আমি আর নেপাল ফালতু সময় নষ্ট করি না।
এখন আমাদের দরকার শুধু প্রচুর লোহা আর দুইজন কামলা , যারা ওয়েল্ডিং বা ঝালাইয়ের কাজ জানে।
হাতে টাকা পয়সা হলেই সের দরে লোহা কিনব। সাবমেরিন বানাতে আর কত খরচ হবে। হিসেব করে দেখলাম বড় জোড় সাত থেকে আট শো টাকা লাগবে।
টাকাটা যোগাড় হয়ে যাবে, অনেকেই বলে টাকা নাকি হাতের ময়লা।
যাই হোক , সাবমেরিনের নাম রাখলাম নটিলাস- ২।
ক্যাপ্টেন নিমোর প্রতি সম্মান রেখেই ।
অনেকটা স্পুটনিক ১ , স্পুটনিক ২ অমন।
তবে নেপাল বলল নেমি রাখা যেতে পারে। দুইজনের নামের অক্ষর দিয়ে। আইডিয়া খারাপ না।
মনে মনে সাবমেরিনের ভেতরটা সাজিয়ে ফেললাম। প্রচুর গল্পের বই থাকবে ।
পাঠ্য বই দরকার নেই , ওই সব পুড়িয়ে আমরা ভেতরের ফায়ারপ্লেস জ্বালাব।
প্রচুর তক্তি বিস্কুট আর সন্দেশ রাখা হবে।কাচের বয়াম ভর্তি প্রচুর তাল মিছরি । বাকরখানি ।
নেপালের অনুরোধে কিছু পাউরুটি রাখার সিদ্ধান্ত নিতে হল। ওর নাকি প্রায়ই জ্বর হয়। তখন পাউরুটি নাকি মহা ওষুধ !
হতে পারে । বন্ধুর অসুখের প্রতি দরদ দেখিয়ে কয়েক পাউনড পাউরুটি রাখা যেতেই পারে।
আমাদের সাবমেরিনের ডিজাইন খুব সুন্দর হল।
জিনিসটা বাষ্পীয় ইঞ্জিনের সাহায়্যে চলবে। নিউক্লিয়ার বা ওল্ডক্লিয়ার শক্তি ব্যবহার করব না। জেমস ওয়াট সাহেবের বাষ্পীয় ইঞ্জিন ই ভাল।
জানালার পাশে বসে কটকটি ভাঁজা খেতে খেতে আমরা বাইরে জেলিফিশ আর কচ্ছপের দেশান্তরী দেখতে পারব। দেখব হাঙরের ধূর্ত চেহারা। নক্ষত্রের মত তারা মাছ। টাটটু ঘোড়ার মত ঘোড়া মাছ ।
সে এক অপূর্ব অভিজ্ঞতা।
সময় সুযোগ পেলেই আমরা কাজটা ধরব।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন