সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

গুচ্ছ হরর গল্প

 =====================================

টুসি

===================================

ঠিক বিকেলবেলা টুসির মা ওকে পার্কের সামনে রেখে আসে। বাইরে তখন কমলা রঙের রোদ।

হালকা শীত পরে কখনও কখনও । রাঙচিতার ঝোপ জ্বলজ্বল করে শেষ বিকেলের মায়াবী

আলোতে। এক ঝাঁক বাচ্চা খেলা ধূলা করে।

ওদের সাথে মজা করে খেলে টুসি। গোল্লা ছুট আর নানা রকম দৌড় ঝাপ।

সুরে সুরে গায়-

চুল টানা বিবিয়ানা।

সাহেব বাবুর বৈঠক খানা্।।

সন্ধ্যায় আগে ফিরে আসে টুসি।

সন্ধ্যার সময় কেমন ভয় ভয় করে ওর। গাছ পালার ফাঁকে ফাঁকে কি সব যেন আছে বলে মনে হয়। অথবা ওর কল্পনা। কখন কখন সন্দেহজনক শব্দ ও পায়।

কারা যেন ফিস ফিস করে কথা বলে।

মা-কে জিজ্ঞেস করেছে কয়েকবার। মা কিছু বলেনি।

প্রতিবেশীদের বাড়িতে যায় টুসি কখন কখন।

মিসেস শিকদার সব বাচ্চাদের লেবুর সরবত আর বিস্কুট দেয়। বাচ্চা কাচ্চা ভালবাসেন তিনি।

মাঝে মাঝে টুসিকে বলেন- তোমাদের বাড়িতে একদিন যাব টুসি। আমাকে নেবে ?

টুসি জবাব দেয় না।

শুধু মাকে একবার বলেছিল- মা, উনাদের কী আমাদের বাড়িতে আনব?

মা করুন হেসে বলেছিল - না সোনা, তাহলে সবাই বুঝে ফেলবে তুমি মারা গেছ।

------------------------------

ভ্যালেনন্টাইন।

================================

=========================

কফিন

=============================

হাত বাড়াতেই কাঠের তক্তা পেল লুসি।

নরম মসৃণ ভেলভেটের কাপড় দিয়ে মোড়ান। এটা যে কফিনের ঢাকনা বুঝতে একটুও

সময় লাগল না।

ভয়ে শরীর ঠাণ্ডা হয়ে গেল লুসির। চেচিয়ে উঠল- আমি বেঁচে আছি। তোমরা কোথায় ? তোমাদের ভুল হয়েছে। জলদি কফিন খুলে আমাকে বের কর।

নিজের কানেই নিজের চিৎকার ফিরে এসে কান ঝালাপালা করে দিল।

লুসি জানে ওর চিৎকার কেউ শুনবে না। প্রশ্নই উঠে না। ওদের পারিবারিক গোরস্তানে

দাফন করা হয়েছে ওকে।

বড্ড বিচ্ছিরি ধরনের নিঝুম এলাকা। সামনের রোববারের আগে কেউ আসবে না।

তত দিন টিকে থাকবে ও?

হঠাৎ করেই পুরানো সেই গল্প মনে পরে গেল। বাড়ির পুরানো চাকর বাকড়দের মুখে শুনেছে

ওদের পারিবারিক গোরস্তানের মরা লাশগুলো মাঝে মাঝেই কিসে নাকি খেয়ে ফেলে।

কী বিচ্ছিরি গল্প।

ভুল সময়ে মনে পড়লো।

এমন সময় শুনতে পেল কে যেন সাবধানে ওর কফিন খোলার চেষ্টা করছে।

বড় বড় নখ দেখা যাচ্ছে কফিনের ফাঁক দিয়ে।

------------------------------------

দুঃস্বপ্ন

============================

দুঃস্বপ্ন দেখতাম ছোট বেলা থেকেই।

বিদঘুটে সব স্বপ্ন। পীর ফকিরের তাবিজ হতে হোমিওপ্যাথিকের শিশি কত খালি করেছি জানি না। ঘর ভর্তি শিশি দাঁত বের করে হাসে।

কত মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলেছি বড় বড় ফি দিয়ে।

উনারা খালি প্যাঁচাল পারতো। ওষুধ দিত না। খালি টাকা নিত। একবার শুধু একজন বুড়ো হাবড়া ডাক্তার অদ্ভুত রকমের ওষুধ দিল।

নীল বোতল। ভেতরে অচেনা তরল।

পুদিনা পাতার মত স্বাদ। আর কি মিষ্টি ঘ্রান।

দারুন সব স্বপ্ন দেখতাম সেই ওষুধ খাবার পর ।

অদ্ভুত সুন্দর ভোরে আমি পিরামিডের পাশে হেঁটে বেড়াচ্ছি। আকাশের রঙ ঘাস ফড়িঙের মত । দুরে নীল নদ। রানি নেফারতিতি দাঁড়িয়ে আছে আমার জন্য।

আহ কি সব স্বপ্ন।

স্বপ্ন না যেন কবিতা সব।

শুধু চোখ বুজে থাকলেই হয়। স্বপ্নেরা হাজির হয় সব একটা একটা করে।

কখন দেখি গ্লোব থিয়েটারে বসে নাটক দেখছি। বাইরে শেক্সপীয়র হেঁটে যাচ্ছে।

হাতে পাখির পালকের কলম। অন্য হাতে মেরুন রঙের আপেল। দুধের সরের

মত কুয়াশা বাইরে। নীল অন্ধকার। চাঁদটার গায়ে যেন মরচে ধরে গেছে।

তবে একটা স্বপ্ন ঘন ঘন দেখতাম।

লাল রঙ। সারা কামরা ভর্তি লাল রঙ। আর চিৎকার। কারা যেন চিৎকার করে গান গাইছে।

কি সুন্দর। কি অপার্থিব।

এক দিন পুলিশ এসে ধরে নিয়ে গেল আমাকে।

তিনটে খুন আমি করেছি। চাকু পাওয়া গেছে ঘটনাস্থলে । আমার হাতের ছাপ সহ।

আমি নিজেও জানি না। দারোয়ান সাক্ষী দিল। রোজ রাতে ঘুমের মধ্যে

হেঁটে বেড়াতে দেখেছে আমাকে। হাতে চাকু ছিল নাকি...

------------------------------------------

ছেলের বাড়ি ফেরা

===================================

ছেলেটার গলার স্বর শুনতে পেতাম মাঝে মাঝে।

কাছে পিছে থেকে আমাকে ডাকাতো। খুব চেষ্টা করেছি। কত বার ছাদে বা দেয়ালের উপর

উঠে চারিদিকে খুঁজে দেখেছি। ও নেই।

এক শীতের রাতে দোকানে পাঠিয়েছিলাম ওকে। বড্ড ভীতু ছিল ছেলেটা।

বারবার বলছিল -বাবা রাতের বেলা বাইরে যেতে ভয় করে।

রাগারাগি করলাম। বোঝানোর চেষ্টা করলাম- ভয়ের কিছু নেই।

ও যথেষ্ট বড় হয়েছে। অন্ধকার নির্জন জায়গায় ভয়ের কি আছে ?

দোকান থেকে ফিরে এলো না। মোড়ের সামনে গাড়ি চাপা পড়ে মারা গেল।

কবর দিয়ে ফিরে এলাম। ওর মা মারা গেল পরের সপ্তাহে। ছেলের শোকে।

আমি একা হয়ে গেলাম।

এক রাতে দেখি বাগানের দেয়ালে বসে আছে ছেলেটা।

ভাবলাম চোখের ভুল।

পরে দেখি না তো।

কিরে খোকা তুই ? অবাক হলাম।

আমার কণ্ঠ শুনে হকচকিয়ে গেল খোকা।

অহ বাবা তুমি আমাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছ। রেগে বলল খোকা।

তারপর ঝেড়ে দৌড় দিল।

হারিয়ে গেল অন্ধকারে।

তারপর থেকে প্রায় রাতেই ওর শব্দ পেতাম। আমার শব্দ পেলে পালিয়ে যেত।

মনে মনে কোন কুল কিনারা পেতাম না।

আমাকে কি ও ঘৃনা করে ?

ভাবতাম।

কেন আসে ও? কোন রাগ ক্ষোভ বা ঘৃণা পুষে রেখেছে আমার উপর।

জনাতাম না।

শেষে একরাতে ঘরে ঢুকে বলল- চল বাবা তোমাকে নিতে এসেছি।

কোথায় ? অবাক হলাম।

আমার ওখানে। বলল খোকা । অনেক দিন আগে গাড়ি অ্যাকসিডেন্টে তুমি মারা গেছ। রোজই তোমাকে নিতে আসি। তোমার ভয়ে বলতে পারি না কিছু। আজ চল আমার  সাথে। একা একা কবরে থাকতে ভয় লাগে আমার।

-------------------

কবর

--------------------------------------------

 ইদ্রিস আলী খুব ভাল কবর খোঁড়ে !

কবর খোঁড়া যে একটা শিল্প হতে পারে জানতাম না ।পৃথিবীর শেষ ঘর হিসেবে ইদ্রিস আলীর কবর আমার খুব প্রিয় হবে ।

এই গ্রামে যদি মারা যাই তবে নিশ্চয় ইদ্রিস আমার কবর খুঁড়বে ...!!

এই গ্রামে আসার পর থেকেই দেখছি ,কেউ মারা গেলে মৃত মানুষটার বুকে কাঠের একটা গোঁজ ঠুকে দেয় গ্রামবাসী আর কবরের উপরে ছড়িয়ে দেয় বুনো গোলাপের ডালপালা ...!

এমন অদ্ভুত নিয়ম আগে কখনো কোথাও দেখিনি !

একদিন ইদ্রিস আলীকে জিঞ্জেস করলাম , ঢকঢক করে দেশী মদ গিলতে গিলতে বিরক্ত হয়ে ইদ্রিশ জবাব দিল ,'এমন না করলে মরা মানুষডি সারা রাইত গেরামের মইদ্যে হাঁটাহাটি করে তো ,কবরে থাকতে চায় না ....'

=======================

 

রুপালি রাত

--------------------

 

 

রাত ভালবাসি।

রাতের অন্য রকম সৌন্দয আছে। অনেকে জানে না।

রাত হচ্ছে একটা পরীর মত। শুধু ভাগ্যবানেরাই রাতের পর রাত জেগে এই

মায়াবী রূপ আবিস্কার করে।

তাকিয়ে দেখুন বাইরে। নীল অন্ধকার। আকাশ ভর্তি চুমকির মত তারা

ঝিঁকিমিকি করছে।

বাতাসে কেমন পাগল করা বুনো ফুলের একটা ঘ্রান। বহু দুরে কে যেন পুরানো দিনের গান

বাজাচ্ছে-

আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা থাকে।

সাত সাগর আর তেরো নদীর পারে...

সুনসান চারিদিক। ঝি ঝি পোকা ডাকছে এক ঘেয়ে শব্দে।

নারে ভাই রাত আমাকে কবি বানিয়ে ফেলে। দূরের শেয়ালের ডাক

পযন্ত বিবশ বানিয়ে ফেলে আমাকে।

আমার বাবা -দাদা-সব সবাই রাত ভালবাসত। সবাই। দিনে কেউ বাড়ি থেকে বের

হতাম না।

আপনারা আমাদের এই স্বভাবটা পছন্দ করেন না। ভ্যাম্পায়ার বলে ঘৃনা করলেও আমরাও মানুষ,

--------------

পুতুল

----------------

বাবা মা দুজনেই পুতুলটা পছন্দ করে না।

মা প্রায়ই বকে। রাস্তা থেকে কেউ কি পুতুল কুড়িয়ে আনে ? দুইদিন পর পর এই ব্যাপারটা নিয়ে বকে বকে আমার কান ঝালা পালা করে দিত । শেষে হাল ছেড়ে দিয়েছে ।

পুতুলটা ময়লা , দেখতে একেবারে খারাপ না। পুঁতির একটা চোখ নেই ।

তারপরও আমার পছন্দ । কোন রকম বিরক্ত করে না, যেখানে রাখি সেখানেই বসে থাকে ।

প্রথম প্রথম কয়েক রাতে ওটা কেঁদে উঠত। গভীর রাতে । শেষে সেলাই করে মুখটা বন্ধ করে দিয়েছি ।

 

----------------------------------------

হোটেল

------------------------------------

মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে গেল আপনার।

আবিস্কার করলেন অচেনা একটা হোটেলের অন্ধকার কামরায় শুয়ে আছেন।

বাইরে কারা যেন কথা বলছে। খাওয়া দাওয়া করছে।শব্দ।

কাঁচা ঘুম ভাঙ্গায় বিরক্ত হলেন। সস্তা আর অখ্যাত হোটেলে উঠে ভুল করেছেন

সেই জন্য নিজের পিণ্ডি চটকালেন আরওএকবার ।

ঘড়ি দেখলেন। রাত বারোটা। কিচেনে গিয়ে এক জোড়া

ডিমের অমলেট খাবেন কিনা বুঝতে পারছেন না।

কম্বল সরিয়ে নেমে গেলেন।

কাঠের সিঁড়ি বেয়ে নিচ তলার কিচেনে গিয়ে আবিস্কার করলেন কমপক্ষে

ছয় জন মানুষ বসে খাওয়া দাওয়া করছে ডাইনিং টেবিলে।

একজন মস্তিবাজ মানুষ হাসি মুখে বলল- আসুন জনাব। বসুন আমাদের সাথে।

উপভোগ করুন আমাদের স্পেশাল মধ্যরাতের খাবার। কোথাও পাবেন না এমনটা।

অবাক হয়ে দেখলেন টেবিলের উপর রোষ্ট আস্ত একটা মানুষ। নানার রকমের

মশলা আর গুল্ম ব্যবহার করায় দারুন লোভনীয় ঘ্রান বের হচ্ছে।

রোষ্ট হয়ে যাওয়া লোকটা পরিচিত। দোতলার কোন একটা কামরায় ছিল।

আজ বিকালেও কথা হয়েছে।

খিচে দৌড় দিয়ে মূল ফটক পযন্ত গিয়ে আবিস্কার করলেন বাইরে থেকে তালা

দেয়া।

-------------------------------------------

মধ্যরাতে

--------------------------------------------

টোটনের ঘুম ভাংলো আচমকা ।  গভীর রাত ।  কোন সারা শব্দ নেই । তাহলে ওর ঘুম ভাঙল কেন ?

খানিক কান পেতে রইল ।  এইবার শব্দটা শুনতে পেল । কেউ হাঁটছে বাইরে ।  পা ঘষটে ঘষটে  শব্দ করছে । কে  এত রাতে ?

বিছানা ছেড়ে আলগোছে উঠে দাঁড়ালো । ধীর পায়ে গিয়ে  দরজার পাল্লা  ঠেলে  বাইরে তাকাল । করিডোরের শেষ মাথায় আম্মু আব্বুর কামরা । কিন্তু এখান থেকেই দেখতে পেল  মেঝেতে আব্বুর শরীরটা পরে আছে । রক্তে চারিদিক ভেসে যাচ্ছে  কেমন করে । আরও খানিক দূরে আম্মুর লাশ । গলা কাটা । করিডোরের অল্প আলোতে দেখতে পেল ছায়া ছায়া একটা লোক দাড়িয়ে আছে । হাতে বিচ্ছিরি ধরনের চাকু ।

আতঙ্কে শরীর হিম হয়ে গেল ওর ।

কি করবে ?

লোকটা ওর রুমের দিকে আসছে না ? তাই  তো ।

দৌড়ে পালাবে কোথায় ? দরজার পাল্লা ঠেলা দিয়ে বিছানা এসে শুয়ে পড়লো । টোটনকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখলে লোকটা নিশ্চয়ই ওকে কিছু করবে না।

দরজার খিল বা ছিটকারি নেই । নষ্ট হয়ে গেছে কবেই কিন্তু মেরামত করা হয়নি । আজ মাশুল দিতে হল ।

চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে  টোটন । চুলের মত সরু ফাঁক করে রেখেছে চোখের পাপড়ি ।

দেখল দরজার পাল্লা খুলে ভেতরে ঢুকেছে খুনি । সোজা চেয়ে আছে ওর দিকে ।

গভীর ঘুমের ভান করে রইল  টোটন ।

দরজার পাশের দেয়ালে রক্ত  দিয়ে লোকটা কি যেন লিখল  আঁকা বাঁকা হরফে । তারপর  ধীরে ধীরে বিছানার সামনে এসে দাঁড়ালো । গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখল  টোটনের ঘুমন্ত (!) চেহারা ।

তারপর কি কাণ্ড ওর বিছানার তলায় চলে গেল ।

দম খিঁচে পরে আছে টোটন । আরও খানিক অপেক্ষা করবে । তারপর উঠে ঝেড়ে  দৌড় দেবে ।

দরজার ওখানে কি লিখেছে খুনি ?

কি হতে পারে ?

অন্ধকারে লেখাটা বুঝতে পারছে না টোটন । মাত্র মিনিট খানেকের মধ্যে চোখ সয়ে এলো । তাছাড়া করিডোরের আলো  আসছে নরম হয়ে ।

আঁকাবাঁকা লেখাটা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে । এবং  পড়তে পারলো ও। ধড়াস করে উঠলো বুকটা।

 দেয়ালে লেখা -

আমি জানি তুমি জেগে  আছ ।

ঠিক তখনই বিছানার তলায় নড়ে উঠলো লোকটা । বাইরে আসছে ।

-----------------------------------------

ছড়া

------------------------------------------

এই গ্রামের মায়েরা সন্ধ্যা বেলায় বাচ্চাদের ঘুম পাড়ানোর সময় গান গায়।

গানের একটা লাইনই গায় সবাই ।

সেটা হল- আর কটা দিন সবুর কর রসুন বুনেছি।

এই ঘুম পাড়ানি গান তো আমিও জানি।

 

খোকা ঘুমালো, পাড়া জুড়ালো,

বর্গী এল দেশে

বুলবুলিতে ধান খেয়েছে

খাজনা দেব কিসে।।

ধান ফুরল, পান ফুরল

খাজনার উপায় কি?

আর কটা দিন সবুর কর

রসুন বুনেছি।

 

কিন্তু ওরা পুরো গানটা গায় না কেন ?

একটা লাইনই ঘুরে ফিরে বার বার গায়। যতক্ষণ বাচ্চা না ঘুমায়।

অনেক পরে জানলাম বুড়ো বনমালী বাবুর কাছে।

এই এক লাইনেই কাজ হয়।

আর কটা দিন সবুর কর রসুন বুনেছি।

এই লাইনের রসুন শব্দটা শুনে ওরা দূরে থাকে।

ভ্যাম্পায়ার আর আসে না ওদের বাড়িতে।

 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...