সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নিয়ে এসো পেয়ালা আর পানপাত্র


 নিয়ে এসো নীল রঙের পানপাত্র

তলোয়ারের ফলার মত ঝকঝকে মদ ভর্তি

গোলাপের পাপড়িতে জমে থাকা শিশিরের মত লোভনীয় মদ

ঘুমিয়ে থাকা প্রেমিকার গোলাপি পাতার নীচে লুকিয়ে থাকা চোখের মনির

মত প্রিয় মদ...

 

ইরানের বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ্নসরের সভাকবি  রুদাকি( ৮৭০-৯৫৪)

 

 

জ্যোতিষ শাস্ত্র বিশ্বাস করেন   নাকি  করেন   না ,  সেটা আপনার  ব্যক্তিগত  ব্যাপার ।

 আর মাতালরা  যে  দিনক্ষণ দেখে পানাহার করে , সেটা  বিশ্বাস করা কঠিন।

 আমার পরিচিত এক মাতাল যাকে আমরা পিতেলা বলি।  সে  বলেছে- ভাই আমি রোজ মদ খাই না। শুধু আকাশ মেঘলা থাকলে খাই। আর রোদেলা দিনে খাই।

  ফিনল্যান্ডে  একবার একটা বারে গিয়ে দেখেছি বড় করে লেখা- ‘ আপনার রাশি কি ?’  জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম,  ওখানে রাশি  অনুয়ায়ি আপনাকে ওয়াইন  বা ককটেল পরিবেশন করবে। অবশ্যই জ্যোতিষ শাস্ত্র মেনে।  আপনি প্রশ্ন করতে পারেন- মিলন ভাই  আপনি বারে গিয়েছিলেন কি করতে ?

ভাই , নিশ্চয়ই এক গ্লাস  বেলের শরবৎ  খেতে নয় ?

যাক , অনেক ঘাঁটা ঘাঁটি করে আর জ্যোতিষী  রবার্টা ফোরোটো এবং  জ্যোতিষী   ক্যারেন পালমারের সাথে কথা বলে যা জানলাম তাই বলছি। আশা করছি  ওয়াইন কেনার সময় বোতলের লেবেল দেখে কিনবেন না। নিজের রাশির সাথে মিলিয়ে কিনবেন। যদি আপনি জ্যোতিষ   শাস্ত্র বিশ্বাস করেন , তবে আরকি।

 

কুম্ভ রাশি ( জানুয়ারির ২০ থেকে ফেব্রুয়ারি  ১৮ ) - এই রাশির জাতকের জন্য অরেঞ্জ ওয়াইন সেরা। বছর পাঁচের আগেও সবাই রেড ওয়াইন আর সাদা ওয়াইন চিনত। এখন কমলা রঙের ওয়াইন বেশ জনপ্রিয়। পান করতে গেলে বুনো  বাদাম এবং হালকা চেরির স্বাদ পাবেন ।

এবং  মেরলট। সবচেয়ে জনপ্রিয় লাল ওয়াইনের একটা।

মীন রাশি ( ফেব্রুয়ারি ১৯ থেকে মার্চ ২০ ) -   রোজ ওয়াইন। সালাদের সাথে।  সাদা ওয়াইন রিসলিং। পীচ, নাশপাতি এবং সবুজ আপেলের সৌরভ আসে পান করার সময়।

 

মেষরাশি ( মার্চ ২১ - এপ্রিল ১৯ )  - ফ্রান্সের  লাল ওয়াইন মেলবেক ( Malbec) । কালচে রঙের এক জাতের  আঙুর  দিয়ে তৈরি। পান করার সময় হালকা মসলার মত ঝাঁঝ পাবেন।  

 বা জিনফান্ডেল । কালো কুচকুচে আঙুর দিয়ে তৈরি।       

 

বৃষ রাশি   (0 এপ্রিল - 0  মে)-   পিনোট নয়ার    ( Pinot Noir) রেড ওয়াইন।   অপূর্ব এই ওয়াইনটা পাকা  চেরি, ভ্যানিলা, রাস্পবেরি, লবঙ্গ , কফি  এবং ক্যারমেলের সৌরভে পাওয়া যায়।  পনীরের কুঁচির সাথে জমে ভাল।

 

 মিথুন রাশি ( মে ২১- জুন ২০ ) -   পিনোট  গ্রিগো  ( Pinot Grigio)  রুচিবর্ধক   চমৎকার  স্বাদ গন্ধযুক্ত ওয়াইন। গরমের দুপুরে অপূর্ব। জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে আমেরিকার দ্বিতীয় ওয়াইন। লেবু, সবুজ আপেল আর হানিসাকল নামের গুল্মের ঘ্রান পাওয়া যায় এই ওয়াইনে।  ইতালিতে প্রচুর উৎপাদন হয়। ঠাণ্ডা অবস্থায় পান করতে হয়।

আরেকটা হচ্ছে ভিনহো ভার্দে (Vinho verde) আক্ষরিক অর্থেই সস্তা ওয়াইন। সহজেই পাওয়া যায় এই  পর্তুগিজ  ওয়াইনটি। কেউ কেউ বলে টাটকা কাটা ঘাসের সৌরভ পাওয়া যায় । মায়াবী বিকেলগুলোতে আড্ডা দেয়ার সময় এই ওয়াইনের তুলনা নেই।

    

কর্কট রাশি ( জুন ২১ - জুলাই ২২) -রীজলিং    (Riesling)   নামের আপেল আর নাশপাতির ঘ্রানওয়ালা   সাদা ওয়াইন।  জার্মানি আর অস্ট্রিয়ার এই ওয়াইনটা সরু বোতলে বাজারে আসে। আর সব ওয়াইনের চেয়ে  স্বাদে অনেক মিষ্টি।

এবং  মালবেক রেড ওয়াইন।

 

  সিংহরাশি ( জুলাই ২৩- আগস্ট ২২ )-  সায়রা  নামের কালচে লাল ওয়াইন। বিভিন্ন সৌরভে পাওয়া যায়। যেমন-   ব্ল্যাকবেরি। ব্লু বেরি। জলপাই, ভ্যানিলা, পুদিনা, রোজমেরি ।  ব্লুচিজ বার্গার বা বারবিকিউ করা মাংসের সাথে এই ওয়াইন দারুন।

এবং শ্যাম্পেন। ডম পেরিগনন নামের এক সাধু ফ্রান্সের শ্যাম্পেন নামের এক জায়গায় থাকতেন। উনি ১৬৬৮ সালের ৪ আগস্ট এই মহান জিনিসটা আবিস্কার করে ফেলেন। জিনিসটা বানিয়ে নাকি সবাইকে ডেকে বলেছিলেন- জলদি সবাই আসুন । আমি নক্ষত্রের আলো পান করছি।

উহ কি ভাষা !  

 

কন্যারাশি ( আগস্ট ২৩- সেপ্টেম্বর ২২ ) -   মোসকাটো  (Moscato ) ওয়াইন। মিষ্টি স্বাদের ইটালিয়ান ওয়াইন। কমলা আর পিচ ফলের সৌরভে পাওয়া যায়। অ্যালকোহলের পরিমান    খুবই কম। মাত্র ৫ থেকে ৭ পারসেন্ট। হালকা বুদ্বুদ উঠে ছিপি খোলার পর। সি ফুডের সাথে ভাল যায়। যেহেতু স্বাদে মিষ্টি কেক বা বেরি পাইয়ের সাথেও দারুন।

এবং ক্যাবারনেট সভিগনন।

তুলারাশি ( সেপ্টেম্বর ২৩ - অক্টোবর ২২ ) -  লামবুসকো   রেড ওয়াইন।   (Lambrusco)   মোটেও দামি  কোন ওয়াইন না। সস্তা লাল বুদ্বুদ উঠা পানীয়। রঙ  ঘন বেগুনি। ইতালির জিনিস। চেরি, ব্ল্যাকবেরি আর ভায়োলেট ফুলের  সৌরভে পাওয়া যায়।

এবং মাখনের সৌরভওয়ালা ওয়াইন  চার্ডনে।

 

বৃশ্চিকরাশি ( অক্টোবর ২৩- নভেম্বর ২১ ) -সাভিভনন ব্লাঙ্ক । সাদা ওয়াইন। ফ্রান্সের জিনিস। আজকাল সব দেশেই পাওয়া যায়। সবুজ আপেল, লেবু, এবং প্যাশন ফলের স্বাদে পাওয়া যায়।

 

ধনুরাশি ( নভেম্বর ২২- ডিসেম্বর ২১ ) -  চার্ডননি ওয়াইন, সাদা এই ওয়াইনটা পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়াইন।  এটার জন্ম ও ফ্রান্সে। বার্গান্ডি নামে একটা এলাকায় উৎপন্ন হত প্রথম দিকে। তাই হোয়াইট বার্গান্ডি বলতো সেই সময়। পরে  ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা  বাড়তে থাকে। নাম ও বদল হয়। এই মুহূর্তে চার্ডননির জনপ্রিয়তা মধ্যগগনে। কোন এক ফুড  রাইটার এই ওয়াইনকে বলেছেন- কিস অভ ভ্যানিলা। মাছ বা সি ফুডের সাথে দারুন।   

মকররাশি ( ডিসেম্বর ২২- জানুয়ারি ১৯ ) - কেবারনেট সভিগনন।  গাঢ়   রুবি রঙের এই ওয়াইন বিশ্ব বিখ্যাত, এটার জন্ম ও ফ্রান্স। সাড়ে ১৩ পারসেনট  থেকে ১৫ পারসেনট    অ্যালকোহল আছে   । সব ওয়াইন এমনিতেই পান করা যায়। শুধু এই ওয়াইন পান করার সময় খাবার লাগবেই। খালি পেটে খাওয়া যাবে না।  ভাল হয় গরু বা ভেড়ার মাংসের সাথে।

এবং সভিগনন ব্ল্যাঙ্ক।

তো , এই হচ্ছে সব রাশিচক্র হিসাবে   দেয়া ব্যবস্থাপত্র।

তবে যাই কিনুন ,  দুই বোতল কিনবেন প্লিজ।

 দ্বিতীয়টা আমার জন্য।

 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...