তো, গল্পের পেছনে ও গল্প থাকে। কে না জানে ?
একদম ক্ষুদে আমি তখন।
গ্রামের বাড়ি থেকে নৌকায় করে ফিরছিলাম। বুড়িগঙ্গা নদী। ব্লু বেরি ফলের মত অন্ধকার। আচমকা নৌকার কাছে ভুউস করে ভেসে উঠলো অচেনা কিছু একটা। আবার তলিয়ে গেল।
রোবটের মত নিলিপ্ত গলায় বলল মাঝি , ' গাঙ্গের দেও । আইজকে জলের টান বেশি । সেইজন্য উইটঠা আইছে । '
জীবনে অত ভয় মনে হয় আর পাইনি।
লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দিরের পাশে জিউস দিঘি। ওখানে প্রতি বছর স্নান করতে গিয়ে মারা যেত এক একজন। মায়ের মুখে শুনলাম অদ্ভুত কিছু কাহিনি।
কালি পূজার হিম হিম রাতে দীঘির পাশ থেকে ফেরার সময় মাথার ভেতরে জন্ম নিল - জলপিশাচ কাহিনিটা।
আরেকবার নির্জন এক বাড়িতে উঠলাম আমি। শহর থেকে তিন মাইল দূরে। বিকেল সাড়ে ছয়টায় শেষ বাস আসে শহর থেকে । প্রতিবেশী বেশ দূরে দূরে।
সেই বাড়িতে থাকার সময় প্রত্যেক মধ্যরাতে ঘুম ভেঙ্গে যেত। শরীর ঘেমে গেছে। অচেনা অস্বস্তি ! পরে জানলাম - বাড়িটা বাস্তশাস্ত্র মেনে বানানো হয়নি। সবার একই সমস্যা হয়।
দুঃস্বপ্নের ছয় পা- গল্পটা জন্ম নিল তখন ।
এক ডজন রোমাঞ্চ আর ভয়াল কাহিনি নিয়ে এই বই। আছে ফ্যান্টাসি আর লকড রুম মিস্ট্রি। ডিটেকটিভ ফিকশন ।
আছে উপন্যাসিকা , বড় গল্প । কিছু মৌলিক। কিছু বিদেশি কাহিনির ছায়া অবলম্বনে বা কাঠামো অনুকরণে ।
মোট কথা আয়োজনের কমতি রাখিনি আমরা।
এই বইয়ের একটা গল্প ও যদি পাঠক- পাঠিকা ভালবেসে গ্রহণ করে তাতেই ধন্য হয়ে যাব।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন