সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বেচারাম বট গাছ

 বেশির ভাগ  সময়ই মোটা নাদুস নুদুস আর লম্বা চওড়া লোক জন বেশ ভদ্রলোক হয়

গাছের জগতেও তাই।   বট গাছ হচ্ছে একদম  ভদ্রলোক।  বেচারাম বলা যায়

 শহরে   আজকাল খুব একটা বট গাছ কিন্তু চোখে পড়ে নাকারন এই গাছটা বেশ বড় সড় জায়গা নিয়ে থাকতে পছন্দ করেনিজের শিকড় বাকর ঝুড়ি ডালা পালা মিলিয়ে বেশ রাজকীয় ভাবে সে থাকে

কিন্তু শহরে তো আমাদের নিজেদের থাকারই জায়গা নেইকাজেই বেচারাম বট গাছের টিকে থাকার কোন সুযোগই নেই

এমনিতেও প্রায় তিন তলা দালানের সমান জায়গা লাগে এক একটা বট গাছ থাকার জন্যকাজেই ওরা এখন  নামকরা কিছু পার্কে আর গ্রামের হাট বাজারে টিকে আছে কোন মতে

বট  ডুমুর প্রজাতির গাছ।  বট গাছের যে জিনিসটা ভাল সেটা হল গাছের উপর থেকে শিকড় নেমে আসাটাঝুড়ি বলে যেটাকেকিছুদিনের মধ্যেই ঝুড়ি আর শিকড় বাকর মিলে এক দারুন ব্যাপার হয়ে যায়সহজেই অনুমান করা যায় হিন্দুরা কেন যে বট গাছকে শিবের মাথা বলে


তবে বটের ঝুড়ি পিলার হিসাবে কাজ করেবিশাল গাছটাকে শক্ত ভাবে দাঁড়াতে সাহায়্য করে বটের মূল শরীর মাটির খুব গভীরে থাকে নাকাজেই কোন ভাবে ঝুড়ি কেটে ফেললেই গাছটা দুর্বল হয়ে যায়বাড়ির খুব কাছে বটের চারা পুঁতলে ফল ভাল হবে নাএকদিন দেখবে বেডরুমের দেয়াল ভেঙ্গে ওটা ভেতরে ঢুঁকে গেছে

একটা বট গাছ থাকলে   কত রকম  পাখী, পোকা, কাঠবিড়ালী আর বাদুরের আশ্রয় যে হয় সেটা বলার মত না

বটগাছ যেন ঠিক একটা হোটেল বা বোডিং হাউজের মতএর নানান ফোঁকরে, নানান জায়গায় অনেক জীবজন্তু যার যার মত পরিবার প্রিয়জন নিয়ে থাকতে পারেঠিক যেন বনমালী  লস্কর লেনের কোন মেসবাড়ি

অন্যের বিন্দু মাত্র বিরক্তি বা ঝামেলার কারন হয় না কেউইযার যার মত থাকে সবাই

 

 বেশির ভাগ বট গাছ নিয়ে হাজার রকম আজগুবি গল্প চালু থাকেকিছু বট গাছ তো বেশ পবিত্র যেমন , এহলাবাদে নদীর তীরে যে বট গাছটা আছে সেটা দেখার জন্য প্রতি দিন লক্ষ লক্ষ তীর্থ যাত্রী আসেঅনেক পুরানো গাছ ওটা

হিউয়েন সাং নামের এক চাইনিজ ভদ্রলোক ওই গাছের কথা তার ভ্রমন কাহিনিতে লিখে গেছেন প্রথমঅথচ উনি ভারতে এসেছিলেন এক হাজার বছর আগে

বটের ছায়া  সব চেয়ে ঠাণ্ডাগরমের দিনে একটা বট গাছের নীচে বসে যে কত লোক আড্ডা দেয় বিশ্রাম করে যদি দেখতেগাছের কাঠ বেশ কাজে লাগেডাল আর পাতা হাতির প্রিয় খাবার

সব মিলিয়ে বট গাছকে বেশ মহান একটা গাছ বলেই মনে হয়

সে আমাদের জন্য বুক ভরা ভালবাসা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে

 

রাস্কিন বন্ড -এর The Gentle Banyan   অবলম্বনে

 

 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...