রেস্টুরেন্ট চালাতে গেলে প্রডাক্ট জানতে হবে।
খদ্দেরে হাতে কী তুলে দিতে যাচ্ছেন সেটার ব্যাপারে স্বচ্ছ ধারনা থাকতে হবে ।
আছে হ্যাম অ্যান্ড চিজের মত সাধারণ কিন্তু ক্লাসিক জিনিস। দুই ফালি টোষ্ট করা ব্রেড, ভেতরে পাতলা হ্যাম, পনীর আর সামান্য মাখনের প্রলেপ বা মানোনেজ।
বেশ কয়েক দশক আগে আমেরিকার ইস্কুলগুলোতে দুপুরের টিফিন হিসাবে এই হ্যাম অ্যান্ড চিজ স্যান্ডউইচ দেয়া শুরু করেছিল। যখন বেসবল খেলা হত, খেলোয়াড়দের দুপুরের হালকা খাবার হিসাবে দেয়া হত এই জিনিস।
মোটা মুটি আমেরিকান ইতিহাসের অংশ ।
পৃথিবীতে অন্য কোন দেশ স্যান্ডউইচকে অতটা আপন করে নিতে পারেনি যতটা পেরেছে আমেরিকা।
১৯ দশকের শুরুতে আমেরিকান বাসা বাড়িতে যে স্যান্ডউইচ চালু হয় সেটা ব্রেকফাস্ট স্যান্ডউইচ।
রুটির ভেতরে ডিম ভাঁজা দেয়া।
জিনিসটা আজকাল যে কোন ক্যাফেতে গেলেই পাবেন। যারা কি না সকালের জল খাবার বিক্রি করে। চোখের সামনেই বানিয়ে দেবে।
বাদামী রুটি। ভেতরে হলদে ডিম ভাঁজা। প্রাণ শক্তি সহজেই চলে আসে।
পাবেন শহর তলীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে। নিদেন পক্ষে মহল্লার কোণার ক্ষুদে দোকানেও।
রেস্টুরেন্টে চলবে কিন্তু বিএলটি স্যান্ডউইচ থাকবে না অমনটা হবেই না। বেকন , লেটুস আর টম্যাটোর আদ্যক্ষর দিয়ে এই স্যান্ডউইচের নাম।
হিসাবে পৃথিবীর দ্বিতীয় জনপ্রিয় স্যান্ডউইচ।
বেশ পুরানো জামানার খাবার।
১৯০৩ সালে প্রকাশিত ডক্টর ইভান মি-র লেখা ' গুড হাউজ কিপিং এভরি ডে কুক বুক' বইতে এর রেসিপি পাওয়া যায়।
বিকেলের চায়ের সাথে খাওয়া হত। জিনিসটার জনপ্রিয়তা শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর। তখন আগারে বাগাড়ে সুপার মার্কেট ধরনের দোকান হতে থাকে। এরাও এমন স্যান্ডউইচ ছাড়তে চায় যেগুলোর উপাদান সারা বছর পাওয়া যায়।
মেরুন রঙের ভাঁজা বেকন, সবুজ লেটুস আর ঘম লাল টম্যাটোর ফালি দেয়া এই স্যান্ডউইচ এখন পপ কালচারের অংশ ।
তালিকায় নিশ্চিত আসবে টুনা মেটলড বা টুনা স্যান্ডউইচ।
ওই আরকি রুটির ভেতরে টুনার মাছের কুঁচি। একফালি পনীর। সাথে লেটুস বা টম্যাটো থাকলেও থাকতে পারে। অনেকটা পাইলেও পাইতে পার মানিক রতন ধরনের।
চাহিদা বেশি তাই বানানো হয় নাকি বেশি বানায় বলে বেশি চলে জানি না।
সস্তা শ্রমজীবীরা খেতে যায় অমন ক্যাফে হতে সাগর পাড়ের শৌখিন রেস্টুরেন্ট অমন জায়গায় সহজে পাওয়া যাবে।
বাস বা ট্রেন স্টেশনে থাকবেই জিনিসটা।


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন