নয়
একগাদা সমস্যা জোট বেঁধে আছে বারমুডার ভেতরে।
নাসার (NASA) ফটোগ্রাফার বিভাগের আর ন্যাশনাল জিওগ্রাফির ডুবুরিদের তোলা ছবি খুঁটিয়ে দেখা হয়েছে। অনেক সময় আর যত্ন নিয়ে বারমুডার সমুদ্রের তলার অগুন্তিক ছবি তোলা হয়েছে।
কিছু নেই৷
সামুদ্রিক আগাছা গুলো বাদ দিলে সাহারা মরুভূমি চেয়ে কোনও অংশের তফাত নেই বারমুডার সাগর তলার ।
গত ষাট বছর বারমুডা নিয়ে বিস্তর লেখালেখি হয়েছে। বানানো হচ্ছে শর্টফিল্ম আর হাজার ফিচার ফিল্ম । বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের রহস্য বহু বছর ধরে বই, ম্যাগাজিন , নিবন্ধ এবং টেলিভিশন এবং রেডিও টক শোতে বলা হয়েছে এবং পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
একক কাজ হিসাবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে লরেন্স ডেভিড ল্যারি কুচসে সাহেবের - দ্যা বারমুডা ট্রায়াঙ্গল মিসট্রি সলভ বইটা।
কুচসে সাহেব অ্যারিজোনা ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। অনেক সময় নিয়ে , নানান জায়গা থেকে খেটে পেটে তথ্য জোগাড় করে বইটা লিখেছেন।
তিনি কোস্ট গার্ড, বিমান বাহিনী, লন্ডনের লয়েডস এবং অন্যান্য অনেক সংস্থার সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। বিভিন্ন শহর থেকে সংবাদপত্রের মাইক্রোফিল্ম কপি পেয়েছিলেন যেখানে বারমুডার
বিভিন্ন ঘটনার রিপোর্ট করা হয়েছিল৷
উনার এই একক গবেষণার ফলাফল ছিল অপ্রত্যাশিত । এর ফলে দ্য বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল মিস্ট্রি-সলভড প্রকাশিত হয়েছে, যেটি এখন ও নতুন মুদ্রণে ফিরে এসেছে এতগুলো বছর পর । ল্যারি কুচসের বইটি রহস্যের তদন্তের চেয়েও বেশি কিছু।
তাঁর মতে, বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে আসলে রহস্য বলতে কিছু নেই। সবই সাধারণ দুর্ঘটনা। সুচতুর লেখক ভদ্রলোকগন সেই কাহিনি ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বই লিখে পেট চালাচ্ছেন। কুচসে সাহেব এমন দাবিও করেন , যতগুলি জাহাজ আর বিমান হারিয়েছে বলে লেখকরা উল্লেখ করেছেন তত সংখ্যক জাহাজ বিমান হারায়নি ।
আর বহুদূর অচেনা জায়গাতে জাহাজ হারানোর পরও লেখকেরা সেই হারানো জাহাজে স্থান হিসাবে বারমুডায় তাদের নাম ঢুকিয়ে দিয়েছে।
ক্রিস্টোফার কলম্বাসের নোটবুক পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, সমুদ্রের বুকে দেখা সেই অদ্ভুত আলো মিথেন গ্যাসের কারণেও হতে পারে । অথবা স্থানীয় আদিবাসীদের নৌকার আগুন হতে পারে। নক্ষত্রের অবস্থান পরিবর্তনের কারণে ক্যাম্পাসে আচরণ ভুল মনে হতে পারে। জাহাজ বারবার চলে আটকাতে পারে কারণ সারগাসো সমুদ্র মোটেও গভীর সাগর না । শৈবালের স্তূপে জাহাজ আটকাতেই পারে ।
মড়াঘোড়ার কারণে ভূতুরে সাগর হিসাবে আগেই বিখ্যাত ছিল সেই সাগর । সেই সময়ের জাহাজের খালাসি আর নাবিকেরা ছিল কুসংস্কারাচ্ছন্ন।
অক্টোবরের ১১ তারিখ জাহাজের ডেকে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের বুকে আলোর শিখা দেখেন কলম্বাস। তার চার ঘন্টা পরই স্থলভাগে দেখা পায় জাহাজের সবাই । ইতিহাসবিদদের মতে, স্থানীয় আদিবাসীদের মশালের আলো ছাড়া আর কিছু ছিল না সেটা। সৈকতে আগুন জ্বেলেছিল।
অথবা উজ্জ্বল এক ঝাঁক মাছ হতে পারে। যে সব মাছের দঙ্গল রাতের অন্ধকারে আলো জ্বেলে শিকার করে ।
সবচেয়ে বড় কথা , কলম্বাস কী সৎ ভাবে তার লগবুক লিখেছেন ? অনেকেই সন্দেহ করেন, না কলম্বাস তেমনটা করেনি । পরবর্তী নাবিকদের বিভ্রান্ত করার জন্য কলম্বাস অমন আজগুবি কথা লিখে যেতে পারেন।
কুচসে সাহেব বিশ্বাস করেন এবং উনার বইতে স্পষ্ট করে লিখেছেন,
বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে কোন রহস্য নেই। কৃত্রিম একটা রহস্য। দীর্ঘ সময় ধরে লেখক, সাংবাদিক, মিডিয়ার লোকজন , রেডিয়োর রাতের বেলার আলোচনার অনুষ্ঠানের লোকজন এটা তৈরি করেছে ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে।
এমন কি ঘটনার সময় যারা বারমুডার আকাশে উড়ন্ত সসার দেখেছিল তাদের দাবিও আমলে আনেন না কুচসে। তার মতে ফ্লাইং সসার বলে কিছু ছিল না। দিগন্তের কাছের সূর্যের আলো বা সাগরের ঢেউয়ে ঝলসানি দৃষ্টি ভ্রম তৈরি করেছিল।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন