সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

হাতি

 হাতি প্রথম দেখেছিলাম শীতলক্ষ্যার পাড়ে ।

কোন এক মাহুত ওর পিঠে চড়ে নদীর জলে স্নান করানোর জন্য এনেছিল ।
প্রচুর লোক ভিড় করে দেখছে ।
আমি পিচ্চি । কাছে যেতে ভয় পাচ্ছিলাম । মনে হচ্ছিল যদি ধাওয়ানি দেয় ?
দূর থেকে দেখে খুব একটা ভাল লাগল না । মনে হচ্ছে বড় একটা টিনের কেতলি । শরীর ভর্তি ময়লা । ইস্ত্রিবিহীন জামার মত ওর গায়ের চামড়া ।
গলায় পিতলের ঘণ্টা । সামান্য নড়তে চড়তেই কেমন ঠুং ঠ্যাং করে শব্দ হচ্ছে ।
হাতির চোখের কোনায় জল ।

মনে হয় প্রায়ই কাঁদে ওটা । হয়তো মাহুত খামাখাই মারধোর করে ।
অথবা বন্দি থাকার সময় জংলের কথা মনে পড়ে ওর । বাবা মা আর ফেলে আসা দিনগুলোর কথা ভেবে কাঁদে ।
হতে পারে না ?


ন্যাশনাল জিওগ্রাফী পত্রিকার সদস্য হবার পর ওদের নিয়ে একটা সংখ্যা পেয়েছিলাম । জানলাম - ওরা আসলে বনের দেবতা ।
হাতি হচ্ছে পরিবেশ টিকিয়ে রাখার জন্য জ্যান্ত এক বাস্তসংস্থান ।


হরেক পদের ফল আর গাছ খায় হাতি । সেই বীজ ছড়িয়ে দেয় মাইল মাইল দূর পর্যন্ত । হাতির গোবর সার হিসাবে সবচেয়ে সেরা । সেই গোবরে সাথে ওর পেটের ভেতর থেকে যে দানা , ঘাসের বীজ বের হয়ে আসে সেটা একদম অনুকূল পরিবেশ পায় - কিশোলয় থেকে গাছ হবার জন্য ।
এক দিনে পঞ্চাশ মাইল দূর পর্যন্ত হাতি অমন ভাবে বীজ ছড়িয়ে দিতে পারে ।
হাতির গোবর থেকে গোবরে পোকা , মেঠো ইঁদুর আর র্যাটেল টাইপের প্রাণী খাবার জোগাড় করে বেঁচে থাকে ।

হাতি চলতি পথে যে সব গাছপালা ভেঙ্গে খায় সেই সব ফেলে যাওয়া গাছ থেকে ক্ষুদে পোকা মাকড় আর জীবজন্তু খাবার পায় । যারা হয়তো বড় বড় গাছের উঁচু ডালের নাগাল পেত না ।
জলের খবর জানে ওরা ।

অমন কি মাটির তলায় জল থাকলেও দাঁত দিয়ে খুঁড়ে বের করে আনে । ওদের পায়ের ছাপে যে গর্ত হয় সেখানে শুকনা মউসুমে ও বৃষ্টির জল জমে থাকে ।
পাখি , কচ্ছপ , ব্যাঙ সেখান থেকে জল পায় ।
বনে হাতি থাকলে সেই বন জ্যান্ত হয়ে যায় ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...