সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সেই আদিম পানীয়


 বিয়ার।   সুমেরীয় সংস্কৃতির  গুরুত্বপূর্ণ এক   জিনিস    

 নিছক  পানীয় ছিল  না এটা ধর্মীয় , মিথ আর পুরাণের অংশ  

নরম  কাঁদা মাটির ফলকে দরকারি জিনিস  লিখে সেটা  পুড়িয়ে রাখত ওরা পোড়া মাটির ফলক  ট্যাবলেট বলে অমন প্রচুর ট্যাবলেট পাওয়া  গেছে , বার বার বিয়ারের কথা লেখা  

ছয় হাজার বছর আগের পুরানো মাটির ফলকের আঁকা  ছবিতে দেখা যায় এরা এক সাথে বসে সুন্দর করে  বিয়ার পান করছে দুনিয়ার সবচেয়ে পুরানো বিয়ার বানানোর রেসিপি সেটা  সুমেরিয়ানদের , রেসিপির বয়স  তিন হাজার নয়শো বছর

সাঙ্ঘাতিক 

তাও আবার সুন্দর কবিতার মধ্যে লেখা কবিতাটা উৎসর্গ করা হয়েছে  দেবী নিনকাসিকে সম্মান করে  উনি   ফসল আর উর্বরতার দেবী  

কবিতায় লেখা কিভাবে সুমেরিয়ান রুটি 'বাপ্পিয়া' রের সাথে সুগন্ধি মিশিয়ে বিয়ার বানাতে হয়

মেসোপটেমিয়ায়দের বিয়ার বানানোর ব্যাপারটা নিয়ে বিজ্ঞানীরা বেশ তর্ক করে তর্কের বিষয় হচ্ছে অনেকে বিশ্বাস করে ওরা আসলে খামখাই একটা দুর্ঘটনার মধ্যে বিয়ার বানানোর কায়দা আবিস্কার করে ফেলেছে

 হয়তো কোথাও ফসল  মানে যব বা রুটি রেখে দিয়েছিল  বৃষ্টির জলে সেটা ভিজে গাঁজন না সাজন কি  বলে না ? - সেটা হয়েই বিয়ার হয়ে গিয়েছিল

 

আরেকদল বিজ্ঞানীরা বলে, না না ওরা সত্যি সত্যি বিয়ার বানানোর কায়দা আবিস্কার করেছিল 

এবং অনেক সময় বেতন হিসাবে বিয়ার দেয়া হত। মাটির ফলকের মধ্যে খাঁজ কেটে হিসাব রাখা হয়েছিল , কে কত পরিমাণ বিয়ার পাবে। 

চাকা ,লাঙ্গল আর চাষাবাদের কাজ আবিস্কার করেছিল ওরা। লিখিত আইন ছিল ওদের সভ্যতায়। ষাট সেকেন্ডে মিনিট আর ষাট মিনিটে ঘণ্টার হিসাব ওরাও করত। 

তো আসল কথায় আসি  বিয়ার  কোম্পানিগুলোর অনেকে  চেষ্টা করেছিল সুমেরিয়ানদের সেই  পুরানো রেসিপি ব্যবহার করে আবার নতুন করে সেটা বাজারজাত করার

আইডিয়া কিন্তু দারুণ দারুণ রকমের ব্যবসা করার কথা কিন্তু শেষে সত্যি সত্যি  গ্রেট লেকস ব্রুইং কোম্পানি বানিয়ে ফেলল জিনিসটা  

একদম সেইসব জিনিস,   কবিতায়  যা যা  লেখা ছিল আর কি  এমনকি সেই রকম মাটির হাড়ি পাতিল হেন তেন

সুন্দর একটা অনুষ্ঠান করে  উপস্থিত লোকজনের হাতে তুলে দেয়া হয় সেই প্রাচীন  বিয়ার

সবাই অভিযোগ করে বিয়ারটা ছিল বিচ্ছিরি রকমের টক আর  অ্যালকোহলের পরিমাণ খুব কম

মানে আজকের যুগের মানুষের মুখে সেটা  তত  লোভনীয় না

তাই বাজারে আর ছাড়া হয়নি

চেখে দেখার আফসোস রয়ে গেল আমারও

ভাবছি রেসিপি যখন আছে বাসায় চেষ্টা করব না কি ?


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...