সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সুখী মানুষ

 জীবনে


 সুখী হতে গেলে আসলে কি দরকার ?

অনেক ভাবি আমি আর ভ্যাবলা

এত কাঁড়ি  কাঁড়ি টাকা বা  পেল্লাই সব বাড়ির দরকার আছে ?

নেই

  বেণী মাধব লশকরের  কত টাকা !

অভাব নেই কিন্তু দেখ, ডাক্তার তাকে বলেছে চিনি  খেতে পারবে না

এটা কিছু হল ?

উনাকে শুধু করলা ভর্তা আর থানকুনি পাতার ঝোল দিয়ে ভাত খেতে হয় 

কী জীবন ! হায়রে 

আমাদের আসলে কি দরকার ?

  অনেক হিসাব করে দেখলাম  

একটা পুরানো রাজপ্রাসাদ কিনতে পারলে ভাল হত রাজপ্রাসাদের মধ্যে একটা কেমন ভাব আছে  লোকজন বেশি রাখতাম না একজন দারোয়ান শুধু লোহার ঢাল আর বল্লম নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেই চলবে ওর গায়ে অবশ্য টিনের পোশাক জমবে ভাল

মুখে গোঁফ আর মটরশুঁটির দানার সমান একটা জড়ুল থাকলে পোয়া বারো  

ভ্যাবলার মতে একটা পোষা বাঘ হলে ভাল হয়

হলুদ কালো ডোরা কাটা বাঘটার গলায় হাত দিয়ে বিকেল বেলা  হাঁটতে বেরুলে লোকজন কেমন অবাক হবে তাই না ?

 তো সুখী হবার তালিকায় বাঘের নাম রাখলাম 

একটা মাস্তুলওয়ালা জাহাজ দরকার পাল তোলা জাহাজ ইঞ্জিনের জাহাজ আমরা কিনব না   বিশাল পাল থাকবে বাড়ির সব বিছানার চাদর আর দরজা জানালার  পর্দা পাল হিসাবে ব্যবহার করব

জাহাজের পিপে ভর্তি থাকবে ময়দার বিস্কুট তিলের গজা  মোরব্বা 

পিতলের একটা  বিউগল দরকার  ভ্যাবলার 

কোন এক অনুষ্ঠানে গিয়ে ভ্যাবলা দেখেছিল একজন মুস্কো মত লোক পিতলের বিউগল বাজাচ্ছে সবাই কেমন তারিফ করছে 

জিনিসটা বেশ ওজনদার নাহ একটা দরকার 

দরকার কিছু পাখি 

ওরা সব সময় কিচির মিচির করবে আমরা কর্মচারী রাখব যারা মাঠ থেকে ঘাস ফড়িং ধরে এনে পাখিদের খাওয়াবে 

ছাতু আর মরিচ কেনা হবে বস্তা বস্তা

একটা মোরগ  দরকার 

সকাল বেলা মোরগটা আমাদের ডেকে তুলে দেবে এইজন্য  

কারণ আমরা ঘড়ি ব্যবহার করব না ঘড়ি দেখলে মনে হয় সময় দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে মাথার উপর অনেক চাপ পড়ে 

তবে রেডিও শুনেও সময় জানা যায় 

কয়েকটা ভেড়া দরকার  ভ্যাবলার

ভেড়া  গুনলে নাকি সহজে ঘুম এসে যায় অমন আজগুবি কথা জীবনেও শুনিনি

তারপরও ভ্যাবলার জন্য লিস্টে ভেড়া রাখতে হল

কিছু পিঁপড়ে দরকার 

কারণ পিঁপড়ে ব্যস্ত থাকলে মানে সামনে বর্ষাকাল 

ওদের দেখে আমরা ঋতু বুঝতে পারব আর  আশে পাশে পরিশ্রমী প্রাণী দেখলে জীবনে বড় হবার ইচ্ছা জাগে

গোল কাচের বাউলে একটা মাছ থাকতে হবে  ঘন হলুদ বা সোনালী হলে ভাল হয় 

আর খোঁজ নিতে হবে কোথাও ড্রাগন পাওয়া যায় কি না

পেলে দাম নিয়ে আলোচনা হতে  পারে 

অনেক চিন্তা করে দেখলাম সুখী হতে গেলে আসলেও বেশি কিছুর দরকার হয় না

অথচ চারিদিকে কত  অসুখী মানুষ !

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...