সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পানির চাপ কি সব জায়গায় সমান ?

 প্রায়ই দেখি পাশের বাড়ির ভাড়াটে বনমালী হাজরা চিল্লা ফাল্লা শুরু করেন।

উনি চার তলায় থাকেন। উনার চিৎকারের কারন- বাথরুমের কলে পানি নেই। শুধু
বাথরুমের কলে না কোন কলেই পানি নেই।
অথচ নীচে তলায় বাড়িওয়ালা দফাদার সাহেব বারবার বলছেন- আরে ভাই
আমার কলে তো পানি আছে। আপনার নেই কেন ? আমি কি ইচ্ছা করে কল বন্ধ
করে রাখি নাকি ?
সেটা আপনিই ভাল বুঝেন, রাগে গজ গজ করতে করতে বলেন বনমালী হাজরা।
আবার কিছুক্ষণ পরেই দেখা যায় তিন তলার ভাড়াটে চিল্লা ফাল্লা করছে উনার কলে পানি নেই।
অথচ বাড়িওয়ালা তখনও বলছে উনার কলে পানি আছে।
একদম শেষ মুহূর্তে অবশ্য উনার কলের পানিও চলে যায়।
আসলে ব্যাপারটা কি ?
তোমরা হয়তো ধরে ফেলেছ ব্যাপারটা। পানির চাপের জন্য এমন হয়।
পানি চাপ দিতে পারে। এই চাপ সমান হয় না।
তো পরীক্ষা হয়ে যাক।
এই পরীক্ষার জন্য আমাদের লাগবে শুধু একটা টিনের কৌটা।
খালি কনডেনস মিল্কের কৌটা হতে পারে। বা অমন কিছু। রান্না ঘরে গিয়ে মায়ের
কাছ থেকেই বাতিল একটা কৌটা নিয়ে এলাম।
পেরেক আর হাতুরি ধার নিতে হল বাবার কাছ থেকে।
কৌটার এক দিকে লম্বা করে তিনটে ছিদ্র করলাম। বিভিন্ন উচ্চতায়।
কোটটা বারান্দায় নিয়ে গিয়ে বড় এক মগ পানি নিয়ে ঢেলে দিলাম ওটার ভেতরে।
খেয়াল করলাম কি হচ্ছে।
প্রথমে কৌটার তিনটে ছিদ্র দিয়েই পানি বের হতে লাগল ।তুমুল গতিতে।
কিন্তু সব ছিদ্র দিয়েই কি সমান পানি বের হচ্ছে ?
মোটেই না।
প্রতিটা ছিদ্র দিয়ে আলাদা আলাদা গতিতে পানি বের হচ্ছে।
তিন ছিদ্র দিয়েই পানি বের হবে। কিন্তু সমান গতিতে না।
সবচেয়ে নীচের ছিদ্র দিয়েই শক্তিশালী গতিতে পানি বের হবে।
পানি যত কমে আসতে থাকবে উপরের ছিদ্র দিয়ে তত কম গতিতে পানি বের হবে।
প্রথমেই সবচেয়ে উপরের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়া বন্ধ হয়ে যাবে। পানি শেষ।
তারপর মাঝেরটা। সব শেষে সবার নীচের ছিদ্র।
সামান্য পরীক্ষা। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার যারা বাঁধ নির্মাণ করে বা প্লাম্বিঙের কাজ করে তাদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
পানির চাপ নীচের দিকেই সবচেয়ে বেশি। 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...