সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নক্ষত্রেরা মরে গেলে চুমকি হয়ে যায় ১৭

 ১৭

 

 

নিশাচর হয়ে গেলাম ।

 

আমি ,বিপিন আর কবি।

 যদিও কবির শিষ্য আর চ্যালা চামুন্ডারা বেড়েছে অনেক গুণ।

 

 গুড়ের উপর যেমন ভাবে পিঁপড়ে আর মাছি বসে তেমনি ।

 

যখনই কবিকে পাই তখনই দেখি কোন চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছে। চায়ের বিল কারা দেয় কে জানে?

 

 আমাদের দেখলেও আজকাল উঠতে চায় না কবি।

 

 আমি আর বিপিন খানিক দূরে দাঁড়িয়ে থাকি। কবি তার শ্রোতাদের ছন্দ মাত্রা আর কবিতার নানা উপমা বুঝিয়ে দেয় , যা কিছুই আমার মাথায় ঢোকে না ।

 

সাহিত্য ব্যাপারটা আমার মাথায় ঢোকে না।

 

 আমাদের কবি হয়তো ততটা বদলে যায় নি। নতুন ভক্তদের প্রশ্নের জবাব দেন। বই পড়তে উৎসাহ দেন । পাঠচক্র কিসিমের একটা কিছু বানিয়েছেন   উনারা ।

 

সবাই ফুটপাত থেকে বই কিনে। পড়া শেষ হলে নিজেদের মধ্যে বদলা বদলি করে।

 

আড্ডা শেষ হলে রাত নয়টার দিকে হাঁটতে বের হতাম আমরা তিনজন ।

 

 আহা !

 

 তখনো কত নিষ্পাপ ছিল আমার এই শহরটা ।

 

এই নগরে বাতাস বয়ে যেত শীতলক্ষ্যার ওখান থেকে। সাঁই সাঁই করে।  ঘোষদের বাড়ির পিতলের থালার মত মস্ত চাঁদ ঝুলে থাকতো আকাশে। পুরানো চাঁদ।সামান্য  মরচে ধরেছে ওটার গায়ে।

 

ভরা তরল চাঁদের আলোতে রহস্যময় লাগে কড়ই গাছের ফুল গুলো ।

 

অচেনা গাছের শুকনো বাকলগুলো দারুচিনির মত খসে পড়ে।

 

 আমরা পাগলের মত হাঁটতাম নির্জন সড়ক ধরে।

 

 ভাগ্য ভাল তখন রাস্তাঘাট ভর্তি হয়ে যায়নি ধান্দাবাজ পুলিশে।

 কেউ বিরক্ত করতো না ।

 

এই শহরে সবাই সবাইকে চিনত । কাজেই তস্করের পাল্লায় পড়ার ভয় ছিল না।

 

আমরা আবিষ্কার করলাম, রাত হচ্ছে একটা সুন্দরী মেয়ের মত।

 

 সবাই জানতে পারে না। কেউ কেউ এর সৌন্দর্য আবিস্কার করে ফেলে

কাকতালীয় ভাবে।

 

 হাঁটতে হাঁটতে কবি ভরাট গলা আবৃত্তি করেন তার কোন প্রিয় কবিতা। বেশিভাগ সময় অল্প কিছু কবিতা ঘুরে ফিরে আবৃত্তি করতেন ।

 

 

আমরা তিনজন খুব বিখ্যাত হয়ে গিয়েছিলাম রাতে হেঁটে হেঁটে।

 

 রাত নয়টার সময় সব মার্কেট বন্ধ হয়ে যেত।

 

 টিভিতে হানিফ সংকেতের ইত্যাদি বা ম্যাকগাইভার হলে আরো আগে বন্ধ হতো ।

 

মাঝে হুমায়ূন আহমেদের কোথাও কেউ নেই নাটক চলছিল। তখনও বেশ কাণ্ড হলো। পাড়ার চায়ের দোকানে, হাওয়া মে উড়তা যায়ে গানটা অনেকদিন ধরে বাজলো।

 

আমার চেয়ে সামান্য একটু বড় যারা তারা দলে দলে ব্যান্ডের দল খোলা শুরু করলো।

 

ব্যাপারটা প্রায় মহামারীর মত ।

 

তিন থেকে সাতজন হলেই হল। কারও বাড়ির ছাদ বা ফাঁকা মত কোন কামরা পেলেই গীটার , ড্রাম,

 কী- বোর্ড নিয়ে ধুম ধাম করে বাজানো শুরু করে।

বেশির ভাগ দলের নাম ইংরেজিতে। আইস এইজ। লাভার বয়। ব্ল্যাক স্করপিয়ন। রক অ্যান্ড মেটাল। ডার্ক সাইড। রেড মুন।

 

মোদ্দা কথা যার যেমন খুশি।

নিজেরাই গান লেখে সুর দেয়। স্বপ্ন দেখে একদিন নিজেদের অ্যালবাম বের করবে।

 

খুব ফেমাস হয়ে যাবে।

 

শহিদ জিয়া হলে কয়েক মাস পর পর ব্যান্ড শো হত।

 

অখ্যাত সব দল এসে শহর মাতিয়ে যেত। সারা শহরের সব তরুণ উপছে পড়ে সেখানে। কখনও কখনও বিচ্ছিরি মারামারি হয়ে যায়।

 

ক্যাসেটের দোকানে বিনাকা ঝংকার গীতমালার সাথে পাল্লা দিয়ে বিক্রি হয় ব্যান্ডের এ্যালবাম।

 

বেশির ভাগ ফালতু অ্যালবাম হলেও অদ্ভুত রকমের মোটা একটা গলা শুনতে পেলাম।

 

 বিশেষ করে বউ বাজারের ওখান দিয়ে রাতের বেলা যখন ফিরতাম অবাক হয়ে যেতাম সেই লোকটার গান শুনে।

 

কেমন বিবাগী হয়ে যেত মন।

খোঁজ নিলাম।

লোকটার নাম আইয়ুব বাচ্চু।

আরও বছর দুয়েকের পর উনার 'কষ্ট' নামের একটা অ্যালবাম ফাটিয়ে বিক্রি হবে !

 

 

 

শীতের শুরুতে জণ্ডিস হল আমার।

 

তখন বেশ অনিয়ম করতাম  ।

 

ভাত খেয়েই দুপুর বেলা এ স্যারের কাছে পড়তে যেতাম। ইংরেজি।

 

শেষ করে সোজা চলে যেতাম ডিআইটি মার্কেটে । টাইপ শেখার জন্য। কলেজ থেকে বাধ্যতামূলক ভাবে টাইপ আর শর্টহ্যান্ড দুই বিষয় নিতে হবে। শিখতে হবে উনাদের প্রিয় এক প্রতিষ্ঠান থেকে।

  

 এই যুগে শর্ট হ্যান্ড শিখে  হবে কী   কে জানে?

 

বদলে যদি মোটর মেকানিকের কাজ শেখাত কাজে দিত।

 

 দুনিয়ায় সাবজেক্টের তো অভাব নেই।

 

টাইপ শেখার জায়গায় টিনের এক ড্রামে জল রাখত। অতীতে ওটা মোবিলের ড্রাম ছিল। সাথে টিনের একটা মগ লোহার চেইন দিয়ে বাঁধা।

 

তখনও প্ল্যাসটিকের জলের বোতল চালু হয়নি।

 

এক মুভিস্টার জলের বোতল নিয়ে আমাদের শহরে এসেছিল। সবাই বলেছে- ঢং দেখে বাঁচি না।

 

সেই দুপুরে ভাত খেয়ে বের হতাম ।

 

ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা। তেষ্টা পেত। সন্দেহ নেই ড্রামের জল ছিল জীবাণুর হ্যাচারি।

 

এক সন্ধ্যায় মা যখন বাদামী রঙের চা দিল , চায়ের মধ্যে ফুলকপির ঘ্রাণ পেলাম।

 

আরও অনেকবার দেখেছি । বড় কোন অসুখ হবার আগে খাবারে আজগুবি সব ঘ্রাণ পাই । তখনও বাজারে ফুলকপি আসতে অনেক দেরি কিন্তু ফুলকপি ফ্লেভার চা খেয়ে বুঝলাম - সামনে বিপদ ।

 

সে রাতে বমি হল।

তরল পিত্তরস বেরিয়ে এলো গলা দিয়ে ।

 পাশের কামরা থেকে দৌড়ে চলে এলো মা।

 

আহা মা।

 

তারপর তো ইতিহাস !

 

দিনরাত বিছানায় শুয়ে থাকি। খানিক পর পর ডাবের জল আখের রস আর গুড়ের শরবৎ গিলি।

 

আর কিছু খেতে পারি না।

শুয়ে শুয়ে রাজ্যের বই পড়ি।

 

মাঝে মাঝে সব বই শেষ হয়ে যায়। আলমারির ভেতর থেকে খুঁজে খুঁজে  বহু কাল আগে পড়া পুরানো বই আবার পড়া শুরু করি। পড়া বই আবার পড়তে গেলে  কী   যে ভাল লাগে।

 কাহিনি তো জানিই । তারপরও অমন লাগে কেন?

 

অবস্থা অমন হল- বিছানা থেকে উঠার সময় মনে হত তলপেটে চাকু দিয়ে ঘাই দিচ্ছে কেউ।

দেয়াল ধরে ধরে বাচ্চাদের মত বাথরুমে যাই।

 

শুয়ে শুয়ে কত আবোল তাবোল ভাবি !

 

আগামাথা নেই কোন।

 

অবাক হই। কবি , বিপিন বা আমার কোন বন্ধু দীর্ঘ দুই মাসেও আমার কোন খোঁজ নেয়নি কেন?

 

এমন না যে ওরা বাড়ি চেনে না। বা আগে কখনই আসেনি ।

 

কেন যেন মনে হল - পৃথিবীতে পরিবার ছাড়া আসলে কেউ আপন হয় না।

 

কেউ না।

 

আমার শরীর খুব দুর্বল হয়ে গেছে। মনে হত অমন ভুগতে ভুগতে আমি হয়তো মারা যাব।

আর কখনই ভাল হব না আমি।

 

মা অদ্ভুত রকমের একটা রেসিপি চালু করলো।

 

মুরগির মাংস আর কাঁচা পেপে।

 

মশলা বলতে আদা , জিরা , রসুন আর লবণ। আর কিচ্ছু না।

 

সাদা কেমন ফ্যাকাসে  দেখতে। কিন্তু অপূর্ব স্বাদ।

 

থালার পর থালা ভাত খেয়ে ফেলতাম ।

 

আজও মনে পড়ে !

সে বছর ঈশ্বর আমাকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেছিলেন, কারণ জন্ডিস থেকে ভালো হয়ে আবার জন্ডিসে পড়লাম।

 

মা কত্থেেকে খবর নিলেন, রেণুর ঠাকুরমা নাকি জন্ডিসের ভালো টোটকা জানে !

 

ঠাকুমাকে দেখেছি বেশ কয়েকবার। সাদা শাড়ি পরেন সব সময় । কপালে চন্দন কেমন একটা ফোঁটা । কী একটা ফলের দানা দিয়ে মালা গেঁথে বাহুতে বেঁধে রাখেন।

 রুদ্রাক্ষের মালা হয়তো ।

 

কী   সব মসলা দিয়ে যেন সারাক্ষণ পান চিবোয় ঠাকুর মা। মিষ্টি একটা চনমনে সৌরভ আসে।

 

এখন  রেণুদের  বাড়িতে যেতে হবে আমাকে?  টোটকার জন্য?

 

 হায় হায়।

 

আমি বরং সাতটা তাল গাছের সমান পদ্মদীঘিতে ডুব দিয়ে রূপার কৌটা খুলে ভোমর বের করে কৌটাটা বাজারে বিক্রি করে ফেলতে পারব। আর ভোমরকে ছেড়ে দিয়ে বলতে পারব- ভোমর কইও গিয়া। গো ভোমর গো ...

 

 আমি চিচি করে দুর্বল গলায় বলি - না মা আমার শরীর এমনিতেই ভালো হয়ে গেছে। কাল পরশু ঠিক হয়ে যাব।'

 

 কাল পরশু আর ঠিক হয় না।

 মায়ের চিল্লাচিল্লিতে অস্থির হয়ে শেষে এক ভোরে গেলাম ওই বাড়িতে।

 

ঠাকুরমা সকাল সাড়ে সাতটার পর টোটকা দেয় না।

 

 আমি সাতটার দিকে গিয়ে হাজির হলাম । খালি পায়ে যেতে হবে ।ঠাকুমার নিয়ম।

 

 আমি সেন্ডেল পরে গেছি । স্যান্ডেল বাড়ির বাইরে রেখে খালি পায়ে ঢুকেছি বাড়ির ভেতরে।

 

 শীত আসতে সামান্য বাকি।  হালকা কুয়াশা পড়েছে তারপর ও ।

 ভেজা নরম ঘাসের উপর শিশির জমে আছে। সকালের ফিকে কমলা আলোতে শিশিরগুলো  মূল্যবান রত্নের মত লাগে।

 

 রেণুদের বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই আমার হাত পা কাঁপতে লাগলো।

 

 চরম একটা সত্য আবিস্কার করলাম।

 

 রেণুর কাছে এক গাদা চিঠি গেছে মিল্লাত ভাইয়ের নামে। কিন্তু হাতের লেখা আমার ।

 

 ওহ কী  বোকা আমি ।

 

 রেণু হয়তো একটা চিঠিও খুলে দেখেনি । হয়তো সব চিঠি পড়েছে। হয়তো পড়ে চিঠি গুলো ছিড়ে ফেলেছে। কিন্তু যদি সব ওর কাছে থাকে? যদি কোনো ভাবে বুঝে ফেলে...?

 

' তোমার শরীর বুঝি খুব খারাপ?'  বাগানের ভেতর থেকে বের হয়ে এলেন ঠাকুরমা । উনার পা  খালি। ঘুম থেকে উঠেই বোধ হয় প্রথম মুখে  পান গুঁজে দিয়েছেন । হাতে একগাদা লতাগুল্ম । কচি আমের পাতা আর টাকা পাতা চিনতে পারলাম । বাদবাকি আর সব অচেনা ।

 

বাগানের শেষমাথায় টিউবওয়েল আছে। সিমেন্টে বাঁধানো। কাঠের দুটো পিড়িও দেখলাম, আমাদের জন্য রাখা। ঠাকুরমা সেই লতাগুল্মের মধ্যে এক চিমটি চুন দিয়ে ভাল করে মাখিয়ে আমার হাতে দিয়ে বললেন, সেগুলো যেন দুই হাতের তালুর মধ্যে রেখে ভাল করে দড়ি পাকানোর মত করে পাকাই।

 

শুরু করলাম কাজ।

 

 মুহুর্ত কয়েক পরেই আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে হলুদ তরল টস টস করে গড়িয়ে পড়তে লাগল।

 

' এইতো।' চিলের মতো চিৎকার করে উঠলেন ঠাকুরমা। ' শরীরের সব হলুদ বের হয়ে আসছে । দেখেছ অবস্থা?'

 

' এ সব শরীরের ভেতরের হলুদ না।'  বিরক্ত হয়ে বললাম। ' গাছগাছালি র কষ আর চুন মিলে এমনটা হয়েছে।'

 

' চুপ থাকো মুখ পোড়া ।' খেকিয়ে উঠলেন ঠাকুরমা। ' চেহারা তো পুরো হনুমানের মত বানিয়েছ । আবার কথা বলে জাম্বুবানের মত । গাছপালার ক্ষমতা যদি বুঝতে তবে তো হয়েছিল। আজ ত্রিশ বছর ধরে জণ্ডিসের টোটকা দিয়ে যাচ্ছি। আর আমাকে বলে কিনা...'

 

টোটকায় কাজ হয়? না আপনার কাছে যারা আসে সবাই মারা যায়?' মুচকি হেসে জানতে চাইলাম।

 

' তুমি একটা অলম্বুষ। অলম্বুষ চেন? বড় মাপের জম্বুবান । আয়নায় চেহারা দেখছ? বাসায় আয়না আছে না বিক্রি করে দিয়েছ? '

 

 

আমার চেহারা নিয়ে অত কথা বলছেন কেন উনি ?  

 

কানু নাতিপ সব সময় চুল কাটা শেষ হলে আমাকে বলে , অনেক আগে

অমিতাভ রেখার একটা মুভিতে নাকি আমার মত দেখতে একজন সাইড নায়ক ছিল ।

 

সাইড নায়ক?

 

মানুষ এই ভাবেও অপদস্ত করতে পারে?

 

প্রায় পনের মিনিট দুই হাতের তালুতে সেইসব লতাপাতা জড়িবুটি নিয়ে কচলে দিলাম।

 

শেষে টিউবওয়েলের জল দিয়ে হাত মুখ ধুয়ে পরিষ্কার হয়ে নিলাম ।

 

 বারান্দায় বসার আদেশ দিলেন ঠাকুর মা।

 

ভেতরে চলে গেলেন। যাবার আগে তর্জনী তুলে শাসিয়ে গেলেন - ফিরে এসে যেন দেখেন আমি ওখানেই বসে আছি।

 

বসে রইলাম । একা । প্রাচীন বাতিঘরের মত একা।

 

 ধনেশ পাখির মত গলা উঁচু করে চারিদিকটা দেখছি।  কী  সুন্দর বাড়ি। সূর্যমুখীর বাগানের কোনে লাল টালির একটা ঘর আছে। দেয়ালগুলো দক্ষিণ সাগরের মত নীল । চারিদিকে পোস্টআপিসের খামের মত  হলুদ বাদামী কাঁঠাল পাতা খসে পড়ে আছে।

 

 পরে জেনেছি ওটা আড্ডাঘর ।

 

ছুটির দিনে রেণুর বাবা ওখানে বসে আড্ডা দেয়। তাস পাশা খেলে।

 

তখনই দেখলাম।

 

 বেশ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম ।

 

এই রে । রেণুর বড়দি !

  

কিন্তু রেণুর তো কোন বড়দি নেই।

 

 রেণুর কোন ভাইবোন নেই। রাজকুমারীদের মত ও  একা।

 

 পরমুহূর্তে  বুঝতে পারলাম ওটা আসলে রেণু নিজেই ।  কিন্তু শাড়ি পরেছে !  সাদা শাড়ি । লাল পাড় ।

 চুলগুলো সব খোলা। ওকে কখনই খোলা চুলে দেখিনি ।

  হাতে বেতের একটা ঝুড়ি।

 

ওটা ভর্তি নানান ধরনের ফুল । কী   ফুল বলতে পারব না ।

 

তবে ঝুড়িভর্তি ফুলের চেয়ে রেণু বেশি সুন্দর। এটা বলতে পারি ।

 

চোখে চোখ পড়তেই অবাক হয়ে চেয়ে রইল কিছুক্ষণ।

 

ওর চোখ মাছের মত। কবি লেখকরা মীনাক্ষী বলে না?

অনেক বেকুব বলে মাছের চোখের মত চোখ কে মীনাক্ষী বলে। ভুল। মাছের চোখ তো গোল্লা গোল্লা। বিচ্ছিরি। মীনাক্ষী মানে মাছের মত চোখ। দুই দিক সরু । মাঝে বড় ।

 

 এই প্রথম আমাকে দেখে হাসল না রেণু ।

কেমন বিষাদ মাখা গলায় বলল , ' তুমি অনেক রোগা হয়ে গেছ। অনিয়ম কর না।'

 

মনটা কেমন হয়ে গেল আমার।

 

কেমন যেন বাউ কুড়ানি বাতাসে ভেসে গেলাম । মনে হল ইনকাদের হারিয়ে যাওয়া সব সোনা পেয়ে গেছি আমি। প্রাচীন আলকেমিষ্টরা তাদের সব গুপ্ত বিদ্যা আমাকে শিখিয়ে দিয়েছে। ক্যালিফোনিয়ার বালির তলায় হারিয়ে যাওয়া মরমনের হারানো নদী খুঁজে পেয়েছি আমি। যে নদীর জল পান করলে রোগ ব্যাধি আর স্পর্শ করে না কাউকে।

 

 বৃহস্পতি গ্রহে সারাক্ষণ যেমন হীরার বৃষ্টি হয় তেমন বৃষ্টি হচ্ছে আমার উপর।

 

হয়তো আরও কিছু বলতো রেণু । নিশ্চয়ই বলতো।

 

কিন্তু ততক্ষণে ঠাকুর মা চলে এসেছেন।

 

হাতে পেতলের থালায় একটা কলার আট ভাগের দুই ভাগ। আর দুটো বাতাসা। সাথে এক গ্লাস সবুজ তরল। পরে জেনেছি ওটা অড়হরের পাতার রস।

 

এইসব হাবিজাবিও উনার চিকিৎসার মধ্যে পড়ে।

 

অড়হরের পাতার রস মুখে দিতেই শরীরটা কেমন গুলিয়ে উঠলো।

 

প্রায় মরতে মরতে দেখলাম কটমট করে আমার দিকে চেয়ে আছে ঠাকুরমা আর নাতনী।

 

 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...