সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

প্রতারক স্মৃতি

 ১৯৬০ এর  দশকে একটা মজার সিনড্রোম কাজ করেছিল অনেকের মধ্যে । বেশ কিছু লোক দাবী করছিল গভীর রাতে নির্জন পথ দিয়ে ফেরার সময় উড়ন্ত সসার দেখেছে । সেখান থেকে নীল বা সবুজ রঙ্গের দুইজন মানুষ  এসে  তাকে ধরে নিয়ে গেছে সসারের ভেতরে । নানা জায়গায় ঘুড়িয়ে ফিরিয়ে শেষে ফেরত দিয়ে গেছে ।

এই রকম রিপোর্ট  ডজন ডজন আছে ।

সবচেয়ে বিখ্যাত ঘটনাটা হচ্ছে জর্জ অ্যাডামসকি সাহেবের ।

জর্জ অ্যাডামসকি সাহেব  ছয় ইঞ্চি একটা দূরবীন নিয়ে   রাত  জেগে বাসার ছাদের উপর বসে  আকাশের তারা দেখতেন । এটাই ছিল তার বাতিক । গরম , বর্ষা, শীত কিছুই মানতেন না। এইরকম এক রাতে তিনি আকাশে সিগারের আকৃতি  একটা ভিন গ্রহের যান দেখতে পায় । সেটা ছিল  ১৯৪৬ সালের ঘটনা ।

এর পর ১৯৫২ সালের ২০ নভেম্বর ক্যালিফোনিয়ার মরুভূমির ওখানে  তার চোখের সামনে ল্যান্ড করে একটা  স্বচ্ছ ধাতুর তৈরি বিচিত্র একটা  সসার । ভেতর থেকে নেমে আসে  শুক্র গ্রহের বাসিন্দা । যাদের বলা হয়  ভেনাসিয়ান ।  ভেনাসিয়ান শব্দটা আবার  জনপ্রিয় করেছিলেন টারজান সিরিজের লেখক  এডগার রাইস বারোজ । উনি বেশ  কল্পকাহিনী লিখেছিলেন এই শুক্র গ্রহের বাসিন্দাদের  নিয়ে । এমন কি ভেনাসিয়ান বর্ণমালা পর্যন্ত লিখেছিলেন । অবশ্যই মজা করে ।

তো সেই স্বচ্ছ ধাতুর তৈরি সসার  ভেনাসিয়ান বাসিন্দারা নেমে এসে   অ্যাডামসকি সাহেবকে নিয়ে যায় ভেতরে । সসারের ভেতরে দলের সর্দার ছিল । যাকে গুরু বলে সম্বোধন করেছিলেন অ্যাডামসকি  । গুরুর বয়স  এক হাজার বছর ।  উনারা নাকি সব সময় পৃথিবীতে এসে আমাদের দেখে যেতেন ।

  সেই  ভেনাসিয়ানরা   উনাকে শুক্র গ্রহ  ঘুরিয়ে নিয়ে আসে।

ফিরে এসে  সেই ঘটনার  দারুন বর্ণনা দিয়ে বই লিখে ফেলেন অ্যাডামসকি । দ্যা ফ্লাইং সসার হ্যাভ ল্যানডেড , ইনসাইড দ্যা স্পেসশিপ ।

আরও কয়েকটা লিখেছেন । তবে এই দুটো বেশি বিক্রি হয়েছে ।

অর্থ, বিত্ত ,  জনপ্রিয়তা সবই পেয়েছিলেন অ্যাডামসকি  ।

তবে  উনার তোলা উড়ন্ত সসারের ছবিটা   দেখে  জার্মান বিজ্ঞানী ওয়ালথার ইয়োহানেস রিডেল বলেন যে এই ছবিটি একটি সার্জিক্যাল ল্যাম্প ব্যবহার করে  কায়দা করে তোলা হয়েছে ।

যাই হোক , সেই সময়ে প্রচুর লোকজন অমন দাবী করতো ।

পরে ক্যামেরা আর ভিডিও প্রযুক্তি সহজলভ্য হবার পর এই ধরণের দাবীর পরিমাণ    কমে  গেছে ।  

প্রমাণ হিসাবে ফ্লাইং সসারের ছবি দেখাতে হবে আর জাল ছবি ধরাও সোজা ।

যাকগে অনেক জ্ঞান   ঝাড়লাম ।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...