সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কালো জাদুকর

 অনেকেই বলে, ভাই আপনি আফ্রিকান কালো জাদু নিয়ে কিছু লিখুন।


বললেই হল ? আমি কি ওদের বাপতি কালের চাকর ?   বললেই লিখব ?  মোটেও না।

 তারপরও   কিছু কথা মনে পড়ে গেল ।

একবার নিঝুম এক গ্রামের ভেতরে বসে ছিলাম ।সামনে কতগুলো কুঁড়ে ঘর। কাঠের এক টুলে বসে আছি।  গ্রামের এক ওঝা সামনে বসে । নাম- বাঁটু। কথা বলছিলাম দুই জনে।

পাশেই খেলছিল দুই বছরের একটা পিচ্চি বাচ্চা মেয়ে। একদম নগ্ন। কয়েকটা বিচিত্র রঙিন নুড়ি পাথর নিয়ে খেলছিল পিচ্চিটা।উপরে ছুড়ে দিচ্ছিল। আবার লুফে নিচ্ছিল।

হঠাৎ খিল খিল করে হেসে ফেলল পিচ্চি। কারন বাঁটুর মাথায় নুড়ি পাথর পড়েছে কয়েকটা।

তেড়ে মারতে গেল ওকে বাঁটু।

পিচ্চি মেয়েটা দৌড় দিল বাড়ির পিছনে। ওর মা লোহার একটা কেতলিতে পানি গরম করছে, রান্না করবে।

দৌড়ে মায়ের সামনে পৌঁছে গেল পিচ্চি। বাঁটুও ওকে প্রায় ধরে ফেলেছে।দুর্ঘটনাটা তখনই ঘটলো।

পিচ্চিটার হাত লেগেই উল্টে গেল কেতলিটা। পড়লো ওর শরীরে।দৌড়ে গিয়ে ধরলাম।

 মুখ ,বুক আর একটা হাত এত কুৎসিত ভাবে ঝলসে গেছে যে তাকাতে পারছি না ওর দিকে।

আহা। মাথা নেড়ে একটা মাত্র শব্দ করল বাঁটু। তারপর  ব্যস্ত হয়ে পড়ল নিজের কাজে।পানি রাখার কাঁচের একটা বোতল ছিল আমার। তুলে নিল সেটা। পাথরের উপর আছাড় মেরে বোতলটা ভাঙল। ভাঙ্গা কাঁচের টুকরোগুলো থেকে বেছে একটা তুলে নিল। যেটা ঝিনুকের মত বড় আর প্রায় রেজর ব্লেডের মত ধার।

রেজর ব্লেডের মত ধারাল কাঁচের টুকরো দিয়ে নিজের হাতে পোঁচ দিল বাঁটু।

কনুই থেকে কবজি পযন্ত। গভীর ক্ষত থেকে উজ্জ্বল লাল রক্ত বের হয়ে এলো।বাচ্চাটার পোড়া ক্ষতস্থানে টপ টপ করে পড়তে দিল গরম রক্তের ফোঁটা গুলো।

পিচ্চি যন্ত্রণায় চেঁচাচ্ছিল। বাঁটু ওর কাজ চালিয়ে গেল। প্রত্যেকটা ক্ষতস্থানে রক্ত ঢেলে দিয়ে নিজের আঙ্গুল দিয়ে রক্তগুলো লেপটে দিল সুন্দর করে।বাচ্চার মা পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। চিন্তায় মুখ শুকিয়ে গেছে।

সাদা কাপড় নিয়ে এসো তো।’  হুকুম দিল বাঁটু  ।  একদম পরিষ্কার হতে হবে কিন্তু ।"

বাচ্চার মা ফিরে এলো। হাতে চার টুকরো সাদা কাপড়। বস্তার টুকরো। একদম পরিষ্কার।

পোড়া জায়গাগুলোতে সুন্দর করে ব্যান্ডেজ করে দিল বাঁটু।

তারপর পিচ্চির মায়ের উদ্দেশ্যে বলল,' বাচ্চাটা এখন ঘুমাবে।মরার মত ঘুমাবে।ব্যান্ডেজ খুলবে না। চুলকাতে দেবে না। ব্যান্ডেজের মত ব্যান্ডেজ থাকুক। আমি ফিরে এসে খুলে দেব।

বাঁটু ফিরে এসেছিল।

তিন সপ্তাহ পরে।

আমার সামনেই ব্যান্ডেজ খুলল পিচ্চি মেয়েটার।

ব্যান্ডেজের নীচে উজ্জ্বল নতুন গোলাপি চামড়া। পোড়া বা ফোস্কার কোন চিহ্ন নেই।

কোন দাগ নেই!’  অবাক হলাম ।

বাঁটু বিরক্ত হয়ে আমার দিকে তাকাল। শান্ত গলায় বলল , ‘ আমি সাদা চামড়ার ডাক্তারদের সব সময় বলি রক্ত হচ্ছে সেরা ওষুধ। ওরা আমার কথা বিশ্বাস করে না। মুখে অবশ্য হু হা করে। কিন্তু তাতে কি? যখন থেকে আকাশে চাঁদ উঠত তখন থেকেই রক্ত সেরা ওষুধ। চরম সত্য।

একবার পায়ের গুলফ না গোছা কি বলে সেখানে ব্যাথা পেয়েছিলাম। ভুগছিলাম বেশ। তখন কাপোগণি নামে এক আফ্রিকান ওঝা আমার চিকিৎসা করেছিল।নোংরা , হালুয়ার মত কুৎসিত কি একটা মলম জাতীয় জিনিস দিয়ে আমার পা মালিশ করে দিয়েছিল কাপোগনি। এত দ্রুত ব্যাথা সেরে গিয়েছিল যে বেশ অবাকই হয়েছিলাম।

হাজার চেষ্টা করেও জানতে পারিনি মলমটা কি দিয়ে সে বানিয়েছে।মুখে ছিপি এঁটে ছিল কাপোগনি।

বলবে না সে।

তবে,  আমাকে সেই মলমের খানিকটা নমুনা দিয়েছিল ।সাউথ আফ্রিকা যাবার সময় সেই মলম আমি নিয়ে গিয়ে পরিচিত এক ডাক্তারকে দেখালাম। ডাক্তার সাহেব ব্রিটিশ আর্মির অবসর প্রাপ্ত অফিসার। দারুন মাই ডিয়ার টাইপের মানুষ।

কয়েক দিন পর ডাক্তার সাহেবের সাথে দেখা হল।

জানতে চাইলাম জিনিসটা আসলে কি ?

ডাক্তার সাহেব দরাজ গলায় বললেন,  ‘ওটা হচ্ছে, একক্সাকম সলিনি লিকুইড"

সহজ করে বলেন ভাই।’  বিরক্ত হয়ে তম্বা মুখে বললাম।

আলুর মলম।’  ডাক্তার সহজ করে বলল। কাঁচা গোল আলুর সাথে তেল  মেশান।

আলু ?’

"আলুতে পটাশ সল্ট থাকে। ওটাই পা ব্যাথার আরোগ্যের উপাদান।"

আজব একটা ব্যাপার ডাক্তার ।’  বললাম। " একবার আমার পরিচিত  একজনকে এক মাসাই ওঝা সুস্থ করে তুলেছিল। লোকটা বহু দিন ধরে পেটে ফিতা কৃমি বয়ে বেড়াচ্ছিল। কিন্তু অনেক সাদা চামড়ার ডাক্তার সেই রোগীকে ভাল করতে পারেনি।

" হতে পারে তোমার সেই রোগী সাদা চামড়ার ডাক্তারদের কথা কানে  দেয়নি। ভাল মত শোনেনি।" বলল ডাক্তার  "আমি বাজি ধরে বলতে পারি  তোমার সেই ওঝা তার রোগীকে কুমড়ার দানা পিষে খেতে দিয়েছিল। সেই সাথে টানা উপবাস ।"

"হ্যা,তিন দিন টানা উপবাস।' স্বীকার করলাম।

"তাই তো বললাম।' ডাক্তার ভাব ধরল।’  শরীরের ভেতরের যে কোন ধরনের কীটের জন্য কুমড়ার দানা আদর্শ। কারন কুমড়ার দানাতে রয়েছে অলিন, প্লেমেটিন, স্তেরিন, গ্লাইসারিড অব লাইনোনিসিক অ্যাসিড..."

"বুঝেছি বুঝেছি।" দ্রুত ডাক্তারকে থামালাম। নইলে কানের পোকা বের করে ফেলবে ক্লাস নিতে নিতে। " আচ্ছা আমি যদি আদিবাসিদের ওষুধগুলো সংগ্রহ করে তোমার কাছে আনি তবে তুমি সে গুলোর উপাদানগুলো চিনতে পারবে না? মানে কি কি উপাদান এতে আছে সেটা বের করতে পারবে ?"

" অবশ্যই। আদিবাসীদের ওষুধের সাথে সাদা ডাক্তারদের দেয়া ওষুধের  বলতে গেলে কোন তফাৎ ই  নেই। আমার যত টুকু সম্ভব আমি করব। কে জানে আমিও হয়তো নতুন কিছু শিখব।"

হাসি মুখে জবাব দিল ডাক্তার।

সেই থেকেই  আফ্রিকার ওঝা আর কালো জাদুকরদের পিছু লাগলাম।শুরু  করলাম কালো জাদুকরের আবাদ।

আদিবাসীদের সর্দারগুলোকে ধরলাম,  ওঝার খোঁজ দিতে।কারন মাসাই গোত্রের যত ওঝা দরকার হয় দলের সর্দারই  তাদের স্লাপাই দেয়।ভাল ওঝা যেমন পেলাম, বদমায়েশ আর বদের হাড্ডিও পেলাম তেমনই।

আফ্রিকাতে আমার যত মজার অভিজ্ঞতা হয়েছে তার বেশির ভাগই হয়েছে এই ওঝা খুঁজতে গিয়ে।

একটা জিনিস আবিষ্কার করে অবাক হলাম। জংলি এই ওঝাগুলো কিন্তু শহরের বড় বড় ডিগ্রী ধারি ডাক্তারদের চেয়ে কোন অংশে কম না।

আমার মনে হয়,  সাদা ডাক্তার আর জাদুকর ওঝাদের দেয়া ওষুধ আর পথ্য একটা তরিকায় কাজ করে রোগীর উপর। সেটা হল, বিশ্বাস।রোগী যখন বিশ্বাস করে অমুক ডাক্তারের বা ওঝার দেয়া নিদানে আমি ভাল হয়ে যাব তখন সে ভাল হয়ে যায়। নইলে যত বড় ডাক্তার হোক বা বস্তা ভর্তি ওষুধ দেয়া হোক রোগী মোটেও ভাল হবে না।

যেমন,  এক ওঝা আমাকে বলেছিল, ‘ বুঝলেন এক বার এক রোগীকে সাদা পানি দিলাম ওষুধ হিসাবে। খেল। রোগী মোটেও ভাল হল না। লাল রঙের পানি দিলাম।একটু ভাল হল । শেষে বিরক্ত হয়ে কালো আর বাজে গন্ধ ওয়ালা পানি দিলাম।এই বার রোগী চটপট সুস্থ হয়ে গেল। সেই থেকে রোগী পেলেই বাজে ময়লা পানি দেই ওষুধ হিসাবে। বললে বিশ্বাস করবেন না,   ওটা  গিলেই রোগী সুস্থ হয়ে নাচতে থাকে ।

অদ্ভুত হলেও সত্যি এক সাদা ডাক্তারও আমাকে ঠিক একই রকম কথা বলল।

ডাক্তার বলল," দেখ আমার অনেক পদের রোগী আছে। সবাই কে আমি রঙিন পানি দেই। ওরা ভাল হয়ে যায় শুধু সেই রঙিন পানি গিলেই। দুই একজন ভাল হতে চায় না।স্বাদহীন পানি ওদের মনে বিশ্বাস জন্মায় না।ওদের ধারনা ওষুধ হতে হবে তেতো।বিচ্ছিরি স্বাদের।তখন বাধ্য হয়ে তেতো পানি দেই। আর যায় কোথায় সাথে সাথে রোগী সুস্থ আর চাঙ্গা হয়ে যায়।

আফ্রিকান এক ওঝা আমাকে বলেছিল, যখন কোন রোগী দীর্ঘদিন ধরে ভুগতে থাকে। ভাল হতে চায় না , তখন সে রোগীর কড়ে আঙুলের একটু অংশ কেটে ফেলে। রোগীকে ব্যাখ্যা দেয়, ব্যাথা পেয়ে শরীরের ভেতরের শয়তান ভেগে যাবে।আর কি আশ্চর্য, কাঁটা আঙ্গুল নিয়ে দ্রুত রোগী সুস্থ হয়ে উঠে। কারন বেচারা বিশ্বাস করে তার শরীরের ভেতরে শয়তান নেই।

 সাদাদের জগতেও ফেইথ হিলার ধরনের চিকিৎসা দেখেছি। পবিত্র ধর্মের নামের বা বিশ্বাসের কারনে রোগী সুস্থ হয়ে যায়।

এক আমেরিকান ডাক্তার কথা প্রসঙ্গে আমাকে বলেছিল, তার কাছে যত রোগী  আসে বিশেষ করে ৮০% মহিলা রোগীর কোন অসুখ নেই আসলে।বিলকুল সুস্থ। কিন্তু তাদের দাবি তারা হরেক ধরনের অসুখে ভুগছে।যতই তর্ক করতেন কোন লাভ হত না। নিজেদের রোগীই ভাবত তারা।আসলে সব ধরনের রোগের জন্ম হয় মন থেকে। পেট ব্যাথা হতে হার্টের যাবতীয় রোগ , ডায়াবেটিকস , অ্যালার্জি, জ্বর গেঁটে বাত, হাপানি অমন হাজার পদের রোগর জন্য দায়ী আমাদের মন এবং মানসিক অবস্থা।  

আদিবাসীদের অনেকগুলো গোত্রের মধ্যে সিংহ আর চিতাবাঘের কলজে খাওয়ার রীতি প্রচলিত আছে। এতে নাকি সাহস বাড়ে। যেমনটা আমেরিকা আর ইউরোপের লোকদের মধ্যে দেখেছি ওরা মাছ খায়। বিশ্বাস করে ব্রেইন বাড়বে। সিংহের কলজের সাথে সাহসের কোন সম্পক নেই। তেমনি মাছের  তেমন দক্ষ ভুমিকা নেই ব্রেইন বাড়ানোর কাজে। তারপরও ওরা খায়।

আফ্রিকার আদিবাসীদের মধ্যে জুলুরা বেশি সিংহের কলজে খায় । মজার ব্যাপার হচ্ছে ওরা সাহসী যোদ্ধা হিসাবে বেশ পরিচিত।তেমনি হাজার হাজার সাদা চামড়ার ছেলে পিলে মাছ খায়  এবং  জরিপে দেখা গেছে যারা মাছ বেশি খায় তাদের বুদ্ধি তুলনা মূলক ভাবে বেশি!

 আধুনিক চিকিৎসাতেও কত রকম ভুং ভাং চালু হয়েছে। যেমন,  চুম্বক পানি।এতে কি কাজ হয় কে জানে ?

তবে মনে হয়  বিশ্বাসের জন্য  রোগী  ভাল হয়ে যায়।তবে রোগটা যখন জীবাণুর আক্রমণে বা পুষ্টির অভাবে হয় তখন কিন্তু এই সব ভুং ভাং বা টোটকা দিয়ে কাজ হয় না। ভিটামিন বা অ্যান্টি বায়োটিক তখন লাগবেই লাগবে।আপনার শরীরে যদি ভিটামিন A -র দরকার হয় তবে যতই প্রাথনা করেন বা মনে বিশ্বাস রাখেন,  একটুও কাজ হবে না। তখন মাত্র এক টুকরো গাজর খেলে ফল পাওয়া যাবে হাজার গুন বেশি।

 তবে পরিচিত বুড়ো ডাক্তার ব্রায়ানের মতে, যতই ভিটামিন খান ,  তাতে মানিসিক চাপ  কমবে না। আমার ব্যক্তিগত অভিমত হচ্ছে, রোগ থেকে সুস্থ হতে হলে ওষুধ আর মনের জোর দুটোই দরকার।

সাধারন লোকজন মনে করে আফ্রিকান এই জাদুকর ওঝারা বোধ হয় হরেক রকম ভৌতিক আর আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারি। ওদের অনেকে বোধহয় শয়তানের সাগরেদ।

ব্যাপারটা কিন্তু মোটেও সেই রকম না।

তবে কিছু কিছু ওঝা বিশ্বাস করে খারাপ আর দুষ্ট আত্মা ওদের জীবন নিয়ন্ত্রন করে।

সাদা চামড়ার ডাক্তারদের মধ্যে যে সবাই ভাল তা নয় কিন্তু। সাদা চামড়ার ডাক্তারদের অনেকেই শয়তানের বাপ।টাকার জন্য রোগীদের সাথে কি না করে। ওষুধ কোম্পানি আর হাসপাতালের মুনাফার জন্য ওরা পাগল হয়ে যায় যেন।

 আদিবাসী জংলি ওঝা আর কালো জাদুকরেরা যে সব পথ্য আর নিদান দেয় সেগুলো এক দম খারাপ না কিন্তু।

বেশির ভাগ ওষুধ তারা বানায় সবজী, ফল আর ফুল থেকে। যেমন কারো বাত হলে ওঝারা সেই ফোলা জায়গায় একটা মলম মালিশ করে দেয়। ঐ মলমটা বানায় শিমের ফুল আর কুঁড়ি থেঁতলে। জ্বর হলে শিম গাছের কচি সবুজ ছাল থেঁতলে সেদ্ধ করে কিম্ভুত লাল চায়ের মত একটা পানীয় বানায়।কয়েক মগ সেই চা খেলেই জ্বর ভাল হয়ে যায়।

শারিরীক দুর্বলতা বা শরীর নিস্তেজ হয়ে গেলে সেদ্ধ করা বীটের জুস দেয়া হয়। রোজ চার কাপ করে। যতদিন না সন্তোষ জনক ফল পাওয়া না যায়।দিতেই থাকে ।  ভয়াল রকমের ইনফ্লুয়েঞ্জা বা জ্বর টর হলে লাল মরিচ সেদ্ধ করে সেই তরলে সামান্য একটু লবণ দিয়ে স্যুপ বানিয়ে রোগীকে খেতে দেয়া হয়। অনেক ওঝা সেই স্যুপে সামান্য তালের মদ ও দেয়। জিনিসটা খারাপ না।হাড়ের গাঁটে গাঁটে ব্যাথা হলে সেলারি (এক ধরনের সবজী, কাঁচা খাওয়া যায়)সেদ্ধ করে ঘন একটা পানীয় বানান হয়। তিন পোয়া করে প্রত্যেক দিন সেটা রোগীকে দেয়া হয়।

স্কার্ভি হলে রসুন সেদ্ধ করে সেই পানি খাওয়ান হয়।রক্ত আমাশা হলে কিসমিস সেদ্ধ করে ঘন একটা সিরাপের মত বানিয়ে পথ্য হিসাবে রোগীকে খাওয়ায়। গল স্টোন বা পাথুরে রোগ হলে জলপাইয়ের তেল খাওয়ায় কবিরাজ।

গলার ভেতরে ঘা হলে পিঁয়াজের রসের সাথে চিনি মিশিয়ে খাওয়ায়।

অনিদ্রা হলে গরম দুধের সাথে পিঁয়াজের রস ঘুঁটা দিয়ে পথ্য বানানো হয় ।

 আমার সমস্যা আর সব আম জনতার মতই। যে জিনিসটা ভাল বুঝি না সেটার প্রতি ভক্তি অনেক গাঢ়। টোটকার চেয়ে বোতলের ওষুধ বেশি ভাল লাগে তাই।বাটুল ধরনের বোতল, সাথে চমৎকার লেবেল সাঁটানো। সেখানে বড় বড় কথা লেখা থাকলে মনটা নরম হয়ে যায়।লেবেলে যদি সাদামাটা ভাবে লেখা থাকে " রসুনের তেল" তবে ওষুধের প্রতি ভক্তি তত গাঢ় হয় না।

যারা খারাপ ওঝা মানে জাদুকর তারা যতটা না রোগীর সেবা যত্নে সময় ব্যয় করে তারচেয়ে বেশি সময় ব্যয় করে ধর্ম চর্চা আর রাজনৈতিক দলাদলির মধ্যে দিয়ে পরিবেশ ঘোলা করতে।রাজনৈতিক দলাদলি মানে দলের সর্দারদের সাথে লেপটা লেপটি করে তোষামোদ করে নিজের আখের গুছিয়ে নেয় এই সব ওঝারা।

 ওঝাদের প্রায় সবাই দাবি করে তাদের সুপার ন্যাচারাল ক্ষমতা আছে।আর সেই ক্ষমতা ব্যবহার করে ইচ্ছে করলেই যে কারো মৃত্যু ডেকে আনতে পারে।এই জাদুকররা তাদের সাগরেদ আর সহজ সরল গ্রামবাসীদের ভয়ের জালে আছন্ন করে নিয়ন্ত্রন করে। ফালতু তুকতাক করে নিজের সাগরেদদের মোহিত করার চেষ্টা করে সব সময়।কথায় কথায় বেশির ভাগ ওঝা অভিশাপের ভয় দেখায়। আর সেই ভয়ে অন্য সবাই বাধ্য হয়ে তার কথা মেনে নিত।

মাসাইদের মধ্যে একটা জিনিস দেখে অবাক হয়েছি। কেউ কোন সমস্যা বা বিপদে পড়লে বা অসুখে পড়লেও ভাবত অমুক ওঝা তাকে অভিশাপ দিয়েছে ।

 খারাপ ওঝা মানে কালো জাদুকরেরাই যে নিরীহ মানুষজনদের ভোগাত ব্যাপারটা কিন্তু তেমন না।

যেমন কেনিয়ার কিকিয়ু (Kikuyu) গোত্রে কিছু ধার্মিক দল ছিল। চমৎকার সব নাম সেই সব ধার্মিক দলগুলোর। যেমন- ঈশ্বরের মানুষ, পবিত্র ভূতের সংঘ, যীশু খৃস্টের সংঘ, এমসাম্বা গুপ্তচক্র, মুক্তিফৌজ, জিহোভার সাক্ষীগণ,মেথডিসট ( চালস এবং জন অয়েলসি সাহেবদের তৈরি করা খৃস্টান ধর্মের অন্য একটা শাখা), সাত দিনের অগ্রদুত...। দলের অভাব নেই।নামের অভাব নেই।

তো এই ধার্মিক দল গুলোও সাধারন মানুষজনকে ভালই ত্যাক্ত বিরক্ত করতো। এই সব দল গুলোর চমৎকার সব শ্লোগান ছিল। একটা বলি ?

যেমন- "সময় এসে গেছে ।এসো সাদা মানুষদের রক্তে গোসল করি। কালদের রক্তেও গোসল করব। যে সব কালোরা আমাদের বাঁধা দেবে। বন্ধুরা আমরা অপেক্ষা করছি কেন ? "

কি রক্ত গরম করা শ্লোগান রে ভাই।

 কেনিয়ার প্রত্যেক গোত্রের নেতা, সর্দার বা রাজা গোপনে কোন না কোন গুপ্ত সংঘের সদস্য হত।

এই রাজনীতি আর ধর্ম মিলে অদ্ভুত এক জগা খিচুড়ি মার্কা পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। সাদা চামড়ার মানুষদের জীবন থাকতো ঝুঁকির মধ্যে। খারাপ ওঝা অর্থাৎ সেই কালো জাদুকরেরা সব সময় রাজনৈতিক নেতা আর গুপ্ত সংঘের  নেতাদের দিয়ে ব্যবহৃত হত। কৌশলে।তবে কালো জাদুকরেরা খুব কম সময়ই রাজদ্রোহ বা অন্য কোন বিদ্রোহে অংশ গ্রহন করতো। আফ্রিকার সব লড়াই হত ক্ষমতা দখলের জন্য।

পরাজিত পক্ষ জঙ্গলে লুকিয়ে পড়তো।অপেক্ষা করতো। সময় আর সুযোগ পেলে আবার আক্রমন করবে।আর এই দিকে পরাজিত শত্রুদের নিরপরাধ আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধবদের পাইকারি ভাবে খুন করা হত। ওদের মাংস রক্তের সাথে জ্বাল দিয়ে ভুনা ভুনা করে খাওয়া হত।  

বেশির ভাগ সময় শত্রু জীবিত থাকতেই শরীর থেকে মাংস কেটে নেয়া হত।সেই মাংসের স্বাদ নাকি অনেক গুন বেশি হয়। আবার শত্রুর রক্ত জ্বাল দিয়ে মলম বানাত ওঝারা।ওঝারা অবশ্য সরাসরি খুন খারাবিতে অংশ গ্রহণ করতো না। তার পক্ষ থেকে সর্দারের লোক জন করত। ওঝা শুধু মাংস আর রক্ত জ্বাল দিয়ে প্রচুর পরিমাণে মলম বানিয়ে রাখত। পরে পথ্য বানাবে। এই বিদঘুঁটে কাজের জন্য ব্রিটিশ সরকার সেই সময় প্রচুর ওঝাদের ধরে ধরে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে।

১৯৫২ সালেই কমপক্ষে ১৫ জনকে লটকানো হয়েছিল। সেই সময়ের নথিপত্রে  লেখা হয়েছিল- ওষুধ খুনিদের ফাঁসি দেয়া হল।

বতসোয়ানাতে প্রচুর ওঝা পেয়েছিলাম।

ওরা বেশ ভাল। শুধু চিকিৎসা করতে চায়। কালো জাদুকর হতে চায় না।

 একটা মজার ব্যাপার কি জানেন? আফ্রিকার সব ওঝা আর কালো জাদুকরেরা একটা ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ। সেটা হল, বিষ।

বিষ বিদ্যা এদের কাছে সবচেয়ে বড় বিদ্যা।গোত্রের সর্দার বা গুপ্ত সংঘের নেতারা গোপনে ওঝাদের কাছ থেকে বিষ সংগ্রহ করতো। শত্রুর বিনাশ করার জন্য।যেই বিষ ব্যবহার করে মানুষ মারা হত সেই একই বিষ পরিমাণ মত ব্যবহার করে ওষুধ হিসাবে ব্যবহার হত। বিশ্বাস হয় ? বিষ বানানোর এই বিদ্যা থাকতো গোপন। ওঝার কাছ থেকে ওঝার ছেলে শিখত।

গুপ্ত সংঘের গুরুর কাছ থেকে শিখত তার প্রিয় কোন সাগরেদ।খুবই গোপন থাকতো বিষ বানানোর এই ফর্মুলাটা।

খুবই গোপন। তারপর ও দেখা যেত প্রায় প্রতেক আদিবাসীই জানতো  কি ভাবে বিষ বানাতে হয়।

 তীর বা বর্ষার ফলায় মাখানর জন্য বিষ দরকার হত।

নিদিষ্ট কয়েকটা গাছের বাকল বা শেকড় সেদ্ধ করে বানাত ওরা।সেদ্ধ করতে করতে করতে করতে যখন কালচে থিকে থিকে ঝোলা গুড়ের মত হত তখন খুব সাবধানে বর্শা বা তীরের ফলায় বিষ মাখাত। টাটকা অবস্থায় এই বিষ এক ঘণ্টার মধ্যে একটা হাতিকে মেরে ফেলতে পারতো।ছোট খাট জন্তু মিনিট খানেকের মধ্যে।

বিষটা যত পুরানো হবে তত এর ক্ষমতা দুর্বল হতে থাকবে।আবার খোলা অবস্থায় বিষটা রাখা যাবে না।

শুকিয়ে ভঙ্কুর হয়ে যাবে। কোন পাত্রে ঢাকনা দিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে। যদি বিষটা আরও শক্তিশালী বানাতে চায় কেউ ? তখন বিষে সপিয়াম মাদাগাস্কারিস নামে একটা বুনো গুল্মের রস হালকা মেশাতে হবে।

তবে সাবধান। সেই গুল্মের রস যদি কোন ভাবে এক ফোঁটাও শরীরের ক্ষতস্থানের উপর পড়ে সাথে সাথে বিষ প্রস্তুুতকারক মারা যাবে।সবচেয়ে বেশি বিষ বানাতে পারে কালাহারি মরুভূমির বুশম্যানেরা।

ওরা আসলেও জানে এই বিদ্যাটা।

অস্বীকার করার উপায় নেই। আমি সাক্ষী ।

 ফক্স গ্লভ নামে একটা গাছ আছে। বুনো। বেগুনি সাদা ফুল ধরে।এই গাছের ছাল থেকেও বিষ বানানো যায়। তাছাড়া সাপের বিষ আর তেঁতুল বিছের বিষও সংগ্রহ করা যায় হরেক কায়দা করে।

নেগতুয়েনি (Ngotuane) নামের একটা গাছে সুন্দর হলুদ রঙের ফুল হয়।সেই ফুল পানিতে ভিজিয়ে রাখলে সেই পানিই বিষ হয়ে যায়। দারুন কাজ দেয়। ব্যবহার করলে ব্যাথাহীন মৃত্যু হয় ভিকটিমের।আফ্রিকান মরুভূমিতে এক রকম গোলাপ গাছ জন্মে। মরু গোলাপ।এর সুন্দর সাদা এর গোলাপি রঙের ফুলগুলো যে বিষ বানানোর কাজে ব্যবহার যায় কয়জন আমরা সেই কথা জানি ?

এখানে একটা কথা না বলে পারছি না।

শুধু বিষ দিয়েই যে কাউকে হত্যা করা সম্ভব তা কিন্তু না। ভুল পথ্য দিয়েও মানুষকে খুন করা যায়। কেউ জানতেও পারবে না।  রাজা দ্বিতীয় চার্লসকে তারই চিকিৎসকরা ভুল ওষুধ দিয়ে পরিকল্পনা করে খুন করেছিল। কে না জানে ? জিনিসটা ছিল-পুদিনা পাতা, দারুচিনি, এলাচি, বীটের শেকড়, লবণ, মিষ্টি আলমণ্ড , এমন হাবি জাবি সাধারন কিছু জিনিস সেদ্ধ করে সেই পানি নিয়মিত দুই বেলা রাজাকে খাওয়ান হত। তাতেই অক্কা পেয়েছিল রাজা চার্লস।

বিশ্বাস হয় ?

 বৈদ্য বা ওঝারা বেশ ভাল কাজই দেখায় মাঝে মাঝে।

তবে জীবাণু বা সংক্রমণ ধরনের কোন অসুখের ব্যাপারে ওদের কোন অভজ্ঞতা নেই।

মরা মানুষের মাংস খেলে মৃত মানুষের গুণাবলী আপনার ভেতরে যাবে এমন বিদঘুঁটে ধারনা এই ফাজিল ওঝাা আর কালো জাদুকরেরাই করেছিল। অনেকেই আফ্রিকান কালো জাদু নিয়ে হাজারে বিজারে কত রকম গল্প করে।

আমি কিন্তু তেমন কিছু দেখিনি।

তবে খুব কাছের এক পরিচিত ভদ্রলোকের গল্প বলে আমার কাহিনি শেষ করছি।

ভদ্রলোকের নাম- চার্লি উইমস।পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোতে যে সব খনি আছে সেখানে প্রচুর লোকজন কাজ করে। চার্লি সেই সব খনির মালিক আর খনির শ্রমিকদের কাছে নিত্য প্রয়োজনীয় মাল সামাল সরবরাহ করতো। বেশ লাভজনক ব্যবসা। কয়েকটা মোষটানা ওয়াগনে করে চার্লির মাল চলে যেত রোডেশিয়া এলাকার পাহাড়ি খনিগুলোতে।

বেশ দুর্গম পথ। একবার যাত্রা পথে তুমুল ঝড় হল।

মাল ভর্তি বড় বড় দুটো ওয়াগন হারিয়ে গেল সেই ঝড়ে।

ক্ষতিটা এমনই হল যে চার্লি প্রায় পথের ফকির হয়ে গেল।

কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না। ওয়াগনের এক চালক চার্লিকে পরামর্শ দিল- নিজের দুর্ভাগ্য দূর করার জন্য চার্লি যেন একটা রক্ষা কবচ নেয়। কাজে দেবে।

নিয়াসাল্যান্ডের অনেক ভূতুরে ওঝা আছে যারা এই কাজ করতে পারবে।

চার্লি তাই করলো।

সেইদিন থেকেই ভদ্রলোকের ভাগ্য পরিবর্তন শুরু হল।

চার্লি অবসর নিলো ভয়ংকর রকম একজন ধনী ব্যক্তি হিসাবে।

সেই দিন থেকেই বাকি জীবন দুটো বেঁটে , কালো , কুঁজো ছায়া ছায়া শরীর সব সময় ওয়াগনের পাশে পাশে হেঁটে যেত।পথের সামনে কোন রকম বিপদ এলে সেই ছায়া দুটো সামনে চলে আসতো।

এবং ওয়াগনের মোষদুটোকে গাইড করতো। বিপদ শেষ হলেই ওরা অদৃশ্য হয়ে যেত।

চার্লি ওদের সব সময় দেখতে পেত। ওরা কখনই কোন কথা বলতো না।

৩০ ফুটের মধ্যে কোন মানুষ জন এলেই ওরা গায়েব হয়ে যেত। আর কেউ কখনও এই ছায়া মানুষ দুটোকে দেখতে পেত না।

চার্লি ওদের ভয় পেত না মোটেই। কারন চার্লি জানতো, এই পিচ্চি পিচ্চি বেঁটে ছায়া দুটো আসলে উপকারি ভাল দুটো ভূত।

 

(শেষ)


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...