সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নিউটনের আপেল রহস্য

 ঘটনা তেমন কিছু না।

তরুণ আইজ্যাক নিউটন সাহেব একটা আপেল গাছের নীচে বসে গভীর ভাবে চিন্তা করছিলেন।
তখন হঠাৎ করে পেল্লাই সাইজের একটা আপেল পরে যায় তার মাথায়।
ভাগ্য ভাল ওটা আপেল ছিল। নারকেল বা বেল ছিল না। তখনই বিজ্ঞানী নিউটন সেই গ্যাভিিটি সূত্র আবিষ্কার করেন।
ওই আর কি তার সুত্রের মতে পৃথিবী সব কিছুই তার নিজের দিকে টানছে। ওটা না হলে তুমি দশ তলা দালানের ছাদ থেকে লাফ দিলে আর নীচে পড়তে না। উড়ে অন্য কোথাও চলে যেতে।

পিচ্চিদের বিজ্ঞান বইতে অমন একটা ছবি দেখি , মাথা ভর্তি শুকনা ধুন্ধুলের মত চুল নিয়ে নিউটন সাহেব বসা।আর গাছ থেকে আপেল পড়ছে। তো আসলে কি মনে হয় ? ঘটনা কি সত্যি ?
অনেকেই মনে করে ব্যাপারটা হয়তো গাল গল্প।
বিজ্ঞানের অনেক আবিস্কারের সাথে অমন গাল গল্প ছড়িয়ে আছে।
যেমন আর্কিমিডিস বাথটাবে গোসল করছিলেন। তারপরই ইউরেকা বলে চিৎকার করে জামা কাপড় ছাড়াই দৌড়ে রাস্তায় চলে গিয়েছিলেন। আবার জেমস ওয়াট নাকি রান্না ঘরে বসেছিলেন। আর পেল্লায় এক কেটলিতে জল ফুটছিল। তখনই বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কার করার আইডিয়া মাথায় আসে।

নিউটনের কথায় ফিরে আসি।
এই আপেল কি অপ্রামাণিক গল্প ?
লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটি কিন্তু একটা পাণ্ডুলিপি যত্নের সাথে জমা হয়ে আছে। সেটা হল- উইলিয়াম স্তিউকলি (William Stukeley) – এর লেখা আইজাক নিউটনের জীবনী। ১৭৫২ সালে ছাপা হয়েছিল বইটা। বইটার নাম -মেমরিস অফ স্যার আইজাক নিউটন লাইফ। বইটা অনলাইনে ২০০৪ সাল থেকে পাওয়া যাচ্ছে। ফ্রি। ওখানে কিন্তু উইলিয়াম স্তিউকলি লিখেছেন- “রাতের খাবার শেষ করার পর খেয়াল করলাম বেশ গরম লাগছিল। আমরা বাগানে গিয়ে কতগুলো আপেল গাছের ঝোপের নীচে বসলাম। চা পান করার জন্য। তখনই কাকতালীয় ভাবে একটা আপেল পড়লো।
বাগানে গবেষণার মুডে ছিল সে ( নিউটন) । আপন মনেই বলল , আচ্ছা আপেলগুলো সারাক্ষণ আমাদের বিরক্ত করে কেন ?
মহাকর্ষ ধরনা চলে এলো তার মাথায়।”
রয়্যাল সোসাইটি তাদের ৩৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই পাণ্ডুলিপি ইন্টারনেটে প্রকাশ করেছে। যাতে সবাই পড়তে পারে।
ইংল্যান্ডের উল্সথর্প- এ এই আপেল গাছটা আজও আছে। প্রতিদিন গণ্ডায় গণ্ডায় লোকজন আপেল গাছটা দেখতে যায়।
অনেকে বলে ১৮২০ সালের এক ঝড়ে পুরানো আপেল গাছটা ভেঙ্গে গিয়েছিল। সেই ভাঙ্গা কাঠের টুকরো দিয়ে নস্যির কৌটা আর পিচ্চি খেলনা বানানো হয়েছিল। বর্তমানে যে আপেল গাছটা আছে সেটা পুরানো আপেল গাছের গোঁড়ার শেকড়
থেকে আবার জন্ম নিয়েছিল।
কাজেই নিউটন সত্যি আপেল গাছের নীচে বসে অভিকর্ষ সূত্র আবিষ্কার করেছিলেন। কিন্তু আপেল তার মাথায় পড়েছিল কি না সেটা আমাদের জানা দরকারি না। যাই হউক কাহিনি এখানেই শেষ। এই আপেল গাছটা ইংল্যান্ডের সেরা ৫০টা গাছের মধ্যে একটা। সেই গাছ গুলো সবাই ইতিহাসের সাথে জড়িত। কোন না কোন ভাবে।
আর নিউটনের আপেল গাছটা কয়েক বছর আগে ঝড়ের দাপতে ভেঙ্গে পড়েছিল। ক্লোন করে আবার একটা নতুন গাছ বানান হয়েছে।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...