ছয়
সব কিছুই হতে পারে সাদামাটা। ব্যাখ্যার অতীত কিছু নেই।
এমনটা বললে অনেক অনেক বারমুডা ট্রায়াঙ্গল বিশেষজ্ঞ ।
তাঁদের মতে, বারমুডা ঘটে যাওয়া প্রত্যেকটা ঘটনা সাধারণ দুর্ঘটনা ছাড়া আর কিছুই না। নাবিকের অদক্ষতার কারণে হতে পারে দুর্ঘটনা। খারাপ নেভিগেট বা ভুল রুটে জাহাজ বিমান চালিয়ে অচেনা জায়গাতে চলে যেতে পারে।
পরে ভয় পেয়ে মেসেজ দিতে পারে, জায়গা চিনতে পারছি না। বিমান চালানোর সময় মনোযোগের অভাবে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বেশির ভাগ সময় হয়তো বৈমানিক বা নাবিক নিজের ভুল জানত। কর্তৃপক্ষের ধাতানি খাওয়ার ভয়ে বা চাকরি হারানোর আশংকায় নিজের ভুল স্বীকার করত না। বরং মেসেজ পাঠাত - জায়গা চিনতে পারছে না । সমুদ্র এখানে অন্যরকম। অচেনা সাগরের জলের রঙ। পথ হারিয়ে ফেলেছি...।
ইত্যাদি ,ইত্যাদি। হ্যান ত্যান ।
বিশিষ্ট গবেষক আইভান স্যানডারসনের মতে, শুধু সেই নির্দিষ্ট এলাকাতেই জাহাজ বিমান হারিয়ে যাচ্ছে না। এলাকাটা আরও বড় । এবং এটা পুরোপুরি ত্রিভুজ ও না। অসমান্তরাল বাহুবিশিষ্ট চতুর্ভুজ বলা যায় অনেকটা লজেন্সের আকৃতি।
সাধারণভাবে পরিচিত বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের বাইরে ৪০ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ থেকে ৩০ ডিগ্রি পর্যন্ত। আর ৫৪ ডিগ্রি পশ্চিম অক্ষাংশ থেকে বেড়ে ৮৫ ডিগ্রী পর্যন্ত।
এই বাড়তি এলাকাটার নাম তিনি দিলেন- ডেভিল ট্রায়াঙ্গল।
এখানেও ওরা হারায়।
জন ওয়েলস পেনসার নামে এক লেখক- লিম্ব অভ দ্যা লস্ট আর জন গডউইন নামে এক লেখক - দিস বাফলিং ওয়ালড নামের বইতে এই এলাকার কথা উল্লেখ করে নাম দেন- ভুডু সি ।
দেখা যাচ্ছে, রহস্যটা নির্দিষ্ট একটা আকৃতির মধ্যে নেই। ত্রিভুজের বাইরেও ছড়িয়ে আছে। জাপানের উপকূলে বেশ দূরে, সমুদ্রের একটা অংশে জাহাজ হারাত সেই আদ্দ্যিকাল থেকেই । ফিলিপিনো আর জাপানি নাবিকেরা এলাকার নাম দিয়েছে- শয়তানের সাগর।
বারমুডা নিয়মিত চলাচল করে এমন জাহাজের ক্যাপ্টেন বা নাবিকেরা জানে প্রচুর দ্বীপ ছড়িয়ে আছে ওখানে। এই দ্বীপগুলি সবসময় দিক নির্দেশক চিহ্ন হিসাবে ব্যবহার করে চলাচল করত নাবিকেরা । তার পর ও জাহাজ আর বিমানগুলো যখন হারিয়ে যেত তখন কেন মেসেজ পাঠাত জায়গা চিনতে পারছে না?
এই ব্যাপারটা পরিস্কার না আজও।
আর বিমানের পাইলট যাঁরা বিপদে পড়েছিল একজনও নতুন পাইলট ছিল না। সবাই দক্ষ। স্থানীয় বৈমানিক। আকাশ পথ ভালো করেই চিনত ।
এক হাজার ঘণ্টার নীচে কারোর উড়ার অভিজ্ঞতা ছিল না।
তবে নতুন একটা তথ্য আবিষ্কার হচ্ছে ইদানীং। আকাশের উপরে মেঘের স্তর নানান রকম হয়। এই স্তর ওঠানামা করে হঠাৎ । ফলে এক স্তর থেকে একটু নীচে নেমে অন্য স্তরে গেলেই চোখের সামনে দিগন্ত নাও দেখা যেতে পারে । বা হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে দিগন্ত। তখন দক্ষ বৈমানিক ও খুব ভয় পেয়ে যেতে পারে। আর ভয়ে অনেক কিছুই হয়।
তবে আমি বিশ্বাস করি না শুধুমাত্র আতঙ্কের কারনেই একই রকম অভিজ্ঞতা হবে সবার। বিশাল মহাসাগরের নির্দিষ্ট অংশে সবুজ কুয়াশা কেন দেখবে সবাই? কেন সবার দৃষ্টি বিভ্রমের শিকার হবে? নিজের বিমানে পাশে অচেনা বস্তু ঘুরে বেড়াতে দেখবে কেন? হুবহু একই রকমের কাহিনি ফাঁদবে সবাই ?
আর সবার রেডিও কেন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে ?

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন