পিরামিড মামা ফ্যাক্ট
হয়তো ১৯৮৫ বা ৮৬ সালের কথা।
সস্তাপুরের ওখানে ।
চাঁদমারি টিলা নামে জায়গাটায় বছরে একবার , শীতের শুরুতে রাইফেলে ক্লাবের সদস্যারা গিয়ে টার্গেট চর্চা করতো।
বাদবাকি সময় জায়গাটা থাকতো নিঝঝুম। সুনসান। ঘাসের বাড়ি ছিল। সারাদিন হাওয়ায় ফিসফিস করতো। অপূর্ব এক জায়গা।
এক সকালে কোত্থেকে এক যুবক হাজির হল।
শ্যামলা। গোঁফ আছে। মোটা কাপড়ের জামা। জিনস। দুই মালাইচাকিতে কেমন অদ্ভুত পট্টি।
সাথে লোহা আর কাপড় দিয়ে কাগজের ঘুড়ির মত পেল্লাই সাইজের কেমন আজব এক জিনিস বানিয়ে এনেছে সে। জিনিসটা হাঙ গ্লাইডার।
ওটা দিয়ে আকাশে উড়বে সে।
চারিদিকে ভিড়। লোকজন তামাশা দেখেছে। যুবক লোহার রডে কাপড় স্কত করে গিঁট দিয়ে অ্যালুমিনিয়ামের ফ্ল্যাক্স থেকে জলপান করে গ্লাইডারের তলায় ঘিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। মাথার বালিশ ওর লোহার হেলমেট।
বিকেলে লোকে লোকারণ্য।
টিলা থেকে ঝাঁপ দিল। ভাড়াটে ট্যাক্সির পিছনে গ্লাইডার বাঁধা হল। ট্যাক্সি জোড়ে দৌড়ে গেল।
যুবক উড়তে পারল না।
হতাশ হয়ে ফিরল সে।
আজকাল হলে সেই যুবককে নিয়ে মিডিয়া হই চই করতো। তখন কিছু হয়নি।
খারাপ লেগেছিল। সে উড়তে পারলে খুশিই হতাম।
আমাদের পাড়ার এক কিশোরকে পেয়েছিলাম । ও ভাঙ্গা রেডিও আর ভাতের হাড়ির অ্যালুমিনিয়ামের সরা দিয়ে কিম্ভূত যন্ত্র বানিয়েছিল। রোজ তিন বেলা চেষ্টা করতো ভিন গ্রহ থেকে কেউ ওর সাথে যোগাযোগ করতে চায় কি না !
অমন অমন ফ্যান্টাসি আর রোমাঞ্চে ভরপুর মানুষ কি আজকাল আছে ?
সেই বছরই খাঁজা মার্কেটের বাইরে এক তরুণকে দেখি হাতে একটা গুপ্তচর সিরিজের দুটো বই নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নীল জিনস, শাদা শার্ট, গায়ে নীল উইন্ড ব্রেকার। চোখে কালো সানগ্লাস।
যুবকটা দোকানীকে বলছে ওর শখ লেনিনগ্রাদ শহরে যাওয়া। ও নাকি কখনও স্যান্ডউইচ খায়নি। অথবা ন্যাশনাল ন্যাশনাল জিওগ্রাফি পত্রিকায় চাকরি পেলেও খুশি।
আজকাল অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মানুষ দেখি না।
ব্যক্তিগত জীবনে আমি অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়। প্রায় সারা পৃথিবী ঘুরেছি। দেখেছি মারিয়ানা আইল্যান্ডের ভয়ানক সামুদ্রিক তাইফুন। আফ্রিকার কাবালে গ্রামের বাংলোয় রাত কাটানোর মজার অভিজ্ঞতা। দেখেছি তুষার ঝড়।
ক্যাম্প ফায়ারের অপূর্ব স্মৃতি।
মনে হল ছোটদের জন্য লিখি। সরাসরি বললে একঘেয়ে লাগবে। তখনই তৈরি হল পিরামিড মামার চরিত্র।
যে কিনা ছুটির দিনে বৈঠকি ভঙ্গিতে বসে বসে পিচ্চিদের সাথে বলবে তার অদ্ভুত সব অ্যাডভেঞ্চারের গল্প। বাংলা সাহিত্যে অমন চরিত্র এটাই প্রথম না।
ছোটদের জন্য মজার সব তথ্য যা জানি সবই গল্পের ছলে পরিবেশন করেছি। যাতে প্রকৃতির প্রতি ভালবাসা জন্মে। অজানার প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়।
সব মিলিয়েই পিরামিড মামার অদ্ভুত সব অ্যাডভেঞ্চার।
কাঞ্চনপুরের বাঘ,
দুয়ার-বিহারী,
নিঝুমপুরের আতঙ্ক
টাঁড়বারো,
ইয়েতি রহস্য ও
আমার বন্ধু রবিন-
এই ছ'টি কাহিনী নিয়ে 'পিরামিডমামার অদ্ভুত অ্যাডভেঞ্চার' বইটি

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন