটা ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে মানিক পিস্তলের নল দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছেবারুদের ঘ্রাণ

 

পরেরবার কানের লতি না পুরো মাথা উড়িয়ে দেব পোকাএবারই করতামকিন্তু দেওয়ালটা নতুন করে রং করাতে হবেরংমিস্ত্রি খরচ অনেক বেশিসেটা আবার ওস্তাদ হয়তো আমার পকেট থেকে কেটে রাখবে যাও বের হও বাড়ি থেকে ৷

 শান্ত গলায় বলল মানিক

 

প্রায় দৌড়ে বেরিয়ে গেল পোকাময়লা একটা রুমাল চেপে রেখেছে কানের লতিতে

 

ওই দিকে গুলির শব্দে পিচ্চি কান্না শুরু করেছেমেঘা দৌড়ে গিয়ে বাচ্চা কোলে নিল জানালা দিয়ে মানিক দেখল, পোকা ভাইবোন হনহন করে হেঁটে চাকরদের কোয়াটারের দিকে যাচ্ছে

 

 

মেঘার দিকে ফিরে তাকাল মানিক

 

নরম গলায় বলল, সাবিহার দিকে খেয়াল রাখবেন দিদি৷ মেয়েটা ভুলে ও যেন বাইরে যেতে না পারেআরও দুই দিন আমাদের অপেক্ষা করতে হবেমুক্তিপণ হাতে না আসা পর্যন্তপোকা আর রুইতন খুবই খারাপ চিজআমার কথা শুনলে আপনি আর খোকা নিরাপদে থাকবেনভেবে দেখুন আপনি আমার সাইডে থাকবেন না পোকা গ্রুপের সাইডে ?

 

 

এতগুলি জানোয়ারের মধ্যে মানিক  আচরণই ভদ্রলোকের মত মনে হয়েছে মেঘারসেই প্রথম থেকেই

 

আমি আপনার পাশে আছি মানিক দা মেঘা বলল

 

পিস্তলটা সরিয়ে নিয়ে স্বস্তির হাসি হাসল মানিক পিচ্চি তখনও কাঁদছে

 

খোকাকে আমার কোলে দিন তো  হাত বাড়াল মানিক আমি বাচ্চা খুব পছন্দ করি

 

মেঘার মন সায় দিচ্ছে না৷ তারপরও কী মনে করে পিচ্চিকে তুলে দিল মানিক  হাতে

 

ভয়ঙ্কর অপরাধী মানিক আর দেবশিশুর মত পিচ্চি একে অপরের দিকে চেয়ে রইল খানিকটা সময়মানিক গাল ফুলিয়ে চোখ গোল্লা গোল্লা করে খানিক বিনোদন দেওয়ার চেষ্টা করল পিচ্চিকে

পিচ্চি খানিকটা সময় নিয়ে ব্যাপারটা বিবেচনা করল শেষে দাঁতবিহীন মাড়ির বের করে হাসতে লাগল সেই সাথে মানিক  কোলে প্রসাব করে দিল খানিকটা

 

তাহলে আপনি, আমি আর খোকা এক দলেঠিক আছে ?পিচ্চিকে মেঘার কোলে ফিরিয়ে দিতে দিতে বলল মানিক  আমি সারা রাত বারান্দায় বসে পাহারা দেবো সাবিহা আপনার সাথে থাকবে কোনও ট্যাঁ ফোঁ করলে আমাকে ডাকবেনথাপ্পড় মেরে দাঁত ফেলে দেব

 

 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...