সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পিচ্চি ভদ্রলোক


 তখন দুপুর বেলা। 

ক্যাফে তত ব্যস্ত না।  

পালং পাতা বেছে রাখছিলাম আমি   পরে সালাদ বানাব 

  মার্বেলের মত দেখতে লাল টুকটুকে চেরি টমেটো আর  কচি  পালং 

পাতা সাথে দিয়ে সুন্দর একটা সালাদ বানানো যায়। 

খেতে দারুণ।


ছেলেটা এলো। বয়স খুব বেশি হলে পাঁচ  শালগমের মত ফর্সা।


 গাল দুটো ইটালিয়ান টম্যাটোর মত লাল।মাথা ভর্তি সোনালী চুল   এলোমেলো  

ইস্কুলের পোশাক। হাফ প্যান্ট নের ,কিন্তু কোট টাই আছে। রীতিমত ভদ্রলোক।  পিঠে ব্যাগ। হাতে এক গাদা  খুচরা পয়সা।

'আচ্ছা ,বড় প্যাকেটের চিপস কত ?' জানতে চাইল সে।


'চার ডলার।' জবাব দিলাম।


আলুর লম্বা ফালি ডুবো তেলে ভেঁজে বিক্রি করি। ওটাই চিপস বলে সিডনীতে।


 ছেলে বুড়ো সবাই হরদম খায়।

ছেলেটা ওর খুচরা পয়সা গুনতে লাগলো। কাউনটারের উপর একগাদা পয়সা।   

আমি অপেক্ষা করছি।

বাইরে  শীতের দুপুর। জলপাই তেলের মত রোদ। হাওয়ায় মন কেমন করা ভাব ।

বেশ খানিক পর বলল , 'ছোট প্যাকেটের চিপস কত ?'

'দুই ডলার পঞ্চাশ সেন্ট।' জবাব দিলাম। 

অপেক্ষা করছি পিচ্চির জন্য। সেই ফাঁকে পালং পাতা বেছেই যাচ্ছি। বেছেই যাচ্ছি ।

আবার পয়সা গুনতে লাগল ছেলেটা। 


প্রায় মিনিট খানেক পয়সা গুনে হতাশ গলায় বলল,' সরি ,আরেক দিন কিনব।'

সে কি !  অবাক হলাম।  পয়সা নেই নাকি  ?  কত আছে তোমার কাছে?

' আসলে বড় প্যাকেট কিনার পয়সা নেই। আর ছোট প্যাকেট কিনলে আপনাকে বকশিশ  দিতে পারব না। আমার আছেই     মাত্র দুই ডলার  ষাট সেন্ট।'


বিব্রত মুখে বলল ইশকুল বালক।


 দশ সেন্ট বকশিশ দিলে কী আপনার হবে ?’      

বকশিশ  দিতে হবে কে বলল ? অবাক হয়ে জানতে চাইলাম।



মা বলেছে। মাথা নিচু করে আছে পিচ্চি।


 সব  পয়সা নিজের  প্যান্টের পকেটে ভরতে ভরতে বলল,   মা বলেছে ক্যাফে  বা রেস্টুরেন্ট থেকে কিছু কিনলে একদম কাঁটায় কাঁটায় পয়সা দিলে তুমি আর জেনটেলম্যান থাকবে না। সবাই তোমাকে খারাপ ভাববে   তাই , সরি স্যার।  আরেকদিন আসব 

হাসলাম।

দাও দেখি তোমার দুই ডলার ষাট সেন্ট। বললাম। দেখি কি করা যায়।

মাত্র  দশ সেন্ট বকশিসে চলবে আপনার ?  পিচ্চি অবাক।

চলবে না আবার ?  বললাম। খুব চলবে ।

 গরম তেলে  সোনালী রঙ করে আলু ভাঁজলাম  মিহি লবণ ছিটিয়ে দিলাম আলু ভাঁজায়।

সুন্দর  কাগজের প্যাকেটে ভরে তুলে দিলাম পিচ্চির হাতে।

হায় হায় এটা তো বড় প্যাকেট ! চেঁচিয়ে বলল পিচ্চি ভদ্রলোক। দাম তো চার ডলার !

ওটা শুভেচ্ছা উপহার  আমার পক্ষ থেকে। হাসি মুখে বললাম। ভদ্রলোকের সাথে আমিও ভদ্রলোক ।

 

খুশি মনে চলে গেছে সে।

আমার মনটা ভাল করে দিয়ে। 

 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...