সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সাত টাকার ঘড়ি

 পিঙ্কুর সাথে দারুন ভাবে পরিচয় হয়েছিল।

ফাগুনের শেষ বিকেলে ফিরছিলাম পুরানো বই কিনে।

শহরতলির পথ। শুনসান। কালো বিরাট একটা পুকুর।

আদর করে আমি আটলান্টিক ডাকি। চৈত্র মাসেও পুকুরের জল  বরফের মত ঠাণ্ডা। পা ডুবিয়ে দেখেছি। শরীর হিম হয়ে যায়। কাল বৈশাখীর সময়  মেঘ ভর্তি কালো আকাশের ছবি পড়ার পর পুকুরটা আরও কালো হয়ে যায়। দুই পাড়ে বন কলমির ঝাড় এক মানুষ সমান উঁচু। কোন এক মওসুমে ফিকে  বেগুনী রঙের ফুল ধরে বন কলমির ডালে।

আরও আছে লেবু ঘ্রানওয়ালা ঘাস।  নিবিড়। ঘন। 

 

পুকুরে মাছ আছে । আমি জানি। মাছরাঙারা ও জানে।


 ওদের দেখেছি,    কড়া  রোদে ঝুপ করে লাফিয়ে পরে পুকুরের জলে। যখন উঠে আসে ঠোঁটে  গেঁথে  থাকে দুধের সরের মত সরপুঁটি।   

অমন একটা জায়গায় দেখি ছেলেটা বসে আছে।  

কাঁচের বয়াম হাতে। বয়ামে পোকা। কি পোকা জানি না। কালোর মধ্যে লাল  ফোঁটা দেয়া। চোখে ওর বড় চশমা। চশমাওয়ালা বাচ্চাদের আমরা দেড় ব্যাটারি বলি। কানা বললে খারাপ শোনায়। সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই হাসল।

বয়ামে কি ?’ জানতে চাইলাম।

পোকা ?বলল ছেলেটা।

পোকা খাও নাকি ?’

না, জমাই।

 

পোকা কী  জমানোর জিনিস নাকি ?’ অবাক না হয়ে পারলাম না।  

 

এটাও একটা শখ। আমি অনেক কিছু জমাই।  ষ্ট্যাম্প জমাই। ভুটানের রেয়ার ষ্ট্যাম্প আছে আমার কাছে। ভুটানের রাজধানীর নাম থিম্পু।  বই ও জমাই।

 ব্যস,  আমরা বন্ধু হয়ে গেলাম।

 কারন আমিও বই আর ষ্ট্যাম্প জমাই ।  জানলাম ওর নাম পিঙ্কু।

একই সাথে হেঁটে বাড়ি ফিরলাম। পিঙ্কু ও বই পড়ে। অনেক  কথাই বলল। ওদের বাসায় নাকি ইন্দ্রজাল কমিকস রাখা হয়। দার্জিলিঙে ওর মামা থাকে। প্রতি মাসে পাঠায়।সাথে আনন্দমেলা পত্রিকা। ফেলুদা আর প্রফেসর শঙ্কুর সব বই আছে।

পাড়ার কাছাকাছি আসতেই কমলা হয়ে গেল সূর্যটা। 


ক্রিট দ্বীপের পাকা একটা কমলা লেবুর মত ।

 পিঙ্কুদের বাড়িটা দোতলা। দৈ-য়ের রঙ করা। এই রঙ সাধারণত ইশকুল বাড়ির রঙ হয়। বাড়ির সব দরজা আর জানালা ফিরোজা রঙের। মেঝে লাল রঙ করা। বারান্দা লোহার। কি সব গাছ লতিয়ে নেমেছে। কাগজের মত গোলাপি ফুল ধরেছে আচ্ছা মত। ওটার নাম - বগেনভিলিয়া। 


বিদেশী ফুল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আদর করে নাম দিয়েছেন- বাগানবিলাস।

পাড়ার মুদি দোকানদার  পাকরাশি বাবু বলেন,  গেইট ফুল।সব গেইটেই নাকি এই  ফুল ধরে।  পাকরাশি বাবুর কথা না বলাই ভাল। উনি বলেছেন , এক লোক নাকি গেইটে দাঁড়িয়ে  দাঁড়িয়ে কবিতা লিখত। সেই থেকে উনার নাম মহাকবি গ্যাঁটে। এটা কোন কথা ?

সেই বিকেলে পিঙ্কুর বাড়ি যাইনি।

 পরের বার গিয়েছিলাম।

ঝিম ধরা এক দুপুর। বাইরে রোদ। অনেকদিন নাকি বৃষ্টি হয় না। খবরের কাগজে লেখা ,এমন চললে  ফসলের  অনেক ক্ষতি হয়ে   যাবে।

 পিঙ্কুর বাসায় সব আসবাবপত্র কালো কালো। গোবদা। বসার ঘরে পেল্লাই কয়েকটা চেয়ার ছাড়া কিছু নেই। দেয়ালে খোপ করা। ওখানেই বই রেখেছে।সন্দেশ নামে একটা পত্রিকা আছে প্রথম দেখলাম। সত্যজিৎ রায়ের সব বই আছে। একটা অদ্ভুত বই , নাম-  বাঘের মন্তর। কি সুন্দর নাম।

 শিশু একাডেমীর পাতলা কিছু বই।  পাতায় পাতায় রঙিন ছবি। কি সুন্দর নাম- নীল দরজা রহস্য । কাননে কুসুম কলি ।  নদী বহে কুলকুল ।  ফুলের  গন্ধে ঘুম আসে না।   

আমরা বই বদলা বদলি করে পড়ব। চুক্তি হল।

কথা বলছি,  আচমকা বিকট  ঢং ঢং শব্দ করে আমার  পিলেটা  চমকে দিল। ওরে বাপরে ! 


 অন্য সময় হলে  ভয় পেতাম।

দাদুর ঘড়ি।ব্যাখা করলো পিঙ্কু।

সেটা কি ?’ অবাক হলাম।

পাশের কামরায় নিয়ে গেল আমাকে। ওটা আসলে লম্বা করিডোর।  শেষ মাথার দেয়ালে  ঝুলছে বিশাল সাইজের একটা কাঠের ঘড়ি।

 

ওটাই।বলল পিঙ্কু। দাদু খালি হাতে ব্যবসা শুরু করেছিল। টাকা পয়সা হবার পর প্রথম এই ঘড়িটা কিনেছিল। রেঙ্গুন থেকে । দাম সাত টাকা। তখন এই মহল্লা বেশ নিঝুম ছিল । প্রতি  ঘণ্টায় ঘণ্টায় যে শব্দ হয়  মেলা দূর থেকেই শোনা যেত।  

ঘড়িটা দেখার মতই।

 প্রায় আধ হাত লম্বা  পিতলের  পেন্ডুলামটা ঝুলছে।  সেকেন্ডের কাটার শব্দ হচ্ছে।  বেশ জিনিস ।

অনেক সময় নিয়ে জিনিসটা দেখলাম।  কল্পনা করলাম  - অনেকগুলো বছর আগে ,  এই এলাকা নাকি আরও নিঝুম ছিল। কেমন লাগত  তখন এই পেন্ডুলামের শব্দ ?

 পিঙ্কুর দাদু নাকি একদম খালি মহল্লায় এই বাড়ি বানিয়েছিলেন।পুকুরের পাড়ে চার চারটে   নারকেল গাছের পাশে বাড়িটা। নিজস্ব এক দ্বীপের মত । কত সৌখিন ছিলেন। বাগানবিলাস কোত্থেকে এনেছিলেন ?

ব্যবসা করলেই টাকা হয়।জ্ঞানী জ্ঞানী ভাবে বলল পিঙ্কু। চাকরি করে বোকারা।

আমরাও ব্যবসা করব ।রায় দিলাম।

নিশ্চয়ই ।জোড় দিয়ে বলল পিঙ্কু।

অনেক ভাবলাম কি নিয়ে ব্যবসা করা যায় ?  

 আসলে ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়।   উপায় পেয়ে গেলাম ।  কয়েকদিন পরই দেখি এক লোক টিনের এক  বালতি ভর্তি গুড়ের রঙের কি যেন নিয়ে যাচ্ছে। হাতে কাস্তে। চিৎকার করে বলছে-’ মদু রাখবেন মদু। ছুন্দ্রর বনের আসল  মদু।

দৌড়ে গেলাম ।

দেখি বালতি ভর্তি মধু  সোনালী তরল। ঘন। মরা মৌমাছি আর  মোমের বাসা মানে মৌচাক ভাসছে সেই মদু বা মধুর উপর।

আপনি  নিজে সুন্দরবনে গিয়ে এই মধু যোগার করেন ?’ দুই চোখ কপালে উঠে গেল আমার।

লিচ্চয়ই।বেশ একটা ভাব নিয়েই বলল লোকটা। খাটো করে লুঙ্গি পড়নের। খালি গা। মাথায় গামছা  বাঁধা।

ভাল ব্যবসা।ফিসফিস   করে বলল পিঙ্কু। কায়দাটা শিখে নেয়া দরকার। মধুর ব্যবসা বেশ লাভজনক।

হু। বাচ্চা জন্ম নিলেই মুখে মধু দিতে হয় ।রোজ কত বাচ্চা জন্ম নিচ্ছে। জন্মেই ওরা কাঁদে। কান্না থামানোর জন্য মুখে মধু দিতে হয়।  তাছাড়া মধু বেশ একটা পথ্যের মত। সাধনা   ঔষধালয়ে দেখেছি মধু বেশ আক্রা। দশ টাকা এক শিশি। ফিসফিস করে বললাম।

লোকটা ধড়িবাজ। আমাদের পেয়ে গল্পের ঝাঁপি খুলে দিল।

 বর্ণনা শুনে বুঝা যায় বেশ রোমাঞ্চকর জীবন তার।

নৌকায় করে বাদা বনে যায়। যেটার আরেক নাম সুন্দরবন। বন বিবির নামে মানত  করে    জঙ্গলে ঢুকে। চাল, পয়সা আর কলা দিতে হয়। কখনও কখন মুরগী। পয়সা দিয়ে বনবিবি কি করে  জিজ্ঞেস করে ধাতানি খেলাম।

দুবলার চর আর বুড়ি গোয়ালিনীর ঘাট জায়গার নাম শুনলাম অনেক বার। চন্দনা ইলিশ, শাপলাপাতা মাছ   আর কাঁকড়া ধরে নৌকায় রান্না করে খায়। গোল গাছে এক রকম ফল ধরে। গোলফল। ভেতরে তালের শাঁসের মত মিষ্টি শাঁস। খেতে নাকি বেশ।    

বড় বড় সুন্দরী  আর গেওয়া   গাছের ডালে মৌচাক হয়ে থাকে। খড় কুটোও  জ্বালিয়ে ধোঁয়া দিলেই মৌমাছি পালিয়ে যায়। তখন মৌচাক কেটে নিলেই তো মধু আর মধু। শহরে গিয়ে বিক্রি করলেই নগদ টাকা।  

শুনে উৎফুল্ল হয়ে উঠলাম। লোকটা মেলা বকবক করে যখন দেখল আমরা এক শিশি মধু ও কেনার আগ্রহ দেখাচ্ছি না বেশ বিরক্ত হয়ে চলে গেল।  

মধুর ব্যবসা করার জন্য মুখিয়ে রইলাম আমি আর পিঁঙ্কু। তবে সুন্দরবন যাবার দরকার নেই। টিভিতে দেখেছি বাক্সে করে মৌমাছি পালন  করা যায়।  ওটাকে মৌমাছির চাষ বলে। ফুলের চাষ হয়। মাছের চাষ হয়। কুমিরের চাষও নাকি করে । কিন্তু গরু বা ছাগলের  চাষ হয় না। ওটাকে বলে পালন।  

আমরা একটা কাঠের বাক্স  বানিয়ে আনলাম। সামনে তারের জাল সহ।

 

 পিঙ্কুদের বাগানেই রেখে দিলাম। ভেতরে খড়কুটো সহ। তরল গুড় রেখে দিলাম। ভেবেছিলাম বাগান থেকে কিছু মৌমাছি ওখানে গিয়ে বাসা বানাবে। বাগানে মৌমাছি যে আসে না  তা না। কিন্তু ওরা ফুল থেকে মধু নিয়ে চম্পট দেয়। সম্ভবত দূরে ওদের মৌচাক আছে। কেন যেন ওরা আমাদের বাক্স পছন্দ করলো না।  

ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়। ভাগ্য  বলতে কিছুই নেই।  আমার কথা নয়।   বিখ্যাত লোকজন এমন কথা বলে গেছেন।    একদিন পুরানো এক ভাঙ্গা   বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে আসছিলাম। দেখি মস্ত একটা মৌচাক ঝুলে আছে কার্নিশে।  কালো। অচেনা এক ফলের মত।

দারুন ব্যাপার।বললাম। এই তো মৌচাক।

ঠিক।খুশি হয়ে উঠল পিঙ্কু। এখান থেকে সরাসরি মধু নেয়া যাবে ?’

তা আর বলতে। হাসলাম।

দৌড়ে পিঙ্কুদের বাসায় গিয়ে সেই বাক্সটা নিয়ে এলাম। সাথে প্রচুর খড় দিয়ে বানানো মশাল। চেক কাটা  দুই গামছায় দুইজনের  মুখ বেঁধে নিলাম। টিভিতে দেখে শিখে নিয়েছি। আসলে ইচ্ছা থাকলেই টিভি থেকেই সব কিছু শেখা যায়। সরকারের উচিৎ সব ইসকুল কলেজ বন্ধ করে একটার পর একটা টিভি চ্যানেল খোলা।

দেশলাই থেকে আগুন ধরিয়ে মশালে ছোঁয়াতেই জ্বলে উঠলো ভাল করে। খানিক জ্বলে নিভে যেতেই ধোঁয়া বেরুতে লাগল গল গল করে।। এগিয়ে গিয়ে আক্রমণ করলাম মৌচাকে ।

 

 বিপদ টের পেয়ে  বিন বিন করে বের হয়ে এলো সোনালী রঙের মৌমাছি। আমরা তো টিভিতে দেখেছিলাম ধোঁয়ার জন্য ওরা পালিয়ে যাবে আর কিছু মৌমাছি গিয়ে জালের বাক্সে আশ্রয় নেবে। ওগুলো পোষা মৌমাছি হয়ে যাবে।

এমন কি,  সুইস ফ্যামিলি রবিনসন বইতেও এমন লেখা।কেন যে অমন হল না ঠিক জানি না। ওরা ঝাঁপিয়ে পড়লো আমার উপর। ব্যাথায় চেঁচিয়ে উঠলাম। পাশে দেখি পিঙ্কু হুবহু মাইকেল  জ্যাকশনের মত   নাচছে। মুখের গামছা  খসে  গেছে। হাসছে আমার দুরবস্থা দেখে।

কয়েক মুহুত পরে বুঝতে পারলাম আসল ব্যাপার অন্য। ওকে আক্রমণ করেছে আমার চেয়ে এক গুছ বেশি মৌমাছি। ব্যাথায় চিৎকার করছে। আমি ভেবেছি হাসছে। মানুষকে ভুল বুঝি সব সময়। পরিস্থিতিটাই অমন ভুল বুঝাবুঝির।  

পাগলের মত দৌড় দিলাম। মশাল আর গামছা কই গেল কে বলবে। বেশ খানিক পর দেখা গেল রামবাবুর পুকুর পাড়ে  বসে আছি দুইজন।  শরীরের নানান জায়গায় বিশেষ করে চেহারায় বেঢপ সাইজের লাল লাল হয়ে ফুলে আছে। পিঙ্কুর এক চোখ বুজে গিয়ে কানা ফকিরের মত লাগছে। ব্যাথা আর যন্ত্রনায়  মারা যাব যেন।

পেঁয়াজের রস দিলে ব্যাথা কমে।ব্যাথায়  কোঁকাতে  কোঁকাতে বলল পিঙ্কু।

পেঁয়াজ কোথায় পাব ?’ অনেক কষ্টে বললাম।

তোমাদের বাসায় ।

এই অবস্থায়  বাসায় যেতে পারব না।’  সাফ জানিয়ে দিলাম।

মজনু ভাইয়ের মুদির দোকানে চলো।বুদ্ধি দিল ।

গেলাম। মনোযোগ দিয়ে কান  খোঁচাচ্ছিল মজনু ভাই। আমাদের দিকে কেমন  সন্দেহের  চোখে তাকাল।

হইছে কি  তুমাগ ?’ দরদ দেখাল আমাদের জন্য।

অ্যালার্জি ।গম্ভির মুখে বললাম।

দুনু জনের ? এক লগে ?’ চেহারায় অবিশ্বাস মজনু ভাইয়ের।

হুম। খুব ছোঁয়াচে রোগ।বিভিন্ন ফ্যাঙ্গাস আর ভাইরাসের কারনে হয়।গম্ভীর মুখে বললাম। ইচ্ছা করেই কঠিন শব্দ ব্যবহার করলাম। যাতে  জটিল হয়ে যায় বিষয়টা। আধা কেজি পেঁয়াজ দেয়া যাবে ? বাকিতে ।   

গোলাপি রঙের মুক্তার মত   পেঁয়াজ নিয়ে নির্জন জায়গায় বসলাম।

পেয়াজে ইংরেজি নাম  Onion. মানে হল গোলাপী মুক্তা।  প্রাচীন মিশরে পেঁয়াজ খুব দামি একটা জিনিস ছিল। উপহার  হিসাবে দেয়া হত। মধ্য যুগে পেঁয়াজ টাকা হিসাবে ব্যবহার হত। বেতন ,  বাড়ি ভাড়া  দেয়া হত পেঁয়াজ দিয়ে।বলতে লাগল পিঙ্কু।

তোমার প্যাঁচাল থামাবে ?’ রেগে গেলাম।

  মশার  কয়েল গাথার টিনের একটা স্ট্যান্ড পেলাম। চাকু হিসাবে ওটাই ব্যবহার করে পেঁয়াজের  গোঁড়া কেটে সব কয়টা কামড়ের জায়গায় পেঁয়াজের রস লাগিয়ে দিতেই বেশ আরাম পেলাম।  মুখের ফোলা দাগ না কমলে বাড়ি যাই কি করে ? মারধর খেতে হবে। অনেক পরও ফোলা দাগ  কমলো না। গুটিগুটি পায়ে     বাড়ির  পথ ধরলাম।

মধু সংগ্রহ কঠিন  আর বিপদজনক কাজ।বললাম।

‘  ঠিক। আমরা অন্য কিছু করব।ফোলা মুখে হাসি দিল পিঙ্কু।  কোন পেশাই আসলে ছোট না । ’   

আমিও হাসলাম। মৌমাছির কামড়ে ফুলে  আমাদের  চেহারা  দেখাচ্ছিল নিনজা টারটেলের কচ্ছপগুলোর মত।  

(শেষ)


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...