সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

রঙধনুর সাত রঙ

 টানা কয়েক দিন পর বৃষ্টি শেষ হলে বাইরে গেলেই অবাক হয়ে দেখি আকাশে দারুন রকমের রঙধনু উঠেছে। রঙধনু দেখতে কার না ভাল লাগে। পুরো আকাশ জুড়ে

থাকে সাত রঙের বিচিত্র এই রঙধনু।
তোমরা সবাই শুনেছে বা দেখেছ রঙধনুতে সাতটা রঙ থাকে।
সত্যি কি তাই ?
আমরা ছোট এক পরীক্ষার মধ্যে জানতে পারি।
একটা কাঁচের গ্লাসে পানি ভর্তি করে জানালার পাশে রাখো। খেয়াল রাখতে হবে জানালা দিয়ে রোদ এসে যেন সরাসরি কাঁচের গ্লাসের গায়ে পড়ে। গ্লাসের তলায় একটা সাদা কাগজের টুকরো রাখলে ভাল হয়।
এবার খানিক অপেক্ষা করো।
মাত্র কয়েক মুহূর্ত পরেই দেখবে গ্লাসের তলায় কাগজের উপর উজ্জল বর্ণালী
রঙধনু ফুটে উঠেছে।
ভাল করে খেয়াল করলে দেখতে পাবে ওখানে সাতটা রঙ আছে।বেগুনী, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা আর লাল।
কেন এমনটা হয় ?
বিজ্ঞানীরা বলেন এখানে আলোর প্রতিসরণ নীতি কাজ করে।
আলোর প্রতিসরণ নীতিটা আবার কি ?
আলো যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য একটা স্বচ্ছ মাধ্যমে প্রবেশ করে তখন ওর
আসল পথ থেকে একটু সরে যায়।
আর এই সরে যাবার ফলেই সূর্যের আলো ওর আলাদা আলাদা সাতটা রঙ বিকিরন করে ফেলে।
মনে হতে পারে সূর্যের আলোর তো কোন রঙ নেই। সাদা। আসলে সাদা মানে বর্ণহীন না। বেগুনী, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা আর লাল এই সাত রঙ মিলে সাদা।
সুয়ের আলোতে এই সাত রঙ ই মিশে আছে।
সংক্ষেপে বলে- বেনীআসহকলা।
যখন প্রতিসরণ নীতি কাজ করে তখন এই পানির কণা আলোর রংকে আলাদা করে।
এই যে পরীক্ষা করলাম, এখানে বাতাস, আলো আর কাঁচ তিনটে আলাদা আলাদা
মাধ্যম। এই তিনটা মাধ্যম যখন আলো পার হয় তখন আলোর প্রতিসরণ নীতি
কাজ করে। আলোটা বাতাস পার হয়ে গ্লাসের পানিতে ঢুকে। সেখান থেকে বের হয়ে আবার বাতস ভেদ হয়ে কাগজের উপর পড়ে। আর আমরা কাগজের উপর রঙধনুটা দেখি।
বৃষ্টি শেষ হলে ঠিক এই ঘটনা ঘটে। আকাশ ভর্তি পানির কণা ভেসে বেড়াতে থাকে।
আর সূর্যের আলো ঠিক এই ভাবে যখন পানির কণা ভেদ করে তখন তার সাতটা রঙ
ছড়িয়ে পড়ে।
তোমরা প্রিজম কাঁচ চেন? ত্রিশিরা কাজ বলে। ঐ কাঁচ আলোর সামনে ধরলে দেখবে এমন রঙধনু তৈরি হবে।
আকাশে রঙধনু দেখতে হলে বৃষ্টির শেষে সূর্য থাকতেই হবে।
এই পরীক্ষাটা বাউলের মধ্যে ছোট্ট আয়না রেখে ঘরের ভেতরে করতে পার।


সূর্যের আলো সেই পানিতে ডুবে থাকা আয়নার উপর পড়লেই রংধনু দেখতে পাবে

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...