সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মরণ খেলার খেলনা

 অবৈধ অস্ত্র দুনিয়ার সব দেশেই বানায় ।

ভাল একে ফোরটি সেভেন আসে আফ্রিকার দেশগুলো থেকে । গহীন জঙ্গলের ভেতরে কারাখানা । এক দঙ্গল হাফ নেকেড ছেলে পিলে ঘামে ভিজে লেদ মেশিনের সাহায়্যে তৈরি করে এই সব জিনিস ।
কোল্ট ১৯০০ পিস্তলটা আসে ফিলিপাইনের ডিনাও শহর থেকে ।


প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে ডিনাও শহর নকল পিস্তলের জন্য বিখ্যাত । অনেক পরিবার আছে সবার চোখের সামনে ভদ্র পেশায় জড়িত । কিন্তু আড়ালে অবৈধ পিস্তল বানানোর সাথে জড়িত ।
মোটামুটি বাচ্চা ছেলেপিলে এই পেশায় ঢুকে পড়ে । বিশ্বাস করে হাতের মাপ সহজে শেখা যায় অমন বয়সে ।
গিন্নি বাড়িতে থাকে । বাড়ির কর্তা তার ছেলে পিলে নিয়ে গভীর জঙ্গলের ভেতরে পিস্তল বানানোর ওয়ার্কশপ খুলে ফেলে ।

তেমন দামি যন্ত্রপাতি থাকে না । ভাইস , রেতি , ফাইল , কাটার ঐসব । পিস্তলের প্রতিটা অংশ হাতে বানায় ।
১৯১১ সালে আমেরিকান মিলিটারি ব্যবহার করতো এই পিস্তলটা । তখন থেকেই ডিনাও শহরে এটা বেশ জনপ্রিয় ।

এম ১৯১১ পিস্তলটা বেশ মডিফাই হয়ে আজও আমেরিকান সোলজাররেরা ব্যবহার করছে ।
একটা ওয়ার্কশপে প্রতিদিন বারো ঘণ্টা করে কাজ করে মাসে পাঁচটা পিস্তল বানাতে পারে তিন সদস্যের একটা দল ।


বানানো হলে বেশ বিচ্ছিরি দেখায় । সময় নিয়ে পালিশ করলেই বোঝার উপায় থাকে না এটা নকল পিস্তল । দাম উঠে ১১৫ আমেরিকান ডলার ।
বানানো হয়ে গেলে পিস্তল শিল্পী পাঁচটা গুলি ভরে নিজেই ফায়ার করে । এটা তার দায়িত্ব । পিস্তলে কোন রকম ক্রুটি হলে তার নিজের হাত উড়ে যাবে বা নিজের শরীরে লাগবে ।
কিন্তু ক্রেতা কেনার আগে দেখে নেবে এই পিস্তলে আগে ফায়ার করা হয়েছিল কি না ।
গান শট পরীক্ষার পর পিস্তল ডেলেভারি দেয়ার জন্য তৈরি ।

বাদামী কাগজে মুড়িয়ে ক্যাম্ভিসের ব্যাগে করে পিস্তল শিল্পী যাত্রা করে শহরের পথে। শেখানে ডেলেভারি নিতে লোক আসবে।
পিস্তলশিল্পীর আগে আগে একজন সেই পথে যাবে । দেখবে পুলিশের লোক আছে কি না। বা আচমকা কোন চেকপোস্ট বসানো হয়েছে কি না ।
নার্ভে চাপ পড়া ব্যবসা ।


সন্ধ্যার আগে ডেলিভারিম্যানের কাছে পৌঁছতে হবে , নইলে লোকটা ভেগে যাবে।
চারিদিকে সতর্ক নজর রাখতে হবে। কে পুলিশের গোপন চর জানার উপায় নেই ।
যে লোকটা বাজারে ওদের কাছ থেকে মাল কিনে নেবে সেই আন্তজাতিক চোরাই অস্ত্র ব্যবসার প্রথম লিঙ্ক ।
নিজেদের স্টকহোল্ডার বলে ওরা ।


এরাই পিস্তলের গায়ে ব্র্যান্ড মার্ক আর সিরিয়াল নাম্বার বসিয়ে দিয়ে জিনিসটাকে প্রায়
আসল বানিয়ে ফেলে ।
তখন ওটার দাম হয় ২৩০ আমেরিকান ডলার ।
এর পর জিনিসটা চলে যায় সারা দুনিয়ার অপরাধীদের কাছে ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...