সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ফাউন্টেনপেন

 বিটিভিতে তখন ‘বহুব্রীহি’ নামের একটি ধারবাহিক নাটক চলছে। বাংলা সাহিত্যের জনৈক অধ্যাপক আমাকে টেলিফোন করে বললেন, আমার কাজের মেয়ে আপনার এই নাটক মন দিয়ে দেখে। কাজের মেয়ের মন জয় করাও খারাপ না।

তোমাদের জন্যে ভালোবাসা নামের একটা সায়েন্স ফিকশন লিখেছিলাম। মনে হয় বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রথম বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী। বইটি পড়ে সাহিত্যের এক অধ্যাপক বললেন, লেখার আগে কি গাঁজায় দম দিয়ে নিয়েছিলেন? গাঁজায় দম না দিয়ে এই জিনিস লেখা যায় না।
আমার চামড়া মোটা এবং খসখসে বলেই মনে হয় কোনো অপমান আমার গায়ে লাগে না। তবে কোনো অপমানই আমার গায়ে লাগে না কথাটা ভুল বললাম। ছেলেমেয়ের অপমান গায়ে লাগে।
আমার মেজো মেয়ে শীলা ইকনমিক্সে প্রথম শ্রেণীতে এম এ ডিগ্রি পাওয়ার পর তাকে মিষ্টি এবং ফুল পাঠালাম। সে তা ফেরত পাঠাল। সঙ্গে একটা চিঠি— ভুল করে মিষ্টির প্যাকেট খুলে একটা মিষ্টি খেয়ে ফেলেছি। সরি।
সব মানুষকে তার দীর্ঘ বা স্বল্প জীবনে নানান অপমানের ভেতর দিয়ে যেতে হয়। অপমান আগুণের মতো, মানুষকে শুদ্ধ এবং পবিত্র করে।
বই:

ফাউন্টেনপেন
লেখক: হুমায়ূন আহমেদ

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...