আমার মনে হয় প্রত্যেকটা যুবকের জীবনে একবার হলেও
ক্যাম্পফায়ারের পাশে বসা উচিৎ।
একবার হলেও ।
সে এক আদিম অনুভূতি ।
অযুত নিযুত ডলার দিয়েও কেনা যাবে না সেই রকম রোমাঞ্চকর আবেশ । মানসিক ছন্দ ।
কারণ আমাদের পূর্ব পুরুষরা অমন করেছিল , সেই গুহা যুগে ।
আকাশে থাকতো বিন্নি ধানের খইয়ের মত নক্ষত্র । খোলা প্রান্তর দিয়ে হা হা করে বয়ে যেত ডাকাতিয়া হাওয়া ।
অচেতন বিবশ মন । সামনে কমলা লাল আগুন । রান্না হচ্ছে গাউর বা বাইসনের পলল ।
পাশে সঙ্গিনী ।
কখনও চাঁদ উঠতো । ওরা ভাবতো কেমন ধরনের খাবার না জানি সেই রূপালি চাঁদটা ।
১৯৯৬ থেকে ২০০০ পর্যন্ত মারিয়ানা আইল্যান্ডে ক্যাম্প ফায়ার করেছি কতবার ।
পরে গ্রারাপান শহরে চলে আসায় সিটি বয় হয়ে গিয়েছিলাম । আর করা হয়নি । তখন বাঙালি ছেলেরা দেশে ক্যাম্প ফায়ার করতো কি না কে জানে ।
আজকাল অনেকেই করে ।
হরেক কায়দা ছিল । ক্যাম্পিঙ ট্রিকস । আদিবাসিরা জানে। আরও জানে আমেরিকান আর্মির লোকজন ।
কালো রঙের গোলাকার একটা ছত্রাক জন্মাত বনের ভেতরে । নাম কোল ফাঙ্গাস । অনেকে কিং আলফ্রেড কেক বলে । একটা কল্প কাহিনি অমন - রাজা আলফ্রেড শত্রুর ভয়ে গ্রামের ভেতরে লুকিয়ে ছিলেন । তখন কেক বানানর কাজ করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন । সেই কেক হচ্ছে এই ফ্যাঙ্গাস ।
ক্যাম্পিঙের সময় এই শুকনো কোল ফ্যাঙ্গাস আগুনে পুড়িয়ে নিলে হুবহু এক টুকরো কয়লার মত জ্বলতে থাকে । কয়েক ঘণ্টা তক জ্বলে সেটা ।
অমন একটা কোল ফ্যাঙ্গাস জ্বালিয়ে উপরে শুকনো শেওলা রেখে দিলে সুন্দর ধোঁয়া বের হয় । সেই ধোঁয়ায় মশা বা অন্য কোন পোকা আসে না।
শেওলা পাবেন কোথায় ?
গাছের গোঁড়ায় শুকিয়ে থাকে ।
ক্যাম্পিং করার সময় কাচ বা চিনা মাটির থালা পেয়ালার বদলে টিনের জিনিস নেয় সবাই । নিরাপদ ।
বিয়ার বা কোমল পানীয়ের পুল ট্যাব খুলে সেটা দিয়ে বড়শি বানাতে দেখেছি চোখের সামনে । বেশ কায়দা
ক্যাম্পিং করার কোন কায়দা জানতাম না।
তাবু খাটাতেও পারতাম না।
আজও জানি না। কাঠের টুকরোর ভেতরে শুকনো কাঠ ঘুরিয়ে আগুন জ্বালানোর কায়দাও তখন শিখিনি।
বনের প্রথম ট্রিক্স হিসাবে যে শিখলাম বেরি বা জাম জাতীয় খাবার পেলেই মুখে দিতে হয় না। আর মাশরুম থেকে শত হস্ত দূরে থাকতে হবে।
সারভাইভাল গিয়ার শব্দটা আজকাল বেশ জনপ্রিয় ।
প্রথম যে জিনিসটা পেলাম সেটা হচ্ছে ক্যাম্পিং নাইফ । বস উপহার দিয়েছিল আমাকে ক্রিসমাসের সময় ।
বিঘৎ খানেক ফলার ইস্পাতের চাকু । সেটার উল্টা দিকের খাঁজ দিয়ে বোতল খোলা যায় । খাবারের ক্যান খোলা যায় । চাকুর গোড়ালিতে সুন্দর কম্পাস আছে। রাতের বেলাও জ্বলজ্বল করে । হাতল প্যাচিয়ে খুলে ফেললেই ভেতরে ফাঁপা জায়গা । ওখানে আছে তিনটে বড়শি আর সামান্য সুতা।
আসলেই দারুন একটা জিনিস ।
জিনিসটা তখন প্রায় সব সময় রাখতাম ।
খাবারের শূন্য টিন কেটে চুলা বানাতে দেখেছি।
টিনের পেটের মধ্যে রোমান সংখ্যায় 1 এর মত করে কেটে বাড়তি অংশ বাইরে বের করে দিলেই চুলা হয়ে যায় । তীব্র বাতাসের মধ্যেও সুন্দর আগুন জ্বলে।
কিন্তু আমি পাথরের টুকরা দিয়েই চুলা বানাতাম ।
জুল ভারন সাহেবের রহস্যের দ্বীপ বইতে ঘড়ির কাচের মধ্যে জল রেখে আগুন ধরানোর কায়দা পড়ে শৈশবে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম । পরে দেখছি বোতলের ভেতরে জল রেখে আগুন ধরাতে।
একটু সময় সাপেক্ষ আর খানিক বিরক্তকর।
আগুন জ্বালানোর সময় শুকনো লতাপাতার সাথে কাশফুলের মত কেমন একটা বুনো ফুল সংগ্রহ করতো ওরা। শুকিয়ে এক টুকরো তুলার মত হয়ে গেছে । সেইসব পাশে রেখে আগুন ধরালে সহজেই দাউ দাউ করে জ্বলে উঠতো ।
সারভাইভাল টুল হিসাবে চাবির রিং কিনতে পাওয়া যায় । ওটার সাথেই স্কেল , আতশি কাঁচ, কম্পাস আর বাঁশী থাকে।
এই বাঁশী বেশ কাজ দেয়।
ধরেন গভীর বনে হারিয়ে গেলেন । বাঁশিতে ফু দিলেই তীক্ষ্ণ শব্দ যাবে বহু দূর দূরান্ত পর্যন্ত ।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন