সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বীজ থেকে চারা

 রান্না ঘরের সামনে খানি ফাঁকা জায়গা আছে।

কেউ যত্ন নেয় না। 

এমনিতেই পড়ে আছে। একদিন খেয়াল করে দেখি ওখানে সবুজ
কচি কিসের যেন কয়েকটা চারা হয়েছে। খুব ছোট। মাত্র দুটো করে পাতা বের হয়েছে।
কয়েক দিনের মধ্যে লকলক করে বড় হয়ে গেল। অবাক হয়ে দেখলাম মরিচের চারা ওরা। কয়েকটা টম্যাটোর। 
কিন্তু অত যত্ন করে কে গাছ লাগাল ওখানে ?
আসলে এই চারা গাছ গুলো কেউ লাগায়নি।
রান্না ঘর থেকে মা সবজীর খোসা আবর্জনা ফেলে ফেলে দিয়েছিল। টমেটো আর মরিচের দানা ছিল সাথে। এই সব বীজ আর দানা অনেক দিন মাটিতে পরে থাকে।
বীজের ভেতরে গাছ ঘুমিয়ে থাকে।
পরে সময় আর সুযোগ পেলে গাছের ঘুম ভাঙ্গে। একটু একটু করে বাইরে উঁকি দেয়
চারা গাছটা । ধীরে ধীরে অনেক বড় হয়। এমন কি একটা বট গাছের চারা বীজ
দেখলে তুমি অবাক হয়ে যাবে। কে জানে এত বড় গাছ হবে এত টুকু চারা থেকে।
বীজ থেকে চারা বের হতে কয়েকটা জিনিস খুব দরকার।
যেমন পানি, আলো, আর বাতাস। একটা গাছের শরীরে নানান অংশ আছে।
আর প্রত্যেকটা অংশের কাজ আলাদা আলাদা।


আর জানোই তো গাছ পালা সূর্যের আলো থেকে খাবার বানায়। নিজেরা বেঁচে থাকে।
আর আমাদের জন্যও খাবার দেয়। এমন কি আমাদের শ্বাস নিতে যে অক্সিজেন দরকার সেটাও গাছ তৈরি করে আমাদের জন্য।

সারা পৃথিবীতে মোট ৩ লক্ষ ৫০ হাজার বিভিন্ন ধরনের গাছ পালা আছে।
নানান ধরনের। নানান সাইজের।
গাছের শরীরে তিনটা অংশ থাকে । শিকড়, কাণ্ড আর পাতা।
শিকড় দিয়েই মাটি থেকে গাছ খাবার যোগার করে। পানি আর খনিজ পদার্থ চুষে নেয়
মাটি থেকে।

বেশির ভাগ গাছ বীজ থেকেই বংশ বৃদ্দি করে। আবার কিছু গাছ শেকড় দিয়ে ফল দিয়ে করে। যেমন আলু কিছু দিন ভাড়ার ঘরে রেখে দিলে দেখবে আলুর গায়ে
শেকড় হয়ে গেছে। ওটা কেটে মাটিতে বুনে দিলে দেখবে নতুন আলুর গাছ হয়েছে।
সব গাছ চায় ওদের বাচ্চা কাচ্চা বেঁচে থাকুক দুনিয়ায়। 

তাই বীজকে সুস্বাদু  ফলের ভেতরে রেখে দেয়। যাতে সেই ফল মানুষ বা পশু পাখী খাবার জন্য নিয়ে যায়।
ফল খাওয়ার পর বীজ ছেলে দেয়া হয় অনাদরে।
আর সেই বীজ থেকে সময় সুযোগ মত নতুন বাচ্চা গাছ জন্ম নেয়।
গাছের ফল হয় না। তাই ঘাসের বীজ ফেটে গিয়ে তুলার মত ভাসতে ভাসতে দূর দুরান্তে চলে যায়। যেখানে পরে ওখানেই তৈরি হয় দীঘল ঘাসের বন।
এবারের পরীক্ষা একদম সহজ।
তেমন কিছু লাগবে না। এক মুঠো শিমের দানা নাও মা-য়ের কাছ থেকে।
এবার চার বা পাঁচটে টিনের কৌটা নাও। না থাকলে বাতিল কাপ বা অন্য কিছু হলেও চলবে।
বাগান থেকে মাটি এনে সেই টিনের কৌটা বা কাপ ভর্তি কর।
শিমের দানা তিন চারটে করে রাখ প্রত্যেকটা কৌটায়। সামান্য পানি দিয়ে নানান জায়গায় ছড়িয়ে রাখ কৌটা বা কাপগুলো।
এ গুলো তোমার ক্ষুদে বাগান।

একটা রাখতে পার জানালার কাছে। যেখানে সকালের রোদ পাবে। আরেকটা রাখতে পার বিছানার তলায় বা পড়ার টেবিলের নীচে। মোট কথা নানান জায়গায়।
এবার প্রতেক দিন সামান্য করে পানি দাও।
ভাল করে নজর রাখ প্রত্যেকটা বাগানে।
কয়েক দিন পরই ফল পাবে।
কি দেখছ ? সব কয়টা বাগানে কি শিম থেকে অঙ্কুর হচ্ছে ?
না।
তাই না ?
খেয়াল করলে দেখতে পাবে যেই বাগানে নামে কৌটায় সুন্দর মত রোদ, বাতাস আর
পানি পড়েছে সেই বাগানের শিম থেকেই অঙ্কুর বের হয়ে চারা বের হয়েছে। কয়েকটায়
দেখবে শুধু অঙ্কুর বের হয়েই আছে। কিন্তু চারা বের হয়নি।
আবার কোন কৌটায় বেশি পানি দিলেও ওটা ভাল হয়নি।
এই পরীক্ষা থেকে আমরা বুঝতে পারলাম উপযুক্ত পরিবেশ পেলেই বীজ থেকে চারা জন্ম নেয়।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...