"আর্থার...।" চেঁচিয়ে উঠল লুনা। "আমরা বিপদে। তিনজন...।"
খুট করে শব্দ হতেই লাইনটা ডেড হয়ে গেল। রিসিভার হাতে বসে রইলো লুনা।
"ওরা লাইন কেঁটে দিয়েছে।" ঢোক গিলে বলল লুনা।
এই প্রথম কাঁদলো সারা। "আমাদের কেউ বাঁচাতে আসবে না মা। আমরা বন্দি।"
নিরাপদ কামরার ভেতরে আটকা পড়েছে স্বামী পরিত্যাক্তা এক রূপবতী। সাথে তার ছোট্ট মেয়ে সারা।
বাইরের পরিস্থিতি এমন, তিন ডাকু রাতবিরাতে বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়েছে। উদ্দেশ্য সদ্য প্রায়ত ধনীব্যক্তি টোফেলের লুকিয়ে রাখা টাকা ডাকাতি করে ফেরা।
তিনজনের মধ্য একজন আমি। লর্ড টোফেলের ব্যক্তিগত ড্রাইভার।
বাকিদের একজন আপনি, দুদে খুনে। কথায় কথায় গুলি ছোঁড়েন।
অন্যজন মুরুব্বি চাচা। নামকরা সিকিউরিটি কোম্পানির টেকনিশিয়ান। আপনার হাত দিয়ে বানানো সেফ খোলার জন্যই আপনাকে হায়ার করেছি।
আমরা জানতাম, বাড়িটা ফাঁকা। এসে জানলাম, একজোড়া প্রাণ রীতিমত বসতি গেড়েছে। চেয়েছিলাম চুপিচুপি কাজ সারতে। পাশা গেছে পালটে। সেফ আছে নিরাপদ কামরার ভেতরে। আর সেখানেই কিনা ঠাই নিয়েছে বাড়ির দুই বাসিন্দা- মা ও মেয়ে। এখন উপায়?
টেলিফোনের তার কেটে ফেলার আগেই লুনা ফোন করে বসেছে তার কাছের রিলেটিভকে। কল পেয়ে ছুটে এসেছে, লুনার প্রাক্তন প্রেমিক এবং স্বামী আর্থার। আসার আগে আবার ইনফ্রম করে এসেছে পুলিশকে! এখন কী করবো?
বিপদ দেখে নাটেরগুরু আমি প্রথমে পিঠটান দিলাম। খুনোখুনি আমার পছন্দ নয়। নিরীহ ড্রাইভার আমি। রক্তারক্তি কান্ড আমার পছন্দ নয়। সহমত আছে বুড়ো চাচারও। কিন্ত আপনি মানলেন না, খুনে মাস্তান তো! টাকা না নিয়ে ফিরবেন না। তাই, নাটেরগুরু আমাকেই আপনি গুলি করে মাথার খুলি উড়িয়ে দিলেন! তারপর?
ভাই কাহিনী এখনও আধা বাকি। কিন্ত পুরোটা কেমন করে বলব, আপনি তো আমাকে মাঝখানে এসে মেরেই ফেলেছেন! বাকি কাহিনী জানতে নিরাপদ কামরায় আপনাকে স্বাগতম।
লেখক মিলন গাঙ্গুলীর হাতে গড়ে ওঠা অসাধাণ একটি থ্রিলার উপন্যাসের নাম নিরাপদ কামরা। নিরাপদ কামরায় থেকে আপনি পাঠক কতটা নিরাপদ বুঝতে হলে বইটি আপনার জন্য।
কথা দিচ্ছি যাই ঘটুক না কেন শেষ পর্যন্ত আপনি ঠিকই নিরাপদ থাকবেন। হ্যাপি রিডিং।
বই: নিরাপদ কামরা
মোঃ শাওন হোসেন রাজু

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন