আঠারো
একটু পর হোটেল ছেড়ে চলে যাবে কেশু ।
এখন পর্যন্ত সব ঠিকঠাক আছে।তবে হঠাৎ করেই হেলেনের কথা খুব মনে পড়ছে। ফোন করেনি এই কয়েক দিন। ভয়ে। নিশ্চিত ভাবে জানে বাড়ির ফোন আর হেলেনের মোবাইলে আড়ি পাতা হয়েছে।
চিন্তায় নিশ্চয়ই মরে যাচ্ছে হেলেন। বেচারি জানে না , হঠাৎ করে কোথায় গায়েব হয়ে গেছে ওর স্বামী।
সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল।
প্যারাডাইস ক্লাবে ফোন করল। পরিচিত বারটেন্ডার হাতেম আলী ফোন ধরলো ।
‘আরে স্যার আপনি ?’ অবাক হল হাতেম আলী। ‘এতদিন পর ? কোথায় ছিলেন?’
‘একটু ব্যস্ত আছি।’ হাসি মুখে বলল কেশু। ‘তুমি আমার জন্য একটা কাজ করো ভাই । ভাল বকশিস দেব তোমাকে। আমার গিন্নিকে একটু ফোন কর ওর মোবাইলে। বলো প্যারাডাইস ক্লাবে গিয়ে অপেক্ষা করতে। ঠিক তোমার সামনে যেন বসে থাকে।’
‘কিন্তু আপনি কেন ফোন দিচ্ছেন না স্যার ?’ অবাক হয়ে বলল হাতেম আলী।
‘আমাদের মধ্যে একটু ঝগড়া হয়েছে আর কী । নাম্বার নাও।’
নার্ভাস বোধ করছে কেশু । ওর অবচেতন মন বলছে, গোয়েন্দা লেগেছে পিছনে। একদম ধারে কাছে চলে এসেছে। কী করা যায় ?
শিশিরের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভেগে যাবে ? কেন যেন মনে হচ্ছে নবীগঞ্জে ফিরে গেলে আরও বড় ঝামেলা হবে।
আধ ঘণ্টা পর আবার ফোন করলো ক্লাবে। হাতেম আলীর সামনেই ছিল হেলেন । ফোন ধরলো।
‘কোথায় তুমি?’ হাহাকার ভরা গলা হেলেনের। ‘কী হয়েছে বলতো ? বাড়িতে পুলিশ এসেছিল আর আমাকে ক্লাবে আনলে কেন ? ফোন দিলে না কেন বাসায়?’
বুকের ভেতর চিনচিনে ব্যথাটা আবার অনুভব করল কেশু । ‘শান্ত হও ডার্লিং। আসলে ফোনে নজর রাখা হয়েছে।’
‘কেন? কী করছো তুমি ?’
‘বউ প্লিজ একটা কথা শোন। বাড়ি গিয়ে একটা স্যুটকেসে দরকারি জিনিসপত্র নিয়ে বের হয়ে পড়। তুমি আমি সব ছেড়ে চলে যাবো দূরে কোথাও। পাঁচ কোটি টাকা আছে আমার কাছে । নতুন করে জীবন শুরু করব। রোজ হোটেলে আছি আমি।’
লাইনের ওপাশে নীরবতা।
অনেক সময় পর হেলেন বলল, ‘জানতাম, আবার তুমি পাপের পথে পা বাড়াবে। এত টাকা থাকার পরেও এমন বোকামি কেউ করে ?’
‘আমাকে বোকা বলবে না।’ চিৎকার করে উঠল কেশু। ‘কিছু জানো তুমি। শিবশঙ্কর চাকলাদার আমাদের সব টাকা জুয়া খেলে উড়িয়ে দিয়েছে । এক পয়সাও নেই আমাদের । একদম ফতুর হয়ে গেছি আমরা। চলে এসো তুমি হেলেন।’
আবার অনেকটা সময় চুপ রইলো লাইনের ওপাশটা।
‘তুমি আসছ হেলেন ?’
অনুনয় করল কেশু ।
‘না গো আমি আসব না। আমরা বুড়ো হয়ে গেছি কেশু। এই বয়সে পুলিশের সাথে লুকোচুরি খেলতে পারব না। তুমি বাড়ি ফিরে এসো । আমাদের টাকার দরকার নেই । যা আছে তাই দিয়ে ডাল ভাত খেয়ে সংসার চালিয়ে নেব।
‘গত পনের বছর ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে সুখের সময়। এই নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে কঠিন দুনিয়ায় আর নামতে চাই না। পনের বছর আগে হলে এক কাপড়ে বেরিয়ে পড়তাম। বাসায় চলে এসো কেশু ।’
‘বোকা মেয়ে আমার কথা বুঝে না।’ হাহাকার করে উঠল কেশু । ‘ আমাদের আর কিছু নেই। বাড়িটাও আমাদের নেই। একদম পথে ফকির হওয়ার পর ও বুদ্ধি দিয়ে টাকাটা জোগাড় করেছি।তুমি চলে এসো হেলেন।’
‘আমি আসব না।’ অভিমানী কিশোরী মতো বলল হেলেন। ‘ তোমার অপেক্ষায় রইলাম। দিন আমাদের চলে যাবে খেয়ে না খেয়ে । মন যদি বদলে যায়, তবে সব ফেলে চলে আসবে আমার কাছে । অপেক্ষায় থাকব সারা জীবন।’
লাইন কেটে গেল।
রিসিভার হাতে নিয়ে বোকার মতো। দাঁড়িয়ে রইল কেশু।
বিশ্বাস করতে পারছে না। হেলেন ফোন কেটে দিয়েছে ?
অবিশ্বাস্য !
এই সেই হেলেন যাকে নর্দমা থেকে তুলে এনে বিত্ত , সম্মান আর সামাজিক মর্যাদা দিয়েছিল সে। শিবশঙ্কর আত্মহত্যা করার পর যখন জানতে পেরেছে , পথের ফকির হয়ে গেছে সে, তখনও এতটা খারাপ লাগেনি। আজ এই মুহূর্তে তার চেয়ে বেশি পরাজিত মনে হচ্ছে।
শরীর কাঁপছে কেশুর। হুইস্কির বোতল খুলে গলায় ঢেলে দিল তরল আগুনের মতো পানীয়।
হেলেন, কী করে সে পারল অমনটা করতে। বেচারি কতদিন ওখানে থাকতে পারবে ? বাড়িতে ফুটো একটা পয়সা নেই । কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই৷।
গ্লাসে বরফ আর হুইস্কি মেশাতে সাথে যাবে তখন টেলিফোনটা আবার পিনপিন করে বেজে উঠল ।
কে হতে পারে? শিশির ছাড়া এই ঠিকানা আর কে জানে ?
রিসিভার তুলতেই লাইনের ওপাশ থেকে বিনয়ী গলা শোনা গেল, ‘স্যার আমাদের হোটেলের ১৩৫ নম্বর রুমের গেস্ট মামুন হাসান আপনাকে দেখা করতে বলেছেন।’
কয়েক মিনিটে তৈরি হয়ে নিল অবসরপ্রাপ্ত গড ফাদার । ভাবছে।
শিশিরের কাছ থেকে পাঁচ কোটি টাকা নিয়ে এখান থেকেই চম্পট দিলে কেমন হয়?
খারাপ হয় না ব্যাপারটা।
পাঁচ কোটি অনেক টাকা। বাকি জীবন চলে যাবে। জাল পাসপোর্ট বানিয়ে জামাইকা বা দুবাই চলে যেতে পারবে। পরে গোপনে হেলেনকে নিয়ে যেতে পারবে নিজের কাছে।
আরেকটা ড্রিংক শেষ করে বের হলে কেশু । নিচতলায় ১৩৫ নম্বর রুম।
বাথরুমে হাত মুখ ধুছিল শিশির। দরজা নক হতেই তোয়ালে হাতে ছুটল দরজার কাছে। সামান্য ফাঁক হতেই স্যাত করে ভিতরে ঢুকে পড়ল কেশু ।
’মালপানি এনেছেন ?’ সোজা কাজে কথায় চলে গেল কেশু।
আঙুল তুলে বিছানার উপরে রাখা কাপড়ের ঢাউস ব্যাগটা দেখিয়ে দিল শিশির। ‘পুরো পাঁচ কোটি আছে ওখানে।’
’ব্যাগ খুলুন।’ হুকুম দিল কেশু।
’আপনার টাকা আপনিই খুলে দেখুন।’ কাটাকাটা ভাবে জবাব দিল শিশির। মনমেজাজ খিঁচড়ে আছে ওর।
লম্বা সময় ঠান্ডা চোখে শিশিরের দিকে চেয়ে রইল কেশু । তারপর এগিয়ে গেল বিছানার দিকে। যেখানে টাকা ভর্তি ব্যাগটা রাখা।
ব্যাগটা খুলতে সামান্য সামনে ঝুঁকে এল কেশু। হঠাৎ মনে হল বুকের বাম দিকে গরম লোহার ফলা ঢুকিয়ে দিয়েছে কেউ। ততক্ষণে চেইন খুলে ফেলেছে ব্যাগের । ভিতরে খুব সুন্দর করে সাজানো টাকার বান্ডিল।
কিছু যেন বলতে চাইছিল কেশু । ব্যথা ছড়িয়ে পড়ল সারা মুখে। কোন রকম নোটিশ ছাড়াই উপুড় হয়ে পড়ে গেলে টাকার ব্যাগের উপর। যে টাকার আর কখনওই খরচ করতে পারবে না।
চোখের সামনে প্রাক্তন গডফাদারের অসহায় পরিণতি দেখল শিশির। ওর সামনে মেঝেতে পড়ে আছে বিশাল শরীরটা। তখনও পিচ্চি আর মেঘার কথা ভাবছে ও। কী করবে বুঝতে পারছে না। পরক্ষণে মনে পড়ল গাউস বলেছেন, আশপাশে তার লোকজন থাকবে সবসময় ।
দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে বাইরে তাকাল। কেউ নেই।
তবে করিডরের শেষ মাথায় একটা লোক মেঝের ময়লা পরিষ্কার করছিল লম্বা এক ঝাড়ু দিয়ে। শিশির সাথে চোখাচোখি হতেই লোকটা ভুরু নাচাল।
’একটু ভেতরে আসবেন। সে মারা গেছে । স্ট্রোক।’ বলল শিশির।
এক ঘণ্টার মধ্যে গাউস চৌধুরী তার লোকদের নিয়ে চলে এলেন।
’লাশটা গোপনে সরিয়ে ফেলো।’ নির্দেশ দিলেন তিনি। ‘ কেউ যেন না জানে ডন কেশু মারা গেছে। আর আপনি শিশির সাহেব, এখান থেকে হাফ টাকা নিয়ে চলে যান নবীগঞ্জে। কিডন্যাপারদের হাতে তুলে দিন। বলবেন কেশু হোটেলেই আছে। কিডন্যাপাররা টাকা পেয়ে অসতর্ক হয়ে যাবে বা বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে। তখন আমরা আক্রমণ করব।’
’ওদের কেউ যদি হোটেলে ফোন দেয় ?’ জানতে চাইল শিশির।
’সেই ব্যবস্থাও আছে।’ হাসলেন চৌধুরী । ‘হোটেল মালিক আমাদের পক্ষে কাজ করছে। যেই ফোন করুক , কেশুকে চাইলে জানানো হবে - উনি মাত্র বাইরে গেছেন। ভালো কথা আপনাকে কি কোনও পিস্তল ফিস্তল দেব ?সাথে নেবেন ?’
’না ।’ বলল শিশির। ‘ফিরে যাওয়ার পর সার্চ করবে ওরা। আমি জানি। বিশেষ করে মোটা কালো লোকটা। খুবই প্রফেশনাল সে।’
’গাড়িতে লুকিয়ে রাখেন যদি ?’
’ঝুঁকি নিতে চাই না। স্যার বাকি টাকাগুলোর কী হবে?’
’খন্দকারের অ্যাকাউন্টে জমা দিচ্ছি। আর বাকি পাঁচ কোটি টাকার টাকার যে চেক দেওয়া হয়েছে আলাদা পাঁচ ব্যাংকের নামে, সব ক্যানসেল করা হয়েছে ।’
’আমি তাহলে বাড়ি ফেরার জন্য তৈরি। বলল শিশির।’
***********************************
আবদুল হাইয়ের বেশ ঘুম পাচ্ছিল। ভাবল, বদরুল বা মনোজ কাউকে ঘুম থেকে তুলে পাহারার দায়িত্ব দিয়ে খানিকটা ঘুরিয়ে নেবে কিনা৷।
এমন সময় সাবিহার চিৎকার শুনতে পেল সে।
বাকি দুই অফিসার মনোজ আর বদরুল ও জেগে গেল।
‘বাড়ির ভিতরে নিশ্চয়ই কোনও ভায়লেন্স শুরু হয়েছে।’ বলল আবদুল হাই । ‘ আমি ভিতরে যাচ্ছি।’
‘স্যার আমি যাই।’ বলল মনোজ। এর আগে কিডন্যাপের কেস সামলেছে বেশ কয়েকটা। মনোজ ছোটখাটো মানুষ। বেশ কয়েকটা প্রজেক্টে কাজ করেছে আগে। পিস্তলে হাত ভালো।
প্রায় বানরের মতো দ্রুত ছুটল নির্জনবাসের দিকে।
বদরুল ছুটল ওদের গাড়ির দিকে। গাড়িতে রেডিও আছে। ঢাকায় যোগাযোগ করবে।
ভয়াল সেই চিৎকরে ঘুম ভেঙে গেছে মানিকের । বেশ কয়েকটা মুহূর্ত কেটে গেল কোথায় আছে সেটা বুঝে উঠতে। কাঁচা ঘুম ভেঙে যাওয়াতে শরীর টলমল করছে। এর মধ্যে দেখল চাকরদের কোয়াটারের সামনে দাঁড়িয়ে সাবিহা। চিৎকার করছে আর মাথার চুল ধরে টানছে।
কেবিন থেকে বের হয়ে সাবিহার মুখে ঠাস করে চড় মেরে বসল পোকা। চিৎকার থেমে গেল মেয়েটার।
মেঘা ওর কামরার জানলা খুলে বাইরে উঁকি দিল । এত দূর থেকেও পচা গন্ধ পেল মেঘা।
চড় খেয়ে ঝেড়ে দৌড় দিল সাবিহা। পাগলের মতো চিৎকার শুরু করেছে আবার।
‘ধরো ওকে।’ বারান্দা থেকে দৌড়ে নামতে নামতে পোকার উদ্দেশ্যে চেঁচাল মানিক ।
পোকা পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে চেয়ে আছে দুঃখীরামের লাশটার দিকে । এক লহমায় বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে গেল সে । সাবিহাকে বিয়ে করা, ঘরজামাই থাকা , বড়লোক হওয়া সবই অবাস্তব স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই না।
ততক্ষণে মানিক ও দেখেছে লাশটা। ঘাড়ের সব লোম সরসর করে দাঁড়িয়ে গেল।
জানালার পাশে দাঁড়িয়ে পুরো নাটকটা উপভোগ করছেন রুইতন । পৈশাচিক আনন্দে মনটা ভরে গেছে ওর।
হামাগুড়ি দিয়ে ওদের একশ গজের মধ্যে চলে গেছে মনোজ। আবিষ্কার করলো একটু সামনে গেলেই ধরা পড়ে যাবে। চাঁদের আলোয় সব থই থই করছে।
সবাইকে দেখল সে।
মানিক আর পোকা কীসের সামনে যেন দাঁড়িয়ে আছে। বালিতে লম্বা মত কী যেন পড়ে আছে একটা। আর একটা মেয়ে পাগলীর মত দৌড়ে ওর সামনে আসছে ।
মেয়েটাকে চিনতে পারল। সাবিহা। চিৎকার করছে কেন ? বিপদ?
গুণ্ডারা বোধহয় একজনকে মেরে ফেলেছে। লাশের সামনে দাঁড়িয়ে আছে না ?
লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়াল মনোজ। ‘ ম্যাডাম এই দিকে।’
থাবা দিয়ে সাবিহার হাত ধরল সে। ‘আমি ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসার। দৌড় দিন আমার সাথে।’
মানিক দেখল হঠাৎ করে মাটি ফুঁড়ে যেন একটা লোক উঠে দাঁড়িয়েছে। ভয়ে আর পুরনো রিফ্লেক্সের জন্যই গুলি করল মানিক । উবু হয়ে বালিতে মুখ গুঁজে পড়ে গেল লোকটা।
সাবিহা তখনও সামনে দৌড়ে যাচ্ছে। উন্মাদিনীর মতো ।
‘কে লোকটা? কী হচ্ছে বাড়িতে।’ বোকার মত বলল মানিক । ওর মাথা আর কাজ করছে না ঘটনার ঘনঘটায়।
পোকা দৌড়ে গিয়ে মনোজের লাশ চিৎ করে শোয়াল। পকেট হাতড়ে বের করে আনল আইডি কার্ড আর ব্যাচ।
‘শালা ভোদাই। এটা পুলিশের লোক।’ চিৎকার করে উঠল পোকা। ‘ পুলিশ খুন করে ফেলেছিস তুই।’
ওদিকে সাবিহা তখনও দৌড়ে পালাচ্ছিল। ওর সামনে এসে দাঁড়াল আবদুল হাই । ঝাঁপিয়ে পড়ল সাবিহার উপরে।
‘ম্যাডাম ভয় পাবেন না ।আমি পুলিশের লোক। বদরুল উনি খন্দকার সাহেবের মেয়ে । জলদি ঢাকায় নিয়ে যান আপনি।’
‘কিন্তু স্যার আপনি একা ?’ প্রতিবাদ করল বদরুল । মনোজের মৃত্যু দুজনেই দেখেছে। ‘ভেতরে আর বাচ্চা মহিলা আছেন উনাদের কী হবে?’
‘যা বলছি করুন। এটা আমার অর্ডার ।’ চেঁচিয়ে উঠল আবদুল হাই । রাগে শরীর জ্বলছে ওর। সদ্য পরিচিত হওয়া সহকর্মীর জন্য বুক ভর্তি শোক।
নির্জনবাসের দিকে ফিরে তাকাল। এত দূর থেকেও দেখতে পেল তিনটি ছায়ামূর্তি দৌড়ে ঢুকে পড়েছে বাড়ির ভিতরে। ভিতরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল। এত দূর থেকে ও ধরাম ধরাম করে দরজা বন্ধের শব্দ শুনতে পেল দুই অফিসার।
তারপর সব আলো নিভে গেল।
একটা একটা করে।
বদরুল সাবিহাকে নিয়ে জিপে ফিরে রেডিওতে ঢাকায় মেসেজ দিচ্ছে দ্রুত।
সবাই দেখতে পেল এই সময়।
দূর থেকে একটা গাড়ি আসছে। শিশির ড্রাইভ করছে ।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন