আট
আমাদের এই গ্রহের তিন ভাগই জল।
বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে সাগর- মহাসাগর। এর রহস্যের কতটুকু জানি আমরা ?
বলতে গেলে কিছুই না।
অসীম সমুদ্রের তলায় কি আজও থাকতে পারে জ্যান্ত কোনো সভ্যতা ?
ধরা যাক UFO বা ফ্লাইং সসারের কথা। বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের কথা আসলে
ফ্লাইং সসারের প্রসঙ্গটা আসবে না, এটা হতেই পারে না।
UFO মানে unidentified flying object যেটাকে লোকজন ফ্লাইং সসার ও বলে। জিনিসটা দেখতে তশতরী বা পিরিচের মতো তাই এই নাম।
১৯৪৭ সালে প্রথম unidentified flying object দেখে লোকজন । এরপর অহরহ দেখা গেছে। হাজার হাজার মানুষ দেখেছে।
অসংখ্য বার। হরেক জায়গায়।
উড়ন্ত সসার নামের এই জিনিসটা বেশি দেখা গেছে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এলাকাতে।
আইভান স্যানডারসনের মতে, অতীতে বারমুডার তলায় উড়ন্ত সসারের ঘাঁটি ছিল।
কারা চালায় সেই রহস্যময় গোল উড়ন্ত বাহন ?
জবাবটা হল- ভিনগ্রহে বুদ্ধিমান প্রাণীরা। সমুদ্রের জল হয়তো ওরা ব্যবহার করে জ্বালানি হিসাবে।
আর ওদের কেন ঘনঘন বারমুডা ট্র্যায়াঙ্গলের ওখানে দেখা যায় ?
হতে পারে ওখানে ইলেকট্রো ম্যাগনেটিকফিল্ড, বাতাস, তাপমাত্রা আর্দ্রতা সবই ওদের জন্য উপযোগী।
রহস্যময় এই সসারগুলো বেশিরভাগই উজ্জ্বল নীল, সবুজ, কমলা এবং সাদা রঙের আলো জ্বেলে উড়ে বেড়ায়। বাহামা দ্বীপপুঞ্জের যারা নিয়মিত ভ্রমণ করে তারা জানে গভীর রাতে সাগরের বুকে আচমকা উজ্জ্বল নীল, সবুজ, কমলা আর সাদা রঙ ঘন ঘন দেখা যায়।
হঠাৎ করে যেমন দেখা যায় তেমনই হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে যায় রাতের কালো আকাশে।
যুগ যুগ ধরে বাহামা দ্বীপপুঞ্জের মানুষজন দেখে আসছে সেই রহস্যময় আলোর নাচ। ফ্লাইং সসার চলাচলের ফলে তৈরি হতে পারে কৃত্রিম কোনও বৈদ্যুতিক চুম্বকক্ষেত্র ? দেখা দিতে পারে সবুজ কুয়াশা ?
মিথেন গ্যাসের কথা অনেকেই বলে।
বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে যে শক্তিশালী সমুদ্র স্রোত বয়ে যাচ্ছে তার ফলে হয়তো সমুদ্রের তলায় তৈরি হচ্ছে মিথেন গ্যাস। এই গ্যাস গভীর সমুদ্র থেকে উঠে আসে । সারফেসে উঠতেই মিথেনের গোল্লা ভেঙে যায়।
গ্যাসের কারনে আক্রান্ত হয় নাবিক - বৈমানিক। মস্তিষ্কের উপর চাপ সৃষ্টি হয়। দৃষ্টিভঙ্গি শিকার হয়ে দিশা হারিয়ে ফেল । মিথের গ্যাসের চাপে ডুবে যায় জাহাজ বিমান।
গ্যাসের বলয় পনেরো তলা দালানের সমান উঁচু হতে পারে বা আরও বেশি। কথা হল এত ঘনঘন মিথেন গ্যাসের গোল্লা কি সমুদ্রতল থেকে সারফেসে উঠে আসতে পারে ?
পারে।
প্রতি চারশ বছরে একবার এমন ঘটনা ঘটতে পারে। আর এই সব ক্ষেত্রে জাহাজ আক্রান্ত হতে পারে ।বিমান না।
জলের তলায় ভূমিকম্প হতে পারে। ফলে সমুদ্র উত্তাল হয়ে যেতে পারে মুহূর্তেই। ঢেউ হয়ে উঠতে পারে ৩২৫ ফুট উঁচু। এক মুহূর্তেই ।
যেমনটা হয়েছিল ১৯৮৫ সালে ১৯ সেপ্টেম্বর পশ্চিম মেক্সিকো মেক্সিকোর উপকূলে। আর এই কারণে মুহূর্তেই জাহাজ তলিয়ে যেতে পারে। সেই ঘটনায় , মেক্সিকোর সরকারি হিসাব করে দেখেছেন দুইটা পণ্যবাহী ব্যবসায়ী জাহাজ, পাঁচটা ট্রলার দু ডজন ছোট নৌকা হারিয়ে গেছে। কোনও রকম সঙ্কেত না দিয়ে। পরে আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
শান্ত সমুদ্র ফুঁসে উঠলেন যে কত ভয়ঙ্কর হতে পারে অভিজ্ঞ নাবিক মাত্রেই জানে সেটা।
আর সমুদ্রের তলায় আজও কিম্ভুত প্রাণী থাকতে পারে যার কোনও কাল্পনিক ধারণাও আমাদের নেই। সভ্য মানুষ যখন ইন্দোনেশিয়া কোমোডো ড্রাগন আর আফ্রিকার গরিলা আবিষ্কার করল, তখন যেমন হকচকিয়ে গিয়েছিল , হয়তো সে রকম রহস্যময় আর বিদঘুটে প্রাণী আজও অনাবিষ্কৃত অবস্থায় রয়েছে সাগরের তলায়।
ওরা হয়তো সর্বভুক।
সি সারপেন্টের কথা ধরা যাক।
সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে এই দানবের গল্প। সরীসৃপ আকৃতির বিশাল সাইজের মাছ এই সি সারপেন্ট । সমুদ্রের অতলের সাঁতার কেটে বেড়ায়। উঠে আসে খিদে পেলে। এই জলদানবের গল্প ছড়িয়ে আছে স্কটল্যান্ডে। লকনেস মনস্টার নামে।
সমুদ্রের দানবদের নিয়ে যত গল্পই থাকুক জায়ান্ট স্কুইডকে কেউ হারাতে পারবে না। আক্ষরিক অর্থেই জায়ান্ট স্কুইড একটা দানব ।
আপনি কল্পনা করতে পারবেন না কতটা কুৎসিত আর ভয়ঙ্কর হতে পারে এক একটা জায়ান্ট স্কুইড। ৪৩ থেকে ৬০ ফুট লম্বা হয় জায়ান্ট স্কুইডের এক একটা বাহু। ওজন হয় ২২০০ পাউনড।
আটটা বাহু কিলবিল করে যখন সারফেসে ভেসে ওঠে তখন দেখার মতো একটা দৃশ্য হয় । কলজে হিম হয়ে যায় অভিজ্ঞ জেলে আর নাবিকদের। তেড়ে এসে আক্রমণ করে বসে জায়ান্ট স্কুইড। মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে ফেলতে পারে পালতোলা কাঠের জাহাজ ।
সচরাচর সাতশ থেকে তিন হাজার ফুট গভীরে থাকে ওরা। উঠে আসে তাপমাত্রা পরিবর্তন হলে। কোনও একটা মৌসুমে ওরা মাইগ্রেট করে। তখন পাড়ি দেয় অ্যাটল্যান্টিকের সেই বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এলাকা।
গভীর সমুদ্রের আতঙ্ক মেগালোডন এর কথাও মনে রাখা দরকার। দানব আকারের সেই হাঙর। ধারণা করা হয় মেগালোডন বিলুপ্ত হয়ে গেছে বহু কাল আগেই । ফসিল দেখে বোঝা যায় এই হাঙ্গরের এক একটা দাঁত হত ছয় ইঞ্চি। বিজ্ঞানীরা মনে করেন , মোটেও বিলুপ্ত হয়ে যায়নি এই মেগালোডন । আজও ঠিক ঠাক মত আছে।
সমুদ্র নিজেই এক মহা রহস্য।
আজও।
আটলান্টিকের তলার অবস্থান বেশ নাজুক।
চারিদিকে রয়েছে বিশাল সব মহাদেশ। ইউরোপ আর এশিয়া মহাদেশের ভূ -প্লেট সারাক্ষণ চাপ দিচ্ছে আটলান্টিকের সমুদ্র তলায় । অন্যদিকে রয়েছে , মেক্সিকোর পশ্চিম দিক আর দক্ষিণ আমেরিকা। সারাক্ষণ একটা কার্পেটের মতো চাপে থাকছে আটলান্টিকের তলা।
আটলান্টিকের তলায় ম্যাপ বানাতে গিয়ে সবসময় এই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। ইকো সিস্টেম ব্যবহার করে সমুদ্রের তলায় ম্যাপ বানানো হয়। দেখা যায়, এই বছরে বানানো ম্যাপের সাথে গতবছরের ম্যাপের প্রায় কোনও মিল নেই।
এর সাথে যোগ হয়েছে , সমুদ্রের স্রোত। জলবায়ু পরিবর্তন আর পৃথিবীর আহ্নিক গতি। অ্যাটল্যান্টিকের তলার ভূ প্রকৃতি বদলায় নিরন্তর।
পৃথিবীর যে কোনও সমুদ্র তলার চেয়ে আটলান্টিকের তলা সবচেয়ে বেশি অস্থিতিশীল। বলা যেতে পারে পৃথিবীর সবচেয়ে পরিবর্তনশীল অংশ হচ্ছে অ্যাটল্যান্টিকের তলার ভূ -প্রকৃতি।
ওখানে নিয়মিত ভূমিকম্প হচ্ছে৷ সাথে যোগ হচ্ছে ডুবন্ত আগ্নেয়গিরির ম্যাগমা আর গলফ স্ট্রীমের শক্তিশালী স্রোত। সব মিলিয়ে অবস্থা খুবই খারাপ৷ তুচ্ছ একটা নড়াচড়ায় সমুদ্রের তলার হাজার স্কয়ার মাইলের ভূপ্রকৃতি পরিবর্তন হতে পারে সহজেই।
রাশিয়ান ইঞ্জিনিয়ার ডক্টর এ ,জে , ইয়েলকিন সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন, কিছু অব্যাখাত ম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি হয় বারমুডা ট্র্যায়াঙ্গল এলাকায়। প্রতি অমাবস্যা আর পূর্ণিমা। বিশেষ করে চন্দ্রগ্রহণের সময় এই এলাকার চুম্বক ক্ষেত্রের অদ্ভুত রকম পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।
ডাক্তার ডেভিড জিঙ্ক ও একই রকম দাবি করেছেন।
প্রতি বছর বিমিনি দ্বীপের সমুদ্রে এক অদ্ভুত ধরনের চুম্বক বিচ্যুতি দেখা যায়।
প্রতি বছর আগস্ট মাসের ভরা পূর্ণিমায় ঘটে এই ঘটনা।
বাহমার সমুদ্রে হঠাৎ হঠাৎ রহস্যময় উজ্জ্বল ফেনা ভর্তি সাদা জল দেখা যায়। মাইলের পর মাইল, সমুদ্রের জল সাদা হয়ে যায় কোনও কারণ ছাড়াই। মনে হয় গভীর তলদেশ থেকে উঠে আসে এই ধোঁয়াটে জলের রাশি।
প্রাচীনকাল থেকেই পালতোলা জাহাজের নাবিকরা দেখতো এই জিনিস।
দুধের মত সাদা স্রোত দেখে তাঁরা আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে যেত। বুঝতে পারতো না কী বা কেমন করে হচ্ছে ।
আধুনিক যুগে বিজ্ঞানীরা এই জল পরীক্ষা করে দেখেছে , সালফার আর লিথিয়ামের পরিমাণ অনেক বেশি এই জলে ।
নানান প্রাকৃতিক কারণে আটলান্টিসের একটা নির্দিষ্ট এলাকাতে, ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি হয়। যখন তখন । আর এই কারণেই বারমুডা ট্রায়াঙ্গল সারা পৃথিবীর আলোচিত রহস্যে পরিণত হয়েছে।
সভ্যতার শুরু থেকে কত জাতি আর তাঁদের তৈরি সভ্য নগরী হারিয়ে গেছে , ভূমিকম্প আর মহাপ্লাবনে।
পৃথিবীর প্রায় সব ধর্মে আর জাতির কিংবদন্তীতে রয়েছে কোনও না কোনও সভ্যতা হারিয়ে যাওয়ার গল্প।
নরওয়ের আদিম বাসিন্দাদের কিংবদন্তি গল্পে আছে পৃথিবীর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কথা ।
অদ্ভুত সব বর্ণনা। আকাশের সব নক্ষত্র হারিয়ে গিয়েছিল আকাশের গর্তে। পৃথিবী আবার হয়ে গিয়েছিল বেঢপ গোল। পাথর গলে পৃথিবীর বুকে হয়েছিল অসংখ্য খাঁদ। সেই খাঁদগুলিই পরে জল ভর্তি হয়ে নদী আর সমুদ্র হয়েছে।
এস্কিমোদের পুরাণ পোপল -ভু , মায়ানদের কাহিনি এমন কি বেদে ও আছে উন্নত সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কাহিনি।
আফ্রিকার কায়পো ইন্ডিয়ানদের উপকথা হতে বাইবেলে পর্যন্ত রয়েছে প্রাচীন সভ্যতা বিলুপ্ত হয়ে যাবার গল্প। আর এই সূত্র ধরে অনেকে যুক্তি দেখায় বারমুডা ট্র্যায়াঙ্গলের কারিগরি আসলে প্রাচীন কোনও সভ্য জাতি তৈরি করেছিল।
ওরা হারিয়ে গেছে। কিন্তু ওদের তৈরি করা অদ্ভুত কারিগরি দক্ষতায় বারমুডার তাঁর খেলা দেখে যাচ্ছে , যুগের পর যুগ। শতাব্দীর পর শতাব্দী।
আদিম গল্প গাঁথার সেই মহাপ্লাবন সত্যি হয়েছিল । যার বর্ণনা রয়েছে, পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেকটা ধর্মগ্রন্থ , পুরাণ , বাইবেল আর গিলগামেশের মহাকাব্যে ।
টানা বর্ষণে সারা পৃথিবী ডুবে গিয়েছিল। এমন বৃষ্টি আর পরে হয়েছিল কি না সন্দেহ।
এক সময় অনেকেই বিশ্বাস করতে চাইত না এই মহাপ্লাবনের কথা। আজকে তো এমন অনেক প্রমাণ আমাদের হাতে আছে যাতে শক্ত ভাবে দাবি করা যায় সেই প্লাবনের সপক্ষে।
আজ আমাদের জানার কোনও উপায় নেই সেই প্রাচীনকাল থেকে কত সভ্যতা হারিয়ে গেছে। উন্নতির কোনও স্তরে পৌঁছে গিয়েছিল তারা। তাদের কোন চিহ্ন কী রয়ে গেছে? আজও যা আমরা ধরতে পারছিনা।
আরও একটা জিনিস রয়েছে। সেটা হল আর্থ ম্যাগনেটিক ফিল্ড। পৃথিবী তার নিজের মেরুদণ্ড বা অক্ষ দণ্ডের উপর ঘুরপাক খাচ্ছে ২৪ ঘণ্টা । তাতে দিনরাত হচ্ছে । আর এই আহ্নিক গতির কারণে পৃথিবীর নীজেই একটা চুম্বক বলয় তৈরি হচ্ছে। সেটাই আর্থ ম্যাগনেটিক ফিল্ড ।
আর এই ম্যাগনেটিক ফিল্ডটা স্থান বদলায়।
এটাও হতে পারে বারমুডার রহস্যের কারণ।
গত পাঁচ সাত হাজার বছরের মানব সভ্যতার কাহিনি কতটুকু জানি আমরা ? আজও জানতে পারিনি পিরামিড বানানো মিশরের সভ্যতার কথা। কীভাবে বিশাল সব পিরামিড বানিয়ে হারিয়ে গেল ওরা রহস্যময় ভাবে ?
আজও জানতে পারিনি মায়া সভ্যতার সবটুকু রহস্যের কথা। যাঁরা অমন ক্যালেন্ডার বানিয়েছিল যেটা পাঁচ হাজার বছর ব্যবহার করা যায় । কোথায় আর কেন হারিয়ে গেল ওরা?
কী হয়েছিল মেসোপটেমিয়ার সভ্যতাগুলিতে ? হরপ্পা মহেঞ্জোদারো মানুষগুলিই বা গেল কোথায়?
এদের আগে কি অমন সভ্য কোন জাতি ছিল ?
পৃথিবীর ভূ প্রকৃতি কত বদলায় যুগে যুগে। আর যেখানে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন , অতীতে সেখানে ছিল গভীর নদী । কল্পনা করা যায় ?
এই মুহূর্তে বিজ্ঞানীদের হাতে যথেষ্ট প্রমাণ আছে , বারমুডা কাছে এক সময় কোনও সভ্যতা ছিল। বিমিনি পাথরের ব্লকগুলি বয়স বারো হাজারের চেয়ে বেশি। আটলান্টিকের তলায় অমন যত কৃত্রিম চারকোণা বিশাল পাথর পাওয়া গেছে সবগুলো বয়স প্রায় সমান।
অত আগে কী ভাবে এমন পাথরের নিখুঁত ব্লক বানিয়েছিল আমাদের আদি পুরুষরা ,সে এক রহস্য।
হুবহু একইরকম পাথরের ব্লক আর একটা জায়গাতে পাওয়া গেছে । লেবাননের বালবেকে ( Baalbek)। এবং কারা বা কেন এই পাথরের ব্লক তৈরি করেছিল সেটা জানা যায়নি কোনও ভাবেই৷
কী উদ্দেশ্য ছিল ? কোন প্রাসাদের অংশ ছিল ? নাকি দেয়াল। কোনও রাস্তার ব্লক ?
তা ও জানা যায়নি।
হিন্দুদের বেদে লেখা আছে, হিমালয় পর্বত জন্মের আগে ও সভ্য জাতি ছিল পৃথিবীতে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে হারিয়ে গেছে সেইসব।
বিশ্বাস করা কষ্টকর না , মহাদেশীয় প্লেট নাড়াচাড়া ফলে ভূগর্ভে হারিয়ে গেছে অতীতের কত মহান সভ্যতা। আমাদের আলোচিত আটলান্টিস হারিয়ে গেছে কোনো এক ঝড়ের রাতে । দেবতাদের অভিশাপে আকাশ থেকে আগুনের গোলা নেমে এসেছিল আটলান্টিসের উপর। সাগর হয়ে গিয়েছিল উত্তাল। ফেনা ভর্তি সমুদ্রে তলিয়ে গিয়েছিল আটলান্টিস।
হেরালড উইলকিন নামে এক লেখক তার মিস্ট্রি অভ অ্যানসেনট সাউথ আমেরিকা বইতে লিখেছেন- স্প্যানিশ আর পর্তুগিজরা দক্ষিণ আমেরিকাতে যখন প্রথম যায়, তখন স্থানীয় আদিবাসীদের মুখে বিচিত্র এক গল্প শোনে। তাঁদের উপকথা মতে , বহু কাল আগে নাকি চাঁদ আর সূর্য কয়েক সপ্তাহ জন্য হলুদ, লাল আর নীল রং হয়ে গিয়েছিল ।
এর ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে আধুনিক বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে। কোন এক সময়ে আটলান্টিকের তলা থেকে টানা কয়েকদিন ধরে বিপুল পরিমাণে মিথেন গ্যাস উঠে এসেছিল। এর প্রভাবে চাঁদ সূর্য অমন বিদঘুটে দেখা গেছে।
আর এমনটা হয়েছিল সম্ভবত মহাদেশীয় প্লেট নড়াচড়ার কারণে।
ধূমকেতু ধসে প্রাচীন সভ্যতা ধ্বংস হয়েছে এমন গল্প শুধু আটলান্টিক প্রথম নয় । ধারনা করা হয় অতীতেও অনেক বার হয়েছে ধূমকেতুর সবচেয়ে বিপর্যয় গত শতাব্দীতে হয়েছে। ১৯০৮ সালের ৩০ জুন। জায়গাটার নাম তাঙ্গুসকা, সাইবেরিয়াতে।
বিশাল জঙ্গলের সাতশ সত্তর বর্গমাইল জায়গা জুড়ে সব গাছ পালা। অদ্ভুত এক বৃত্তাকারে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।
সভ্যতার এই পর্যন্ত, এত দূর পেরিয়ে আসতে কতবার এমন ধূমকেতু এসে আঘাত করেছিল পৃথিবীর বুকে তাই বা কে জানে ?
এই কারনেই আরও একটা থিওরি চালু হয়েছে । ধুমকেতু থিয়োরি।
এই থিউরির মতে - প্রায় ১১,০০০ বছর আগে বিশাল এক ধূমকেতু এসে আছড়ে পড়েছিল সমুদ্রের বুকে। সেই ধূমকেতুটা ভর্তি ছিল অচেনা সব ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্তুপে । মহাশূন্যের অচেনা কোনও অংশ থেকে এসেছিল সেটা ।
আমাদের পরিচিত সৌরজগতে নয়, বহু দূরের কোন অঞ্চল থেকে এসেছে । বিচিত্র আর অচেনা সব ধাতু আর ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক ভর্তি। যার ফলে কম্পাস আর নেভিগেশনের যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যেত। দেখা যেত ভুতুড়ে সবুজ কুয়াশা । বিমান আর জাহাজের ইঞ্জিন কাজ করতে না ।
তারপর হারিয়ে যেত অথৈই সমুদ্রে ।
ধূমকেতু থিউরি অনেক বিশেষজ্ঞ মেনে নেন। এটারও একই ব্যাপার৷ এমন কোনও প্রমাণ নেই।
এখন এক এই বারমুডার জন্য কত রকম থিওরি জন্ম হল তারও কোনও সংখ্যায় নেই।
অনেকেই বিশ্বাস করে বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের ম্যাগনেটিক কাজ করে সেটা অতীতে হারিয়ে যাওয়া সভ্য বাসিন্দাদের কাজ । যাঁরা জ্ঞানবিজ্ঞানে আমাদের উন্নত ছিল। মহেঞ্জোদারো হরপ্পা আর মিসরীয় সভ্যতার চেয়েও বেশি উন্নত ছিল তারা। পেরুর মন্দিরের দেওয়ালে উড়ন্ত বাহনের ছবি যেমন আমাদের কাছে বিস্ময় তেমন বিস্ময়কর ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড হয়তো আবিষ্কার করেছিল তারা ।
কে জানে।
বারমুডা ট্র্যায়াঙ্গল আর উড়ন্ত সসার মানে ইউএফও, একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত।
এই রহস্যময় উড়ন্ত যানগুলি আমাদের পৃথিবীর আকাশে বহুকাল ধরে দেখা যাচ্ছে। চার হাজার বছর আগেও এদের দেখা গেছে। রোমানরা এগুলিকে বলত- আকাশের জাহাজ।
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে প্রায় সব যুগেই ওদের দেখা গেছে নানান দেশের আকাশে। তবে ১৯৪৭ সালের পর ওদের আনাগোনা বেড়ে গিয়েছে অনেক। ওরা হয়তো বুঝে গেছে সভ্যতার ক্রমবিকাশে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি সামনে । ততদিনে পৃথিবীর বুকে পারমাণবিক বোমা ফাটানো হয়েছে। এক অন্ধকার সভ্যতা প্রবেশ করেছিলাম তখন।
এত হাজার বার উড়ন্ত সসার দেখা যাওয়ার পরও ওরা রহস্য হিসাবেই রয়ে গেছে আমাদের কাছে। ডক্টর জে ম্যানসন ভ্যালেন্টাইন , দীর্ঘ গবেষণা করে দেখেছেন, বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের এলাকাতে উড়ন্ত সসার দেখা যায় সবচেয়ে বেশি।
হতে পারে ভিনগ্রহের বাসিন্দাদের জন্য এলাকাটা ক্যাচিং গ্রাউন্ড। নমুনা সংগ্রহ করে ওরা ওখান থেকে।
ফ্লাইং সসার ভিনগ্রহের বাসিন্দাদের মহাকাশযান, অনেকে আবার বিশ্বাস করে না সে কথা। তারা যুক্তি দেখায় উড়ন্ত সসারগুলো আসলে অতীতে হারিয়ে যাওয়া সভ্য বাসিন্দাদের উড়ন্ত যান । এই পৃথিবীর তৈরি।
আরেক পক্ষ মনে করে, বহিরাগত বুদ্ধিমান প্রাণীদের যান হতে পারে। হতে পারে ওরা ছিল মঙ্গল গ্রহের বাসিন্দা।
বিশ্লেষণ করলে মনে হতে পারে অতীতে মঙ্গলগ্রহে সুমহান কোনও সভ্যতা ছিল। প্রাকৃতিক কোনও দুর্যোগের ফলে ধ্বংস হয়ে গেছে সেই সভ্যতা। মঙ্গল আজও রহস্যময় আমাদের কাছে। এর দুই মেরুতে বরফ পাওয়া গেছে।
আগামী কয়েক দশকের মধ্যে ওখানে বসতি শুরু করতে পারব আমরা।
হয়তো তখন জানতে পারব অতীতে কেউ থাকত কি না সেই লাল গ্রহে। থাকলে ওরা কোথায় গেছে, কী হয়েছিলো ? ওদের কেউ এই বারমুডার ফাঁদ বানিয়েছিল কি না কে জানে !
সেই অতীতকাল থেকে বারমুডার সমুদ্রের বুকে আগুনের গোলা দেখা যেত৷ গহন রাতে ওখানে ঝিকমিক করে উঠত বিচিত্র রঙ্গিন আলো। হয়তো এই উড়ন্ত সসারের আলো দেখতে সবাই।
প্রাচীন ভারতের মহাকাব্য ভর্তি শুধু উড়ন্ত যানবাহনের কথা। রামায়ণ মহাভারতে আশ্চর্য সব বাহনের কথা লেখা আছে। যাতে মুহূর্তেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করা যায়।
এমনকি পৃথিবীর বাইরেও।
এমন সব অস্ত্রের কথা বর্ণনা আছে মহাভারতে যা পড়লে পাঠকও অবাক হয়ে যান। একেবারে আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র আর আণবিক বোমার মতো ছিল বৈদিক যুগের সেই অস্ত্র সস্ত্র।
উড়ন্ত যানগুলিকে বিমান বলত বৈদিক যুগে ।
এই বিমানে চড়ে অন্য পৃথিবীতে গিয়ে যুদ্ধ করা অদ্ভূত বর্ণনাও দেওয়া আছে ।
হতে পারে প্রাচীন ভারতের লোকজন বহির্জগতে বুদ্ধিমান প্রাণীর দেখা পেয়েছিল। জ্ঞান বিজ্ঞানের নির্দেশনা পেয়েছিল বাইরেও বুদ্ধিমান প্রাণীর কাছ থেকে।
প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, সেই মহাভারতের যুগেই ধ্বংস হয়েছিল আরেক প্রাচীন সভ্যতা , মহেঞ্জোদারো। কী ভাবে ধ্বংস হয়েছিল মহেনজোদারো আজও রহস্য। কন্সপেরিন্সি থিউরি যারা বিশ্বাস করে তাদের মতে, অতীতে পারমাণবিক বোমার আঘাতে ধ্বংস হয়েছিল সেই জনপদ।
গভীর খনন করে এখানে মাটির পাত্র আর পোড়ামাটির সিল পাওয়া গেছে। অচেনা ভাষায় কী সব লেখা? এক বর্ণ ও বোঝা যায় না। আজও পড়া সম্ভব হয়নি সেই বিচিত্র লিপি ।
আরও বড় চমক এই সব শিলালিপির সাথে প্রায় হুবহু মেলে এমন শিলালিপি পাওয়া গেছে ইস্টার আইল্যান্ডে।
কে জানে হয়তো অতীতের সব সভ্যতা একই সভ্যতা থেকে ছড়িয়ে গিয়েছিল সারা পৃথিবীতে। এমন কী ভাষা হয়তো একটাই ছিল। আজও পেরুর আদিম ভাষার সাথে আদিম সংস্কৃতি ভাষার অদ্ভুত মিল পাওয়া যায়।
রামায়ণ মহাভারতের অদ্ভুত সব বর্ণনা বেশিরভাগই বাস্তব বিবর্জিত । বানানোর কাজ। তারপরও অবাক লাগে , যখন সেই প্রাচীন মহাকাব্য আর ধর্মীয় বই গুলিতে আধুনিক বিমানের নিখুঁত বর্ণনা পাওয়া যায়। লেখা আছে বিমান চালু হলে প্রচণ্ড গর্জন করতে থাকতো ।
জোরালো এবং টেঁকসই হত বিমানের কাঠামো। লোহা আর ভিন্ন কিছু ধাতু দিয়ে বিমান বানাতে হয়। পারদ ব্যবহার করত জ্বালানি হিসাবে৷ আর এই বিমান ব্যবহার অন্য পৃথিবীতে যাওয়া যেত।
আপনার কাছে অদ্ভুত মনে হয় না ?
অবাক লাগে না ? চিন্তার খোরাক তৈরি করে না ?
মহাভারতে অদ্ভুত সব অস্ত্রের বর্ণনা দেয়া আছে।
আধুনিক লেসার রশ্মি আর। পারমাণবিক বোমার কথা মনে করিয়ে দেয়। এমন অস্ত্রের কথা উল্লেখ আছে যেটা ব্যবহার করলে নির্দিষ্ট এলাকায় টানা বারো বছর অনাবৃষ্টি করে রাখা যাবে। মাটিতে কোন ফসল জন্মাবে না । ঘাসও না।
অদ্ভুত আর ভয়ঙ্কর সেই অস্ত্র।
সবচেয়ে বড় অস্ত্রটার নাম ব্রমাস্ত্র। সব অস্ত্রগুরু নিষেধ করেছে , এই অস্ত্র যেন ব্যবহার করা না হয়। অত্যন্ত নিষ্ঠুরতার পরিচয় হবে সেটা।
ব্রহ্মাস্ত্রের বর্ণনা দেওয়া আছে-
মুহুর্তে ধোঁয়া আর আগুনের মেঘ কুণ্ডলী পাকিয়ে আকাশে উড়ে গেল এক হাজার সূর্যের উত্তাপ নিয়ে ভূমি জ্বলে উঠল । লোহার বজ্র আর ছাইয়ে ঢেকে ফেলল শহরের উপর...।
এই অস্ত্র ব্যবহারে মুহুর্তে, এক হাজার জনের মৃত্যু হয়। মৃতদেহ পর্যন্ত ছাই হয়ে যায়। যাঁরা নিরাপদ দূরত্ব থেকে বেঁচে যায়, তাঁদের মাথার চুল আর নখ খসে পড়ে। খাবার বিষাক্ত হয়ে যায়। মাটির পাত্রগুলি খামাখা ভেঙে যায়। বহু দূর দূরান্তে উড়ে বেড়ানো পাখি পালক পর্যন্ত খসে পড়ে।
আছে নারায়ণী অস্ত্রের কথা। এই অস্ত্র তাকে মেরে ফেলবে, যাঁর হাতে লোহার অস্ত্র আছে বা ধাতুর তৈরি কোন জিনিস আছে।
নারায়ণী অস্ত্রের হাত থেকে বাঁচার জন্য সবাই হাতের অস্ত্র আর বর্ম ফেলে দিয়ে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। আর তাতেই রক্ষা পেয়েছিল সবাই।
আজ থেকে ৩৫০০ বছর আগে লেখা হয়েছে এই মহাভারত। তাতে অস্ত্রের বর্ণনা...
।আগুনের কুন্ড ছুটে গেল পাণ্ডব শিবিরের দিকে। ভূমি কাপতে লাগল । প্রচণ্ড উত্তাপে হাতির পাল বিস্ফোরিত হয়ে গেল মুহূর্তে৷ হাজার যোদ্ধার মৃত্যু হল । ধোঁয়ার মেঘ কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠে গেল আকাশের দিকে।
শেষ লাইনটা হিরোশিমায় ফেলা বোমার সেই মাশরুম আকৃতির মেঘের কথা মনে করিয়ে দেয় ।
গোবি মরুভূমিতে মানুষ আর জীবজন্তুর অসংখ্য ফসিল পাওয়া গেছে। তাতে রেডিও একটিভের পরিমাণ আশ্চর্য রকমের বেশি। এই গোবি মরুভূমি কি অতীতে পুরাণে বর্ণিত শহরগুলির একটি , যা ব্রহ্মাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংস হয়েছিল ? দেবতা ইন্দ্র রথে চড়ে যে শহর গুলি ধ্বংস করেছিলেন, সেগুলির একটা ?
ডঃ হ্যাচার চিলড্রেন তার অ্যান্টি গ্র্যাভিটি হ্যান্ডবুক বইতে লিখেছেন আরও এক প্রকার বিমানের কথা উল্লেখ আছে পুরাণে। গোলাকার - দোতলা। যার বর্ণনা, তবু আমাদের ফ্লাইং সসার বা ইউএফওর কথা মনে করিয়ে দেয়।
রহস্যময় গোলাকার এই বিচিত্র যানের অস্তিত্ব আমাদের পূর্বপুরুষেরা বৈদিক যুগেই জানত । যার বর্ণনা পুরাণ আছে, বাতাসের গতিতে ছুটে চলে ওরা , প্রচণ্ড শব্দ তৈরি করার সময়।
অবিশ্বাস্য করার কোনও কারণই নেই রামায়ণ আর মহাভারতের সেই বিমান আজকের ফ্লাইং সসার ।
ধারণা করা যায় এই আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান আর প্রযুক্তি বাইরের গ্রহান্তরে বুদ্ধিমান কোনো প্রাণীর কাছ থেকে পেয়েছিল আমাদের পূর্বপুরুষেরা ।
অতীতে ওরা আসতো আমাদের গ্রহে । সেই মহাপ্লাবনের আরও আগে থেকেই। এনখের পুঁথি - দ্যা বুক অভ এনখে বর্ণনা আছে কিভাবে দেবতার পুত্র এসে পৃথিবীর মানুষকে রক্ষা করেছিল মহা প্লাবনের হাত থেকে । তারপর চলে গেছে নিজের বাসভূমি দূর তারার দেশে।
কোনও কারণে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এলাকাতে উড়ন্ত সসার ঘন ঘন দেখা যেত। অসংখ্য মানুষ দেখেছি ওদের। মাছ ধরার জেলে হতে শুরু করে আমেরিকার নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন পর্যন্ত ছিল সেই দর্শকদের মধ্যে।
কেন আসতে ওরা ?
হয়তো দেখতে আসত থেকে অতীতে ফেলে যাওয়া ওদের কোনও কীর্তি আজ কেমন আছে।
পুরনো কিংবদন্তী উপাখ্যান মিলিয়ে ধারণা করতে পারি অতীতে এমন কোনও জাতি ছিল যাদের সভ্যতার মূল ভিত্তি ছিল সমুদ্র আর জল ।
হিন্দুদের পুরাণে বলে, এক ধরনের অসুর সমুদ্রের তলায় বসবাস করত। মাঝে মাঝে সমুদ্র তলা থেকে উঠে এসে আক্রমণ করতো স্থলভাগে ।
কে জানে হয়তো সত্যিই বহিরাগত বুদ্ধিমান প্রাণীরা বসবাস করতো বারমুডার সেই রহস্যময় এলাকায় ।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন