সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আয় বৃষ্টি ঝেঁপে

 বৃষ্টি।

বাদলার মৌসুমের অপূর্ব এক জিনিস।

সারা ভারতের মানুষ অপেক্ষা করে বৃষ্টির জন্য। আবার অপেক্ষা করে বৃষ্টি কখন থামবে।

কথায় আছে-

বন্যা এলে মাছেরা পিঁপড়ে খায়।

আবার বন্যা শেষ হলে পিঁপড়ে মাছ খায়।।

বৃষ্টির আগে ধূলা উড়ে। আকাশ ভর্তি কালো মেঘ। উড়ছে। জমছে। ভাসছে।

চারিদিক ছেয়ে যায় । ধূলা, ধূলা আর ধূলা।

বিজলি চমকায়।

বাতাস থেমে যায় ঝুপ করে। তারপর নামে প্রথম নিঃসঙ্গ বৃষ্টির ফোঁটা।

টিনের চালে বা জানালর নিঃসঙ্গ পাল্লায়।

শুরু হয় মৌসুম। ওরা বলে বরষাত। স্মৃতির দিন শুরু হয়। আকাশ গর্জন করে। থৈ থৈ মেঘ কালো কুরক্কুটটি। রূপার কাঁটা চামচের মত বিজলির ঝিলিক দেখা যায় মেঘে ভরা আকাশে।

বিবর্ণ প্রকৃতি অপেক্ষা করছিল। অনেক দিন ধরেই। বর্ষার প্রথম জলে ওরা স্নান করে।

সবাই।প্রকৃতি বৃষ্টিকে পছন্দ করে। যেমন মাতাল পছন্দ করে মদকে।

বৃষ্টি ঝেটিয়ে পুরা শহরটাকে পরিষ্কার করে দেয়।

পরিষ্কার করে ময়লা আকাশটাকে। মাটিকে।

গাছের শুকনো ডালা পালা খসে যায়। মাঠে জল জমে ছোট ছোট ডোবা হয়।

যেমন হটাৎ করে শুরু হয় তেমনি আচমকায় থেমে যায় বৃষ্টি। পরিবেশটা বেশ চুপচাপ হয়ে যায়। তারপরও গাছের পাতা থেকে জল ঝরে পড়ে। পথের ধারে ড্রেনের ভেতর থেকে কূলকূল করে বৃষ্টির জল বয়ে যায়।

ব্যাঙেরা কোলাহল করে। ভাবে, এই জল কাঁদা সারা জীবন থাকবে।

প্রতিশোধ নেয়ার জন্য মেঘের আড়াল থেকে সূর্য বের হয়ে আসে।

সোনালী রুপালী রোদ ফেলে সে।

বাড়ির শুকনো কোনায় ঘুম ঘুম চোখে বিড়াল বসে থাকে।

বাচ্চারা বাড়ির ভেতর থেকে দৌড়ে বের হয়ে আসে। চেঁচায় ওরা-, বর্ষাকাল এসে

গেছে রে...

প্রায় সব বাড়ির ছাদে পিচ্চি পিচ্চি বাচ্চা, মহল্লার দারোয়ান আর কুকুর দৌড়ে যেত। বৃষ্টির জলে মাগনা স্নান করার জন্য।

এই সময় মাঠে সবাই দৌড়ে যায়।

মৌসুম ফুটবল বলে একটা কথা আছে। বৃষ্টি-জল -কাঁদা আর প্যাঁকের মধ্যে মাখামাখি করে ফুটবল খেলা।

খেলোয়াড়দের সবাইকে কাঁদার ভূত মনে হয়। মাঠের সবার গোড়ালি ভর্তি কাঁদা। বল পিচ্ছিল।



 ঠিক মত লাথি মারা যায় না। খেলোয়াড়দের সবার খালি পা। কারন, এই জল কাঁদার মৌসুমে বুট পায়ে খেলা যায় না। তারচেয়ে বড় কথা এদের কারোই বুট কেনার মত আর্থিক অবস্থা নেই।

কিন্তু এই খেলার মজা আলাদা।

যেমন প্রথম বৃষ্টিতে ভেজার মত মজা আর কিছুতেই নেই।

রাস্কিন বন্ড -এর  Rain  অবলম্বনে

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...