সবাই কম বেশি গাছ পছন্দ করে।
বাড়ির পাশে একটা গাছ মানে একটা বন্ধু।
খেলার জায়গা।
একটা গাছ আমাদের জন্য কত কি করে।
৩০ মিটার লম্বা একটা গাছ বছরে ২৭২১ কিলোগ্রাম অক্সিজেন বানায় আমাদের জন্য। দুইজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের শ্বাস নেয়ার জন্য যথেষ্ট। একটা গাছ কত প্রাণীর বাসা হতে পারে জানো ?
সাধারন একটা ইংলিশ ওক গাছে ২৮৪ ধরেনের পোকা থাকে। ৩২৪ ধরনের শৈবাল জন্মায় গাছের গোঁড়ায় বা আশেপাশে। পাখি, ইঁদুর, হরিণ, বাদুড়, অমন হাজার পদের প্রাণীর খাবার যোগায় অমন একটা গাছ।
বিজ্ঞানিরা দেখেছেন গাছের পাশে বাড়িঘর বানালে সেই বাড়ির বিদ্যুৎ বিল কম আসে। গাছের ছায়ার কারনে ওই বাড়ির ভেতরে গরম কম লাগে। ফ্যান বা এসি কম ব্যবহার করতে হয়। ৩০ থেকে ৫০ ভাগ বিদ্যুৎ বিল কমে যায়।
একটা বড় গাছ পাতার সাহায়্যে ১০০ গ্যালন পানি বাতাসে ছড়িয়ে দেয় , রোজ। গাছের পাশে থাকা বাড়িতে ঠাণ্ডা লাগে।
গাছদের রয়েছে এক অদ্ভুত জগৎ। ওরা আত্নরক্ষা করতে পারে। গাছে যখন পোকায় আক্রমণ করে তখন পাতা থেকে ফেনলিক্স ( phenolics ) নামে রস ছেড়ে দেয় গাছ। বাংলায় এটাকে রজন বলে। এই রসের জন্য পোকামাকড় কাবু হয়ে পড়ে। অদ্ভুত ব্যাপার হল এক গাছ আক্রান্ত হলে সে পাশের গাছদের সংকেত দেয়। সাথে সাথেই পাশের গাছগুলো আত্নরক্ষার কাজ শুরু করে , নিজেদের শরীরে আত্নরক্ষার সেই ক্যামিকেল তৈরি করে ফেলে। পোকা মাকড় আর আক্রমণ করতে পারে না।
মনে হয় না গাছের নিজেদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে ?
বিজ্ঞানীরা কিন্তু তাই মনে করেন। ওরা নিজেদের মধ্যে কথা বলতে পারে।
এত বড় বড় ডাইনোসর পৃথিবী থেকে কি ভাবে বিলুপ্ত হয়ে গেল ? এই নিয়ে কত কথাই না বিজ্ঞানীরা বলে।
একদল বিজ্ঞানী এমনও বলে- ডাইনোসরদের বিলুপ্তি হবার জন্য গাছের ভুমিকাও ছিল বেশ বড় রকমের। সেই সময় সবই ছিল ফার্ন জাতীয় গাছ। যা খেয়েই ডাইনোসর বেচে থাকতো। আচমকা সপুষ্পক গাছে ভরে গেল চারিদিক। সপুষ্পক মানে যেই গাছে ফুল হয়। আর ফুল থেকেই বংশবিস্তার করে। মানে আজকাল চারিদিকে যেই রকম গাছ দেখি আর কি। সপুষ্পক উদ্ভিত বাতাসে অক্সিজেন বাড়ায়। ফলে পৃথিবীর আবহাওয়াও বদলে যেতে লাগল। আরও আরও নতুন ধরনের সপুষ্পক উদ্ভিদে ভরে গেল চারিদিক। তো নতুন এই ধরনের গাছ খেয়ে হজম করতে পারতো না ডাইনোসর। খাবারের অভাবে ডাইনোসর মারা গেছে অমনটা ও বিশ্বাস করে বিজ্ঞানীরা।
নিউ মেট্রো সিনেমা হলের কাছেই ছিল একটা করাত কল।
দিনমান গাছ কাটা হত , ফালি ফালি করে। কেটে ফেলা নতুন গাছ এনে ফেলে রাখা হত করাত কলের বাইরে। দেখতাম কাটা গুঁড়ির ওখানে কেমন গোল গোল দাগ ভর্তি। ওটার নাম ট্রি রিং ( tree rings ) । বাংলায় বলে বর্ষবলয় । অনেকে গাছের আংটি বলে। গাছের এই রিং হচ্ছে গাছের ইতিহাস। এটা দিয়েই কিন্তু গাছের বয়স মাপতে পারবে তুমি। একটা বৃত্ত মানে গাছের এক বছর বয়স।
গাছের এই রিং দেখে বিজ্ঞানীরা বলতে পারবেন সেই বছর শীত কেমন পড়েছিল, বাদলার মৌসুমে বৃষ্টি কেমন হয়েছিল, পোকামাকড়ের আক্রমণ কেমন হয়েছিল। খরা বা বন্যা হয়েছিল কি না, সব। আমরা যেমন করে বই পড়ি, বিজ্ঞানীরা গাছের রিং দেখে বই পড়ার মতই জীবিত অবস্থায় গাছটা কিভাবে বেড়ে উঠেছিল তা বুঝতে পারে। সহজেই।
একটা গাছ জন্ম নেয়ার সাথে সাথেই রোদ আর বৃষ্টি থেকে পুষ্টি নিয়ে বেড়ে উঠে । গাছের জন্মদিন গেলে ওর কাণ্ডে নতুন এক স্তর করে কাঠ গজায়। একটি গাছের কাঠের মধ্যে থাকা কোষটি রিং গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদাহরণ-, হালকা রঙের রিংগুলিতে বড় কোষ আছে যা তৈরি হতে অনেক সময় লাগে । উল্টা ভাবে বলা যায় , গাঢ় রঙের রিংগুলিতে ছোট কোষ রয়েছে, এবং গাছের বৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ার সময় এমনটা হয়।
এই রিঙের কোন কোন জায়গায় দেখতে পাবে একটু বেশি ফুলে গেছে। তখন বুঝতে হবে বনে আগুন লেগেছিল আর গাছটা আগুনের হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিল। অথবা পোকার আক্রমণ থেকে বেঁচে গেছে। হয়তো ওর অসুখ হয়েছিল। পাশাপাশি কয়েকটা গাছ বেড়ে উঠলে ওদের মধ্যে রোদ, আলো আর পানি নিয়ে প্রতিযোগিতা হয় । তখনও গাছের রিঙের আকার বদলে যাবে। রিঙগুলো সরু হয়ে যাবে তখন ।
গাছের রিঙ দেখে বিজ্ঞানীরা সেই সময়ের আবহাওয়া আর পরিবেশের ইতিহাস বের করে ফেলতে পারেন।
কখন ও যদি বনে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেল তবে প্রথমেই গাছের গুঁড়ির দিকে তাকাবে, যেই অংশে শ্যাওলা হয়ে আছে সেটাই উত্তর দিক।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন