সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পাপাত্মা

 তেমন কিছুই চাইনি আমি 

শুধু চাইতাম মানুষ যেন আমাকে সম্মান করে প্রতিবেশীরা যেন ভাল ব্যবহার করে দুইচারটে সালাম কেউ দিলেও ভাল লাগতো

কিন্তু কেন যেন হয় না মানুষ আমাকে পাত্তা দেয় না

আমি দেখতে কুচ্ছিত সেটা একটা কারন হতে পারে ?

 হয়তো

 ভাল  জামা কাপড়ে মানায় না আমাকে জিন্সের প্যান্ট আর জ্যাকেট পরলে রংবাজদের মত লাগে চামড়ার জ্যাকেট আর বুট পরলে  

 পেশাদার  চুক্তিবব্ধ  খুনিদের মত লাগে রংচঙ্গা হাওয়াই জামা পরলে ঝালমুড়িওয়ালাদের মত লাগে 

একবার দামী এক কোট পরে রেস্টুরেন্টে গিয়েছি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে মেনু পড়ছি- এক ভদ্রলোক ভরপেট খেয়ে আমার হাতে দশ টাকার একটা নোট দিয়ে বললেন- এই ওয়েটার  তর বখশিশ

নোটটা ছিল ছিঁড়া   স্কচটেপ লাগানো   

এমন কি সানগ্লাস পরলেও অনেকে জিজ্ঞেস করে চোখের সমস্যা আছে নাকি ভাই ? গাজর খান রোজ একটা করে

যদিও সেটা হয়তো গাজরের মউসুম না  

কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছি

দিনগুলো এমনিতেই চলে যেত শেষে বিরক্ত হয়ে অভিজাত এক মহল্লায় চলে গেলাম এরা ভদ্রলোক মনে পাপ নেই নিশ্চয়ই আমাকে সম্মান করবে

প্রথম এক সপ্তাহ কিছু হল না

পরের সপ্তাহ  থেকে   টের পেলাম আমার মধ্যে দারুন ব্যক্তিত্ব আছে মানুষ প্রভাবিত হয় আমার চলাফেরায় সানগ্লাস আর টুপি পরে যখন হেঁটে যাই লোকজন আড়ষ্ট হয়ে যায় সালাম দেয় ফিসফিস করে কথা বলে , আমাকে নিয়েই

বাড়িওয়ালা জোরে গান বাজাত সমস্যা হত

 কয়েকবার অভিযোগ করার পরও কাজ হয়নি আজকাল বাজায় না মহল্লার দোকানদার টাটকা জিনিস দেয় একটা হাঁসের ডিম পচা হওয়াতে ফেরত নিয়ে গেছি, উনি হড়বড় করে বললেন,’ একটা না আপ্নে লাগলে আমার সব ডিম লয়া যান

কি কাণ্ড ?

আমি উনার ডিম নিতে যাব কেন ?

মহল্লার চায়ের দোকানদার পর্যন্ত আমাকে দেখলে পেয়ালা ভরে চা দেয় জিজ্ঞেস করে- কুকিজ দিমু মিলন্দা ?’

এমন কি চায়ের কাপে বিস্কুট ভেঙ্গে পরে গেলেও উনি ব্যস্ত হয়ে যান

হায় হায় কি অইল  দাদারে কুকিজ দে আরেকটা

বিস্কুটকে কেন কুকিজ বলে ? উনি কি কুকি আদিবাসী ?

একদিন পুরানো খবরের কাগজে পড়লাম- কোন এক সিরিয়াল কিলার নাকি গত এক মাসে চারটে খুন করেছে ভিকটিমদের টুকরো টুকরো করে পলিথিন ব্যাগে করে রাতের বেলায় শহরের বিভিন্ন ময়লার বিনে ফেলে দিয়ে আসে শয়তানটা

বুকটা হাহাকার করে উঠলো হায়রে মানুষ হায়রে পাপাত্মা

কেন এমন হয়?

মনে পড়লো 

 রাতের বেলা ঘুম আসে না আমার তাই প্রায়ই হাঁটতে বের হই তখন বাড়ির কিচেনের ময়লার ব্যাগগুলো হাতে করে নিয়ে যাই ফেলে দিয়ে আসি

সেই দৃশ্য প্রতিবেশীরা দেখেছে আড়াল থেকে আর কিসের সাথে  কী  মিলিয়ে নিয়েছে

হঠাৎ করে অর্জন করা সম্মানের কারন বুঝতে পেরে মনটা বিবাগী হয়ে গেল


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিনি পয়সার বিপদ

  বৃষ্টি । গহন ঘন ঝুম বৃষ্টি । শ্রাবণ মাস । বৃষ্টির  মউসুম ।   যেই সময়ের যেটা ।     গত কয়েক  দশক ধরে  বৃষ্টি এত কম হয়  ,   আষাঢ় -   শ্রাবণ এই শব্দ দুটো বাঙালি ভুলে গেছে । বাংলা ক্যালেন্ডারে এই নামে দুটো  পাতা আছে। ব্যস - এই ।    যারা  আশির দশকের মানুষ ,   তারা জানতো এই দুই  মাসের  ইন্দ্রজালের প্রভাব  ।টানা একুশ দিন বৃষ্টি হয়েছে অমন রেকর্ডও আছে জলবায়ু দপ্তরে  , মানুষের  স্মৃতিতে । এই বছরের  বৃষ্টি       পুরানো তামার পয়সার মত মানুষদের  মনে  ভেজা স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে  । গাড়ি চালাচ্ছেন দিলদার খান ।  পুলিশের লোক  , এস আই। পিছনের সিটে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে কনস্টেবল  ইব্রাহীম খলিল । সাধারণত খলিল গাড়ি চালায় । আজ বৃষ্টির তোড় এত বেশি ,   কী   মনে করে ওকে পিছনে বসিয়ে স্যার নিজেই চালাচ্ছে । মনে মনে বিরক্ত  খলিল । রাত বারোটায় শিফট শেষ হবে। কোথায় থানায় বসে চা খাবে। বাদামের খোসা ঠুস ঠাশ করে ভেঙ্গে  মুখে দেবে ।  সহকারী কনস...

অদ্ভুত সব টিনের কৌটা

অনেক গুলো   বছর   আগে    টিনের   এক    কৌটা   পেয়েছিলাম ।     ক্রিসমাসের   উপহার   ।   অবাক   হয়েছিলাম   দেখে   ।   একি আজব চিজ। সুভেনিয়র   মনে   হলেও  ,   খুলে   দেখি ,   ভেতরে   মসলা   দেয়া   খোসা ছড়ানো  ঝিনুক ।   এত   সুন্দর   দেখতে  , বলার   মত   না   ।    আর   হ্যাঁ  ,   তক্ষুনি   খেয়ে   ফেলতে   হবে   না ।   মোট   পাঁচ   বছর   রাখা   যাবে  ! কোন   তাড়া   নেই   ।     হায়   হায়  ! ভেবে   অবাক । মানুষ   কেমন   করে   এই   কায়দা   আবিস্কার   করল  ? মানে   খাবার   সংরক্ষণের   এই   কায়দা  ? খোঁজ   নিলাম   ভাল   করে    ।   নাহ  ,   এর   ইতিহাস   অনেক   প্রাচীন ।     সেই   গুহাযুগেই ...

সরাইখানার গোলমাল

  সরাইখানার   গোলমাল   আসে   কানে , ঘরের   সার্সি   বাজে   তাহাদের   গানে , পর্দা   যে   উড়ে   যায় তাদের   হাসির   ঝড়ের   আঘাতে   হায় ! - মদের   পাত্র   গিয়েছে   কবে   যে   ভেঙে ! আজও   মন   ওঠে   রেঙে দিলদারদের   দরাজ   গলায়   রবে , সরায়ের   উৎসবে ! ---------- জীবনানন্দ   দাশ       খাবার রান্না করা আর   পরিবেশন ের জায়গা ,   দুটোই  সমান  গুরুত্বপূর্ণ।   খাবারের স্বাদ , খদ্দেরের রুচি   আর ব্যবসা এই  তিনটের  জন্য হাই স্কিল লোক রাখা দরকার। যারা কাজটা জানে। ভাল সার্ভিস দিতে পারে। দক্ষ লোক আপনার লাগবেই।     খাবার বা পানীয় যে খানেই পরিবেশন হোক সেটাই - হসপিটালিটি বিভাগ। খদ্দেরের খুশির জন্যই বেশ খানিক ঝাঁ চকচকে পরিবেশ রাখতে হয়।   একই সাথে   ভাল কর্মী দরকার হবে আপনার। যারা  পরিশ্রম করতে পারে। হাসিখুশি। নিয়ম মেনে চলে। এবং পরিছন্ন।  রয়েছে  শেখার আগ্রহ । ...