সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বন-বেড়ালের ছাঁ

 

দাদুর কাণ্ড দেখে তিন্নি-মুন্নি অবাক। এই রোজ রোজ ওদের বন-জঙ্গলের গল্প বলে, বাপি কেমন বাংলা দেশের বড় যুদ্ধে নিখোঁজ হয়ে তাঁবার মেটেল পেয়েছিল দেখায়, বুড়ি কুসুমদিদিকে বলে, "ওদের রোজ সকালে ভুট্টা সেদ্ধ করে ছাগলের দুধ আর মধু দিয়ে খেতে দিও। হাড্ডি শক্ত হবে, শরীরে তাগৎ হবে। গরীব-দুঃখীর দিন আসছে, এখন দুবলা হবার সময় নাকি?" আর এখন নেই তো নেই! একটা চিঠি পর্যন্ত নেই!
দাদু হল বাপির দাদু, পঁচানব্বুই বছর বয়স। আজ দু বছর বাতের ব্যথায় পঙ্গু হয়ে তক্তাপোশে শুয়ে শুয়ে খালি খালি ওদের বলে, "মুখ্যু হলে চলবে কেন? অ-আ লিখতে পড়তে শেখ, নিজেদের নাম লেখ, আঁক কষ, কই পাঠশালের বইগুলো এনে জোরে জোরে পড়ে শোনা দেখি।”
ওরা দোরগোড়ায় পাশাপাশি বসে সুর করে পড়ে। দাদু বেজায় খুশী হয়ে বলে, "হ্যাঁ, এই ঠিক। আমার দাদু যদি আমাকে লিখতে পড়তে শেখাত তবে কি আমি বনে বনে চৌকিদারি করে দিন কাটাতাম! দেয়ালের গোঁজে তক্তা ফেলে খাট বানিয়ে বুড়ো হাড় জিরোতাম? আমি মুন্সী হতাম, নেয়ারের খাটে ঘুমোতাম, কিরোসিনের লম্প জ্বেলে রাতে রামায়ণ পড়তাম। কই বাটির নিচে একটু করে দুধ-মকাই রাখা হল কার জন্য? এক দানা খাবার নষ্ট করতে হয় না, তা জানিস?"
ওরা এ-ওর মুখ চাওয়া-চাওয়ি করে বলল, "বন থেকে রোজ দুটো বিল্লি-বাচ্চা আসে দাছ, তারা বড্ড রোগা, তাদের দিই।” দাদু কি ভেবে বলল, "তা দিস। কিন্তু তাই বলে বাটি চাটাস না। ওদের দাঁতে বিষ।” শুনে হাসি পেয়েছিল। কি যে বলে দাদু-দাঁতে বিষ। কড়ির মতো সাদা ঝকঝকে দাঁত মুনু মিনির, কিন্তু কি ধারালো, বাপ! এক কামড়ে বটের-পাখির ডানা ছিঁড়ে খায়। কিন্তু কোথায় পাবে রোজ রোজ বটের? কোথায় চকচকে চেকনাই গা হবে, তা না, হাড়গুলো উঁচু উঁচু হয়ে থাকে। তিন্নি মুন্না শালপাতায় করে ওদের দুধ মকাই খেতে দেয়। বড় পাথরের আড়ালে; মুনু মিনির বড় ভয়। কুসুম-দিদিকে পাক-ঘরের দরজায় একবার দেখেছে কি না দেখেছে, অমনি চোঁ-চাঁ দৌড়। ভারি ভীতু বনের বিল্লি। কিন্তু কি মিষ্টি দেখতে। ঘি রঙের গা, তাতে একটু একটু দাগ, গুর-র গুর-র করে ডাকে, ওদের কোল বেয়ে উঠে খড়খড়ে জিব দিয়ে গাল চেটে দেয়। তিন্নি মুন্না আহলাদে গলে যায়। রোজ ওরা খেতে আসে। খাওয়া হলে গড়াগড়ি খেলে। এতটুকু শব্দ শুনলে হাওয়া।
এর মধ্যে দাদু এই কাণ্ড করল। রবিবারের ছুটি, পোস্টমাস্টার মশাই দেখতে এসেছেন। দাদু তিন্নি মুন্নাকে ডেকে পাঠাল। মুনু মিনি তখনো খায়নি, কাঠের গাদার পেছনে বাটি লুকিয়ে রেখে আসতে হল। কুসুমদিদি দেখতে পেলে তো ধুয়ে-টুয়ে সারা। ব্যস্, হয়ে গেল মুনু মিনির খাওয়া।
দাদু ওদের দেখিয়ে বলল, “মনে থাকে যেন মাস্টার মশাই, এরাই আমার ওয়ারিশ; আর তো কিছু নেই, শুধু ঐ যে আপনি বীমা করিয়েছিলেন ওদের বাপু জন্মাবার সময়, ঐ টাকাটি পাবে আর ওদের বাপের পেনসিলটা পাবে। ওতেই ওরা মানুষ হয়ে যাবে, কি বলেন?” দাদু ব্যস্ত হয়ে মাস্টার মশাইয়ের দিকে তাকাল। মাস্টার মশাই বললেন, "তুমি নিশ্চিন্ত থাক, ঠাকুরদা, ওদের নামে লেখাপড়া করে, তোমার ঢিপ-সই নিয়েছি না। পিওনরা দুজন সাক্ষী আছে। আর তুমিই বা অত বেজার হচ্ছ কেন বল তো? পঁচানব্বই বছর কাটালে আর দশটা বছর বাঁচবে না? তদ্দিনে তি বেরুবে।”
শুনে তিন্নি খুশী হয়ে গোঁপের জায়গায় আঙুল বুলিয়ে বলল, "দাদু, তোমার তীর-ধনুকটা আমি নেব কিন্তু। কড়িচাচা যেন হাত না দেয়।"
দাহু মাস্টার মশাইয়ের দিকে চোখ ফিরিয়ে বলল, "ঐ আর এক কথা। আমার ছোট ছেলে দুকড়ি, পাজির পা-ঝাড়া, সে তো জানেনই ঐ বীমার টাকা হাতাবার জন্য ও কি না করতে পারে। ও কুসুম-মা দুকড়িকে এ-বাড়ির ত্রিসীমানায় আসতে দিবি নে। কুসুম ওদের দেখাশুনো করবে লিখে নিয়েছেন, মাস্টার?"
মাস্টার মশাইয়ের চোখ দিয়ে জল পড়তে লাগল। "কিচ্ছু ভেবো না ঠাকুরদা, আমি দেখব যেন ওদের কোনো কষ্ট না হয়। তুমি তাড়াতাড়ি সেরে ওঠ।”
তাই শুনে দাদু খুশী হয়ে হাসতে গিয়ে চোখ বুজে কাঠ হয়ে রইল। কুসুমদিদি কেঁদে উঠল। মাস্টার মশাইয়ের সঙ্গে পিওন ছিল। তার নাম হরিদাদা। হরিদাদা হাসপাতালের ডাক্তারকে নিয়ে এল। মাস্টার মশাই বললেন, "ও তিন্নি মুন্না, তোমরা আমার সঙ্গে চল, হরিণছানা এনেছি, পুষব বলে।”
তিন্নি বলল, "কিন্তু-কিন্তু-”
মুন্না ফিসফিস করে বলল, "আমি ওদের খাইয়ে এসেছি। পাক-ঘরের দরজার কাছে এসেছিল, এমনি দুষ্টু!”
সারা দিন ওরা হরিণছানা নিয়ে খেলেছিল। দুপুরে মাস্টার মশাইয়ের বৌ ওদের গাওয়া ঘি দিয়ে কাঁচকলা ভাতে ভাত মেখে খাইয়ে দিয়েছিলেন। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে দেখে দাদু নেই, দাদুর খাট-বিছানা নেই, খালি কুসুমদিদি একলা গালে হাত দিয়ে বসে আছে। নাকি দাদু স্বর্গে চলে গেছে। দাদুর আক্কেল দেখে ওরা দুজন অবাক হল! বলা নেই কওয়া নেই, অমনি স্বর্গে গেল! আর ঐ ছেঁড়া নোংরা বিছানা বালিশ নিয়ে! এক দিন পরে গেলেই হত, কুসুমদিদি কেচে দিত। সে-কথা বলতেই কুসুমদিদি মহা কান্নাকাটি জুড়ে দিল, তাই ওদের থামতে হল।
ক'দিন পাঠশালা যাওয়া বন্ধ রইল। বাড়িতে দূর দূর থেকে কত লোক এল। সবাই বলে দুকড়ি আসেনি? না, দুকড়ি কোথায় কেউ জানে না। বাপের জন্য কোন কালেই বা কি করল সে? দাদুর পেনসিল, বাপির পেনসিল, তাই দিয়ে কোনোমতে চালিয়েছে কুসুম-দিদি। এই প্রথম শুনল তিন্নি মুন্না যে কুসুমদিদি নাকি দাদুর বোনের নাতনি; বনের ধারের ছোট্ট বাড়িটা নাকি তার, নিজের বাপের কাছ থেকে পাওয়া। সবাই বলল, 'এবার টাকার গন্ধ পেয়ে দুকড়ি এসে হাজির হবে দেখো।' কুসুমদিদি বলল, "কাঁচকলাও পাবে না; আসুক না। আমার বাড়িটাও পরে তিন্নি মুন্না পাবে। হুঃ!”
রোজ সকালে মুনু মিনি এসে খেয়ে যেত। দেখতে দেখতে বেশ বড়ও হয়ে উঠছিল ওরা। দাঁড়াত যেন তিন্নি মুন্নার কাঁধ অবধি। এত বড় বন-বেড়াল দেখাক তো কেউ! দুধ মকাই না খেলে এমন হত না। গায়ে কেমন দিনে দিনে রঙও ধরেছে। 'কি সুন্দর রে তোরা!' তিন্নি মুন্না ওদের পেটে মাথা ঘষে দিত, ওরা কি জোরে গু-র-র, গু-র-র করে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ত। তারপর যেই তিন্নি মুন্না উঠে পড়ত, ওরাও শাঁ করে বনের মধ্যে মিলিয়ে যেত।
কুসুমদিদি বড় ভালো। ওদের খুব যত্ন করত। ওর ভারি ভয় কড়িচাচা না এসে গোলমাল করে। তিন্নি সাহস দিয়ে বলত, “কিচ্ছু ভয় নেই, কুসুমদিদি, আমি দাদুর তীর-ধনুক দিয়ে না, দড়াম করে মুণ্ডু উড়িয়ে দেব।” মুন্না বলল, "সেবার তোমার হাত মুচকে দিয়েছিল, তুমি কেঁদেছিলে। কুসুমদিদি চুন-হলুদ দিয়ে বেঁধে না দিলে, হাতটা খোঁড়া হয়ে যেত; দাদু বলেছিল।"
তারপর দুজনে কুসুমদিদিকে বলল, "দাদু কবে ফিরে আসবে? একলা একলা ভালো লাগে না।" সত্যি ভালো লাগত না। ভাগ্যিস মুনু মিনি রোজ আসত। আজকাল আবার সন্ধ্যেবেলা আসা ধরেছিল। কুসুমদিদি পাকঘরে চাপাটি করত, ওরা বনের ধারে সবজি বাগানে জল দিত। ঠিক তখন দেখতে পেত বড় পাথরের পাশ দিয়ে দুটো মিষ্টি হলুদ-পানা মুখ বেরুচ্ছে। কতটুকু আর দুধ-মকাই, গপ করে এক গ্রাসে খেয়ে ফেলে, ল্যাজ নেড়ে, গড়াগড়ি করে, ওদের চেটে-চুটে একাকার। যেই না কুসুমদিদি ডাক দিত, "কোথায় গেলি তোরা? রুটি তৈরি!” অমনি দুটোতে হাওয়া হয়ে যেত। যেমনি বড় বন-বেড়াল, তেমনি চালাক।
এমনি করে প্রায় ছয় মাস কেটে গেল। তারপর একদিন যা হবার তাই হল। কড়িচাচা এসে উপস্থিত। এসেই সে কি তার রাগ-মাগ! ওরা দুজনে পাঠশালা থেকে এসে কুসুমদিদির চিঁড়ে কোটায় সাহায্য করছে, এমন সময় দাপাতে দাপাতে এসে উপস্থিত। কোথায় শুনেছে দাদু নাকি মরে গেছে। ওর কথা শুনে তিন্নি মুন্না অবাক। ভয়-ভয়ও করছিল, মানুষ তো নয় যেন একটা ডাকাত। কি সব খারাপ খারাপ কথা কড়িচাচার মুখ দিয়ে বেরুচ্ছিল। কুসুমদিদি কানে হাত দিল। তিন্নি বলল, “তুমি বড্ড দুষ্টু। আমি তোমাকে দাদুর তীর-ধনুক দিয়ে মেরে ফেলব।” তাই শুনে চোখ লাল করে কড়িচাচা তিন্নির মাথায় এমনি জোরে গাঁট্টা মারল যে চামড়া ফেটে চোখে কপালে রক্ত গড়িয়ে পড়ল। একটা চাপা শব্দ করে তিন্নি মুন্না পাক-ঘর দিয়ে পালাল। দুধের কড়া উল্টে ফেলে দিয়ে কড়িচাচা দাপিয়ে বেড়াতে লাগল। "আমাকে বাদ দিয়ে ওদের টাকা দেওয়া, দেখে নেব!”
ওদের পা কাঁপছিল, হাত ঠাণ্ডা হয়ে গেছিল, পেট কামড়াচ্ছিল। সবজি-বাগানের মাঝখানে দুজনে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ে, থর থর করে কাঁপতে লাগল। ঘরে তখনো কি চ্যাঁচামেচি। হঠাৎ মুখ তুলে মুন্না বলল, "তাহলে মুনু মিনি কি খাবে? ও যে সব দুধ ফেলে দিয়েছে?” তিন্নি উঠে বলল, "গরীব-দুঃখীদের দিন আসছে। দুবলা হলে চলবে না, দাদু বলেছে। কেন, ওদের দুটো করে রুটি দেব। অত বড় বড় দাঁত আছে না, চিবিয়ে খাবে।"
হঠাৎ ঘরের মধ্যে কুসুমদিদি ডুকরে কেঁদে উঠল, দা হাতে কড়ি-চাচা ঝড়ের মতো ছুটে এল; তিন্নি মুন্না দু হাতে মুখ চেপে ধরে কাঠ
হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। পালাবার কথা মনে হল না। তিন্নির কাঁধ ধরে কড়িচাচা তাকে টানতে টানতে বনের দিকে নিয়ে চলল। মুন্নার গলা দিয়ে সে কি করুণ কান্নার মতো একটা শব্দ বেরুল আর সঙ্গে সঙ্গে বড় পাথরের পিছন থেকে সাক্ষাৎ যমদূতের মতো প্রকাণ্ড দুই মূর্তি বেরিয়ে এসে নিমেষের মধ্যে কড়িচাচার মাথায় এক চাঁটি মেরে এক ঝলক আলোর মতো বনের মধ্যে মিলিয়ে গেল। কড়িচাচা পড়ে রইল। কুসুমদিদির চোখ ঠিকরে বেরিয়ে আসছিল। উঠি-পড়ি করে কোনোমতে এসে দুজনকে বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁপতে লাগল। গলা দিয়ে শুধু অদ্ভুত একটা শব্দ বেরুল, "বাঘ! বাঘ!” মুন্না ফিক করে হেসে বলল, "দুৎ! বাঘ কোথায়, ও তো মুনু মিনি, আমাদের বন-বেড়াল! ওদের আমরা রোজ দুধ-মকাই খাওয়াই!”
কুসুমদিদি বলল, "আ সব্বনাশ!” বলে মুচ্ছো গেল। ততক্ষণে চ্যাঁচামেচি শুনে গাঁ থেকে অনেক লোকজন এসে গেছিল, ব্যাপার শুনে সবাই হাঁ!
পোস্টমাস্টার বললেন, "নতুন ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব আগেই বলে-ছিলেন যে সংরক্ষিত বনের এদিকের দেয়াল বড্ড নিচু। সত্যি যদি বাঘ হয়ে থাকে, তবে দেয়াল টপকে এসেছে।”
তিন্নি মুন্না তবু বলতে লাগল, "না, না, আমাদের বন-বেড়াল।”
“কিন্তু বন-বেড়াল কখনো এক চাঁটিতে কারো ঘাড় মটকাতে পারে? কে জানে, পারে হয়তো!"
মুনু মিনি আর আসেনি। ঐ দেয়াল নাকি উঁচু করে দেওয়া হয়েছিল। তিন্নি বলল, "ভালোই হল রে মুন্না, ওদের যদি থানায় ধরে নিয়ে যেত!"
একটা সুখের কথা বলতে বাকি ছিল। সেটি হল যে এই ঘটনার কয়েক মাস পরে তিন্নি মুন্নার নিখোঁজ বাবা ফিরে এসেছিল। খুব জখম হয়ে এতদিন সে কোন গাঁয়ের হাসপাতালে পড়েছিল। তারপর গরীব-দুঃ

খী কজনার দুঃখ কমল।


লীলা মজুমদার

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...