আমার চিঠি কে পড়বে তুমি ছাড়া ?
ঘুমাতে গেলে ও তন্দ্রা ফিসফিস করে।
জাগিয়ে রাখে আমায় । রৌদ্র হাওয়া পিয়ানো বাজায় কার্নিশে ।
বাইরে মৌরি গাছটা একা একা রোদ খায় । বারান্দায় দড়িতে রেখে দেয়া শাড়িগুলো ডাকাতিয়া হাওয়ায় ফুলে উঠে, প্রাচীন তিন মাস্তুলওয়ালা জাহাজের পালের মত ।
কারা যেন উৎসব করে আজও । সমুদ্রস্নানে যায় । ভালবাসে ।
ভাঙ্গা টিনের তলোয়ার নিয়ে হাঁটে পরাজিত রাজা । গায়ে সার্কাসের ক্লাউনের পোশাক । নীল ঘোড়া বেঁধে রেখে এসেছে , বিষাদের বিস্ময়ের বনে ।
পকেটে রক্তচন্দনের বীজ । রানীর সাথে দেখা হলেই রাজার করতলে জন্ম নেবে চন্দনের বন।
শালপাতার ঠোঙা ভর্তি করে দুঃখ কিনেছি । ফেলে দেয়া যায় না । অনেক দামে কেনা । ওরা বলেনি, বিফলে মুল্য ফেরত । ওদের দোকান উঠে গেছে সব দুঃখ আমার কাছে বিক্রি করে ।
মরীচিকার মত দালানবাড়ি , মিলিয়ে যেতে পারে যে কোন সময় । ফুউস মন্তরের মত। আমাদের শহর, হতেও পারে কোন এক নতুন মহেঞ্জোদারো ।
আমার চিঠি কে পড়বে তুমি ছাড়া ?
কে জানবে আমার সব অভিমানী গোপন কথা ?
আমি তো বটতলায় তেল সিঁদুর মাখা ঋত্বিক না। হাওয়াকে
বশ মানাতে পারি না। জমাতে পারি না কাচের গ্লাস ভর্তি চৈতালি মেঘ । মদিরার নীল ভাঙ্গা বোতল আর ক্রিট দ্বীপের নষ্ট কেপার দানার মত বাতিল সব অনুভূতি আমার ।
পৃথিবীর সব ভয়ংকর মিসাইলগুলো রঙ পেন্সিল হয়ে যাক।
গ্রেনেডগুলো হয়ে যাক মিষ্টি কোন ফল।
জলপাই রঙের ট্যাঙ্কগুলো হয়ে যাক জুতার বাক্স।
ভেতরে থাকবে আনকোরা নতুন বাহারি জুতা।
যুদ্ধ জাহাজ গুলো হয়ে যাক কাগজের নৌকা।
পৃথিবীর সব বুলেট হউক শস্য দানা।
বাঙ্কারের টায়ার পুড়িয়ে ভাত রান্না করুক রেল লাইনের পাশে সংসার করা জনম দুঃখিনী মা।
৩
আজ এক গদ্যময় রাত ।
আকাশে শ্বেত পাথরের ভাঙ্গা টুকরার মত মসৃণ চাঁদ । মৌসুমি হাওয়া চলে এসেছে , কিশোর বেলার হারিয়ে যাওয়া বন্ধুর মত । একটা গল্পের সাথে মুখমুখি বসা ।
অনেক দূরে মোটর গাড়ির শব্দ । ঐ শব্দ প্রমাণ করে গুহাযুগের বাসিন্দা না আমি ।
পড়শির বাড়িতে টেলিফোন বাজে । এখনও প্রিয়জন খোঁজে প্রিয়তমাকে ।
সেই সৌরভ স্রোতের দিশা পাল্টে পাগল করে ফেলে মৎস্যকুমারীকে ।
প্রিয় মানুষেরা সবাই নক্ষত্র হয়ে চলে গেছে দূর নক্ষত্রলোকে ।
এত এত প্রিয় মানুষ !
আকাশ গঙ্গায় স্নান করে বসে আছে মহাজাগতিক কোন সরাইখানায় , পান করছে অমৃত ?
আজ এক গদ্যময় রাত !
৪
আচমকা রূপকথার দেশ থেকে কেমন করে চলে আসে জাফরান রঙের অচিন ঘোড়া।
টেবিলের উপর জ্বলে পাণ্ডুর মোম। জমেছে তুষারের ফুল জানালার শার্সিতে।
নিঃশব্দে কাঁদতে থাকে উইলোর বন ।
৫
সবই আছে এই বিরান প্রান্তরে ।
জুয়ারি তবু বেঁচে থাকে উত্তেজনা নিয়ে। শীতের কফিনে করে বসন্তও পালায়।
বাতাসের চিরুনি বয়ে যায়। বয়ে যায়। বয়ে যায়।
মধ্যরাতে ঘুম ভাংলে দেখি আকাশে ডাইনির কড়াইয়ের মত চাঁদ।
আততায়ীর চোখের মত নক্ষত্র ঝিকিয়ে উঠে বলে - কোথায় তোমার ভালবাসা ?

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন