সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ছানা এবং পোনা

 প্রতিবেশী পারুল আপার আম্মু বেশ কয়েকটা মুরগী পোষে।

 মোরগও আছে। ওরা খুব সকাল বেলা  চিক্কুর দিয়ে বাড়ি মাথায় তুলে আমাদের জানিয়ে দেয় সকাল হয়ে যাচ্ছে।  

মুরগীদের থাকার   জন্য  নরম কাঠের তক্তা দিয়ে কেমন একটা পিচ্চি ঘরের মত করে দিয়েছে পারুল আপুর আম্মু। উপরে টিনের ছাদ ও দেয়া। হুবহু মানুষ থাকার ঘরের মত,  কিন্তু সাইজে পিচ্চি ।  

দেখলে হাসি পায়।

আবার মনে হয় আমার জন্য এমন পিচ্চি একটা ঘর বানিয়ে নিলে কেমন হয় ?

মুরগিদের ঘরটায় জানালা আছে। তারের জালি দেয়া।  ভেতরে  টিনের  একটা বাউলে সোনালী রঙের গম আর সাদা খুদ মিশিয়ে কেমন একটা  মিকচার খাবার রাখা। আবার পাশেই এক বাউলে জল।

মুরগীগুলো সারাদিন বাইরে নিজেরদের খাবার খুঁটে খুঁটে  খায়। পোকা মাকড় ঘাসের দানা যা পায় সব খায়।  আর সব বাড়ির বাসিন্দারের  রান্নাঘরের বাইরে ওরা ঘুর ঘুর করে। কিছু পাওয়ার আশায়।   কেউ কম খাবার পেলে সে এই বাসার টিনের বাউলের খাবার খায়।

 আর যে গরম। খানিক পর পর দৌড়ে এসে জল খেয়ে নেয় এক ঢোক করে।

মাঝে মধ্যে মুরগী ক্ষুদে ক্ষুদে কাঁকর খায়। ওটা পেটে গিয়ে ওর খাবার নরম করতে  সাহায়্য করে।

এই ভাবেই চলে সারাদিন।  

ঠিক সন্ধ্যার আগে পারুল আপা বা তার আম্মা,  আয়  তি- তি-তি  বলে কেমন একটা সুরে মুরগীগুলোকে ডাকে। ওরা খাওয়া , খেলা,  দৌড় ঝাঁপ ফেলে সবাই ফিরে আসে। খোঁয়াড়ের ওখানের তক্তা দিয়ে  হেঁটে হেঁটে  ভেতরে ঢুকে পড়ে। সারারাত ঘুম দেয়। ভোরে আবার আগের দিনের রুটিন।

পারুল আপুর আম্মা সারাদিন সবজী বাগান আর ঘাসের দঙ্গলের মধ্যে আতি পাঁতি করে খুঁজে  মুরগীর ডিম সংগ্রহ করেন।

ডিম জমায়। অমলেট বানিয়ে খায় না। অনেক ডিম  জমানো হলে  খড়ের গাদার মধ্যে যত্ন করে রেখে একটা মুরগী বসিয়ে দেন উপরে। ওটা নাকি  ডিমে তা দেয়া বলে।

মুরগীটা দিন রাত সেই ডিমের উপরে বসে থাকে।

কয়েক দিন পরে কি হল বললে বিশ্বাস করবে না ।

ডিমগুলো  ভেঙ্গে ভেতর থেকে উলের বলের মত তুল তুলে পিচ্চি বাবু মুরগী বের হয়ে এলো। কি অদ্ভুত। সারা উঠান ওরা শব্দ করে হেঁটে বেড়াচ্ছে। মনে হচ্ছে আস্ত কদম ফুল হেঁটে বেড়াচ্ছে।

দোকান থেকে কিসের রঙ কিনে আনল পারুল আপুর বড় ভাইয়া। সেই রঙ  টিনের বালতিতে গুলিয়ে বাবু মুরগীগুলো চুবিয়ে নিল ওরা। কোনটা হল লাল। কোনটা নীল। কোনটা হলুদ। দেখার মত জিনিস।

ওরা নাকি মুরগীর খামার করবে।   

উলের বলের মত মুরগীর ছানাগুলো দেখে ভাল লাগল। ওরা মাথা নানা দিকে কাত করে  হরেক আঙ্গেলে চারিদিকটা  দেখে। এই জন্য অনেকে ভাবে মুরগী চোখে  ভাল দেখতে পারে না।  আসলে না। মুরগী  মানুষের চেয়ে ভাল দেখতে পায়।

মানুষের চোখের কোন তিনটে রঙ ভাল দেখতে পায়। লাল- সবুজ আর নীল। মুরগী এই তিনটে তো দেখতে পায়ই আরও দুটো বেশি চোখের কোন আছে ওদের। বেগুনী আর সূর্যের অতিবেগুনী আলো। আর এই জন্যই মানুষের চেয়ে  মোরগ  এক ঘণ্টা আগে সূর্যের আলো দেখতে পারে। কাজেই খুব ভোরে মোরগ কেন চিল্লা ফাল্লা করে বোঝা গেল ?

আরও মজার ব্যাপার হল মুরগিদের নিজেদের ভাষা আছে।

জানি ,জানি শুনে পিলে চমকে গেছে।  সত্যি তাই। মোটা ত্রিশটা আলাদা আলাদা শব্দ  উচ্চারন করতে পারে মুরগী।  সেই শব্দ দিয়ে নিজেদের মধ্যে কথা বার্তা চালায় ওরা।  এমন কি ডিমে তা দেয়ার সময় মুরগী বাচ্চাদের সাথে কথা বলে। যদিও বাচ্চারা তখনও দুনিয়ায় আসেনি। ওদের  স্মরণ শক্তিও বেশ ভাল। একশো জনের বেশি মানুষের চেহারা মনে রাখতে পারে।

সমস্যা শুধু একটাই। মুরগী  মিষ্টি খাবারের স্বাদ বুঝতে পারে না। অর্থাৎ ওদের সমাজে কোন মিষ্টির দোকানের দরকার নেই।  বেশি চিন্তা করলে মাথার চুল যেমন পড়ে যায় তেমন মুরগী যখন টেনশনে থাকে ওদের পালক ঝরতে থাকে।

কবে থেকে পারুল আপারা মুরগী পোষে ? ঠিক জানি না। আমাকে বলেনি।

 তবে  ৭ হাজার বছর ধরে মানুষ  মোরগ - মুরগী পোষে।  এবং ভারত আর চিনে প্রথম মুরগী পোষা শুরু হয়েছিল। বিজ্ঞানীরা বলেন মুরগী নাকি এক ধরনের পিচ্চি ডাইনোসর।

বাপরে।

মুরগী উড়তে পারে না। তবে  সর্বোচ্চ ১৩ সেকেন্ড পযন্ত উড়তে পারে।   একটা ডিমের ভেতরে হলুদ রঙের একটাই কুসুম থাকে। জানা কথা। তবে একবার একটা ডিম ভেঙ্গে ৯টা কুসুম পাওয়া গিয়েছিল। ওটা একটা বিশ্ব রেকড।   

 একটা মুরগী বছরে ২৬৫টা ডিম দেয়। মানে হচ্ছে প্রচুর  অমলেট , ডিম তরকারি আর ডিমের ভর্তা খাওয়া যায়। আর এক ডজন ডিম দেয়ার জন্য মুরগীকে ৪ পাউনড খাবার খেতে হয়।    মুরগীর ডিম যে ধপ ধপে সাদা রঙের হয় অমন না। লালচে বা বাদামী রঙ্গের ও  হয়।

বাসায় রোজ সকালে  ডিম পোচ   করা হয়। বাবা পছন্দ করে। লবণ আর গোল মরিচের গুড়ো ছিটিয়ে খায়।  খাওয়া শেষে বাবার গোঁফে ডিমের কুসুম লেগে থাকে।  

সে এক  বিচ্ছিরি  মত  দৃশ্য।

ডিম খেতে গেলেই আমার চোখের সামনে তুলতুলে উলের বলের মত  বাচ্চাগুলোর  কথা   মনে পড়ে। । মায়ের পিছে পিছে ওরা কিচির মিচির করে  হাঁটে। মা একটা পোকা পেলে সবাই দৌড়ে যায়। সবচেয়ে ক্ষুধার্ত  বাচ্চাটার মুখে খাবার তুলে দেয় মা। নিজে না খেয়ে।

ডিম হবার পর টানা একুশ দিন খড় কুটোর উপর বসে থেকে ডিমে তা দেয়। সারাক্ষণ পাহারা দিয়ে রাখে নিজের বাচ্চাদের । যাতে ঈগল বা বাজপাখি পিচ্চি বাচ্চাদের চুরি করে নিয়ে না যায়।

কে না জানে মা সব সময় মা। নিজেরদের বাচ্চাদের জন্য সব প্রাণীই মরার আগেও চেষ্টা করে যায়। যাতে নিজেদের ছানাপোনা নিষ্ঠুর এই  পৃথিবীতে  টিকে থাকতে পারে।

হরেক রকম প্রাণী , জীব জন্তু পোকা মাকড়  বিদঘুটে পরিমাণে ডিম পারে।

ডাইনোসর নাকি একবারে ২১টার মত ডিম পারতো।  

স্যামন মাছ   এক বারে আড়াই  থেকে ৭   হাজার ডিম পারে। সংখ্যাটা বেশি মনে হতে পারে।তাই না ?

  কড মাছ ২৫ লক্ষ ডিম দেয় । কার্প জাতীয় মাছ ৩ লক্ষ ডিম পারে। কচ্ছপ ৫০ থেকে ১১০ ডিম পারে।    একটা ডিম  ১৮ ইঞ্চি পযন্ত লম্বায় হয়। ব্যাঙ ৩ হাজার  থেকে ৬ হাজার ডিম দেয়।  

 অক্টোপাস ১ লক্ষ ডিম পারে। মাকড়সা একশো ডিম পারে, সাপও একশোর মত ডিম পারে। একটা শামুক বা ঝিনুক ১০ লক্ষ ডিম পযন্ত দেয়।  

সবাই নিজেদের  বাসা  নিজেরা  বানায় ।  বাচ্চা জন্ম দেয় ।

অনেক কষ্টে বড়  করে ।

অলস দুপুরে বাড়ির ঘুলঘুলিতে চোখ রাখলে দেখতে পাবে চড়ুই পাখি কি ভাবে ওদের বাসা বানাচ্ছে। বাসা বানাতে যা যা দরকার নিজেই যোগার করে আনছে। শুকনো খড় বা ঘাসের টুকরো।

কত কায়দা করে বানাচ্ছে নিজের পিচ্চি বাসাটা।

আবার খেয়াল রাখে বৃষ্টির জল যেন বাড়ির ভেতরে না ঢুকে পরে। ঝড়ো বাতাসে যেন বাসা সহজেই ভেঙ্গে না যায়। শত্রু যেন ঢুকে পড়তে না পারে বাসার ভেতরে।

  রেড অভেন বার্ড  নামের পাখি কাদামটি লেপে লেপে সুন্দর করে বাসা বানায়। দেখে মনে হয় মাটির কিম্ভুত হাড়ি। বাড়িগুলো আবার দোতলা তিন তলা পযন্ত বানায় ওরা। সোয়াল পাখি নিজের মুখের লালা দিয়ে বাসা বানায়। মানে থুতু বলতে পার।  

এক ধরনের পিঁপড়ে আছে। বাংলায় অনেকে তাঁতি পিঁপড়ে বলে।  Weaver Ants নাম। ওরা গাছের পাতা দিয়ে দারুন করে বাসা বানায়। জিনিসটা শুরু হয় খুব সাধারন ভাবে।

এক গাঁদা শ্রমিক পিঁপড়ে সুন্দর দেখে একটা পাতা বেছে নেয়। সুন্দর মানে আসলে পাতাটা নরম হতে হবে যাতে সহজেই কার্পেটের মত গুটিয়ে রাখা যায়। পাতাটা চারিদিক ধরে ঠেসে ধরে একগাদা শ্রমিক পিঁপড়ে। আরেক দল তাদের মুখ দিয়ে সুন্দর করে সেলাই করে দেয় পাতার চারিদিকটা।

 দেখতে দেখতে কেমন ঠোঙার মত একটা বাসা হয়ে যায়। তাজ্জব ব্যাপার। বাসা বানিয়ে শেষ না। এক ধরনের পিঁপড়ে নিজেদের বাসার ভেতরে শ্যাওলার চাষ করে।  শ্যাওলা খায়।  এক ধরনের পিঁপড়ে সারা দিন গাছের পাতা কাটে। ওদের পাতা কাটুনি পিঁপড়া  ( Leaf-Cutter Ants) বলে ।   ওদের চোয়াল একদম খাঁজ কাটা রুটি কাটার চাকুর মত। ভীষণ ধার।    পাতা  কেটে নিজেদের বাসায় নিয়ে যায়।

 এটাই ওদের খাবার।

গাছ  তো  বাচ্চা দেয় না। ফল দেয়। ফলের মিষ্টি  শাঁসের ভেতরে দানা  থাকে। ফলের লোভে মানুষ আর পশু কত দূর দূরান্ত পযন্ত নিয়ে ছড়িয়ে দেয় সেই দানা । সেখান থেকেই তো গাছ জন্মে নতুন নতুন। সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে যায়।

ঘাসের দানা দেখনি ? ফেটে গিয়ে কেমন প্যারাসুটের মত উড়তে থাকে  বাও কুড়ানি হাওয়ায়। সেই ঘাসের দানা সাত সমুদ্র পাড় হয়ে চলে যায় দূরের নির্জন দ্বীপগুলোতে। তৈরি হয় ঘাসের দ্বীপ।   

স্যামন মাছের কথাই ধর।

এ এক আজব মাছ। মিষ্টি জলে থাকতে পারে। আবার নোনা জলেও থাকতে পারে। ওরা আসলে   থাকে নোনা জলে।   জন্ম নেয় মিষ্টি জলে। তারপর ফিরে আসে নোনা জলে। হাজার হাজার মাইল সাঁতার কাটে ওরা। ঠিক যেন আমাদের ইলিশ মাছের মত। সমুদ্রে থাকে। ডিম পাড়ার সময় বর্ষাকালে ঝাঁকে ঝাঁকে উজানের জল থেকে পাগলের মত দৌড়ে আসে নদীতে।

বর্ষার মউসুমে   নদীর ঘোলা জল সাগরের গেলেই  ইলিশ মাছ বুঝতে পারে, এখন নদীতে যেতে হবে ওকে।

ডিম পাড়ার সময় হলে মা স্যামন  নরম  মাটিতে ছোট ছোট গর্ত করে।  ডিম পারে। বাচ্চা বড় হলে আবার ফিরে আসে মিষ্টি জলে। বিচিত্র ওদের স্বভাব। কেন করে  অমনটা ?

কেউ জানে না। এই যাত্রা   পথ প্রায় ২৪৮৫ মাইল। এত লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে কি ভাবে বাড়ি ফিরে ওরা ?

কি ভাবে ? পথ হারায় না কেন ?

 আকাশের তারা দেখে দিক নির্ণয় করতে পারে না ওরা। সমুদ্রের স্রোত থেকেও না। কিভাবে নিজেদের বাসা চেনে ? কিভাবেই জানে ওখানে গেলে খাবার পাওয়া যাবে ?

 বিজ্ঞানীরা বলে স্যামন মাছ  পৃথিবীর ম্যাগনেটিক ফিল্ড বুঝতে পারে।  ওদের মাথার ভেতরে রয়েছে অদ্ভুত অনুভূতি। সেই  অনুভূতি  কম্পাসের মত ব্যবহার করে বাড়ি ফিরতে পারে ওরা।

বাচ্চাদের নিরাপদে জন্ম  দিয়ে পালন করে বড় করার জন্য স্যামন মাছ সারা দুনিয়ার সাগর চষে ফেলে। হাজার হাজার মাইল সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে বাজপাখি, মাছ শিকারি আর গিজলি ভাল্লুকের হাতে মারা যায় ওরা। বাচ্চা জন্ম দিয়ে বেশির ভাগ স্যামন মারা যায়। বাচ্চারা ফিরে যায় ওদের সাগরে।  যেখানে মা স্যামন থাকতো ।

  কি অদ্ভুত !

আফ্রিকান একটা মাছ ,নাম সিক্লেড ( cichlid)।  ডিম পাড়ার পর নিজের মুখেই রেখে দেয় ডিমগুলো। ১০ থেকে  ১৫ দিন লাগে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে। এরপর  আরও   দুই সপ্তাহ পিচ্চি বাচ্চা গুলো নিজের মুখের ভেতরে রেখে দেয় মা। পুরো সময়টা না খেয়ে থাকে সে। আরও বড় হলে  মুখ থেকে বাচ্চাদের উগরে দেয়।

 বাবা মাছ কিন্তু সন্তান পালনের কোন দায়িত্ব নেয় না। গায়ে বাতাস লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায়। সরি, গায়ে জল লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায়। বরং এমনও হয় খিদে পেলে নিজের বাচ্চাদের মানে সেই পোনা মাছদের খেয়ে ফেলে বাবা মাছ।

বাঘের বেলায় ও এমনটা শুনেছি। বাচ্চা হবার পর বাঘিনী নিজের বাচ্চাদের নিয়ে চলে যায় দূরে কোথাও। কোন ঘাসের বনে। কারন একই । বাবা বাঘ খিদে সহ্য করতে পারে না। খেয়ে ফেলে বাচ্চাদের।  

 আমরা যারা মানুষের বাচ্চা তারা কিন্তু অনেক ভাগ্যবান। বাবা মা আমাদের জন্য কত কষ্ট করে। তারা চায় আমরা যেন কঠিন এই পৃথিবীতে টিকে থাকতে পারি।

চেষ্টা করে ভাল ইশকুলে ভর্তি করে দিতে। ভাল খাবার দিতে। ভাল জামা দিতে। পছন্দ মত রঙ পেন্সিল কিনে দিতে। কত কি !

 অনেক সময় মনে হতে পারে বাবা মা বোধ হয় আমাদের বেশি শাসন করে।  আমার বাবা মায়ের চেয়ে বোধ হয় অমুকের বাবা মা অনেক ভাল।  অমনটা  ভাবাই বোকামি।

 ঝিনুকের  শক্ত দুই খোসার ভেতরে  মুক্তা লুকিয়ে থাকে। আমাদের বাবা মা হচ্ছে ঝিনুকের শক্ত দুই খোসা। তারা পৃথিবীর সমস্ত দুঃখ কষ্ট থেকে আমাদের আড়ালে রাখেন।

ঠিক যেন মুরগীর মত। আফ্রিকান মাছের মত। বুনো গাছের মত।

 এটাই প্রকৃতির আইন।

এই ভাবেই আমরা টিকে থাকি।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...