সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

রিমঝিম এক ভালবাসা

মিজান গাড়িতে বসে আছে। উত্তেজিত। মেজাজ খারাপ। চিন্তিত। হতাশ। এবং আরও অনেক কিছু। অপেক্ষা করছে। এইমাত্র বারের ভেতরে ঢুকেছে চন্দনা । আগে গিয়ে বসুক। কিছুটা সময় যাক। তারপর ভেতরে ঢুকবে মিজান। এর মধ্যে চন্দনার গোপন প্রেমিক যদি এসে পরে, তবে তো সোনায় সোহাগা। হাতে নাতে ধরা পড়লে আর কোন সাফাই দিতে পারবে না মেয়েটা। ভাল একটা শিক্ষা দিতে হবে। কবুতর দেখছ, কিন্তু কবুতরের খোপ দেখনি। এমন শিক্ষা দিতে হবে যে ...। কিন্তু চন্দনা অমন করল কেন ? অনেক ভেবেও কোন কূল কিনারা পাচ্ছে না মিজান। ব্যাপারটা ধরতে পেরেছে গত সপ্তাহে। কাকে যেন ফোন দিচ্ছিল মেয়েটা। ফিসফিস করে। চন্দনা কিচেনে যাওয়ার সাথে সাথেই কললিস্ট চেক করেছে মিজান। অচেনা নাম্বার । ‘পুরানো বন্ধু’ নামে সেভ করেছে। ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। এই পুরানো বন্ধু শূয়রটা আবার কে ? রাস্তার পাশের ওষুধের দোকানের ফোন থেকে ঐ নাম্বারে কল দিয়েছিল মিজান। অচেনা গলা। ভুং ভাং বলে ফোন কেটে দিয়েছে। তারপর চোখে চোখে রেখেছে। ওরা আজ দেখা করবে প্যাভিলিয়ন বারে। রাত আটটা বাজে। ভাল । ওরা জানে আজ রাতে মিজানের ফিরতে দেরি হবে। কেউ জানে না। বিকেলেই অফিস থেকে বের হয়ে গেছে মিজান। চলে এসেছে বারের সামনে। অপেক্ষা করছে। যখন দেখল সুন্দর করে সেজে চন্দনা বারের ভেতরে ঢুকল তখন সব সন্দেহ উড়ে গেল- কর্পূরের মত। জুলিয়েট এসে গেছে। এখন দরকার রোমিও ব্যাটাকে। গাড়ির ড্যাশবোর্ড থেকে পিস্তলটা বের করে দেখে নিল। আগে ব্যবহার করেনি। কিন্তু পারবে। কঠিন কিছু না। ছোট বেলায় খেলনা পিস্তল দিয়ে খেলে হাত পাকা করে নিয়েছে। সমস্যা হবে না।পিস্তল যোগার করতে ঝামেলা পোহাতে হয়নি। সন্ত্রাসী বাঁটটু শেখর ওর পরিচিত। অস্ত্র ভাড়া দেয় দিনচুক্তি । ক্যাশ টাকা দিয়ে নিয়ে এসেছে। কাজ শেষে ফেরত দিতে হবে। গাড়ির আয়নায় নিজেকে একবার দেখে নিল। বিকেল থেকেই বৃষ্টি হয়েছে। নভেম্বর রেইন। আধ ঘণ্টা আগে থেমেছে বৃষ্টি। সুন্দর হাওয়া বইছে। গরম নেই। নভেম্বর মাসে এত গরম লাগে না। তারপরও মিজানের জুলফি ঘামছে । পিস্তল লুকানোর সুবিধে হবে ভেবে ইনডিগো ব্লু জিনসের একটা জ্যাকেট পড়েছে। ঝামেলা হল দেখি। বারের ভেতর চন্দনা ঢুকেছে মিনিট পনের হবে। এইবার আরাম করে গাড়ি থেকে বের হল। গাড়িটা বহু পুরানো। তারচেয়ে পুরানো টায়ারগুলো ।ক্ষয়ে গেছে। বডির নানান জায়গায় তুবড়ে আর চলটা উঠে ঘেয়ো কুকুরের মত লাগছে। অভিজাত বারের পারকিং এরিয়াতে মিজানের গাড়িটা একদম বেখাপ্পা লাগবে তাই খানিক দূরে পার্ক করেছে সে। সহজ ছন্দ গতিতে এগিয়ে গেল বারের দিকে। শহর ছেড়ে খানিক বিচ্ছিন্ন জায়গায় তৈরি হয়েছে এই প্যাভিলিয়ন বার। পাথরের ব্লক সেঁটে ইংল্যান্ডের পুরানো দিনের বাড়ির ধাঁচে তৈরি । শৌখিন আর রুচিশীল মানুষের প্রিয়।পানীয় আর খাবারের দাম নাগালের মধ্যে। বাইরে হলুদ- লাল- আর সবুজ রঙের নিয়ন সাইনে বারের নাম লেখা। পেল্লাই সাইজের একটা অ্যারিজোনার ফনিমনসা গাছ । সেটা সবুজ নিয়ন সাইনে বানানো। ফনিমনসার গায়ের কাঁটা আবার হলুদ রঙের। মন ভাল থাকলে জিনিসটা দেখে খুশি হত। এখন তেমন মুড নেই মিজানের। বারের বাইরে কোন সিকিউরিটি নেই। থাকলে পিস্তল নিয়ে ধরা পরে যেত। ভাগ্য ভাল। কাঠের বারান্দা। সামনে কাচের দরজা। ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই শব্দ, গান , নারী পুরুষের হাসি , পানপাত্রের ঠুং ঠ্যাং কানে এলো। আর দশটা বারের মতই । কামরার সাইজ বেশ বড়। বারের মালিক বিদেশি ক্যাটালগ ঘেঁটে বেশ যত্নের সাথেই বানিয়েছে এটা। নরম আলো ঝুলছে নানান জায়গায়। চোখে আরাম দেয় অমন আলো। দেয়াল জোড়া বার। হরেক পদের, হরেক সাইজের বোতল সাজানো। মদিরায় পরিপূর্ণ। বিচ্ছিন্ন কয়েক জায়গায় সুন্দর করে চেয়ার টেবিল পাতা। নারী- পুরুষ বসে আছে। সামনে পানীয় আর হালকা খাবার। লোকজনে ঠাসা না। আবার মাছি মারার মত ফাঁকা ব্যবসা না। মঞ্চের উপরে হাওয়াইন গীটার বাজিয়ে গান গাইছে রোগা একটা লোক। এই আবছা অন্ধকারেও গায়কের চোখে কালো চশমা। সস্তা ধরনের কালো একটা কোট পড়ে আছে। বেশ বড় । ঢোলা। রাস্তা থেকে কেনা। হালকা পায়ে হেঁটে বারের সামনে গিয়ে দাঁড়াল মিজান। এখান থেকে পুরো কামরাটার উপর নজর রাখা যায় সহজে। ‘ গলা ভেজাবেন নাকি স্যার।’ পিছন থেকে ফরমায়েসি ঢঙে বলল কেউ। ফিরে তাকাল মিজান। নাদুসনুদুস একটা লোক। খাকি রঙের হাতাকাঁটা বারটেণ্ডারদের ভেসট পড়ে আছে। হাতির দাঁতের রঙের জামা। মাথা ভর্তি টাক। দুই কানের কাছে দুই খাবলা তুলার মত সামান্য চুল লেগে আছে। বিচ্ছিরি লাগছে। ন্যাড়া করে ফেললেই হয়। মায়ার চোটে এই চুল ফেলতে পারছে না সম্ভবত। ‘ দিন।’ জবাব দিল মিজান। ‘ সামার ককটেল ? হলিডে ককটেল নাকি রিলাক্সিঙ ককটেল স্যার ?’ জানতে চাইল বারটেণ্ডার। ‘ এত পদের ককটেল আছে নাকি ?’ বিরক্ত হল মিজান। ‘ হাজারে বিজারে আছে স্যার। অভাব নেই। কোনটা দেব । ’ ‘ কালো কোকের মত ওটা কি ?’ ‘ ওটা বিয়ার।’ ‘ কালো বিয়ার হয় ?’ ‘হয় স্যার। র- বিয়ার। বার্লি রোস্ট করার পর রিফাইন কম করলেই অমন হয়। খুব বিখ্যাত। নাম গিনিজ। হেইনিক্যান নিতে পারেন। জার্মানির বিয়ার। জেমসবন্ড মুভিতে এই বিয়ার দেখানোর পর বিক্রি বেড়ে গেছে। করোনা নিতে পারেন। মেক্সিকোর বিয়ার। সাথে এক ফালি কাগজি লেবু যায়। আহামরি কিছু না। কিন্তু দারুন জনপ্রিয়। লেবু দিয়ে বিয়ার খাবার দরকার কি। রাস্তায় দাড়িয়ে লেবুর শরবৎ খেলেই হয় ।’ ‘ আপনি কথা বেশি বলেন।’ ‘সরি স্যার।’ ড্রাফ্‌ট বিয়ার থাকলে দিন।’ ‘ জি স্যার।’ তড়িঘড়ি বিঘৎ খানেক গ্লাস নামাল লোকটা। পিতলের ডাণ্ডার মত কিসে চাপ দিতেই সোনালি ফেনিল বিয়ারে গ্লাস ভরে গেল। পেশাদারি কায়দায় গ্লাসটা সামনে নামিয়ে দিল। ‘ হালকা কিছু চাই সাথে ? ভিনেগারে ভেজান টক কচি শসা আছে। Gherkin বলে ইংরেজিতে। দারুন জিনিস । বা নোনা জলপাই ? ’ ‘ লাগবে না।’ অন্যমনস্ক ভাবে ঠাণ্ডা ঘোলাটে গ্লাস নিয়ে চুমুক দিতে দিতে বলল মিজান। ‘ কাউকে খুঁজছেন ?’ ‘ হ্যাঁ।’ ‘ নিয়মিত খদ্দের আমাদের বারে ?’ ‘ জানি না।’ ‘ চেহারার বর্ণনা দিন তো। দেখি বলতে পারি কি না। ’ ‘ নিজের চরকায় তেল দিন, অমন একটা প্রবাদ আছে বাংলা ভাষায়। শুনেছেন ?’ মুখ বাকা করে বলল মিজান। ‘ সরি স্যার। ভুল হয়ে গেছে। বিয়ার উপভোগ করুন।’ থতমত খেয়ে গেল মধ্যবয়স্ক লোকটা। দ্রুত চলে গেল অন্য খদ্দেরকে সার্ভিস দিতে। চন্দনাকে দেখতে পেল । খানিক দূরে কেবিনের মত একটা জায়গায় বসা। কিছু খদ্দের প্রাইভেসি পছন্দ করে। তাদের জন্য কাঠের জালি দেয়া ছোট ছোট বুথের মত বানানো হয়েছে। ওখানেই বসা। অপেক্ষা করছে কারো জন্য। সবুজ শাড়ি ব্লাউজে পরীর মত সুন্দর লাগছে চন্দনাকে। বুকের ভেতরে কেমন হাহাকার করে উঠলো মিজানের। গান শেষ করলো কালো চশমা পড়া গায়ক। খুচরা দুই একটা হাত তালি পেল। কে যেন শিষ দিয়ে উৎসাহ দিল গায়ককে। ‘ ধন্যবাদ।’ ভারি গলায় বলল গায়ক। ‘ জনপ্রিয় গান শেষ করলাম। এইবার আমার নিজের লেখা আর সুর করা একটা গান ধরব নাকি ? বাজি ধরে বলতে পারি পছন্দ হবেই।’ অনেকটা লম্বা সময় মিজানের দিকে চেয়ে রইল গায়ক। একটা সিগারেট ধরিয়ে লম্বা টান দিয়ে সামনে ধোঁয়ার মেঘ বানিয়ে ফেলল। পাশে কাচের ছাইদানিতে সিগারেটটা রেখে শুরু করলো নতুন গান। গানের কথাগুলো শুনে কেমন চমকে গেল মিজান- ‘ মায়াবতী অন্ধ তুমি।অন্ধ তোমার প্রেম।বুকের আছে তোমার ছবি।হৃদয়টা তার ফ্রেম।’ পরের কথাগুলো বেশ ভাবিয়ে তুলল মিজানকে । যার অর্থ- এত দীর্ঘ দিনের প্রণয়ের পরও এই বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যায় কার অপেক্ষায় তুমি চলে এসেছ বিষাদের অরন্যে।’ হেন তেন। ‘ দারুন না।’ কানের পাশে কে যেন বলল । এত মগ্ন হয়ে শুনছিল যে চমকে উঠলো মিজান। বারটেন্ডার লোকটা পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। ‘ হু।’ সংক্ষেপে জবাব দিল মিজান। ‘ গলাটা কি মাইরি। একেবারে ন্যাচারাল। আইয়ুব বাচ্চুর মত ভরাট । খাটি মাল। ’ ‘ কে লোকটা ? বিখ্যাত কেউ ? নিয়মিত গায় ?’ ‘ আরে নাহ।’ ঠোঁট উল্টে বলল বারটেন্ডার । ‘ জীবনেও দেখিনি। বৃষ্টির সময় এসে হাজির। চার গ্লাস বিয়ার গিলে বলে টাকা নেই। মার দিতাম। বলল - ভাল গান গাইতে পারে। বিয়ারের দামের বদলে এক ঘণ্টা গান গেয়ে পয়সা শোধ করবে। রাজি হলাম। কারন আসলেও টাকা নেই ব্যাটার পকেটে। আজ আবার আমাদের রেগুলার ব্যান্ডদল - পিকুলিয়ারস বয়েজ’ দলটার অফ। তো স্টেজে ব্যাটাকে নামিয়ে দিলাম। ভুল করিনি। একটার পর একটা গেয়ে জমিয়ে রেখেছে। আসল প্রতিভারে ভাই। দুঃখ একটাই বেচারা অন্ধ। ’ ‘ অন্ধ ?’ প্রতিধবনি করলো মিজান। মাথা নেড়ে বারটেন্ডার চলে গেল অন্য এক খদ্দেরের গ্লাস ভরে দিতে। হাততালির মধ্য দিয়ে গান শেষ হল। গ্লাসে চুমুক দিচ্ছিল মিজান। কাঁধে টোকা পড়তেই ফিরে তাকাল। গায়ক। পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। মুখে সিগারেট। বার টুল টেনে আস্তে করে বসে বলল, ‘ কেমন লাগল আমার গান ?’ ‘ চলে আরকি।’ যেন চিরতা গিলেছে অমন একটা মুখভঙ্গি করে বলল মিজান। ‘ চেষ্টা করি আরকি। ঠিক গায়ক না। তবে ঘুরতে পছন্দ করি। নানান জায়গায় ঘুরি। সময় পেলেই।’ ‘ একা , না সঙ্গী সহ ?’ কালো চশমায় টোকা দিয়ে বলল গায়ক , ‘ অন্ধ , সেইজন্য জানতে চাইছেন ?’ ‘ সরি , আসলে সেইভাবে মিন করিনি।’ নরম গলায় বলল মিজান। ‘ কিন্তু বললেন না যে কেমন লাগল আমার গান ?’ বেহায়ার মত হেসে আবারও প্রশ্ন করল অন্ধ গায়ক । ‘ নিজের প্রশংসা শুনতে ভাল লাগে বুঝি ?’ টিটকারি না মেরে পারলো না মিজান। ‘ মন বিক্ষিপ্ত থাকলে কিছুই ভাল লাগে না।’ নিয়মিত বেহায়ার মত হাসছে লোকটা। ‘ আমাকে একা থাকতে দিন। কাজ আছে আমার।’ ‘ তা তো অবশ্যই। আমরা সবাই কাজ করি। কোনটা ভাল, কোনটা খারাপ।’ ‘ ভাই ইহ জিন্দেগিতে আপনাকে দেখিনি। আজই প্রথম দেখলাম । আর আপনি পুরো বারের মধ্যে আমাকেই বেছে নিলেন খেজুরে আলাপ পারার জন্য ?’ ‘ আসলে বড় কোন ঘটনা ঘটার আগে সেটা টের পাই আমি। এটা একটা অদ্ভুত প্রতিভা বলতে পারেন ? ’ ‘ মানে কি ?’ রেগে গেল মিজান। ‘ আপনি যা বুঝেছেন তাই।’ হেসেই যাচ্ছে লোকটা। ‘ দূর হয়ে যান আমার চোখের সামনে থেকে। আমি ঝামেলা চাই না।’ সাপের মত হিসহিস করে উঠলো মিজান। ‘ সেটা জানি। ঝামেলাবিহীন জীবন আপনার পছন্দের। কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। এক গ্লাস বিয়ার সেটাও জীবনের প্রথম আজ। এখানে আসার মূল উদ্দেশ্য, কাউকে গুলি করা।’ পিলেটা চমকে গেল মিজানের। লাফ দিয়ে উঠে দাড়িয়ে বলল, কি বললেন আপনি ?’ ‘ শুনলেন ই তো।’ হাসছে লোকটা। দুই হাতে গায়কের কলার চেপে ধরে বলল, ‘ একটু ঝামেলা দেখলেই আপনাকে গুলি করব আমি ।’ ‘ মনে হয় না পারবেন।’ আত্ন বিশ্বাসের সাথে জবাব দিল কোট পড়া গায়ক। ‘ পুলিসের লোক আপনি ?’ কলার ছেড়ে দিতে দিতে বলল মিজান। ‘নাহ। ভবঘুরে। গান গাই।’ ‘ যাই হোক গাতক ভাই। কোন রকম ঝামেলা দেখলে আপনাকে আমি প্রথম গুলি করব। কারন মনে হচ্ছে ঘটনা আপনি সবই জানেন। আমার বউয়ের সাথে কে দেখা করতে আসবে সেটা ও জানেন নিশ্চয়ই ?’ ‘ না তো। আপনার গিন্নি কে তাও জানি না। শুধু আপনার ব্যাথাটা আমি অনুভব করতে পারছি। বুক ভরা কষ্ট নিয়ে আছেন আপনি। আর পাগলের মত ভালবাসেন আপনার গিন্নিকে, সেটাও বুঝতে পারছি।’ লম্বা মারকুটে চেহারার এক যুবক ঢুকে পড়লো বারের ভেতরে। জিনসের প্যান্ট আর বুকখোলা চক্রা বক্রা জামা পড়নের। হাতে ব্রেসলেট। বারবার চুল ঠিক করছে । আরেক হাতের কবজিতে রুমাল বাঁধা। অস্থিরমতি লম্পট চেহারা। চারিদিকটা দেখল সে। চন্দনা একা বসে আছে দেখে সোজা এগিয়ে গেল সেই টেবিলের দিকে। ‘ হায় হায় এটা দেখি রুস্তম।’ আফসোস করল বারটেনডার। ‘ গ্রেট খেলোয়াড়। মেয়েদের ফাঁসানোতে জুড়ি নেই। প্লে বয় শালা।’ টুল থেকে উঠে দাঁড়ালো মিজান। হাত চলে গেছে ‘ কি করতে যাচ্ছেন বাবা।’ থাবা মেরে মিজানকে আটকাল অন্ধগায়ক। ‘ ছাড়ুন আমাকে।’ গর্জে উঠলো মিজান। ‘ শান্ত হন বাবা। চোখের দেখা ভুল হয় অনেক সময়। ধৈয়্য ধরুন।’ রুস্তম নামে লোকটা বেশ শরীর ঝাঁকিয়ে চন্দনার টেবিলের সামনে গেল। হাসি মুখে কি যেন বলল। চন্দনা হাসি মুখে জবাব দিল। খুব সংক্ষিপ্ত মাত্র আধা মিনিট কথা বলে চেহারায় হতাশ ভাব নিয়ে বারের সামনে ফিরে এলো রুস্তম। ‘ মালটা কঠিন।’ অশ্লীল একটা ভঙ্গী করে বলল রস্তম। ‘ কিন্তু গলাতে পারলেন না।’ তোম্বা মুখে বলল বারটেনডার। ‘ কার জন্য যেন অপেক্ষা করছে সুন্দরী।’ আফসোস করল রুস্তম। ‘ নইলে...।’ কথা শেষ না করে অশ্লীল একটা ইঙ্গিত করলো । ‘ আমি বরং অপেক্ষা করি। কেউ না আসলে আবার ট্রাই মারব। হে হে।’ ‘ আপনার ড্রিংক নিয়ে দূরে গিয়ে বসুন।’ বিরক্ত হয়ে জবাব দিল বারটেনডার। ‘ দেখলেন।’ মিক্স ককটেলের গ্লাস নিয়ে রুস্তম দূরে চলে যেতেই বলল অন্ধ গায়ক। ‘ আরেকটু হলেই ভুল লোকের মাথা উড়িয়ে দিতেন গুলি করে।’ ‘ আপনি চোখে দেখেন তাই না ?’ গর্জে উঠল মিজান। ‘ ঢং করে চোখে কালো চশমা লাগিয়ে রেখেছেন। একটা কষে থাপ্পড় দিলেই ভাল হয়ে যাবেন।’ টান দিয়ে গায়কের নাকের ডগা থেকে কালো চশমাটা তুলে নিল মিজান। লোকটা চেয়ে আছে ওর দিকে। শূন্য চোখের দৃষ্টি। ভাব নেই। চোখের মনিদুটো অর্ধেক করে কাঁটা সুপারির মত। ‘ আশা করা যায় আপনার উত্তর পেয়ে গেছেন ?’ দুঃখী মানুষের মত হাসল গায়ক। মনটা খারাপ হয়ে গেল মিজানের। বেচারা সত্যি অন্ধ। ‘ চোখ বন্ধ করেই পৃথিবীর রূপ দেখতে হয় বাবা।’ নরম গলায় বলল সে। ‘ নইলে কখনই আসল জিনিস দেখা যায় না। আমরা কখনই বাস্তব জিনিস দেখি না। দরকার হচ্ছে অনুভূতির ব্যবহার। সঠিক সময়। সঠিক জায়গায়। জীবন খুব ছোট্ট একটা সময়। বেশির ভাগ সময় পরিবেশ আমাদের ভুল দেখায়। পরিস্থিতি আমাদের ভুল করায়। আপনি সব দেখবেন। শুনবেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত ঠাণ্ডা মাথায় নেবেন। আবেগের মাথায় কিছু করলে সারাজীবন কষ্ট করতে হয়।’ কথা শেষ করে উঠে পড়লো অন্ধ গায়ক। ‘ যাচ্ছেন কোথায় ? বসুন আপনার জন্য বিয়ার কিনি।’ বলল মিজান। কথা না বলে গায়ক চলে গেল। মঞ্চের দিকে। গিয়েই ঝাঙ যহাং করে গীটার বাজিয়ে গান ধরল। খালি গ্লাস ফিরিয়ে দিল মিজান। ‘ আরেকটা দিন।’ অর্ডার দিল বারটেনডারকে । গ্লাস ভরে দিতে লাগল মোটা বারটেনডার। দুইতিন বার উঁকি দিল মিজানের পিছে। চাপা গলায় বলল, ‘ অপেক্ষার শেষ হয়েছে। দেখুন ।’ ঝট করে ফিরে তাকাল মিজান। চন্দনার টেবিলের সামনে ঝাঁকড়া চুলের এক যুবক এসে দাঁড়িয়েছে। হাসিখুসি। সুদর্শন। দুইজনেই হাসছে। খুশি। বুকের ভেতরে যন্ত্রণা অনুভব করল মিজান। লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ালো টুল থেকে। ‘ আপনি ঠিক আছেন তো ?’ পিছন থেকে জানতে চাইল বারটেনডার। ‘ ভাবতেও পারছি না আমি। ছি।’ চাপা গলায় বলল মিজান। রাগের সাপ সারা শরীর বেয়ে পাক খাচ্ছে। থরথর করে কাপছে ও। দ্রুত এগিয়ে গেল । লম্বা লম্বা পা ফেলে। লক্ষ্য চন্দনার বুথ। সামনে দাঁড়ালো খদ্দের, ওয়েট্রেস সবাইকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে । অন্ধ গায়ক মঞ্চের উপর উঠে দাঁড়ালো। উঁচু গলায় বলল- ‘ মিজান !’ স্বাভাবিক অবস্থায় থাকলে মিজান অবাক হত- লোকটা ওর নাম জানলো কেমন করে ? ভুলেও একবার ওর নাম বলেনি। এগিয়ে গেল মিজান। সোজা গিয়ে দাঁড়ালো বুথের সামনে। চন্দনা আর ঝাঁকড়া চুলের ছেলেটা বসে হাসছে। ওদের সামনে মেনু বা কিসের একটা ক্যাটালগ। খুব খুশি ওরা। কি কথা তার সাথে ? মিজানকে প্রথম চন্দনা দেখল। ‘ আরে মিজু তুমি ? এখানে ?’ অবাক গলায় বলল মেয়েটা। ‘ আরে আপনি এখানে ?’ হাসি মুখে উঠে দাঁড়ালো ঝাঁকড়া চুল। হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সে সামনে। জ্যাকেটের নীচের পকেট খুলে রেখেছিল মিজান। পিস্তলটা অনায়াসে বের করল। সোজা ঝাঁকড়া চুলের বুকের দিকে নিশানা করল। ‘ আরে , পাগল হয়ে গেলে নাকি তুমি ?’ চিৎকার করে উঠলো চন্দনা। গুলি করে বসল মিজান। ততক্ষণে ওদের ঠিক মাঝখানে এসে পড়েছে মেয়েটা। পরপর দুটো গুলি লাগল ওর বুকের মধ্য। বোকার মত চেয়ে রইল মিজান। কয়েক মুহূর্ত সব নিঝুম। ঝনঝন শব্দ করে গ্লাস ভর্তি ট্রে ফেলে দিল এক ওয়েট্রেস। তীক্ষ্ণ মেয়েলী গলায় চিৎকার করে উঠলো কেউ। ‘ হায় খোদা, ওকে মারতে চাইনি আমি।’ পাগলের মত চেঁচিয়ে উঠলো মিজান। চারিদিকে হৈ চৈ। শব্দ। দৌড়। হল্লা। দুইজন গাট্টা গোঁটটা লোক মুরগি ধরার মত এগিয়ে এলো মিজানের দিকে । বাউলি কেটে ঝেড়ে দৌড় মিজান। ফুটবল খেলোয়াড়দের মত এঁকেবেঁকে সবাইকে কাটিয়ে বের হয়ে এলো বারের বাইরে। দৌড়ে যাচ্ছিল ওর গাড়ির দিকে। চেয়ে দেখে দুইতিন জন চেঙরা ছোকরা ওর গাড়ির সামনে দাড়িয়ে গুলতানি মারছে। একজন আবার ওর গাড়ির টায়ার ভেজাচ্ছে প্রস্রাব করে। ঘুরে বড় রাস্তার দিকে যাবে কি না ভাবল। ওখানে জলদি ধরা পরে যাবে। তারপরও ওই দিকেই দৌড় দিয়েছিল কিন্তু ওখানেও একগাদা মানুষ। ডান দিকে ঝোপ ঝাড় দেখে মনস্থীর করে ফেলল। লম্বা দম নিয়ে ওখানেই দৌড় দিল। মিজানের পিছন পিছন ধাওয়া করে দুই একজন আসতে চেয়েছিল। জংলা মত জায়গায় ঢুকে যাওয়ায় কে একজন চেঁচিয়ে বলল, ‘ আর জাইস না । হমুন্দির পোলার কাছে পিস্তল আছে। সকালে নাস্তা খাইছস এখন গুলি খাবি ।’ ‘ পুলিসে খবর দেই ? ‘ বলল কেউ । ‘ হ, ঠোলাগ খবর দে । ফুন কর।’ দৌড়ে জংলামত জায়গায় ঢুকে পড়লো মিজান। সামনে বড় বড় গাছ। শাল-পিয়াল-সেগুন। ঠাসা। একদম জঙ্গল। নীচে শুকনো পাতা ভর্তি । পাগলের মত দৌড় দিল সে। অন্ধকার। আলো নেই । উচুনিচু পথ। দৌড়াতে কষ্ট হচ্ছে। কপালে গাছের ডালের বারি খেল কয়েকবার। মাটির শক্ত একটা ড্যালার মধ্যে পা বেঁধে উপুর হয়ে পরে গেল। আবিস্কার করলো সামনে কেউ দাড়িয়ে আছে। মুখ তুলে তাকাতেই পিলে চমকে গেল। অন্ধ গায়ক। ‘ আপনি ভুল রাস্তায় দৌড় দিচ্ছেন বাবা।’ অভিমানী সুরে বলল গায়ক। ‘ ভুল পথ বেছে নিয়েছেন।’ ‘ দূর হ আমার সামনে থেকে।’ লাফ দিয়ে উঠে আবার দৌড় দিল মিজান। পাগলের মত দৌড়াচ্ছে। ঘন কুয়াশা বনের ভেতরে। কোথায় যাবে ও ? পথ কোথায় ? কুকুরের ডাক শুনতে পেল কাছের কাছেই। দূরে কেউ বেহালা বাজাচ্ছে। ঘুরপাক খেতে খেতে কোথায় যেন চলে এসেছে। আবিস্কার করলো- সামনে ঢোলা কোট পড়া সেই অন্ধ গায়ক। বেহায়ার মত হাসছে। ‘ পালাতে পারবেন না আপনি।’ বলল সে।’ ওরা খুঁজছে। আমি আপনাকে বারবার ধরে ফেলছি মানে ওরাও আপনাকে ধরে ফেলতে পারবে। জেলে থাকবেন ? বাকি জীবন অনুশোচনা আর যন্ত্রণা কষ্ট দেবে। পালিয়ে যেখানেই যান সারা জীবন ভয় আর পাপ বোধ ধাওয়া করবে আপনাকে। আগেই বলেছিলাম...।’ জবাব না দিয়ে দৌড় দিল মিজান। মাথা কাজ করছে না। দৌড়াতে দৌড়াতে আবিস্কার করলো সামনে জঙ্গল শেষ। খাকি রঙের মরা ঘাস হয়ে আছে হাঁটু পর্যন্ত । ক্লান্ত শরীর নিয়ে উবু হয়ে পড়ে গেল। উজ্জল আলো জ্বলছে না ? কারা যেন কথা বলছে না ? সাবধানে মাথা তুলল। হায় খোদা। বারের পিছনে চলে এসেছে। পুলিশের গাড়ি দাড়িয়ে আছে। রাগি চেহারার এক অফিসার ইন্টার্ভিউ নিচ্ছে ঝাঁকড়া চুলের। বলছে ঝাঁকড়া চুল- ‘ হ্যাঁ, আমি আর চন্দনা পুরানো । বন্ধু কলেজে এক সাথে পড়তাম। অনেক বছর দেখা নেই। গত সপ্তাহে হঠাৎ দেখা। সামনের সপ্তাহে ওদের বিবাহবার্ষিকী। চন্দনা ওর স্বামীকে সারপ্রাইজ দিতে চায়। বেচারির তেমন টাকা নেই, ওর জামাইয়ের গাড়িটা প্রায় বাতিল। আমাকে জিজ্ঞেস করছিল সেকেন্ডহ্যান্ড একটা গাড়ি কিনতে পারবে কি না কিস্তিতে। আমি আবার পুরানো গাড়ির ব্যবসা করি। নারায়ণগঞ্জের বাবুল অটোমোবাইলের মালিক আমি। তাই দুইজনে এখানে দেখা করতে এসেছি। আর বললে বিশ্বাস করবেন না স্যার, চন্দনার স্বামী কোত্থেকে এসে গুলি চালিয়ে দিল মেয়েটার উপর। হায়রে।’ বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠলো মিজানের। হাহাকার। কান্নার দলা। কষ্ট। চিৎকার করে উঠলো- ‘ চন্দনা।’ চমকে উঠলো পুলিশ আর ঝাঁকড়া চুল। অফিসার টর্চের আলো ফেলল । সোজা মিজানের মুখের উপর। চোখ ঝলসে গেল মিজানে। দুই হাতে নিজের দুই চোখ চেপে ধরল। কষ্ট ! কষ্ট ! কষ্ট ! চন্দনা ! চন্দনা। চন্দনা ! ঠুং ঠ্যাং কাচের পানপাত্রের শব্দ ভেসে এলো। মেয়েলী হাসি। দুই চোখের উপর থেকে হাত সরিয়ে নিতেই চমকে গেল। বারে বসে আছে ও। সামনে বিয়ারে গ্লাস। সোনালি তরল থেকে বুদ্বুদ উঠছে। জুতার শব্দ করে ওর পাশে এসে দাঁড়ালো অন্ধ গায়ক। মুখে সিগারেট। ‘ কি হয়েছিল আসলে ?’ ফিসফিস করে বলল মিজান। ‘ সব আপনার উপর বাবা।’ গম্ভীর গলায় বলল অন্ধ। ‘ এইবার যা হবে তা বাস্তব। ভেবে নিন কি করবেন ?’ বলা শেষ করে গীটার নিয়ে সাদা লাঠি ঠুকতে ঠুকতে ছন্নছাড়ার মত চলে গেল সে। বাইরে। মাথা ফিরিয়ে বুথের দিকে তাকাল মিজান। চন্দনা আর ঝাঁকড়া চুল গল্প করছে। নির্মল বন্ধুত্বের হাসি। হারানো বন্ধুর হাসি আর পংতিমালা। উঠে দাঁড়ালো দুইজন। চন্দনার শাল চাদরটা যত্ন করে তুলে দিল ঝাঁকড়া চুল। হাসছে ওরা। কলুষতা নেই। নির্মল। বাইরে চলে গেল দুইজন। চন্দনাকে রিক্সায় তুলে দিল ছেলেটা। হাতে ধরিয়ে দিল বিদেশি একটা ক্যাটালগ। হরেক রকম সুন্দর সুন্দর গাড়ির ছবি দিয়ে ভর্তি ওটা । চেয়ে রইল মিজান। বারটেনডারকে বখশিস সহ বিয়ারের দাম দিয়ে বাইরে চলে এলো। বুক ভরা রিমঝিম এক ভালবাসা। চন্দনার জন্য। ভুলেই গিয়েছিল- সামনের সপ্তাহেই ওদের বিয়ে বার্ষিকী। চন্দনা- ভালবাসি তোমাকে। গাড়িতে গিয়ে বসতেই চমকে গেল মিজান। পাশে অন্ধ গায়ক বসে আছে। ‘ রাতটা দারুন তাই না ?’ বেহায়ার মত হাসল অন্ধ। ‘ গাড়ির ভেতরে ঢুকলেন কেমন করে ? তালা দেয়া ছিল তো !’ মিজান অবাক। বেহায়ার মত হাসল গায়ক। জবাব দিল না। মাথা নাড়ল মিজান। ‘ বাবা আপনি দয়া করে আমাকে সামনের রাস্তা পর্যন্ত নামিয়ে দিতে পারবেন ? ‘ গম্ভীর গলায় বলল অন্ধ গায়ক। ‘ আমাকে আরও অনেক জায়গায় গান গাইতে হবে। আপনার মত বেকুবের তো অভাব নেই। ওদের খুঁজতে হবে । রাতটা কিন্তু দারুন ! ‘ (Cal Willingham এর Love is Blind কাহিনির ছায়া অবলম্বনে )

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...