সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নিরাপদ কামরা ২

 নতুন বাড়ি কিনে মাত্র উঠেছে লুনা আর অসুস্থ মেয়ে সারা। লুনা বাড়িটির খোঁজ মোনিকার কাছ থেকে পায়। যখন পুরো বাড়ি তারা ঘুরে দেখছিলো তখন এক পর্যায়ে তারা 'নিরাপদ কামরা' দেখতে পায়। কিন্তু, লুনা এই বিষয়টিকে স্বাভাবিক দৃষ্টিতে দেখে। 'ধনকুবের' মানুষদের বাড়িতে এইরকম গোপন কামরা থাকাটা অস্বাভাবিক নয়।



কিন্তু এই 'নিরাপদ কামরা'-ই যে তাদের দু'জনের জন্যে বিপদ ডেকে আনবে তা কে জানতো?

বাড়িটির প্রথম রাতেই ঘুম ভেঙ্গে বিপদে পড়ে গেল ওরা। নিরাপদ একটা কামরাতে বন্দি মা-আর মেয়ে। ফোন নেই। খাবার নেই। বাইরে থেকে সাহায্য পাবার উপায় নেই।
বাইরে ওরা তিনজন। ঠান্ডা মাথার এক খুনি। অস্থিরমতি এক অপরাধী-যার মনে কোন দয়া মায়া নেই। আর সিন্দুকের জাদুকর হেনরি।



টাকা গুলো চাই ওদের। দ্রুত ফুরিয়ে আসছে সময়।
একদিকে লুনা ও সারা 'নিরাপদ কামরায়' নিজের জীবন বাঁচানোর জন্যে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর অন্যদিকে, ওরা তিনজন সেই 'নিরাপদ কামরায়' প্রবেশ করার জন্যে পাগলপ্রায় হয়ে গিয়েছে।


অথচ, এইখানে একটা মজার ব্যাপার রয়েছে। তা হলো - লুনা ও তার মেয়ের কাছে মনে হচ্ছে - বাড়ির ভেতর যেই তিনজন ভয়ঙ্কর মানুষ রয়েছে তারা মনে হয় লুনা এবং সারা-কে মারতেই আসছে। কিন্তু, তখনও মা-মেয়ে বুঝতে পারেনি যে, সেই 'তিনজন' এসেছে নিরাপদ কামরা'র মধ্যে লর্ড টোফেল'র লুকায়িত অঢেল টাকা চুরি করতে।


তারপর?
পাঠ প্রতিক্রিয়া - সকালে উঠেই এই বইটা পড়া শুরু করলাম। এমনই টানটান উত্তেজনা ছিল যে, নাস্তা খাওয়া অর্ধেক খেয়ে রেখে দিলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম - পুরো বই শেষ করে এরপর নাস্তা করবো। হলোও তাই!
এমনই রুদ্ধশ্বাস এক উপ্যনাস। ক্ষণে ক্ষণে মনে হয়েছে এই বুঝি লুনা ও তার দশ বয়সি মেয়ে লুনা সেই তিনজন'র (অস্থির মতি - জুন, ঠান্ডা মাথার এক খুনি - রাউল, সিন্দুকের জাদুকর - হেনরি।) কাছে ধরা পড়ে যাবে।


পড়ার সময় মনে হচ্ছিল কোনো থ্রিলার মুভি দেখছি।


উল্লেখ্য যে, এই বইটি লেখক 'জেমস ইলশনের' বেস্ট সেলার উপ্যনাস অবলম্বনে লিখেছেন। একটি ব্যাপার লক্ষ্য করা যায় যে, কোনো লেখক বাইরের উপ্যনাস অবলম্বনে লিখতে গেলে হয়তবা খুব কঠিন করে লেখেন। কিংবা, আক্ষরিক অনুবাদ করে বসে। যা, পাঠকদের উপ্যনাস বুঝতে সমস্যার সৃষ্টি করে। কিন্তু, এই উপ্যনাসটি ব্যতিক্রম। লেখক প্রতিটি কথাই অতি প্রাঞ্জল ভাষায় লিখছেন।


পরিশেষে ছোট্র একটা অাফসোস হচ্ছে - এইরকম 'হাই ভোল্টেজওয়ালা' (!) বই রাতের বেলায় অাধোঁ আলোতে পড়ার উচিত ছিল! ইশ... গ্রেটেস্ট মিস্টেক হইয়া গেল!!! 🙁


যাইহোক, সত্যিকারের থ্রিলার'র স্বাদ পেতে চাইলে এই বইটি পড়ে ফেলতে পারেন। 😃
হ্যাপি রিডিং 🙂
( রিভিউ লেখক- Nazim Reza )

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...