সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

চৈতালি হাওয়ায় বিষ ১৪

 চৌদ্দ

 

 

বাইরে বসে ছিল  রুইতন

 

 ধপাস করে পাশে গিয়ে বসলো পোকা আঙুল দিয়ে   মাথার ভেজা চুল ঠিক করছে

 

বোন   জব্বর একটা খবর দিতে পারি তোকে  ষড়যন্ত্র করছে  মুখে ভাব ভঙ্গি অমন করে  নিচু গলায় বলল পোকা  আমাদের জিম্মি   সাবিহা  বেগম আমার প্রেমে পড়েছে  আর আমরা দু জন বিয়ে করতে যাচ্ছি

 

  কী  বললি তুই ?  দম আটকে গেল রুইতনের  কিছুই  বুঝতে পারছি না তোর কথা

 

 আরে রিলাক্স    ফুর্তিবাজের   মতো ভাব করে বলল পোকা  আমার লটারি লেগে গেছে রে একদম সিনেমার মত  জানিস মেয়েটা কে ? খানিক আগে ওঁর মুখেই শুনলাম  তৈমুর আলম  খন্দকারের একমাত্র মেয়ে বাংলাদেশের  সেরা ধনীদের একজন ওর বাবা  তাই তো বলি কেশু   হারামজাদা আর মেয়ে পেল না  কিডন্যাপ করার জন্য যাক বাকি জীবন ঘরজামাই হয়ে থাকতে পারব  নো চিন্তা একদম  পুরানো দিনের হিন্দি সিনেমার মত কপাল আমার

 

 আরে  গাধা  তোর মাথা খারাপ হয়ে গেছে নাকি? চেঁচিয়ে উঠল রুইতন  

কোটিপতি  খন্দকার তোর মতো দুই পয়সার   এক গুণ্ডার  কাছে নিজের মেয়ের বিয়ে দেবে ?  আরে ছাগল মেয়েটা তোর সাথে প্রেমের অভিনয় করছে   বাপের সামনে দাঁড়িয়ে   পলটি  দিয়ে ফেলবে  তখন  বোঝা যাবে ওর আসল চেহারা

 

 

 সাপের মতো লাফ দিয়ে  উঠে দাঁড়াল পোকা দিগ্বিদিক জ্ঞান হারিয়ে  কষে লাথি মারল বোনের পাঁজরে  

 

আর একটা  কথা বললে মেরে তক্তা বানিয়ে ফেলব তোকে  চিবিয়ে চিবিয়ে বলল  পোকা    কেশু   আমাদের দিয়ে কত দিতে চেয়েছে রে ?  মাত্র দশ লাখ  করে আরে  চায়ের পাতা আর চিনি কেনার পয়সাও না এক্ষুনি  আমি আর সাবিহা বের হয়ে যাচ্ছি  মানিক মটকু শূয়রের  বাচ্চাটা  ফেরার আগেই  খন্দকার সাহেবের  হাতে মেয়েকে তুলে দিলেই  ভদ্রলোক কৃতজ্ঞতা নরম হয়ে যাবে পুলিশের ঝামেলা যাবে না আর আমি পাচ্ছি রাজকন্যা সহ অর্ধেক  রাজত্ব হে হে

 

 আমার কী হবে ?  অসহায় ভাবে বলল রুইতন

 

 তুই চলে যাবি তোর মতো  দরাজ  একটা ভঙ্গি করে বলল পোকা   তোকে হাত খরচের পয়সা দেবো মাসে মাসে

 

কিন্তু সেই ছোটবেলা থেকে না  আমরা একসাথে বড় হয়েছি করুণ সুরে বলল রুইতন  ভাল মন্দ সুখ দুখ সব একসাথে শেয়ার করেছি আমরা  অথচ আজ এত বড় সিদ্ধান্ত নিলি আমাকে কিছু না বলেই

 

 আহা, নাটক করিস না তো? পোকা বিরক্ত 

 

 

আমরা কখন যাচ্ছি  পোকা ?  ভেতর থেকে বের হল  সাবিহা  দেখেই বোঝা যায় চলে যাওয়ার জন্য তৈরি সে ব্যাগটা পর্যন্ত হাতে

 

 

কেউ  কিছু বলার আগেই পিছন থেকে মেঘার  নীরস  কণ্ঠ শোনা গেল -মানিক দাদা ফিরে আসছেন

 

 

 মুখ শক্ত হয়ে গেল পোকার এইবার বড্ড  ঝামেলা হবে  সমস্যা নেই  মোটা বাঁটুল  ভূতটাকে সামাল দিতে পারবে সে 

 

 কোমরে হাত দিয়েই  চমকে উঠল

 শিশিরের পিস্তলটা থাকার কথা 

 

 

নেই

 

 

 

**************************************

 

 

কী ব্যাপার? মুখ তুলে বললেন  গাউস চৌধুরী

 

স্যার, লেখক  ভদ্রলোকের নাম ঠিকানা পেয়েছি শিশির রায় উনার নাম  উনার  সব প্রকাশকের  সাথে দেখা করেছি  ঠিকানা  চাইতেই  সবাই না করল  বলল উনি নাকি প্রাইভেসি পছন্দ করে  শেষে বাধ্য হয়ে  এক প্রকাশককে হাল্কা রোলারের  গুতা দিয়ে খবর পেয়েছি উনি এখন নবীগঞ্জে ছুটি কাটাচ্ছে বাড়ির নাম নির্জনবাস   

 

  হব হব করে বলল আব্দুল হাই 

 

আর ?

 

আর স্যার হোটেলে ভুয়া নাম নিয়ে কেশু  উঠেছে  আমাদের একজন  ইনফরমার   দারোয়ান  হিসাবে কাজ করে ওখানে  দুজন লোক লাগিয়ে রেখেছি  পুরানো ফসিলটার  উপর নজর রাখার জন্য

 

 দারুন কাজ  খুশি না হয়ে পারলেন না  গাউস চৌধুরী  তো আরেকটা 

 কাজ করুন নবীগঞ্জ চেনেন তো ?  চলে যান সেখানে  ছদ্মবেশ নিয়ে যাবেন  গিয়ে দরজায় ঘণ্টা বাজিয়ে   জিজ্ঞেস করবেন,  এই বাড়িটা তিন মাসের জন্য ভাড়া নিতে চান- এমন কথা হয়েছে৷ বাড়িওয়ালার সাথে  তাই দেখা করতে এসেছেন বাড়ি খালি কিনা তবে সাবধান  , ওরা যেন টের না পায় , আপনি গোয়েন্দাগিরি করছে এই সুযোগের পুরো বাড়িটা জরিপ চালাবেন পালানোর পথ কোন দিকে বা কোন দিক দিয়ে কৌশলে বাড়ির ভিতরে ঢোকা যায়  ঐসব  সাবধানে কিন্তু

 

 সাথে দুই তিন জন লোক  নিয়ে যাব স্যার ?

 

 কেন?  আপনি কি নবীগঞ্জে পিকনিক করতে যাচ্ছেন না কি?


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...