পনেরো
সারাটা পথ গাড়ি চালাতে চালাতে হাউমাউ করে কাঁদছিল মানিক ।
নিজেকে পথের ফকির মনে হচ্ছে। তবে সেই সাথে অদ্ভুত রকমের বিচ্ছিন্ন একটা অনুভূতি হচ্ছে। সেটা হল, মায়ের জন্য সারাক্ষণই চিন্তা করতে হবে না ওকে। পিছু টান বলতে আর কিছু রইল না এই জীবনে।
আটচল্লিশ বছর বয়স চলছে। বিয়ে করতে পারেনি৷ যত মেয়ে ওর জীবনে এসেছে কাউকেই ওর মা পছন্দ করত না। সারা জীবন মা আর ওস্তাদ কেশু ওর জীবন নিয়ন্ত্রণ করেছে।
এখন টাকা নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করতে পারে। দূরে কোথাও গিয়ে। নামধাম পালটে। একদম নতুন জীবন।
গাড়িটা যখন নির্জনবাস বাড়ির সামনে থামল মানিক অবচেতন ওকে সতর্ক করে দিল।
হাজার হোক, অপরাধ নামের প্রাচীন দিঘির জলের পুরনো মাছ সে। ওর মন বলছে, মস্ত কোন ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। সবাই বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে আছে কেন? জিম্মির হাতে ব্যাগ কেন ?
সামার কোটের বগলের কাছে রাখা পয়েন্ট থার্টি এইট পিস্তলটায় হাত বুলিয়ে নিল মানিক । পুরানো দিনের মত।
‘সব ঠিক আছে ?’ গাড়ি থেকে নামতে নামতে প্রশ্ন করল মানিক ।
কেউ জবাব দিল না।
‘আপনি চলে এসেছেন মানিক দা ?’ দেঁতো হাসি হাসল পোকা । ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে আসছে আন্তরিক ভঙ্গিতে ।
‘আমি চলে যাওয়ার পর সব ঠিকঠাক ছিল এখানে ?’ জানতে চাইল মানিক ।
অবাক হয়ে খেয়াল করল পোকা ওর একটা হাত পিছনে লুকিয়ে রেখেছে। আর রুইতন ধীরে ধীরে মানিক পিছন দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
একটা লোক যদি খ্যাতি অর্জন করে তবে তার পিছনে যথেষ্ট কারণ থাকে৷
মানিক বাতাস খেয়ে এমনিতেই নাম করেনি আন্ডারওয়ার্ল্ডে। পুলিশের কাছে আজও মানিক একটা সুপার হিরো। ওস্তাদ আর মায়ের কাছে মানিক বোকা।
কিন্তু যখন কাজে নামে তখন চিতাবাঘের মতো ।ওর সময়ে উঠতি গুন্ডাদের শক্ত হাতে দমন করত মানিক ৷ সারা শহরে গ্যাংস্টারদের নাকে দড়ি দিয়ে পোষ মানাত মানিক ।
আজও পুরনো অপরাধীরা নিজেদের মধ্যে কথা বলতে গেলে ফিসফিস করে স্বীকার করে, পিস্তলে মানিক হাত কত ভাল ছিল ! সেই সময় বড় বড় পুলিশ অফিসাররা মানিক পিছনে লাগার আগে চাকরিতে রিজাইন দেওয়ার কথা ভাবত ।
পোকা আর রুইতনের হাজার জন্মের ভাগ্য- মানিক সাথে আগে দেখা হয়নি। যৌবনের মানিক সাথে টক্কর লাগেনি ওঁদের।
উপস্থিত সবাই অবাক হয়ে দেখল মানিক ওর ডান হাতটা উঁচু করে ধরে রেখেছে। ওখানে চকচক করছে পিস্তলটা। এমন একটা পজিশনে দাঁড়িয়েছে, এক জায়গায় দাঁড়িয়ে সবাইকে কাভার দিতে পারছে। আর পিস্তলটা যেন ভোজবাজির মত ওর হাতে চলে এসেছে। এরকম আগে কেউ কখনও দেখেনি৷ পুরনো দিনের ওয়াইল্ড ওয়েস্টের পিস্তলবাজেরাও লজ্জা পাবে।
‘আরে মানিক দা এসব কি ?’ ফ্যাকাসে হেসে বলল পোকা ।
‘ সাইকেলের চেইনটা প্রথমে ফেলে দাও। ঠিক তোমার পায়ের সামনে । কোন রকম চালাকি করবে না। মাত্র যেমনটা দেখে তুমি বোধাই হয়ে গেলে এমন হাজারটা জাদু আমি জানি।’ হিস হিস করে বলল মানিক । ‘বিশ্বাস করো, তুমি মরে গেলে কান্না করার মতো লোক দুনিয়াতে নেই। আর কারো কাছে সাফাই দিতে হবে না আমি কেন তোমাকে মেরেছি।’
এ এক অন্য মানিক ।
চেহারা থেকে বোকা বোকা ভাবটা দূর হয়ে গেছে । দু চোখ জ্বলছে কয়লার মতো।
সাইকেলের চেইন ফেলে দিল পোকা। বেহায়ার মত হেসে বলল, ‘আরে বড় ভাই আমি শুধু একটু মজা করছিলাম। আপনি এত সিরিয়াস হয়ে যাবে কে জানত ?’
‘পিছাও। নইলে গুলি করব।’ হুকুম দিল মানিক ।
গজগজ করতে করতে পোকা পিছিয়ে গেল। ওদের সবার উপর চোখ রেখে নিচু হয়ে সাইকেলের চেইনটা তুলে নিল মানিক ।
এই বার সাবিহার দিকে চেয়ে বলল, ‘এই মেয়ে, আসলে কি হয়েছে বল তো আমাকে?’
কয়েকটা মুহূর্ত অস্বস্তিকর নিরবতা জমে রইল।
তারপর কাঁপা কাঁপা গলায় সাবিহা বলল, ‘দাদা আপনি পোকাকে মারবেন না দয়া করে। আমরা একে অপরের পছন্দ করি। বিয়ে করতে চাই। এখান থেকে এখনই চলে যাব। আপনি হেল্প করুন আমাদের। আব্বু আপনাকে অনেক টাকা দেবে।’
মানিক মনে হল সস্তা ধরনের ঢাকাই সিনেমা দেখছি ও। দেলোয়ার জাহান ঝন্টু বা শামসুদ্দিন টগর পরিচালিত সপরিবারে দেখার মত পুরোনো দিনের সাদাকালো ধামাকা ছবি।
‘মানিক দা আশা করি আপনি খামখা কোন রকম পেজগি খেলবেন না ।’ বিজয়ীর ভঙ্গিতে বলল পোকা। মুখে প্রাণবন্ত হাসি। ‘কেশু হারামজাদা আমাদের বা আপনাকে কত দিত ? চলে আসুন আমাদের দলে। পুলিশের ঝামেলা থেকে বেঁচে যাবেন। সাবিহা আপনাকে প্রোটেকশন দেবে। আমি কথা দিচ্ছি।’
মানিক মনে হচ্ছে এখন ও সে সস্তা চিত্রনাট্যের কোন নাটক বা সিনেমা দেখছে।
এই পোকা গ্রুপকে সে নিজে হায়ার করেছিল। আর এখন এই বাড়িতেই তিন জন চলে গেছে ওর বিপক্ষে।
মেঘা ?
বেচারি কারও পক্ষে না। দু পক্ষই ওর কাছে শত্রু ।
ওস্তাদ আর শিশির ফিরে আসার আগ পর্যন্ত কীভাবে সামাল দেবে এই তিন তিনটা বজ্জাতকে ?
এমন সময়, বিকেলের কমলা রঙের আলোতে সবাই দেখতে পেল। দূর থেকে ধুলার মেঘ উড়িয়ে একটা গাড়ি আসছে। অচেনা গাড়ি।
**************************************
আব্দুল হাই বুঝতে পারলেন, খানিকটা নার্ভাস লাগছে ।
বাইরে গরম। সূর্য ডুবে যাচ্ছে, তারপরও তন্দুরের মত গরম বাতাস।
নির্জনবাস বাড়ির পরিবেশটাই কেমন থমথমে। সদর দরজার কাঁচা লোহার বড় গেইট ঠেলা দিয়ে ভিতরে ঢুকলেন। অস্ত্র ছাড়া ভেতরে ঢোকা বোধহয় ঠিক হয়নি। আবিষ্কার করলেন , প্রয়োজনের তুলনায় বড্ড বেশি ঘামছেন তিনি ।
বস গাউস চৌধুরী ঠিকই বলেছেন, ভিতরে আছে ক্রিমিনালরা। সংখ্যা অনেক হবে। প্রত্যেকটা কামরার জানলা বন্ধ। পর্দা টেনে দেওয়া । একটা লাইট ও অন করেনি ।
সন্দেহ নেই ভেতরে যারা আছে আড়াল থেকে ওকে দেখছে৷ এবং সামান্য বেচাল দেখলেই খুন করে ফেলবে আবদুল হাইকে। পুরনো অভিজ্ঞতা থেকে জানেন কিডন্যাপারারা কোণঠাসা হয়ে গেলে মরিয়া হয়ে যায়।
স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হাঁটার চেষ্টা করছেন আবদুল হাই। হতাশ হয়ে আবিষ্কার করলেন, রাতের বেলাও চুপিচুপি বাড়ির ভেতর ঢোকা যাবে না । ছাদের উপর চুপচাপ কেউ বসে থাকলে আধা মাইল পর্যন্ত নজর রাখতে পারবে। আশেপাশে বহু দূর পর্যন্ত বড় কোনো গাছপালা নেই৷ চারিদিকটা একদম থালার মতো সমতল।
দরজায় নক করার সময় লজ্জিত হয়ে আব্দুল হাই আবিষ্কার করলেন হৃদপিণ্ডের গতি বেড়ে গেছে তাঁর।
কে দরজা খুলবে ? খুলেই কি কেউ গুলি করবে?
লম্বাটে মুখের এক মেয়ে দরজা খুলে দিল । চোখ দুটি ভারি সুন্দর ওর।
‘ইয়ে ...আমি দিদারুল হক সরকার।’ বিনয়ের সাথে বললেন আবদুল হাই। ‘আসলে এই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। হাকিম ভাইয়ের সাথে একটু দেখা করার দরকার ছিল ৷ উনার গিন্নি থাকলেও চলবে । আপনাকে ঠিক চিনলাম না তো ।’
‘আমি এখানে কাজ করি।’ ঠান্ডা গলায় বলল রুইতন। ‘ উনারা কেউ বাড়ি নেই। তিন চার দিন পর ফিরবে।’
‘এক গ্লাস পানি দিতেন যদি। যা গরম পড়েছে।’ গলায় হাত বুলিয়ে তৃষ্ণার্ত মানুষের ভূমিকায় অভিনয় করতে চাইলেন আবদুল হাই।
‘পানি নেই গতকাল থেকে।’ আগের চেয়ে কঠিন গলায় বলল রুইতন ।
‘কী আর করা ।’ হতাশ গলায় বললেন আবদুল হাই। ‘হাকিম ভাই আমার কাছ থেকে একহাজার টাকা পেতেন। এই নিন, টাকাটা উনাকে দেবেন। আর আপনি কাগজে সাইন করে দেন যে টাকা বুঝে পেয়েছেন ।’
পকেট থেকে পাঁচশ টাকার দুটি নোট বের করে রুইতনের হাতে দিলেন আবদুল হাই। কলম আর একটা নোট বই ও এগিয়ে দিল।
সাইন করে ফেরত দিতেই রুমালে জড়িয়ে কলমটা নিয়ে নিলেন আবদুল হাই। যত্ন করে বুক পকেটে রেখে তেলতেলে হাসি দিয়ে বললেন, ‘যাই তাহলে। আর হাকিম ভাইকে সালাম দেবেন।’
ফিরে হাঁটতে লাগলেন আব্দুল হাই। প্রতি মুহূর্তে আশা করছে একটা বুলেট এসে গুঁড়িয়ে দেবে মেরুদণ্ড অথবা মাথা । দরদর করে ঘামছেন।
সরল সহজ পথে হাঁটতে লাগলেন। দুই চোখ ব্যস্তভাবে জরিপ করছে চারিদিকটা। গাড়িতে বসা মাত্রই যেন ধরে প্রাণ পেয়ে প্রাণ ফিরে পেলেন।
বাপরে। কপাল ভাল গাড়িতে এসে বসতে পেরেছেন। যে মেয়েটা দরজা খুলেছে তার সাথে ট্র্যাফিক পুলিশ দেওয়া বর্ণনা হুবহু মিলে গেছে । বাড়িতে থাকে শুধু শিশির তার বউ মেঘা । আর মেয়েটা বলল নাকি হাকিমের চাকরানী।
ফোন করতে গিয়ে বুঝতে পারলেন নেটওয়ার্ক নেই এখানে। কারণ ? বোধ হয় সিগন্যাল জ্যামার বসিয়েছে ওরা।
খানিক দূর পর্যন্ত গাড়ি চালিয়ে গিয়ে যখন সিগন্যালে পেলেন তখন ফোন করলেন বসের কাছে । বর্ণনা করলেন, সদ্য লাভ করা অভিজ্ঞতার কথা । বাড়িটার নিখুঁত বর্ণনা দিলেন।
‘চমৎকার কাজ ।’ নির্জলা প্রশংসা করলেন গাউস চৌধুরী। ‘ বাড়ির ভেতরেই আছে সবাই। আপনি ওখানেই থাকুন। ঢাকা থেকে আরও দুজন অফিসার পাঠাচ্ছি। সাথে অস্ত্র আর দূরবিন সহ। দূর থেকে ওদের উপরে নজর রাখবেন। আগামী চব্বিশ ঘন্টা পালা করে নজর রাখবেন বাড়িটার উপর । আমি জানতে চাই, ভিতরে কে বা কয়জন আছে। আর কী কী করতে হবে বলার দরকার নেই নিশ্চয়ই ? পরিস্থিতি বুঝে যা খুশি করবেন আপনি। সেই ক্ষমতা দিলাম। ঠিক আছে ? শুধু শত্রুপক্ষ যেন টের না পায়, ওদের উপর নজর রাখা হচ্ছে। ক্লিয়ার ?’
পুরো সময়টা সবাই বেডরুমে ঘাপটি মেরে বসে দরদর করে ঘামছিল।
কারণ মানিক সব জানলা বন্ধ করে রেখেছে। পর্দাও ফেলে রেখেছিল।
এমন ভাবে দাঁড়িয়ে ছিল যাতে একই সাথে বাড়ির ভেতরের সবাইকে চোখে রাখতে পারে আবার জানালা দিয়ে অচেনা অতিথির উপরেও নজর রাখতে পারে।
আব্দুল হাই চলে যেতেই মানিক বলল, ‘এবার সব জানলা খুলে দাও। আর আমার কথা শোনো সবাই। বিশেষ করে নতুন লাভার পোলাপান। ওস্তাদ এবং শিশির বাবু মুক্তিপণের টাকা নিয়ে ফিরে আসা পর্যন্ত কাউকে বাড়ি ছেড়ে বের হতে দেব না আমি। তারপর তোমরা গিয়ে বিয়ে করো বা লিভিং টুগেদার করো যার যেমন মর্জি । সারা জীবন তোমাদের মতো পুঙটা বাচ্চা কাঁচা সামাল দিয়েছি আমি। বিশ্বাস না করলে চালাকি করে দেখো। সোজা গুলি চালিয়ে দেব।’
পোকা চোখ দিয়ে যেন গিলে ফেলছিল মানিক ।
কিন্তু সাহসে কুলাচ্ছিল না কিছু করার জন্য। খানিক আগেই মানিক হাতের জাদু দেখেছে। ভেলকি একেই বলে।
‘আপনি একটা আস্ত জাম্ব সাইজের বেকুব মানিক দা।’ টিটকারি দেওয়ার ভঙ্গিতে বলল পোকা। সেই সাথে গা জ্বালানো একটা হাসি দিয়েই যাচ্ছে অকাতরে। ‘এই মুহূর্তে ঘটনা থেকে বের হয়ে গেলে আমরা সবাই বেঁচে যাব। মুক্তিপণ নিলেই আইনের চোখে ফেঁসে যাব সবাই ।’
‘কেউ ফাঁসবে না।’ শান্ত গলায় বলল মানিক । ‘সব ঠিক হয়ে যাবে। এখন এই মুহূর্ত থেকে তুমি আর রুইতন চাকরদের কোয়ার্টারে গিয়ে থাকবে। বাড়ির পনের গজের মধ্যে তোমাদের পোকা ভাই বোনদের দেখলে আমি গুলি করব। আর সাবিহা তুমি সারাক্ষণ মেঘা দিদির সাথে থাকবে। বাইরে গেলেই... না জানে মারব না। গুলি করে ল্যাংড়া করে দেব।’
‘এখানে ঝামেলা শেষ হোক মানিক দা।’ ঠোঁট বাঁকা করে হাসল পোকা । ‘সময়মতো সব উশুল করে ফেলব। পোকা কারও পাওনা বাকি রাখে না।’
গুলির শব্দে পুরো রুমটা কেঁপে উঠল ।
এক ঝলক আগুন দেখা গেল মানিক পিস্তলের নলে।
চিৎকার করে উঠল সাবিহা।
লাফ দিয়ে পিছন চলে গেল পোকা। হাত দিল কানে । রক্ত গড়িয়ে নামছে। ঘাড় পর্যন্ত ভিজে গেছে গরম রক্তে। রক্তমাখা আঙুলের দিকে বোকার মতো চেয়ে রইল পোকা ।
অটল একটা ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে মানিক । পিস্তলের নল দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে। বারুদের ঘ্রাণ।
‘পরেরবার কানের লতি না । পুরো মাথা উড়িয়ে দেব পোকা। এবারই করতাম। কিন্তু দেওয়ালটা নতুন করে রং করাতে হবে। রংমিস্ত্রি খরচ অনেক বেশি। সেটা আবার ওস্তাদ হয়তো আমার পকেট থেকে কেটে রাখবে । যাও বের হও বাড়ি থেকে ৷’
শান্ত গলায় বলল মানিক ।
প্রায় দৌড়ে বেরিয়ে গেল পোকা। ময়লা একটা রুমাল চেপে রেখেছে কানের লতিতে।
ওই দিকে গুলির শব্দে পিচ্চি কান্না শুরু করেছে। মেঘা দৌড়ে গিয়ে বাচ্চা কোলে নিল । জানালা দিয়ে মানিক দেখল, পোকা ভাইবোন হনহন করে হেঁটে চাকরদের কোয়াটারের দিকে যাচ্ছে।
মেঘার দিকে ফিরে তাকাল মানিক ।
নরম গলায় বলল, ‘সাবিহার দিকে খেয়াল রাখবেন দিদি৷ মেয়েটা ভুলে ও যেন বাইরে যেতে না পারে। আরও দুই দিন আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। মুক্তিপণ হাতে না আসা পর্যন্ত। পোকা আর রুইতন খুবই খারাপ চিজ। আমার কথা শুনলে আপনি আর খোকা নিরাপদে থাকবেন। ভেবে দেখুন আপনি আমার সাইডে থাকবেন না পোকা গ্রুপের সাইডে ?’
এতগুলি জানোয়ারের মধ্যে মানিক আচরণই ভদ্রলোকের মত মনে হয়েছে মেঘার। সেই প্রথম থেকেই।
‘আমি আপনার পাশে আছি মানিক দা।’ মেঘা বলল।
পিস্তলটা সরিয়ে নিয়ে স্বস্তির হাসি হাসল মানিক । পিচ্চি তখনও কাঁদছে।
‘খোকাকে আমার কোলে দিন তো ।’ হাত বাড়াল মানিক । ‘আমি বাচ্চা খুব পছন্দ করি।’
মেঘার মন সায় দিচ্ছে না৷ তারপরও কী মনে করে পিচ্চিকে তুলে দিল মানিক হাতে।
ভয়ঙ্কর অপরাধী মানিক আর দেবশিশুর মত পিচ্চি একে অপরের দিকে চেয়ে রইল খানিকটা সময়। মানিক গাল ফুলিয়ে চোখ গোল্লা গোল্লা করে খানিক বিনোদন দেওয়ার চেষ্টা করল পিচ্চিকে।
পিচ্চি খানিকটা সময় নিয়ে ব্যাপারটা বিবেচনা করল । শেষে দাঁতবিহীন মাড়ির বের করে হাসতে লাগল । সেই সাথে মানিক কোলে প্রসাব করে দিল খানিকটা।
‘তাহলে আপনি, আমি আর খোকা এক দলে। ঠিক আছে ?’পিচ্চিকে মেঘার কোলে ফিরিয়ে দিতে দিতে বলল মানিক । ‘আমি সারা রাত বারান্দায় বসে পাহারা দেবো । সাবিহা আপনার সাথে থাকবে । কোনও ট্যাঁ ফোঁ করলে আমাকে ডাকবেন। থাপ্পড় মেরে দাঁত ফেলে দেব।’

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন