সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নিরাপদ কামরা ৫

 নিরাপদ কামরা সত্যিই দুর্দান্ত একটা বই। এসব বই পড়লে আফসোস হয়। কারণ মিলনদার লেখার সাথে তুলনা করে অনেক ক্ষেত্রেই কোয়ালিটির অভাব বোধ করি।

এই যে গল্পের শুরুতে দালাল চরিত্রটার বর্ণনা আর ওর সংলাপগুলো পড়লে মুগ্ধ হয়ে যেতে হয়।
আছে লেখকের অসাধারণ সুন্দর সব উপমা। বাগানের বেড়ার মত লিফটের কেচিগেট, আনারের মত লাল আঙুরের মদ এমন অনেক কিছু।
শুধু এটাতেই না মিলনদার উপমার সৌন্দর্য পাওয়া যাবে আরও অনেক লেখাতেই।
সংলাপ পড়লে বই পড়ার অনুভূতি থেকেই বেশি কিছু পাই। মনে হয় আমার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছে রক্ত মাংসের মানুষ। এখন অনেকে আপত্তি তুলতে পারে আবাল, চুদির ভাই, খানকির পোলা এসব স্ল্যাং নিয়ে। কিন্তু আমার আপত্তি নেই। কারণ চোর ছ্যাঁচড় পাবলিক কখনও সাধু ভাষায় কথা বলবে না।
কাউলা হেনরি, স্পাইডারম্যান রাউল, পোড়া জুনিয়র এদের সংলাপ এই বইয়ের অনেক বড় সম্পদ।
শেষের লাইনটাও অসাধারণ।
বেশি কিছু বলব না আর, শেষ আরেকটা কথা বলব, অনেকদিন বই পড়ে এমন মজা পাই না।
এই কাহিনির উপর ভিত্তি করে একটা মুভিও নির্মিত হয়েছে। নাম প্যানিক রুম। যেখানে ডিভোর্সি মায়ের ভূমিকায় জোডি ফস্টার, ওর মেয়ের ভূমিকায় টোয়াইলাইট খ্যাত ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট আর কাউলা হেনরি হিসেবে ফরেস্ট হুইটেকার অভিনয় করেছে ।


( আলোচক- Tanvir Moushum)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...