জীবাণু সব জায়গায় থাকে।
এমন কি আমাদের শরীরে ভেতরেও থাকে।
মানুষের মধ্যে যেমন ভাল আর খারাপ আছে, ঠিক তেমনই জীবাণুদের মধ্যে ও ভাল আর খারাপ আছে।
জীবাণু এতই পিচ্চি যে খালি চোখে তোমরা কেউ দেখতে পারবে না।
জীবাণু দেখার জন্য দরকার হয় অণুবীক্ষণ যন্ত্র।
অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নীচে পুকুরের এক ফোঁটা পানি রাখলেই দেখতে পাবে ওতে একগাদা
পিচ্চি আর বিচিত্র প্রাণী কিলবিল করছে।
যেন বড় কোন বাজারে এক গাদা মানুষ কেনা কাটা করতে গেছে।
আমাদের শরীরের ভেতরে যে সব জীবাণু আছে ওরা বেশ ভাল। উপকার করে।
বাইরের ক্ষতিকর কোন জীবাণু ঢুকে পড়লে ওরা হৈ হৈ করে দৌড়ে গিয়ে আক্রমণ করে বসে।
এমন কি আমাদের পাকস্থলীর ভেতরে যে সব জীবাণু আছে ওরা আমাদের খাবার হজম করতে সাহায়্য করে।
খারাপ জীবাণু আমাদের অসুস্থ বানিয়ে ফেলে। এরা বাতাসে উড়ে বেড়ায়। তাই রাস্তার
খোলা খাবার খেতে হয় না। এমন কি বাসায় কোন খাবার খাওয়ার আগেও ভাল করে হাত ধুয়ে নিতে হয়।
জীবাণু খুব দ্রুত বেড়ে যায়। বিজ্ঞানীরা একে বলে - বাইনারি ফিউশন বা দ্বিভাজন পদ্ধতি।
মানে বুঝিয়ে বলছি।
একটা জীবাণু যদি কোথাও রেখে দাও তবে খানিক পরই ও নিজেকে দুই টুকরো করে ফেলে দুটো জীবাণু বানিয়ে ফেলতে পারবে।
নিজেই নিজের একটা বন্ধু বা ভাই বানিয়ে ফেলতে পারবে।
এবার সেই দুই জীবাণু নিজেদের চারটা বানিয়ে ফেলবে দেখতে না দেখতে।
চারটা জীবাণু নিজেদের আটটা বানিয়ে ফেলবে। আটটা ষোলটা হয়ে জাবে।কি ভয়াল
ব্যাপার।
জীবাণু উদ্ভট সব পরিবেশে বেঁচে থাকতে পারে।
বরফের মত ঠাণ্ডায়ও কিছু জীবাণু বেঁচে থাকে। আবার আগ্নেয়গিরির ফুটন্ত পানিতেও
কিছু জীবাণু বেঁচে থাকতে পারে।
কিছু জীবাণু প্রায় অমর ।
এমন কি সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি বা তেজস্ক্রিয়ার বিকিরণের পরেও কিছু জীবাণু দিব্যি বেঁচে থাকতে পারে।
বিজ্ঞানীরা দেখেছেন মহাশূন্য পাড়ি দিয়েও অনেক জীবাণু বেঁচে থাকে এবং বংশ বৃন্ধি
করতে পারে।
বিজ্ঞানীরা পুরানো পাথর পরীক্ষা করে দেখেছেন ওখানে জীবাণুর ফসিল পাওয়া গেছে। দেখে মনে হয় এই সব জীবাণুরা মহাশূন্যের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বেড়াতে বেড়াতে
অচেনা কোন সৌর জগত থেকে আমাদের পৃথিবীতে চলে এসেছে।
ওরা আমাদের পৃথিবীর প্রথম দিকের জীবন্ত প্রাণ ছিল।
জীবাণু দেখতে তিন ধরনের হয়। লম্বাটে লাঠির মত, গোল বলের মত আর প্যাঁচানো।
এছাড়া ও চেইনের মত বা চারকোণা বা ছয়কোনাও হয়।
জীবাণুরা সব সময় ক্ষুধার্ত থাকে। রাক্ষসের মত খায় ওরা।
এরা চিনি হতে লোহা পযন্ত খেতে পারে।
জীবাণু থেকে বাঁচার উপায় হচ্ছে পরিষ্কার থাকা।
ময়লার বিনে হাত না দেয়া, নোংরা ন্যাকড়াতে হাত না দেয়া। খাবারে যাতে মছি না বসে সেই দিকে খেয়াল রাখা।
মজার ব্যাপাআর হচ্ছে বিজ্ঞানীরা বলেন টয়লেটের কমোডের চেয়ে ৪০০ গুন বেশি জীবাণু একটা অফিসের টেবিলে থাকতে পারে।
তোমার মুখের ভেতরে যত জীবাণু আছে সারা দুনিয়ার লোক সংখ্যা তারচেয়ে অনেক কম।
বৃষ্টির সময় দারুন একটা ঘ্রান পাওয়া যায়। যেটাকে ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ বলে।
সেটার জন্যও এক রকম জীবাণু দায়ী।
ওর নাম অ্যাক্টনোমাইসিকটস( actinomycetes.)
আমাদের পেটের নাভির ভেতরে নাকি বিচিত্র ১৪৫৮ ধরনের জীবাণু থাকে।
হায় হায়।
একটা ময়লা টাকার মধ্যে ৩০০০ ধরনের জীবাণু থাকে।
বেশির ভাগ রোগের জন্য যে সব অ্যান্টিবায়োটিক বানানো হয় সবই বিভিন্ন জীবাণু দিয়ে তৈরি।
রান্না ঘরে একটা চামচ ফেলে রাখলেই মাত্র ২০ মিনিট পর ওটা জীবাণুর কলোনি হয়ে যাবে।
মাত্র যে শিশুটা জন্ম নেয় ওর শরীরে কোন জীবাণু থাকে না।
ডুবে যাওয়া টাইটানিক জাহাজের গায়ে এমন ধরনের জীবাণু পাওয়া গেছে যারা লোহার মরিচা খেয়ে বেঁচে থাকে।
সবার জীবনের একটা লক্ষ থাকে। কিন্তু জীবাণুদের জীবনের লক্ষ্য একটাই।
নিজেদের সংখ্যা বাড়ানো। এক থেকে দুই। দুই থেকে চার। একটু আগে যেটা বললাম।
এক জীবাণু মাত্র ৪ ঘণ্টায় ১০ লক্ষ জীবাণু হতে পারে।
ভাল করে দাঁত মাজার পর ও প্রতিটা দাঁতের গোঁড়ায় ১০ হাজার করে জীবাণু থাকে।
একটা মজার জিনিস হল পৃথিবীতে মানুষ আসার কোটি কোটি বছর আছে জীবাণু এসেছে।
মানে ওরাই দুনিয়ার পুরানো বাসিন্দা।
জীবাণুকে তুমি এক কোষী প্রাণী বলতে পার।
কাঁচা যে কোন খাবারেই জীবাণু থাকে। তাই ভাল করে রান্না করে খেতে হয়।
তবে কিছু জীবাণু ৫ হাজার ডিগ্রী সেলাসিয়াস তাপমাত্রায় ও বেঁচে থাকে।
মোট কথা জীবাণু সব জায়গায় আছে। ওদের সাথেই আমাদের থাকতে হবে, উপায় নেই।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন